দ্য কেইস ইজ স্টিল পেণ্ডিং

চিন্তা করতেসিলাম পোস্টের শিরোনাম কি দেওন যায়! আধাঘণ্টা কী-বোর্ডের উপ্রে খাটাখাটনি কৈরা একখান ব্যাপক জ্ঞানগর্ভ যন্ত্রণা পোস্টাইলাম, কেউই সেইটা পড়লো না – ইহাতে তো যন্ত্রণার ইজ্জত মাঠেই মারা যায়! পোস্টের নামখান সেইরকম কিছু একটা দিতে পারলে, যেইটা বহুত অ্যাট্রাকটিভ, যেইটা না পইড়া লোকে থাকতে পারবে না, কাম হইতো রে ইবলিশ!

আপাতত সেইরকম নাম পাওয়া গ্যালো না। সুতরাং, অর্ডিনারি নাম দিয়াই কাম চালাইতে হইবে।
নামে আজকাল আসলেই ম্যালা কিছু আসে যায়। এই যেমন ময়নামতি’র নাম অহনও বাগ-এ-বুলবুল হইয়া যায় নাই, বাংলাদেশের নাম অহনও ইসলামিক রিপাবলিক অফ বাংলাদেশ হইয়া যায় নাই, এইগুলি তো নামের শক্তির বিরাট সব নমুনা!


চিন্তা করতেসিলাম পোস্টের শিরোনাম কি দেওন যায়! আধাঘণ্টা কী-বোর্ডের উপ্রে খাটাখাটনি কৈরা একখান ব্যাপক জ্ঞানগর্ভ যন্ত্রণা পোস্টাইলাম, কেউই সেইটা পড়লো না – ইহাতে তো যন্ত্রণার ইজ্জত মাঠেই মারা যায়! পোস্টের নামখান সেইরকম কিছু একটা দিতে পারলে, যেইটা বহুত অ্যাট্রাকটিভ, যেইটা না পইড়া লোকে থাকতে পারবে না, কাম হইতো রে ইবলিশ!

আপাতত সেইরকম নাম পাওয়া গ্যালো না। সুতরাং, অর্ডিনারি নাম দিয়াই কাম চালাইতে হইবে।
নামে আজকাল আসলেই ম্যালা কিছু আসে যায়। এই যেমন ময়নামতি’র নাম অহনও বাগ-এ-বুলবুল হইয়া যায় নাই, বাংলাদেশের নাম অহনও ইসলামিক রিপাবলিক অফ বাংলাদেশ হইয়া যায় নাই, এইগুলি তো নামের শক্তির বিরাট সব নমুনা!

এই প্যাঁচাল পাড়ার বহুত লোক আছে। নতুন কইরা আমারে আইতে হৈতো না। তাও আইলাম।

রোজ দুপুরবেলা পাশের এক ইস্কুল থেইকা আজকাল শপথের ধ্বনি শুনবার পাই। পোলাপান শপথ নিতাসেঃ হে প্রভু, আমাকে শক্তি দিন, আমি যেন দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রাখতে পারি।
শুইনাই বাচপান ইয়াদ হয়। আহারে, আমরাও এককালে শপথ লইতাম! এককালে আমরাও…

কিন্তু আজকে শপথখান শুইনা খটকা লাগলো। পোলাপান যেডি আসে, প্রায় বেবাগডি তো মুসলমান। তাও শপথে হে আল্লাহ কয় না ক্যারে? হে প্রভু আর হে আল্লায় কি বিভাজন?

আছে, লোকে জানে, সখিনা জানে, ফরিদা জানে, বিভাজন আছে। আল্লায়ই অহনও প্রভু, কিন্তু আল্লার লগে লগে প্রভুত্বের লাইনে আরও ক্যাণ্ডিডেড আছে। এই যেমন ভগবান কিংবা খ্রিস্টানগো ইংরাজি গড ইত্যাদি! এগোর সবাইরে একখান কমন নাম দিতে হইলে প্রভু শব্দখান পারফেক্ট।

সচেতনভাবেই হউক আর অসচেতনভাবেই হউক, এই ইস্কুলগুলা অন্তত স্বীকার করে আল্লা ছাড়াও প্রভু থাকবার পারে!
তাতে কইরা কালচার পালটায় না। তবু।

এই বছর দশেক আগের কথা। তহন আমি আছিলাম ময়মনসিংহ। নয়া নাস্তিক, মাইনষের লগে খালি তর্ক করবার মন চায়। কয়ডা লোকেরে যদি নাস্তিক বানাইতে পারে, মনে হয় জীবন স্বার্থক হয়া যাইবো।
সত্য সত্যই একদিন দোকানে গিয়া তর্ক জুড়লাম। ফ্রম আরজ আলী মাতুব্বর টু হুমায়ুন আজাদ, যা কিছু আছিলো ঝাইড়া আইলাম। লোকে হই হই কইরা উঠলো। এক হুজুর আইসা শার্ট ধইরা টান মারলো।
এতদিন পর সেই কথা যখন স্মরণ হয়, একদা এক হুজুর আমার গাত্রবস্ত্র ধরিয়া টান মারিয়াছিলো, তহন নিজের সাহসের বহর নিজেরেই এ প্লাস দিতে ইচ্ছা করে।

তখন ব্লগ আছিলো না। তখন ফেসবুকও আছিলো না। অন্তত সেই দুই হাজার ছয় সনে আমি ইন্টারনেট জানতাম না। আছিলো শুধু কয়েকখান বইপত্র। আর আছিলো জিদ।

অহন এইরম পোলাপান তো কতই দেহি! দুইদিন পর পর মারা পড়ে এরা, মোল্লাগো হাতে। শার্টে টান দেওনের যুগ শেষ হইয়া গেসে মনে হয়। অহন চাপাতির কোপ ছাড়া কাম হয় না।

আমাগোর পাড়ার এক বড় ভাই আছিলো, তার নাম আয়নাল কিংবা জয়নাল রশিদ। লোকটা কমুনিজম করতো। অহনও করে। হের লগেও তর্ক করতে নিসিলাম বইলা আমারে ধইরা অফিস থিকা বাইর কইরা দিসিলো এককালে।

ব্যাপারটা খুবই সামান্য। কিন্তু আইজ অসামান্য লাগে, যখন দেহি ওই আয়নাল কিংবা জয়নাল রশিদই ব্লগারগোরে লইয়া গলা ফাটাইতেসে।

হেরই এক চামচা, আফতাব মিয়া। সে কইসিলো হুমায়ুন আজাদ পড়া বাদ দেও, বদরুদ্দিন উমর পড়ো।
তার বর্তমান মতামত সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল না।

যুগ পাল্টাইসে।

অহন কেতাদুরস্ত কিংবা ভদ্র হইতে গেলেও কইতে হয় ব্লগারগো মারা উচিত হইতেসে না। ওইরকম লিখলে তো মারবেই বলার যুগ ফুরাইছে। মারছে ঠিক করছে, মারাই উচিত তো বাদ।

যারা অহনও ধর্ম নিয়া উৎপটাং করতেসে, হেগোরে গণায় না ধরলেও চলে। খুন কইরা খুন করার পক্ষে এক লাখ যুক্তি দেওনের মতো আল্লা’র বান্দার অভাব আগেও আছিলো না, এখনও নাই। এইগুলি বাতিল মাল। সময়ের লগে লগে খালাস হয়া যাবে।

অথচ আমরাই মনে হয় পারলাম না।

আমাগোর শার্ট ধইরা হুজুরে টান দিসিলো সইত্য, হুজুরের দাঁড়ি ধইরা আমরা টানতে পারি নাই।
আমরা ভিকটিমের ভূমিকা পালন কইরা গেসি, অহনও কইরা যাইতেসি।

কি সুন্দর দুই দিন পর পর কোপ লাগায় ব্লগারডিরে ধইরা!
শফি হুজুরের চ্যাটের বাল কি তাহাতে ছিঁড়া যায়? নাকি ছিঁড়ার সাধ্য কারও আছে?
শফি হুজুরেরা বাঁচিয়া থাকিবে। শফি হুজুরেরা আনন্দে থাকিবে। শফি হুজুরেরা টিভি খুইলা পিস টিভি দেখিবে।
ব্লগারেরা মরিবে।
ইহা বোধহয় দীনদুনিয়ার নিয়ম। অন্তত বাংলাদেশের নিয়ম।

খুন কইরা জঙ্গিগুলি যে কোন চিপায় চাপায় গিয়া ঢুকে, পুলিশ আর বিছরায়া বাইর করবার পারে না। ধরাও পড়ে না, বিচারও হয় না। এইডা মনে হয় অপরিকল্পিত নগরায়নের ফল। কথায় বলে বায়ান্নো বাজারের তিপ্পান্ন গলি। তিপ্পান্নখান গলি কি আর গুগলের গলি যে সার্চ দিলেই জঙ্গি বাইর হইয়া যাবে?

অ্যাণ্ড বাই দ্য ওয়ে, বিচার ক্যাডা চায়? বিচার নামে একখান মিল্ক বিস্কিট বাইর করা উচিৎ বাজারে। বিচার চাইলে খুন হওয়া ব্লগারের আত্মীয়স্বজনরে এক প্যাকেট মিল্ক বিস্কিট ধরায় দেওয়া যাইতে পারে।
আরে মনা, তোমার পোলায় যদি রিকশাওয়ালা হইতো, তাও একখান কথা ছিলো। হ্যারে কুপাইলে পাকিস্তানরে পর্যন্ত ধ্যাতানি দেওনের লোক চইলা আসতো। তোমার পোলায় তো ব্লগার! হ্যারে কুপাইছে তো ভালা কামই করসে! ইতনা ভালা কামেরও বিচার? যে কুপাইছে তারে গিয়া থ্যাংক ইউ কইয়া আসো যাও। নাইলে তোমারও কেরাসিন হইতে বেশি দেরি নাই!

কেরাসিনের কুপি জ্বলতাছে তো জ্বলতাছেই, কেরাসিনের কুপিতে দ্যাশ চলতাসে তো চলতাসেই।
আমগোর কাম খালি দেইখা যাওয়া।

একটা একটা কইরা খুন হইতেসে। আর উইকিপিডিয়ায় একটা একটা কইরা আর্টিকেল বাড়তাছে। আর্টিকেলের লাস্ট প্যারাগ্রাফে ল্যাখা হইতেসে দ্য কিলার্স হ্যাভ নট বিন ফাউণ্ড, দ্য তদন্ত ইজ স্টিল গোয়িং অন, দ্য কেইস ইজ স্টিল পেণ্ডিং।

হ, তাও সত্য কথা, যুগ পাল্টাইতাসে। জেনারেশন বাই জেনারেশন। আমাগোর পোলা, আমাগোর পোলাগো পোলা আইতে আইতে আর এইসব লইয়া ছটরফটর করন লাগবো না। তারপরে কেইস ফাইল খুললেও খুলা হইতে পারে। ততদিনে ব্লগে ব্লগে আদালত বইসা যাবে মেইবি, কোর্টরুম ডট কমে গিয়া মামলা রেজিস্টার কইরা এটিএম কার্ডে কেসের ফি প্যে করতে হবে।

কেইস এখনও পেইণ্ডিং অবস্থায় আছে। ছানা অখনও ডিমের ভিতরে। ডিজিটাল ডিম ফুটিবার অহনও ম্যালা বাকি!

কিন্তু ক্যালেণ্ডারের পাতায় দেখি বয়স চইলা যায়।

বহুদিন বিটিভি খুলি না। ঘরে টিভি চললে অহনও শুনি আজান টাজানের পর জাতীয় সঙ্গীত বাজাইয়া চ্যানেল বন্ধ হইতেসে। আগে একলগে কোরান গীতা আর ত্রিপিটক পাঠ হইতো। কোরান বরাবর ফার্স্ট। সেকেণ্ডে গীতা। হের পরে ত্রিপিটক।

স্যাটেলাইট আইসা নাকি ক্ষতি করতেসে। আমি তো ভালা পাই! স্যাটেলাইটে পিস টিভি ছাড়া কোরান গীতা ত্রিপিটক কুনোখানে নাই।

ব্যাপার হইতাসে টিভি জিনিসটা ভদ্রলোকের ড্রয়িংরুমে থাকতো। হেইখানে যখন তখন উলটাপালটা চইলা আইলে ভদ্রলোকেরা লজ্জা পাইতো। আজকাল মনে হয় লজ্জা পাওয়া কইমা গেসে। আজকাল ইন্টারনেটের যুগ।

আহারে যুগ রে! রবীন্দ্রনাথ মনে পইড়া যায়, কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও? তারি রথ নিত্যই উধাও!
কিন্তু যেহেতু মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই, শইল্যের পাত্রে কয় লিটার রক্ত ধরে জানি না, বায়োলজিতে বরাবরই ফেইল, কিন্তু রক্ত যেহেতু সব বাইর হইয়া যায় নাই, অতএব কি অসুবিধা?

যার জানালায় ঢিল পড়ে, যার বাড়ির চালে, সর্বনাশ তো তার। সর্বনাশ যার যার তার তার। কামালের সর্বনাশ জামালের না, জামালের সর্বনাশও আলালের না, আলালের সর্বনাশও দুলালের না।
সুতরাং, অভিজিৎ রায় ওয়াশিকুর রহমান বাবু অনন্ত বিজয় দাশ নীলয় নীল কিংবা দীপনের সর্বনাশও আমাগের না। যার সর্বনাশ তার কাছে ডেলিভারি হইয়া গেসে।

অতঃপর শইল্যে ঘুম ঘুম লাগে। ভাতিজারে কইসি সকালে ডাইক্যা দিতে।
এত ভ্যাজাল ভাল্লাগে না রে ভাতিজা।
এত এনার্জিও নাই।
তাই আমরা সক্কলে শুইতে যাই। ঘুমাইয়া ঘুমাইয়া হেব্বি রেজ্যুলেশনের ডিজিটাল ডিজিটাল স্বপ্ন দেখি। ভাতিজা রে, মামলা মোকদ্দমা আর উকিলের কচকচানি হইতে নিশার খোয়াব উত্তম। আফটার অল, দ্য কেইস ইজ স্টিল পেণ্ডিং।
সকালে পেপারওয়ালা আইলে কইস, আইজকা কারে কুপাইলো!

২ thoughts on “দ্য কেইস ইজ স্টিল পেণ্ডিং

  1. রুদ্র’র কবিতার ভাষায়…
    দরজা

    রুদ্র’র কবিতার ভাষায়…

    দরজা আটকে ঘরে থাকবার সময় এখন নয়,
    এখন সময় নয় সঙ্গমের।
    বাইরে লুট হচ্ছে রোদ্দুর-
    আর গৃহবন্দি মানুষেরা
    যার যার স্বপ্নের আঠায় একা একা জড়িয়ে গিয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *