ফেসবুক বন্ধ করা জনগণের সংবিধান সম্মত অধিকারের পরিপন্থী নয় কি?

জনগণের জন্য অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত হয় “তথ্য অধিকার আইন” (২০০৯ সালের ২০ নং আইন)

এই আইনের প্রারম্ভিকায় বলা হয়েছে,

“যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকতৃ এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার চিমত্মা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার
একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ; এবং

যেহেতু জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক; এবং


জনগণের জন্য অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত হয় “তথ্য অধিকার আইন” (২০০৯ সালের ২০ নং আইন)

এই আইনের প্রারম্ভিকায় বলা হয়েছে,

“যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকতৃ এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার চিমত্মা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার
একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ; এবং

যেহেতু জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক; এবং

যেহেতু জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হইলে সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাইবে, দুর্নীতি হ্রাস পাইবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হইবে; এবং

যেহেতু সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;”

এই আইনে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে , অবাধ তথ্যপ্রবাহের অধিকার জনগণের কোন প্রিভিলিজ নয়। বরং সংবিধানস্বীকৃত অধিকার্।

আর কি আছে সংবিধানে? গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত সংবিধানের ৩৯ ধারায় বলা হয়েছে , এই সংবিধানের মাধ্যমে ,

“চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা : (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল। (২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং (খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।

ফেসবুক বন্ধের পেছনে যুক্তি দেখানো হচ্ছে , সাইদীর চাদঁ দর্শন বা রামুর বৌদ্ধ বিহারের ঘটনা দুটি। কিন্তু সবাই জানেন ,এই দুটি ঘটনাই ঘটেছিল মাইকে ঘোষণা আর মোবাইল ফোনে টেক্সট মেসেজ দিয়ে।তাহলে সেগুলো বন্ধ না করে শুধুমাত্র ফেসবুক বন্ধ রাখার মত আদৌ কোন যুক্তি আছে কি? আর এতে কি জনগণের সংবিধান সম্মত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে না?

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে যারা ফেসবুক বন্ধ করার পক্ষে মতামত প্রকাশ করছেন প্রশ্নটি তাদের কাছেই রইলো ………

১ thought on “ফেসবুক বন্ধ করা জনগণের সংবিধান সম্মত অধিকারের পরিপন্থী নয় কি?

  1. নতুন করে কিছু বলার নাই। এ
    নতুন করে কিছু বলার নাই। এ দেশের সো কলড রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশলের জন্য সংবিধানই পাল্টে ফেলে অথচ হওয়ার কথা ছিল সংবিধানের জন্য রাজনৈতিক কৌশলের পরিবর্তন। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে সরকার অপরাধ দমনে ব্যর্থ বা অপারগ তাই এর দায় এখন আমাদের সাধারণ জীবনে তো আগেও পড়ত এখন থেকে আমাদের সাধারণ জীবনের অনেক সাধারণ ব্যাপারগুলোতেও পড়তে শুরু করবে। এই আরকি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *