দয়া করে লেখাটি মন দিয়ে পড়ুন।

‘ফিক্সড ডিলিউশন’, ‘অবসেশন’ এবং ‘কনজারভেটিজম’-এই তিনটি টার্মের সাথে আপনারা অনেকেই পরিচিত। তার পরেও আমি অল্প কথায় এই তিনটি টার্মের অর্থ বুঝানোর চেষ্টা করব এবং তারপর আমার নিজস্ব কিছু মতামত বলব।


‘ফিক্সড ডিলিউশন’, ‘অবসেশন’ এবং ‘কনজারভেটিজম’-এই তিনটি টার্মের সাথে আপনারা অনেকেই পরিচিত। তার পরেও আমি অল্প কথায় এই তিনটি টার্মের অর্থ বুঝানোর চেষ্টা করব এবং তারপর আমার নিজস্ব কিছু মতামত বলব।

ফিক্সড ডিলিউশন জানার আগে ডিলিউশন নিয়ে জানার চেষ্টা করি। ডিলিউশন এমন একটি মানসিক অসুস্থতা যেখানে রুগী কোন ব্যাপার নিয়ে খেয়ালি/কাল্পনিক বিশ্বাসে ডুবে থাকে, যা মনের ভিতর পাকাপাকি ভাবে যায়গা করে নেয়। কোন যুক্তি দিয়ে সেই মিথ্যা বিশ্বাস থেকে রুগীকে বের করে আনা যায় না। আর ফিক্সড ডিলিউশনে উপরের ব্যাপারগুলো তো থাকবেই, সাথে রুগী এগ্রেসিভ হবে। অর্থাৎ কেউ তার ভুল বিশ্বাস যুক্তির মাধ্যমে ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করলে রুগী আক্রমণাত্মক আচরণ করবে।

অবসেশন হল এমন চিন্তা বা ধারণা, যা কোন বিষয়ের উপর কোন ব্যক্তিকে নেশাগ্রস্থের মত আকর্ষিত করে ফেলে। কনজারভেটিজম হচ্ছে কোন এক নির্দিষ্ট ব্যক্তির/জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা (সেটা যত ভয়ঙ্কর/হিংসাত্মক ঐতিহ্যই হোক না কেন) এবং কোন ভাবেই নতুন কোন ব্যাপারকে গ্রহন না করা। যদিও গ্রহন করতে হয়, তাহলে তা নিজেদের ঐতিহ্যে ব্যাখ্যা করে তারপর গ্রহন করা।

সিম্পল প্রশ্ন করব, উপরের ব্যাপারগুলো মুসলিমদের ভিতর আছে না নেই? আপনি মানুষ হয়ে থাকলে উত্তর হবে, আছে। কেন আছে, সেটা অল্প কথায় বলার চেষ্টা করি। ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে বড় হই যে নবীজির মত মহামানব আর কেউ নেই এবং ইসলাম হচ্ছে একমাত্র সত্য ধর্ম। প্রতিনিয়ত আমরা এটা শুনতে থাকি। একসময় এটাকে ধ্রুবসত্যের মত নিজের অজান্তেই মেনে নেই। যাচাই করে দেখার চিন্তাও করি না। তাই যখন আমরা নবীর আসল চরিত্র সম্পর্কে জানি, কোরআনের হাস্যকর ভুল/মিথ্যাকথাগুলো শুনি, তখন হয় এটার বিরুদ্ধে হিংসাত্মক প্রতিবাদ করি অথবা নিজেদের ঐতিহ্যের সাথে মিলিয়ে একটা ব্যাখ্যা দাঁড়া করিয়ে ফেলার চেষ্টা করি। কেউ যদি আমার কথা মেনে নিতে না পারেন, কমেন্টে ভদ্র ভাবে প্রশ্ন করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন।

২ thoughts on “দয়া করে লেখাটি মন দিয়ে পড়ুন।

  1. আমরা গঠনসমূলক সমালোচনা চাই।
    আমরা গঠনসমূলক সমালোচনা চাই। আপনি সেটা করার কোন সুযোগ রাখেননি। আপানার নিজের ভাষায়- সিম্পল প্রশ্ন করব, উপরের ব্যাপারগুলো মুসলিমদের ভিতর আছে না নেই? আপনি মানুষ হয়ে থাকলে উত্তর হবে, আছে। এটা বলে আপনি মুক্ত আলোচনা বা চিন্তার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। সীদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়াই যদি আপনার লক্ষ্য হয় তাহলে মৌলবাদীদের সাথে আপনার পার্থক্য কই বলুন? তারাও তো ওটাই করছে যা তারা নিজেরা মানে বা বিশ্বাস করে । এবং শুধু ওটাই না নীজেদের সীদ্ধান্তকে অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়, মুক্তচিন্তার দ্বার বন্ধ করে এবং প্রয়োজনে বাহুবল প্রদর্শন করে… কোন অবস্থাতেই আমরা সেটা করতে পারি না। কোন বিশেষ চিন্তাকে যদি গোঁড়া যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে চাই তাহলে সেটাও তো মৌলবাদের কাতারেই পড়ে তাই নয় কি? ২য় ব্যাপার গঠনমূলক সমালোচনা বা সমালোচনা শব্দটার সাথেই ভালো আর খারাপ দুই জিনিষের সম আলোচনা উঠে আসে। আপনি শুধু খারাপটা বা ভালোটা দেখতে পারবেন না। আপনি নবীজীর জীবনের একটা দিক তুলে ধরেছেন। অন্য দিকগুলো বলেন নি। আপনি ভুলে যাচ্ছেন নবীও মানুষ এবং এটা স্পষ্টতই উল্লেখ করা আছে যে তিনি মানুষ কিন্তু অন্যদের মতো না বরং ব্যাতীক্রম/। একজন মানুষের যে সব ভালো খারাপ দিক থাকে তারও সেটা থাকবে এটাই কি স্বাভাবিক না ? আপনি তাঁকে মানুষ হিসেবে বা তাঁর মানবীয় গুণাবলীগুলোকে তো আর অস্বীকার করতে পারেন না, পারেন কি ?

Leave a Reply to সীমান্ত মল্লিক Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *