গৃহবধূকে উলঙ্গ করাটাই ছিল মূলউদ্দেশ্য

নারীবাদী বা মানবতাবাদী হতে হয় না সবসময়,সবসময় মুক্তচিন্তাবিদ বা বিচারক হতে হয় না।কখনো কখনো সাধারণ একজন মানুষ হয়ে বিবেকের সামনে দাঁড়াতে হয় এবং জিজ্ঞাসা করতে হয়,”কেমন আছ?শরীর-মন ভাল তো?সব ভাল চলছে তো?”

উত্তরটা আসবে নিজের মনের গহীন থেকে।সত্যি কথা বলতে যারা আজ দ্বিধাবোধ করে,যারা নিষ্ঠুর সত্যটাকে আপন করে নিতে পারেনা তারাই এরকম হাজার ঘটনার জন্য দায়ী।


নারীবাদী বা মানবতাবাদী হতে হয় না সবসময়,সবসময় মুক্তচিন্তাবিদ বা বিচারক হতে হয় না।কখনো কখনো সাধারণ একজন মানুষ হয়ে বিবেকের সামনে দাঁড়াতে হয় এবং জিজ্ঞাসা করতে হয়,”কেমন আছ?শরীর-মন ভাল তো?সব ভাল চলছে তো?”

উত্তরটা আসবে নিজের মনের গহীন থেকে।সত্যি কথা বলতে যারা আজ দ্বিধাবোধ করে,যারা নিষ্ঠুর সত্যটাকে আপন করে নিতে পারেনা তারাই এরকম হাজার ঘটনার জন্য দায়ী।

আপনার বিশ্বাসের ধার না ধারলেও বলছি,বিশ্বাস করুন,আমি ভিডিওটা দেখবার আগেও কখনো ভাবিনি এরকম কিছুর সম্মুখিন হবো।বর্তমান পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে অনলাইন পোর্টালগুলো কাঁঠালের নামে কদবেল চালিয়ে দিচ্ছে নির্দ্বিধায়।তাই ভেবেছিলাম,যা বলছে তার সামান্য কিছু হয়তো হবে।

কিন্তু ভিডিও শেষ করে যখন লেখাটা আবার পড়লাম,মনে হল,বজ্জাত সাংবাদিক “বগলে ফোঁড়া উঠেছে” মজা করে লিখলেও,এটা নিয়ে মজা করতে পারেনি।উল্টা মনে হয়েছে,একটু যেন কম করেই লিখেছে!

যারা কাঁঠাল বেচার নামে কদবেল বেচেন তাদের আমি কখনো ভাল বলতেই পারিনা।তাদের উপর প্রচন্ড রাগ আছে ভিতরে ভিতরে।অথচ,এই খারাপ মানুষগুলোও যেন তাদের বর্বরতা দেখে কুঁকড়ে গেলেন!

কিছু সময়ের জন্য মনে হয়েছিল,”বর্বরতার যুগে আবার ফিরে গেছি”।দুইজন মহিলা মিলে জোর করে আরেকজন মহিলার ব্রাউজ ধরে টেনে খুললেন,শেষে তার নিচের অঙ্গটাও দেখানোর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় রত হলেন!

অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে “স্পেডকে স্পেড” বলাই ভাল।আমার ও অস্বস্তি লাগলেও যা বলছি খোলাসা করে বলাই ভাল।সবচেয়ে অবাক করবার মত বিষয় ছিল,এসবকিছু হচ্ছিল প্রকাশ্য দিবালোকে,এমনকি বেশকিছু কাপুরুষের সামনে!কাপুরুষরা যদি এই লেখার এই অংশের জন্য আন্দোলন করেন শাহবাগে আমার অবাক হবার কিছু থাকবেনা!তাদের ব্যানারে লিখা থাকবে,”আমরা গর্বিত কাপুরুষ!আমাদের এই অপমান আর সহ্য করা যায় না।”
আরো থাকতে পারে,”বেশ করেছি,দান করেছি,বেশ করেছি ঐ,কাপুরুষ হয়েছি আমি,পুরুষের বাড়ি কই?”

আমার সবচেয়ে অবাক লাগছে,তাদের উদ্দেশ্য ছিল এই দৃশ্য ভিডিও করে সোস্যাল মিডিয়াতে দেয়া!আমার ভয়ও লাগছে!কালকে থেকে আমি জোরছে বেল্ট বেঁধে রাস্তায় নামব বলে প্রতিজ্ঞাও নিয়েছি।তাদের ভিতরে এটা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভয় বা সংশয় দেখিনি।মনে হয়েছে উলঙ্গ করাটা তাদের একধরনের অধিকার!

সবচেয়ে ক্ষমতাধরদের ও এই মহিলাদের কাজ দেখে ভয় লাগবে নিশ্চিত।কেন লাগবে না!তারাও বোধহয় এরকম কাজের স্পর্ধা করবেন না!তাদের ও হয়তো ভয় আছে।কিন্তু ইনাদের নেই।আমার প্রশ্ন,”এত সাহস ইনারা কোথায় পেলেন?”

তাদের পিছনে এমন কে ই বা আছেন যিনি তাদের এরকম একটা বিপদ থেকে বাঁচাবেন?কিভাবে এত বড় বিপদ স্বেচ্ছায় টেনে আনার সাহস পেলেন?প্রশ্নগুলো থেকে যায়না?

এসব সার্কাজম না হয় হলই,কিন্তু সবচেয়ে বড় ভয় টা আমার নিজেদের মেন্টালিটির লেভেল নিয়ে।মানুষের মনুষ্যত্ব নিয়ে।আমরা টিএসসির যৌন নিপিড়ন নিয়ে শাহবাগ – টিএসসি কাঁপিয়েছি।সেদিন যারা এসব করেছিল,তারাও কিন্তু ভিডিও করার সাহস পায়নি।তাহলে দিনদিন কি আমরা নিচের দিকে নামছি?এর শেষই বা কোথায়?আমাদের সবার কাছে যদি নারী মানেই মাংসপিন্ড হয় এবং তাকে উলঙ্গ করলেই তার সব শেষ বা তার শরীরের কোন এক অংশে হাত দিলেই বিরাট মজা হয়,তাহলে আমরা কত গতিতে নিচে নামছি?চিন্তা করা যায়?

আমাদের কাছে নারী-পুরুষ সমান অধিকার মানে যদি হয়,নারীদের পুরুষ বানানো সেটা যেমন ভুল,তেমনি নারীদের অধিকার কম কারণ,তাদের দেহ অস্থিতিশীল ভাবাটাও চরম বেদনাদায়ক। এই হতদরিদ্র মেন্টালিটি দুটির শুরু এবং শেষ একই জায়গায়। ঠিক এজন্যই আজকে নারীরাই নারীদের সম্মান দেয়না।কারণ,নারীবাদীরা তো নারী-পুরুষ সমান অধীকার মানেই বুঝিয়ে ফেলেছেন,নারীকে পুরুষ বানানোর প্রক্রিয়া!মেয়েরা কেন ছেলেদের কপি করবে?মেয়েরা ছেলেদের কপি করার মানসিকতা আছে বলেই মেয়েরাই মেয়েদের সম্মান করেনা,যার ফল আজকের এই গৃহবধূর সম্মানহানী।

আমি সম্মানহানী এজন্য বলছি যে,আজকে আমার বন্ধুরা যদি সবার সামনে আমার শার্ট-প্যান্ট খুলে সেটা ভিডিও করে সেটা যে পরিমাণ মানহানি ঠিক তেমনি এই গৃহবধূকে অর্ধ বা পূর্ণউলঙ্গ করাটাও তার জন্য মানহানি।আর সেই ভিডিও করে সেটা সোস্যাল মিডিয়াতে দেয়া সেই মানহানির চরম পর্যায়!

এই মানহানিটা করেছে যেমন আরেক মহিলা ঠিক তেমনি তার করার উদ্দেশ্যের পথটা ছিল তাকে উলঙ্গ করা।অর্থাৎ,মূল কথা দাঁড়ায়,তাদের উদ্দেশ্য ছিল উলঙ্গ করাটাই মূল বিষয় এবং সেটার ভিডিও ছড়ানোটাই কর্তব্য।এর ফলে মেয়েটার চরম ক্ষতি হবে বলে তাদের ধারণা ছিল এবং এর সঠিক পথ হিসেবে তারা বেছে নিয়েছেন উলঙ্গ করাটাকে।

তারা কতটা সফল আমি জানিনা,তবে আমরা মুক্তচিন্তাবিদ,সুশীল সমাজ,চিন্তাবিদ,লেখক,ব্লগাররা সম্পূর্ণ ব্যর্থ এই কথাটা বলতে পারি।সরকার বিষয়টা গুরুত্বের সাথে দেখবেনা আশা করব।কারণ,দেশে তো ফেসবুক ই নাই।তারানা হালিম সাহেবান এর কথামতে যারা ফেসবুক চালাচ্ছে তারাই একধরণের আসামী।তাই আসামীদের মাঝে কি ছড়ানো হল,এটা নিয়ে সরকারের মাথা ব্যথার কোন দরকার আছে বলে মনে করিনা।উল্টা আমি ফেসবুক অবৈধভাবে চালিয়েছি বলে আমাকেই শাস্তির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে!তাই বলে রাখি,”ম্যাডাম/স্যার,আমি ফেসবুকের আশেপাশেও যাইনা!আমি তো এসব পোর্টাল থেকে পড়লাম।”…….

২ thoughts on “গৃহবধূকে উলঙ্গ করাটাই ছিল মূলউদ্দেশ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *