ক্যালিফোর্নিয়াতে মুসলিম দম্পতি কর্তৃক নির্মম হত্যাকান্ড: ইহা কি সহিহ ইহুদি ষড়যন্ত্র?

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়াতে রিজওয়ান ফারুক ও তার স্ত্রী তাফসিন মালিক কর্তৃক এক ভয়াবহ নৃসংশ হত্যাকান্ড ঘটেছে , মারা গেছে ১৪ জন , ২১ জন আহত হয়েছে।ফারুকের আত্মীয় স্বজন ও যারা তাকে চেনে সবাই বলেছে , সে ছিল একজন সজ্জন, ভদ্র, বিনম্র লোক। সে কোনভাবেই এ কাজ করতে পারে না। তাহলে কেন সে এটা করল ?


সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়াতে রিজওয়ান ফারুক ও তার স্ত্রী তাফসিন মালিক কর্তৃক এক ভয়াবহ নৃসংশ হত্যাকান্ড ঘটেছে , মারা গেছে ১৪ জন , ২১ জন আহত হয়েছে।ফারুকের আত্মীয় স্বজন ও যারা তাকে চেনে সবাই বলেছে , সে ছিল একজন সজ্জন, ভদ্র, বিনম্র লোক। সে কোনভাবেই এ কাজ করতে পারে না। তাহলে কেন সে এটা করল ?

জানা গেছে , এই ফারুক নিয়মিত নামাজ পড়ার চেষ্টা করত। ২০১৩ সালে সে হজ্জ পালন করে , সেখানেই তাফসিন মালিকের সাথে দেখা , পরে তারা বিয়ে করে। এই বছরের গোড়ার দিকে তাদের একটা কন্যা সন্তান হয়। একটা সুখী সুন্দর ছোট পরিবার। এটাই স্বাভাবিক ছিল যে তারা এভাবেই জীবন কাটিয়ে দেবে। কিন্তু সেটা না হয়ে ঘটল উল্টো। তারা তাদের ৬ মাস বয়সী কন্যাকে এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে বের হলো গণহত্যা চালাতে। নির্মম ও বর্বরভাবে তারা নিরীহ মানুষের ওপর গুলি চালাল যাতে বহু লোক মারা গেল। বলা বাহুল্য, নিহতরা সবাই ছিল কাফের। তাদের ছোট শিশুর প্রতিও তারা কোন দয়া মায়া দেখাল না , তারা কেয়ার করল না যে তারা এভাবে আত্মঘাতী হামলা চালালে তাদের শিশুটার কি হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো – হঠাৎ তাদের এই পরিবর্তনের কারন কি ?

রিজওয়ান ফারুক ও তাফসিন মালিক উভয়ই যে ধর্মপ্রান মুসলমান ছিল তা বোঝা যায় তাদের হজ্জব্রত পালনের সময় দেখা হওয়ার মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ তারা উভয়েই যথাসাধ্য ইসলাম অনুসরন করার চেষ্টা করত। এখন দেখা যাক , কোরান ও হাদিস কি বলে :

সুরা তাওবা – ৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তাওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

এই দুই আয়াত দেখানোর সাথে সাথে কিছু তথাকথিত মডারেট মুসলমানেরা চিক্কুর পেড়ে বলা শুরু করবে , এই আয়াত যুদ্ধের সময় নাজিল হয়েছিল , তাই এটা যুদ্ধের সময়ের জন্যে প্রযোজ্য, এছাড়া আরও বহু কিছু। ভাবখানা হলো – মুহাম্মদ যখন এই আয়াত নাজিল করে, তখন এইসব মডারেট মুসলমানরা মুহাম্মদের সাথেই ছিল। কিন্তু বাস্তবে তাফসির , হাদিস ও অন্যান্য ইসলামের ইতিহাস বলছে মুহাম্মদ যখন মক্কা বিজয় করে আরবের সকল গোত্রের ওপর সম্পূর্ন আধিপত্য বিস্তার করে ফেলেছে , তখনই এই সূরা তাওবা ও উক্ত আয়াত সমূহ নাজিল হয়। অর্থাৎ উক্ত আয়াত কোন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে নাজিল হয় নাই , আর তাই উ্ক্ত আয়াতের বিধান যুদ্ধের সময় প্রযোজ্য নয়। বিষয়টা বুঝতে উক্ত আয়াত সম্পর্কিত হাদিস পড়া যেতে পারে , যেমন :

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১
আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি । এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া ।আর তাদের হিনাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩২
আবু বকর ইবনআবু শায়বা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) ও জাবির (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি ।বাকি অংশআবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে ইবন মুসায়্যাব-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ ।আবু বকর ইবনআবু শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (র)……জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, এ কথার স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে আমি আদিষ্ট হয়েছি ।আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই,– এ কথা স্বীকার করলে তারা আমার থেকে তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে ।

অর্থাৎ বোঝা গেল, অমুসলিমরা যতক্ষন পর্যন্ত ইসলাম গ্রহন না করবে ততক্ষনই প্রতিটা মুসলমানের দায়িত্ব হলো , তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাওয়া ও তাদেরকে হত্যা করা। এমনভাবে হত্যা করা যাতে অমুসলিমদের মনে ত্রাসের সঞ্চার হয় ও অবশেষে ভয়ে ইসলাম কবুল করে। সেটা কোরানই বলেছে :

সুরা আনফাল-৮: ১২: যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।

অর্থাৎ এমনভাবে হত্যা করতে হবে যাতে কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার হয়।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , ইমানদার মুসলমারা এ পর্যন্ত যত যায়গায় হত্যা কান্ড ঘটিয়েছে , তার প্রতিটাই ছিল কাফেরদের মনে ভীতি সঞ্চারকারী। আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংস থেকে শুরু করে হালের ফ্রান্স বা ক্যালিফোর্নিয়াতে হামলা সবই ছিল সাধারন মানুষের মনে ভীতি উদ্রেককারী। এসব কারনে খোদ উন্নত দেশে যেখানে মানুষের জীবনকে মনে করা হয় নিরাপদ , সেখানেও এখন মানুষ মুসলমানদের সন্ত্রাসী আক্রমনের ভয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। সাধারন মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে এমন বিঘ্ন সৃষ্টি হলে তা সমাজ অর্থনীতি সহ সর্বক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তার করবে , যা তাদেরকে ধ্বংস করে দেবে। খাটি মুমিনরা যারা সারা দুনিয়ায় ইসলাম প্রচার ও প্রসার ঘটাতে চায় তারা এটা জানে। জেনে শুনে বুঝে পরিকল্পনা করেই তারা সর্বত্র এ ধরনের হামলা করে যাচ্ছে।

কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান উপরে উপরে বলছে ইসলাম তো এভাবে মানুষ হত্যা করতে বলে না। এইসব সন্ত্রাসী আক্রমন এসব নিশ্চিতভাবেই ইহুদিদের ষড়যন্ত্র। অর্থাৎ ইহুদিরা কোরান হাদিস ঘেটে এসব জিহাদী আয়াত বের করে মুসলমানদেরকে উদ্বুদ্ধ করছে যেন তারা অমুসলিমদের যেখানে সম্ভব সেখানেই আক্রমন করে তাদের জীবনকে অস্থির করে তোলে।খাটি মুমিনরা কোরান হাদিসের নির্দেশ মেনে ইহুদিদের ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে এইসব সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটাচ্ছে। একই সাথে তাদের উদ্দেশ্য , সারা দুনিয়ায় যেন এটা প্রমানিত হয় ইসলাম হলো একটা বর্বর ধর্ম , আর মুসলমানরা হলো সব বর্বর ও অসভ্য , তা তাদেরকে আপাত: উপরে উপরে যতই ভদ্র ও সজ্জন দেখতে হোক না কেন। ভিতরে ভিতরে প্রতিটা মুসলমানই বর্বর ও অসভ্য। তাদের মনে ভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতি প্রবল ঘৃনা বিদ্যমান।

কিন্তু আপনারা কি বলেন ? এইসব আক্রমন সহিহ ইহুদি ষড়যন্ত্র ?

৭ thoughts on “ক্যালিফোর্নিয়াতে মুসলিম দম্পতি কর্তৃক নির্মম হত্যাকান্ড: ইহা কি সহিহ ইহুদি ষড়যন্ত্র?

  1. ঘটনা ঘটে সব ধর্মের নামে,
    ঘটনা ঘটে সব ধর্মের নামে, ধর্মীয় নির্দেশনা অনুযায়ী। কিন্তু ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর মডারেট মুসলমানগণ ঘটনার পেছনে ইহুদী-নাসারাদের ষড়যন্ত্র খুঁজে পান। ইহুদী-নাসারারা কি কোরানের আয়াত ও হাদিস লিখে দিয়েছে মুসলমানদের জন্য? এটা স্পষ্ট এখন, ইসলাম একটি সন্ত্রাসবাদের নাম। যেটা নবী মুহাম্মদ নিজেও ঘোষনা দিয়েছেন-

    ” আমি বিজয়ী হয়েছি সন্ত্রাসের মাধ্যমে’।
    – নবী মুহাম্মদ (বুখারী শরীফ, ৪:৫২:২২০)

  2. ইসলামে সন্ত্রাসের কোন স্থান
    ইসলামে সন্ত্রাসের কোন স্থান নাই। তবে কেউ যদি ইসলামকে মানবজাতির জন্য একমাত্র জীবনবিধান মানতে অস্বীকার করে তাহলে তাদেরকে গুলি করে, চাপাতি দিয়ে, বোমা মেরে, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে বুঝাবো ইসলাম কেমন চিজ!

  3. ইসলাম শান্তির
    ইসলাম শান্তির ধর্ম,সন্ত্রাসীর/দুর্বৃত্তর কোন ধর্ম নাই।ইহা সহি ইসলাম নহে।
    -বানীতে, অগনিত মোডারেট মুসল্মান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *