পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রতারকের নাম মুহাম্মদ আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রতারণার নাম ইসলাম : দ্বিতীয় পর্ব

★ সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠিত Commission on Scientific Signs in the Quran and Sunnah যারা ডলারের উপর ডলার খরচ খরচ করছে কুরানকে আল্লাহর বানী প্রমানের চেষ্ঠায়। এর প্রতিষ্ঠাতা জিদানী। এই কমিশনের ডোনেটরদের একজন ছিলেন ওসামা বিন লাদেন। ফ্রি প্রথম শ্রেণীর বিমান টিকিট, ৫-স্টার হোটেল বুকিং, ১,০০০ ডলার পারিশ্রমিক এবং বড় বড় নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ দিয়ে জিদানীর কমিশন কিছু পশ্চিমা বিজ্ঞানীদের তাদের কনফারেন্সগুলোতে টেনে আনলেন। জিদানী বিজ্ঞানীদের “সম্পূর্ণ” নিরপেক্ষ থাকার আশ্বাস দেন এবং মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে স্বীকার করতে বাধ্য করেন যে কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণা রয়েছে। বিজ্ঞানী উইলিয়াম হেয় মন্তব্য করেন “আমি সেই ফাঁদে পা দিয়েছিলাম এবং পরে অন্যদের সাবধান করে দিলাম”। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এদের দূর্নীতি প্রকাশ পায়। শুনেছি জিদানী এখন এসব ছেড়ে ইয়েমেনে ইসলামী শাসন তন্ত্র কায়েমে ব্যস্ত।

২.সেই মুরের কথা মনে আছে যার রেফারেন্স ড.জাকির নায়েক দিয়েছিলেন। তিনি বড় গলায় বলেছেন কুরান হাদীসের ভ্রুন ত্বত্ত পুরোপুরি আধুনিক আবিস্কারের সাথে মিলে যায়। আমি নিশ্চীত যে কুরান আল্লাহর পক্ষ হতে এসেছে। মজার ব্যাপার তিনি এত নিশ্চীত হবার পর ও ইসলাম গ্রহন করেন নি। তার দূর্নীতি প্রকাশ পাবার পর যখন ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল সাক্ষাতকার নিতে চাইল তখন তিনি সাক্ষাতকার দিতে অস্বীকার করলেন। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হল কোরান সম্পর্কে তিনি বললেন “ওসব অনেক আগে বলেছিলাম আর কিছু বলতে চাই না”

৩.“বৈজ্ঞানিক বিস্ময়” সমর্থন হিসেবে জাকির নায়েক প্রায়ই পশ্চিমা ধাত্রীবিদ্যাবিশারদ Dr Joe Leigh Simpson এর একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন। কিন্তু পরে ডঃ সিম্প্‌সন তার নিজের সেই মন্তব্যগুলোকে বলেছে “বোকা এবং লজ্জাকর”।
তাহলে যুক্তি খন্ডন করি

১.তাহলে যুক্তি হল নবী কারীম(স) এর পক্ষে ভ্রুন ত্বত্ত জানা অসম্ভব ছিল ঐ সময়ে তাই কোরান অবশ্যই আল্লাহর বানী। কিন্তু উনার আগে জন্ম নেওয়া অ্যারিষ্টেটল (৮৫০বছর আগে, গ্রীস) নেওয়া অ্যপরোক্রাইটিস(১০০০বছর আগে, গ্রীস), শরক(৪৪৭বছর আগে, ভারত), গ্যালেন(৪৩৯ বছর আগে, তুরস্ক) ভ্রুন ত্বত্ত সম্পর্কে ধারনা দেন। তারা কিভাবে ধারনা দিলেন। এক সাধু বলেছিলেন মানুষ নাকি ধ্যান করে অতীতে যেতে যেতে ভ্রুনাবস্থায় চলে যেতে পারে তবে এই ধ্যান বড় কঠিন। তারা কি সেভাবেই জেনেছিলেন।

২.এখন কথা হল মুহাম্মদ আসলেই এটা আল্লাহর কাছ থেকে প্রথম পেয়েছিলেন? একথা সত্য হতে হবে জরুরী নয়।

• হতে পারে মুহাম্মদ ধ্যানের ফলে জেনেছিলেন।তিনি তো হেরা গুহায় ধ্যান করতেন।

• তার চেয়ে বেশী সম্ভব তিনি ঐ মনীষীদের জ্ঞান ই লাভ করেছিলেন। কারন ৮০০বা হাজার বছর অনেক এই সময়ে তুর্কি বা গ্রীসের জ্ঞান আরবে যেতেই পারে।
কিন্তু মূল কথা হল যে যুক্তি কুরান যে আল্লাহর পক্ষ হতে এসেছে তা নিশ্চীত নয়।

৩.দেখা যাচ্ছে জাকির নায়েকের রেফারকৃত ডা.মুর আসলে সেই চক্রের টাকা খেয়েই ঐসব বলেছিলেন তিনি নিজে ইসলাম গ্রহন করেন নি। তার রেফারেন্স কি গ্রহনযোগ্য?

৪.আলাক শব্দটির মানে পরিবর্তন করা হয়েছে। এটা অসম্ভব নয়। কারন তারা টাকার বিনিময়ে কুরানকে আল্লাহর বানী প্রমান করতে চাচ্ছে তারা কি একটা আরবী ডিকশনারী বদলে দিতে পারে না। এটা একটা পরিস্কার ভন্ডামী নয় কি যে শব্দের মানে বদলে দিয়ে বিস্তৃতকে উটপাখির ডিম আর জমাট রক্তকে লেগে থাকা কিছু জোক ইত্যাদি বানানো। কারন অন্ধ বিশ্বাসীরা তো একে ও বিশ্বাস করবে। জাকির নায়েক কি সেই অন্ধবিশ্বাসী দূর্নীতিবাজ চক্রের সাথে জড়িত?????

কুরআনকে আল্লাহর বানী আখ্যায়িত করে জাকির নায়েক বলেন কুরান হাদীসে ভ্রুন ত্বত্ত খুজে পাওয়া গেছে।তিনি বলেন ইয়েমেনের শাইখ আব্দুল মাজিদ আযযানির নেতৃত্বে একদল মুসলীম কুরান হাদীস হতে ভ্রুন-ত্বত্ত সংগ্রহ করে তা বিখ্যাত প্রফেসর কেইথ মুরের কাছে নিয়ে যান।কেইথ মুর নাকি বলেছেন কুরান হাদীসের ভ্রুন ত্বত্ত পুরোপুরি আধুনিক আবিস্কারের সাথে মিলে যায়।স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায় কুরআন আল্লাহর বানী।কারন তখন তো কোন অনুবীক্ষন যন্ত্র আবিস্কার হয় নি। যা দ্বারা মুহাম্মদ জেনে যাবেন।কারন মায়ের পেটে অবস্থান কার ও পক্ষে জানা সম্ভব নয়।কিন্তু জাকির নায়েকের এইযুক্তি ও প্রমান করে না কোরান আল্লাহর বানী।তার যুক্তি খন্ডন ও কিছু ভন্ডর মুখোশ উন্মোচন করা হবে।ধৈর্য ধরে পড়বেন।

ডঃ মরিস বুকাইলি আর ডঃ কিথ এল মুর, মাতৃগর্ভে মানব ভ্রুণ যে পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পায় এবং কোরআন যে বিস্ময়কর ভাবে তার বর্ণনা দেয়, এই ধারণা জনসাধারণের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছেনঃ
“আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছি মৃত্তিকার উপাদান হইতে, অতঃপর আমি উহাকে শুক্রবিন্দুরূপে স্থাপন করি এক নিরাপদ আধাঁরে; পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি “আলাক”-এ, অতঃপর আলাক্‌কে পরিণত করি পিণ্ডে এবং পিণ্ডকে পরিণত করি অস্থিপঞ্জরে; অতঃপর অস্থি-পঞ্জরকে ঢাকিয়া দেই গোশ্‌ত দ্বারা; অবশেষে উহাকে গড়িয়া তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে। অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ্‌ কত মহান!” (সূরা মু’মিনূন ২৩:১২-১৪)

তাহলে আমরা দেখি যে কোরআনে পাচটি ধাপের বর্ণনা রয়েছে—
প্রথম ধাপ : নুৎফা (نُطْفَه) – বীর্য
দ্বিতীয় ধাপ : ‘আলাক্বা (عَلَق) – রক্তপিণ্ড
তৃতীয় ধাপ : মুদাঘা (مُضْغَه) – গোশতের খণ্ড বা পিণ্ড
চতুর্থ ধাপ : ‘আদাম (عَظَمَ) – হাড়
পঞ্চম ধাপ : গোশত দিয়ে হাড়কে ঢেকে দেওয়া।
কিছু তথ্য জানতে হবে

১. ইতিহাস থেকে জানা যায় যে হযরত মুহাম্মদের সময়কালেও এই মানব ভ্রুণের এই ধাপগুলো অজানা ছিল না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে অনেকাংশে এগুলো সাধারণ জ্ঞান ছিল। হিপক্রিতাস, এরিস্টটল এবং গ্যালেনের প্রত্যেকেরই লেখাতে এই ধাপগুলোর বর্ণনা করেছেন:
প্রথম ধাপ : বীর্য
দ্বিতীয় ধাপ : মাসিক রক্ত
তৃতীয় ধাপ : মাংস
চতুর্থ ধাপ : হাড়
পঞ্চম ধাপ : গোশত দিয়ে হাড়কে ঢেকে দেওয়া
এই গ্রীক বিজ্ঞান আরবীয়দের কাছে পরিচিত ছিল।
এমনকি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নিজের একজন সাহাবী, হারিস বিন কালাদ, জুনদি-শাপুর বিদ্যালয়ে গ্রীক মেডিসিন পড়েন এবং এভাবে হিপোক্রিতাস, এরিস্টটল এবং গ্যালেনের মেডিকেল শিক্ষার সাথে পরিচিত হন।

২. দ্বিতীয়ত, ‘আলাক্ব (عَلَق) শব্দটা “জোঁক” বা “ঝুলন্ত” দিয়ে অনুবাদ করা কেবলমাত্র আধুনিক একটা উদ্ভাবন। গত ১৪শ বছরে যতগুলো কোরআন অনুবাদ করা হয়েছে, সবগুলোতে “রক্তপিণ্ড” দিয়ে অনুবাদ করা হয়। বিখ্যাত আরবীয় মুসলিম চিকিৎসাবিদ ইবনে সিনা ও ইবনে কাইয়িম এই عَلَق শব্দকে জমাট রক্ত হিসেবেই ধরে নিয়েছেন, যেমনই ধরেছেন বিগত ১৪০০ বছরের প্রত্যেক কোরআন অনুবাদক।সেই দাহাহার মত এখানে ও শব্দ বিকৃতি ঘটেছে।

৩. তৃতীয়ত, আধুনিক ভ্রূণবিদ্যা অনুযায়ী, মাংসপেশী (উপরোক্ত পঞ্চম ধাপ) তৈরী হয় হাড়ের আগেই (উপরোক্ত চতুর্থ ধাপ)। হাড়কে “মাংস দিয়ে ঢেকে দেওয়া” হয় না বরং মাংসপেশী সৃষ্টির পরে সেই মাংসপেশীর ভিতরে আস্তে আস্তে হাঁড় বেরিয়ে এসে শক্ত হয়।

৫.ডঃ বুকাইলিও মানতে বাধ্য হয়েছে যে, “এখানে ভ্রূণ সম্পর্কে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা আধুনিক বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত তথ্যের সাথে আদৌ সঙ্গতিপূর্ণ নয়।” (বাইবেল,কুরআন ও বিজ্ঞান:মরিস বুকাইলি/জ্ঞানকোষ প্রকাশনী[২০০৮]পৃ-৩২৯)

৩ thoughts on “পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রতারকের নাম মুহাম্মদ আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রতারণার নাম ইসলাম : দ্বিতীয় পর্ব

  1. টাকার বিনিময়ে পশ্চিমাদের
    টাকার বিনিময়ে পশ্চিমাদের ইসলামের হয়ে মিথ্যাচারকে প্রকাশ করার জন্য ধন্যবাদ। সাধারণ মানুষ এই প্রতারক চক্রদের সম্পর্কে জানে না।

  2. আসলে নাস্তিকরাও যে সুযোগ পেলে
    আসলে নাস্তিকরাও যে সুযোগ পেলে কতটা মৌলবাদী হয়ে উঠবে তা এই লেখকের লেখা পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবেন !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *