দুইশতের বেশি অবৈধ ক্লিনিক সেই একটি জেলাটিতেই!

জেলাটির নাম আগেই বলা যেত না?কি দরকার ছিল কিছু কথা মুখের ভিতরে রাখার?আসলে “জেলা”-র সাথে “টি” লাগানোর কারণ আছে যথেষ্ট।জেলাটি আমার জন্মস্থান।ওই জেলাতেই আমি বড় হয়েছি।তাই গুগলে যাতে “নওগাঁ” লিখলে এটা সহজে না আসে তাই দিলাম নি শিরোনামে।

ডাক্তার সাহেব কি সার্জন?নাকি গাইনী?নাকি মেডিসিন?আসলে আমরা যারা আমজনতা,তাদের কাছে এসবের কোন পার্থক্য নাই ডাক্তার তো ডাক্তারই।যাব চিকিৎসা নিতে,পথ্য দেবেন,ভাল হয়ে যাব।

কত বড় বিশ্বাস নিয়ে আমরা আসি আপনাদের কাছে!আর আজকে আপনারা কি করছেন?আপনাদের বিবেক না হয় নাই থাকল,চামড়া তো আছে নাকি মানুষের?


জেলাটির নাম আগেই বলা যেত না?কি দরকার ছিল কিছু কথা মুখের ভিতরে রাখার?আসলে “জেলা”-র সাথে “টি” লাগানোর কারণ আছে যথেষ্ট।জেলাটি আমার জন্মস্থান।ওই জেলাতেই আমি বড় হয়েছি।তাই গুগলে যাতে “নওগাঁ” লিখলে এটা সহজে না আসে তাই দিলাম নি শিরোনামে।

ডাক্তার সাহেব কি সার্জন?নাকি গাইনী?নাকি মেডিসিন?আসলে আমরা যারা আমজনতা,তাদের কাছে এসবের কোন পার্থক্য নাই ডাক্তার তো ডাক্তারই।যাব চিকিৎসা নিতে,পথ্য দেবেন,ভাল হয়ে যাব।

কত বড় বিশ্বাস নিয়ে আমরা আসি আপনাদের কাছে!আর আজকে আপনারা কি করছেন?আপনাদের বিবেক না হয় নাই থাকল,চামড়া তো আছে নাকি মানুষের?

সবার আগে যেটা আসবে সেটাই বলা উচিত।বারংবার যে কয়েক বছর পর পরই মেডিকেলে কোশ্চেন জালিয়াতি হয়,এটা কারা করে?ডাক্তাররা এর সাথে জড়িত থাকেন কিনা?আপনি যদি এতটাই অসৎ হোন তবে ডাক্তার কেন হলেন?ডাক্তারই হলেন তবে অসৎ হবার দরকার টা কি ছিল?আপনাকে কি আমরা ভিজিট কম দেই?

সে না হয়,আপনি বলবেন,”আমি তো জানতাম না।আমি এসব দেখিনা,জানিনা,শুনিনা।”

আপনি অন্ধ,বধির বা মুক হলে আপনি ডাক্তার হতে পারতেন না এত সহজে।তারপরেও আপনি যা বলবেন আমরা মানবো।সহজেই মানবো।কারণ,আপনি মানবদেবতা।আপনার উছিলায় হাজার লোক বাঁচে।তারপরের কথায় আসি।

আপনারা ডাক্তাররা যারা কামাই করেন,তারা একবার সরকারী হাসপাতাল,সাথে স্পেশাল বসা,আবার ধনীদের স্পেশাল সার্ভিস দেন।এরপরেও এরপরেও কেন বেসরকারী ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আপনাকেই যেতে হবে?মশায়,টাকা নিয়ে কবরে যাবেন?

নওগাঁ জেলার অধিকাংশ নয় শুধু প্রায় সব বেসরকারী ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টার এতটাই মানহীন যে আপনি সুস্থ থেকে ওখানে গেলে অসুস্থ হয়ে বের হয়ে আসবেন।কারণটা ব্যাখ্যা করি।

এসব বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুসারে তারা কোন ডিপ্লোমা ডাক্তার রাখেননা,ডিপ্লোমা নার্স ও রাখেন না,আবার তারা কাজ ও চালান!কিভাবে?

ধরুন,প্যারা মেডিকেল থেকে পড়া আলট্রাসনোগ্রাফি করার কাজ শেখা কাউকে তারা নিয়োগ দিলেন।এরপর তিনি আলট্রাসনোগ্রাফি ও করবেন,সাথে রাতে ডাক্তার সেজে দু-একবার রোগীকে গিয়ে এটাও বলবেন,
-ভাই,ওষুধ খাইছেন?
-না।খাইনাই।খাবো।
-গুড,না খাওয়াই ভাল।কমলা খান।ওই লালটা খান।ওষুধে পুষ্টি নাই।ওটা খান।
-আচ্ছা ডাক্তার সাব।ডাক্তার সাব আপনে আর কি করেন?
-কি করি মানে!আমি একজন ডক্টর!
-না,মানে,টিচিং অথবা প্ল্যানিং বা ইঞ্জিনিয়ারিং?আপনি ভাল আর্কিটেক্ট হতে পারবেন।ছবিও আঁকাতে পারেন।গল্পের নতুন বই ও বের করতে পারেন নিজেকে নিয়ে।ভাল কাটতি পাবেন।

ডাক্তার সাব তখন তার নার্স কে নিয়ে পলায়ন করবেন।আসলে নার্স নামে যে আছে তাকে আমার মত সেরকশ রোগী হলে বলত,
-নার্স?
-জ্বী?
-আপনি দেখি ঝাড়ু ও দেন।নার্স ও আছেন।ইনজেকশান ও দেন।আপনার তো অনেক প্রভিটা?
-হ্যাঁ,আসলে আম্মুর গুণ।আম্মুও ভাল পারত।

না,তিনি ঝাড়ুদারনী এটা তার দোষ না।কিন্তু তাকে যে নার্স বানালো তার দোষ।আমাকে কেউ চীন বা রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বানালে আমি তো সেটা গ্রহণ করতেই পারি।বাংলাদেশেরই নাম হবে যে তারা প্রধানমন্ত্রী সাপ্লাই দেয়!

অধিকাংশ ডাক্তার বের হয়ে চাকুরী পান না।পেলেও ভাত জোটে না।নামে ডাক্তার হয়ে শেষে মাস বাদে দেখেন চেম্বারের ভাড়ায় ওঠেনাই।

অথচ কিছু কসাই সরকারী থেকে বেসরকারী রাতে দিনে এসব করছেন।বড় ভাব নিয়ে সার্জারী করছেন।অথচ,এটা সম্পূর্ণ অনিয়ম।অনেক নার্স চাকরীর অভাবে বেকার জীবন যাপন করছেন।আর আয়াকে নার্স সাজায়ে কাজ চালাচ্ছি!

এসবের কোন কোন প্রতিষ্ঠানের আবার কোন সার্টিফিকেট ই নাই।কোন সার্টিফিকেট ই না।

আমরা গরীবরা টাকা কম পেয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে আমার সাধের ছোট ছেলেকে ডায়রিয়ার জন্য ভর্তি করি আর ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আমার ছেলে হয় আজন্মপঙ্গু। আর দোষ হয় ডাক্তারদের।অথচ,যে এই ওষুধ খাওয়াতে বলেছে,সে নিজেও বোঝেনি কেন সে এটা দিয়েছে!
“নাপা দুই বেলা।” এই টাইপ ই হয় অনেক ক্ষেত্রে!

তবু বেড়ে চলুক ডায়াগনস্টিক সেন্টার আর ক্লিনিকের অবৈধ প্রসার।আর আমরাও সেটার সুফল পাই।শুধু বেকার থাক কিছু ডাক্তার,আর কিছু ফকিরের বাচ্চা হোক কোটিপতি।

“দিনে ২ লাখ না আসলে ঘুম ধরেনা” – টাইপ কথা তারা বলুক।আর আমরা নওগাঁ সহ পুরো দেশবাসী চলুন,বিজয় দিবস পালন করি।জয় বাংলা।

১ thought on “দুইশতের বেশি অবৈধ ক্লিনিক সেই একটি জেলাটিতেই!

  1. অনিয়ম টা আজ নিয়ম হয়ে
    অনিয়ম টা আজ নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।যেই প্রসাশনের কর্তব্য ছিল এই অনিয়ম গুলো দমন করা,তারাই দুর্নীতি করে এসব ক্লিনিকের ছাড়পত্র দিয়ে চলেছেন দেদারছে!এই ক্লিনিক গুলো কোন সেবাদান কারী প্রতিষ্ঠান নয় বরং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *