হাস্যকর এক সত্য ঘটনা :: দুঃখজনক এক পরিণতি দেখার আগেই রাস্ট্র-অভিবাবকের দৃষ্টি আকর্ষণ

শুরুতেই চরম হাসির সত্য ঘটনা’টা দিয়ে শুরু করছি …


শুরুতেই চরম হাসির সত্য ঘটনা’টা দিয়ে শুরু করছি …

বছর দুইয়েক আগের ঘটনা, আমাদের চট্টগ্রামের ব্যস্ততম একটি মোড়ের একটা মার্কেটের নিচতলার ফ্লোরে সবগুলোই মোবাইল ও সার্ভিসিং এর দোকান। তো রমজান মাসে দোকানের প্রায় বেশিরভাগই মালিক ও কর্মচারীরা তারাবীর নামাজ পড়তে গেলে ফিরে এসে শুনে আজ এই দোকানের পাঁচটা মোবাইল গায়ের, কাল ঐ-দোকানের তিন’টা, পরশু অমুক দোকান থেকে সাত’টা .. এভাবে টানা সাত-আট দিন প্রত্যেক দোকান থেকে মোবাইল চুরি হয়ে যাওয়া’তে দোকানের মালিকেরা ভীষণ টেনশনে ও চিন্তায় পড়ে গেলেন। তো এমতাবস্থায় ঐ মার্কেটের সব দোকানের মালিক’রা মিলে সিদ্ধান্ত নিল যে, তারা মালিক এবং কর্মচারীরা মিলে একটা কমিটি গঠন করবে। আর সেটার নাম হবে “মোবাইল চোর প্রতিরোধ কমিটি”

তো সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েক দোকানের মালিক’কে মোবাইল চোর প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক বানিয়ে ঘোষণা দিলো যে মার্কেটের অফ-ডে’তে মানে শুক্রবার বাদ আসর, মার্কেটের সামনে ছোটখাটো প্যান্ডেল মঞ্চ বানিয়ে ঐ মার্কেটের মালিক ভদ্রলোককে সভার প্রধান অতিথি হিসেবে দাওয়াত দিয়ে ছোটখাটো সভা-সমাবেশ করে কমিটি’টির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবেন। তো পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথারীতি শুক্রবার বাদ আসর, মার্কেটের সামনে মঞ্চ প্যান্ডেল চেয়ার টেবিল সাজিয়ে সভা শুরু হলো, সভায় প্রধান অতিথি কার সাথে যেন মোবাইলে কথা বলতে বলতে মঞ্চে এসে উপস্থিত হলেন। তখন দেখা যায় নেতা নেতা ভাব নেওয়ার জন্য মঞ্চে প্রায় সব দোকানের মালিক উঠে বসে আছে, এখন কে কাকে নামিয়ে দেবে !! তো এমতাবস্থায় টের পাওয়া যায় যে, মোবাইল চোর প্রতিরোধ কমিটির নেতাদের ঠেলায় সমাবেশ মঞ্চ প্রায় গিজগিজ করছে . . .

একে একে সবার বক্তৃতা শেষ হবার পর, এবার উপস্থিত সামনে বসা অতিথি, জনতা ও দোকান কর্মচারীদের উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখছেন সভার সন্মানিত প্রধান অতিথি সাহেব। দুই-তিন মিনিট মোবাইল নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর সন্মানিত প্রধান অতিথি সাহেব খেয়াল করে দেখলেন তার পকেটে রাখা দামী মোবাইল সেট’টি আর নেই, মানে চুরি হয়ে গেছে

ঘটনা কারা ঘটিয়েছে বুঝতে পেরে সন্মানিত প্রধান অতিথি আর দেরি করে নাই, তাৎক্ষণিক ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে মঞ্চের উল্টো দিকে ঘুরে মঞ্চে বসা দোকান মালিকদের উদ্দেশ্য চট্টগ্রামের ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে দিলো … কুত্তর বাইচ্চেক্কল, নাটক মারোদ্দেনা ??!! তোরার ভিতুর চোর-চোট্টা লইয়েনে চুর ফ্রতিরুদ কমিটি গরদ্দেনা ??!! আলার-ফুতালাইন, অই তোঁরার মঞ্চ-টঞ্চ এহন খুল।
— অনুবাদঃ কুকুরের বাচ্চা’রা নাটক করতেছিস ??!! তোদের ভেতর চোর নিয়ে আবার চোর প্রতিরোধ কমিটি বানাইছস ??!! শালার পুতেরা, তোদের এই মঞ্চ-টঞ্চ এক্ষনি খুলে ফেল।

অতঃপর দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে সভাস্থলের সন্মানিত প্রধান অতিথি ও মাত্র একজন চোরের জন্য বাকিরাও চোরের অপবাদ মাথায় নিয়ে যে যার যার বাড়ি ফিরলো .. আর আমার মত উৎসুক জনতা’রা ব্যতিক্রমধর্মী একটি ঘটনায় বিনোদন খুঁজে পেয়ে হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরেছে

**——–**
এবার আসি রাস্ট্র-অভিবাবকের দৃষ্টি আকর্ষণে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়া,
এই অধম আবাল আমি আপনার মত একজন সন্মানিত রাস্ট্র-অভিবাবকের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই অধম আবালের বিনীত আকুল আবেদন …

ঐ মার্কেটের মোবাইল চোর প্রতিরোধ কমিটির মঞ্চে ঘাপটি মেরে বসে থাকা দোকান মালিকের মুখোশে অনেক বড় মোবাইল চোরের মত আপনার দলের নেতানেত্রীবৃন্দ ও আপনার সরকারের মন্ত্রীসভা, আমলা-প্রশাসন ও উপদেষ্টামন্ডলীর ভেতরেও কিংবা তাহাদের আশেপাশে অনেক যড়যন্ত্র এবং চক্রান্তকারীদের এজেন্ট/দালাল’রা ভদ্র, উচ্চ সমাজের সুশীলতার ও আপনার শুভাকাঙ্খী হওয়ার মুখোশ পরে বসে আছে। সময় থাকতে অনুবীক্ষণ অভিযান চালিয়ে এদের খুঁজে বের করুন। ছুঁড়ে ফেলে দিন এদের ডাস্টবিনে . . .
নয়তো, আপনার এই অসাবধানতা ও নির্লিপ্ত ভুমিকার জন্য কিংবা এদের মত দালাল ও যড়যন্ত্রকারীদের পরামর্শ-মতে আগামী কঠিন দিনগুলোর নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য হয়তো দেখবেন .. আপনাকেও একদিন ঠিকই “সভাস্থলের সন্মানিত প্রধান অতিথির মত” অনেক বড় রকমের খেসারত দিয়ে চরমভাবে পস্তাতে হতে হবে। হয়তো তখন সময় না থাকার দায়ে সেদিন আর আপনার কিছুই করার অবশিষ্ট থাকবেনা, তবে সর্বনাশ যা হবার তা অনেক আগেই হয়ে যাবে। অতঃপর আর কোন উপায় না পেয়ে সেদিন হয়তো দেখা যাবে, আপনিও ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’তে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে নিজ দলের মীরজাফর আর চক্রান্তকারীদের দালাল এজেন্ট’দের গালিগালাজ শেষ করে সভাস্থল ত্যাগ করবেন।

সেদিন দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে কেবল শুধুমাত্র আপনি একাই ঘরে ফিরবেন না। আপনার মত করে আরো কয়েক কোটি জনতা ও তরুণ প্রজন্ম হতাশ মনে ঘরে ফিরবে .. যারা দালাল রাজাকার যুদ্ধপরাধীমুক্ত একটি অসম্প্রদায়িক ও সুখী সমৃদ্ধশালী সুন্দর বাংলাদেশ নির্মাণের আশায় আপনাকে অতীতের জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত করেছিলো

৮ thoughts on “হাস্যকর এক সত্য ঘটনা :: দুঃখজনক এক পরিণতি দেখার আগেই রাস্ট্র-অভিবাবকের দৃষ্টি আকর্ষণ

  1. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সবিনয়ে
    মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সবিনয়ে বলছি, আপনার আশপাশের অতি বিশ্বাসী লোকদের বিভিন্ন ব্লগ ও ফেসবুকের লেখা পড়ে তা আপনার নজরে আনার আদেশ দিন। তাতে আপনার দলের এবং দেশের উপকার হবে। সেসাথে দেশের জনসাধারণ উপকৃত হবে….

    1. তিনি এই অধমের ব্লগ পড়িয়া যদি
      তিনি এই অধমের ব্লগ পড়িয়া যদি ডেকে নিয়ে দুইটা থাপ্পড়ও দেন তাতেও খুশি হমু, এই ভাইবা যে এই অধম উনার এবং প্রিয় মাতৃভুমির ভালো চায় বলে নির্ভয়ে লেখে

    1. তখন আপায় বুইঝা আর কি অইবো
      তখন আপায় বুইঝা আর কি অইবো ??!!!

      লালনের একটা গান আছেনা — সময় গেলে সাধন হবেনা !!!
      কেউ আপারে ঐ গান’টা হুনাইয়েন প্লিজ :দীর্ঘশ্বাস:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *