ইসলামে কি ধর্ষণ বৈধ?


ধর্ষণ বলতে সাধারনত এমন যৌনমিলনকে বোঝানো হয় যেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে বা পেশীশক্তির জোরে জোরপূর্বক সঙ্গীকে সঙ্গমে বাধ্য করা হয়। সাধারণত বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে নারীরাই বেশি ধর্ষণের শিকার হয়।

ধর্ষণ সরাসরি একজন মানুষের যৌন স্বাধীনতাকে হরণ করে। ধর্ষণ মাত্রই তা অপরাধ হলেও ইসলামে কিন্তু কিছু বিশেষ ধরণের কিছু ধর্ষণকে বৈধতা দিয়েছে।



ধর্ষণ বলতে সাধারনত এমন যৌনমিলনকে বোঝানো হয় যেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে বা পেশীশক্তির জোরে জোরপূর্বক সঙ্গীকে সঙ্গমে বাধ্য করা হয়। সাধারণত বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে নারীরাই বেশি ধর্ষণের শিকার হয়।

ধর্ষণ সরাসরি একজন মানুষের যৌন স্বাধীনতাকে হরণ করে। ধর্ষণ মাত্রই তা অপরাধ হলেও ইসলামে কিন্তু কিছু বিশেষ ধরণের কিছু ধর্ষণকে বৈধতা দিয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রথমত উল্ল্যেখ করতে পারি ম্যারিটাল রেপ বা বৈবাহিক ধর্ষণের কথা। বিয়ের পর সঙ্গী বা সঙ্গীনীকে জোরপূর্বক সঙ্গমে বাধ্য করাকে ম্যারিটাল রেপ বলা হয়। ম্যারিটাল রেপে প্রধান শিকার নারী। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের এক-চতুর্থাংশ পুরুষ অর্থাৎ প্রতি চার জনে একজন পুরুষ জীবনে একবার হলে সঙ্গীকে ধর্ষণ করেছে। অর্থাৎ প্রতি চারজনে একজন মহিলা ধর্ষণের শিকার।

মানুষ হিসেবে প্রতিটি নারী স্বাধীন ইচ্ছা এবং চিন্তা-চেতনার অধিকারী। যৌনতার ক্ষেত্রেও একইভাবে তার নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছা অবশ্যয় থাকে।বিয়ে করা মানে এই নয় যে নারীটি তখন পুরুষের একান্ত সম্পদ হয়ে গেল যেখানে নারীর স্বাধীন চিন্তার বিকাশ নিষিদ্ধ।
বিয়ের পর পুরুষ নিজের যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য স্ত্রীকে নিজের মত ব্যবহার করতে চায় যা নারী স্বাধীনতার পরিপন্থি।

ইসলাম সরাসরি নারীদের এই স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করছে। ইসলাম অনুসারে স্বামী বলা মাত্র স্ত্রী যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন সঙ্গম করতে বাধ্য। অর্থাৎ এখানে শুধুমাত্র পুরুষই প্রাধাণ্য পাচ্ছে।

তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য এক ক্ষেতখামার। সুতরাং তোমার যখন ইচ্ছে করে তোমার ক্ষেতখামারে গমন করো।আর তোমাদের নিজেদের জন্য অগ্রিম ব্যবস্থা অবলম্বন করো। আর আল্লাহ কে ভয় ভীতি করবে, আর জেনে রেখ -নিশ্চয় তার সাথে তোমাদের মোলাকাত হবে। আর সুসংবাদ দাও মুমিনদের।।। -২২৩
(সূরা-২ আল বাক্কারাহ, পরিচ্ছেদ – ২৮ )

নারী এখানে ক্ষেত খামারের সমান। নারী এমন একটা বস্তু যা যৌনকামনা নিবৃত্তি এবং সন্তান উৎপাদনের কাজেই ব্যবহার করা যায়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
পার্থিব জগতটাই হল ক্ষণিক উপভোগের
বস্ত্ত। আর পার্থিব জগতের সর্বোত্তম
সম্পদ (উপভোগের বস্ত্ত) সাধ্বী
নারী।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৪৬৭;
মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৬৫৬৭; সহীহ
ইবনে হিববান, হাদীস : ৪০৩১

তলক ইবনু আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো লোক তার স্ত্রীকে নিজ প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে ডাকলে সে যেন সাথে সাথে তার নিকটে আসে, এমনকি সে চুলার উপর রান্না-বান্নার কাজে ব্যস্ত থাকলেও।
– সহিহ মিশকাত(৩২৫৭),সহিহা(১২০২)

জাবির(রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একটি মহিলাকে দেখার পর রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম যাইনাব(রাঃ) এর ঘরে যান এবং নিজের চাহিদা পূর্ণ করেন(সহবাস করেন)। তারপর বাইরে এসে বলেন কোনো মহিলা যখন আগমন করে তখন সে শয়তানের বেশে আগমন করে। অতএব কোনো মহিলাকে দেখে যদি তোমাদের ভাল লাগে তবে সে যেন নিজের স্ত্রীর কাছে যায়। কেননা, ঐ মহিলার যা আছে, তার স্ত্রীরও তাই আছে।
– সহিহ, সহীহা(২৩৫)

নবী মুহাম্মদ একজন আদর্শ(!) মানুষ হয়েও কোথাও যৌন বাসনাকে সংযত না করার পরিবর্তে বলেছেন বাসনা জাগলেই স্ত্রীর উপর ঝাপিয়ে পড়তে। এক্ষেত্রে স্ত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা অসম্মতি কোনো ফ্যাক্ট না। আসলে নবীর কাছে নারী যে শুধু উপভোগ্য বস্তুই ছিল তা উপরের হাদিস দ্বারা সুস্পষ্ট। মুহাম্মদ নারীভোগের যে অসাধারণ ব্যবস্থা করে গেছেন সত্যিই বিষ্ময়কর।

এখন মনে হতে পারে স্ত্রী কেন কোনো প্রতিবাদ করে না! আরে মিয়া এর ব্যবস্থাও মুহাম্মদ নিজেই করে গেছেন। ওইযে বেহেস্ত-দোযখের ভয় দেখিয়েছেন না? এতেই তো খেল খতম।

মুআয ইবনু জালাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পৃথিবীতে কোনো স্ত্রীলোক যখনই তার স্বামীকে কষ্ট দেয় তখনই জান্নাতের বিস্তৃত চক্ষুধারী হুরদের মধ্যে তার ভাবি স্ত্রী বলেন, হে অভাগিনী তাকে কষ্ট দিও না। তোমাকে আল্লাহ তা’আলা যেন ধ্বংস করে দেন! তোমার নিকট তো তিনি কিছু সময়ের মেহমান মাত্র। শীঘ্রই তোমার নিকট হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি আমাদের নিকট চলে আসবেন।

-সহিহ ইবনু মাজহা(২০৪১)

নবী মুহাম্মদ শুধু নারীদের ইচ্ছামত ব্যবহার করার সুযোগই করে দেননি, নারীদের প্রতিবাদ করার রাস্তাও বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ উপরের হাদিস দ্বারা স্পষ্টতই তিনি বুঝিয়েছেন, যে নারী স্বামীর কথামত চলবে না, সে জাহান্নামি।
অর্থাৎ নবী নিজেই ম্যারিটাল রেপের পথ শুধুই প্রশস্থ নয় সুপ্রশস্থ করে দিয়ে গেছেন।

দ্বিতীয়ত, এবার আসি গনিমতের মাল হিসেবে নারীভোগের কথায়। যুদ্ধলব্ধ মালামালকে বলা হয় গনিমতের মাল। আর নবীর কাছে নারীরাও গনিমতের মাল স্বরূপ অর্থাৎ এখানেও শুধুই ভোগ্যবস্তু।

বাঙ্গালী হিসেবে একাত্তর আমাদের কাছে সুপরিচিত। একাত্তরের যুদ্ধের সময় পাকিরা আমাদের ২ লক্ষ মা-বোনকে ধর্ষণ করেছিল। আজ সেইসব রাজাকারদের বিচার হচ্ছে যারা প্রত্যক্ষভাবে একাত্তরে বিভিন্ন ঘৃণিত অপরাধে যুক্ত ছিল।
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে দেখলে একাত্তরের ধর্ষণ কিন্তু সহিহ ছিল। কারণ আল্লাহ-নবী যুদ্ধলব্ধ মালামালকে বৈধ করেছেন।

আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা কিছু সংখ্যক মহিলাকে আওতাস যুদ্ধের দিন বন্দি করলাম। তাদের মধ্যে অনেকেরই স্বামী ছিল তাদের নিজ সমপ্রদায়ে। লোকেরা রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম কে বিষয়টি জানালেন। তখন এ আয়াতটি নাযিল হলো: ‘কারো বিয়ে বন্ধনে যেসব লোক আছে তারাও তোমাদের জন্য হারাম; অবশ্য যারা যুদ্ধে তোমাদের হস্তগত হবে তারা এর অন্তর্ভুক্ত নয়’ (সূরা -নিসা-২৪)।
(সহিহ,সহিহ আবু দাউদ- ১৮৭১)

যে সৈন্যবাহিনী কোন মহিলার স্বজনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তাদের হত্যা করছে, তাদের সাথে সেই মহিলা নিশ্চয় স্বেচ্ছায় সহবাস করবে না। সুতরাং স্পষ্টতই এটা ধর্ষণ। এটা তো আবার যুদ্ধাপরাধের মধ্যেও পড়ে! কিন্তু আল্লাহ কত সুন্দরভাবে ধর্ষন করার লাইসেন্স দিয়ে দিলেন! সুবানাল্লাহ!

৮ thoughts on “ইসলামে কি ধর্ষণ বৈধ?

  1. একদিক দিয়ে বৈধ বলাই যায়।ধর্ষণ
    একদিক দিয়ে বৈধ বলাই যায়।ধর্ষণ প্রমান করতে অভিযোগ কারীকে চারজন পুরুষ সাক্ষী জোগাড় করতে হবে,যেটা প্রায় অসম্ভব।

    1. দাদা চারজন পুরুষ সাক্ষী না।
      দাদা চারজন পুরুষ সাক্ষী না। দুইজন পুরুষ অথবা চারজন নারীসাক্ষী।

      সাক্ষী যোগাড় করতে না পারলে উলটো মেয়েটাকেই ব্যাভিচারিতার দায়ে শাস্তি!

    1. বিষয়টা অনেকটা এরকম- ইসলাম
      বিষয়টা অনেকটা এরকম- ইসলাম কখনোই মানুষ হত্যা সাপোর্ট করে না। কিন্তু ইসলাম ত্যাগীকে হত্যা করতে কোনো সমস্যা নাই!

  2. এই আয়াতগুলি ইসলামিক সেক্স
    এই আয়াতগুলি ইসলামিক সেক্স এডুকেশনের সিলেবাসে রাখা দরকার।
    অবশ্য এমনিতেই আছে।
    হিন্দু মাগী কথাটা গুগলে সার্চ দিলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
    মানুষ আসলে চর্চা আর মূল্যবোধ থেকে যতটা তাড়িত হয়, ততটা শাস্ত্র থেকে না। কিন্তু শাস্ত্র যখন মূল্যবোধের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তখন এই অবস্থাই হয়।
    মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আয়াতগুলি আর বাদ দেওয়ার কোনও উপায় নাই। এইজন্য ইসলামী চিন্তাবিদগণ রোজ রোজ চিন্তা করে নতুন নতুন আরবি ভাষা উদ্ভাবন করেন, যাতে করে আয়াতগুলোর অর্থ ইচ্ছামত পালটানো যায়।

  3. মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই

    মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আয়াতগুলি আর বাদ দেওয়ার কোনও উপায় নাই। এইজন্য ইসলামী চিন্তাবিদগণ রোজ রোজ চিন্তা করে নতুন নতুন আরবি ভাষা উদ্ভাবন করেন, যাতে করে আয়াতগুলোর অর্থ ইচ্ছামত পালটানো যায়।

    দারুণ একটা কথা বলেছেন। @জনাব জব্বর, ধন্যবাদ।

    যে সৈন্যবাহিনী কোন মহিলার স্বজনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তাদের হত্যা করছে, তাদের সাথে সেই মহিলা নিশ্চয় স্বেচ্ছায় সহবাস করবে না। সুতরাং স্পষ্টতই এটা ধর্ষণ। এটা তো আবার যুদ্ধাপরাধের মধ্যেও পড়ে! কিন্তু আল্লাহ কত সুন্দরভাবে ধর্ষন করার লাইসেন্স দিয়ে দিলেন! সুবানাল্লাহ!

    মোহাম্মদ জানতেন এই ধরনের কিছু সুবিধা না দিলে দলে দলে লোক ইসলাম গ্রহণ করবে না।
    তবে সবকিছুর পরেও মোহাম্মদের বুদ্ধি’র প্রশংসা করতে হয়। কি চমৎকারভাবে উনি বলে গেছেন, যে উনার পরে আর কোন নবী আসবে না। অর্থাৎ নিজেকে একেবারে চূড়ান্ত শাসকের জায়গায় বসিয়ে গেছেন। যতদিন ইসলাম ধর্ম থাকবে ততদিন অন্তত তাকে লোকে মনে রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *