চলতি পথে

ট্রেনে করে ঢাকা থেকে বাজিতপুর যাচ্ছিলাম। ভৈরব থেকে কয়েকজন হিজরা উঠেছিল। যথারীতি তারা যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তুলছিল।

ট্রেনে করে ঢাকা থেকে বাজিতপুর যাচ্ছিলাম। ভৈরব থেকে কয়েকজন হিজরা উঠেছিল। যথারীতি তারা যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তুলছিল।
হিজরারাই একমাত্র শ্রেণী যাদের পরিপূর্ণ কর্মক্ষমতা থাকা শর্তেও মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে খায়। এর জন্য সম্পূর্ন দায়ী আমাদের সমাজ। আচ্ছা একটা মানুষ ছেলে বা মেয়ে হলে কী সুবিধা? তাকে বড় হলে সংসারী করা যায়। কিন্তু এতে বাবা মার কী ফায়দা। অথচ কেবল হিজরা হবার কারণে বাবা মা এদেরকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়, সন্তান থেকে সন্তানের লিঙ্গটা বাবা মার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ন হয়ে গেল? সন্তানের লিঙ্গ দিয়েতো বাবা মার কোন কাজ নেই। তাহলে কেবল যোনী বা পেনিস না থাকার কারণে বাবা মা সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে।

কী হতো তার লিঙ্গ থাকলে? বড় হলে বিয়ে দিবে, বংশের ধারা রক্ষা করবে। এতে পিতামাতার কী লাভ? পিতা মাতাতো সময় হলে পরপারে চলেই যাবে। বংশের ধারা রক্ষা হলেই বা কী? না, তার মানে এই নয় যে মানুষ বংশের ধারা রক্ষা করবে না। অবশ্যই করবে। কিন্তু কেবল সুনির্দিষ্ট লিঙ্গ না থাকার অপরাধে(!) সন্তানকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়া অনেক বড় অন্যায়। এরা সমাজে উপহাস আর অবজ্ঞার মাঝে বেড়ে ওঠে। সোজা কথা হচ্ছে আমি কোন কারণই দেখিনা ওদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার।

এখন সময় এসেছে এসব বন্ধ করার। হিজরাদেরকে আমারই ভাই/বোন ভাবতে আমার কোন আপত্তি নেই। তাদেরকে আর দশজন সাধারণ মানুষের মতই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *