কোন দলীয় সম্পৃক্ততা সত্যিই আছে কী ?

যদি মনে করে থাকেন যে ভারত থেকে পাকিস্তানের জন্ম মুসলিমদের দাবীর জন্য হয়েছিলো , তবে আপনি পুরো ব্যাপারটা অনুধাবন কিংবা দৃষ্টিপাত করতে পারেন নি । আংশিক পেরেছেন । মোদ্দা কথাটা হলো জিন্না দেশ চালাতে চেয়েছিলেন । কিন্তু ভারত এক থাকলে জিন্না কখনোই মন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি হতে পারতো না । তাই সামনে তুলে ধরেছিলো ফজলুল হক , হিন্দু পাঞ্জাবী নেতা লাজপৎ রাই এর মতো বিশেষ ব্যাক্তিদের এক বিশাল রাজনৈতিক স্বার্থে । আর ঠিক তখনই হিন্দু-মুসলমান দ্বিজাতিতত্ত্ব এসেছিলো । যে তত্ত্ব  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হাবার্টহেনরি আ্যাসকুইথ এর হাত ধরে ১৯০৮ সালে নথিবদ্ধ হয়  । আর সবশেষে দাবার ছকে যেভাবে সৈন্যকে রানীতে পরিনত করা হয় শেষ ঘরে গিয়ে , তেমনি তখন সবশেষে উঠে এসেছিলো মুসলমান জনগন ও তাদের স্বাধীনতার চিন্তা । আর ঠিক তখনই বড় ভুলটা করে বসে কংগ্রেস । বন্দে মাতারম কে জাতীয় সংগীতে রুপান্তরিত করেন এবং গো-জবেহ নিষিদ্ধ করেন । আর হিন্দু মহাসভার নেতা বিনায়ক দাদোদার সভারকর তো বলেই বসেন,

“মুসলমানরা কেবল বিধর্মীই নয় তারা এই উপমহাদেশে বিদেশ থেকে আগত জাতি ।”

ফলে জিন্নার সুযোগ বেড়ে যায় । আর ধর্মের সাথে সংমিশ্রন হয় রাজনীতি । এবং এটা বলা প্রয়োজনীয় যে, রাষ্ট ও রাজনীতির সাথে তখনই প্রথম ধর্মের মিশ্রন হয় আযাদের উপমহাদেশে । আর এর বিরোধীতা করে মহাত্মা গান্ধী এই হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দের অবসান টানতে চেয়েছিলেন এবং বন্ধ করতে চাইছিলেন তৎকালীন সময়ে নিরপরাধ মুসলিমদের হত্যা করা । ফলে এসে পরে আরেক বাধা । হিন্দু কট্টরপন্থি নাথুরাম গডসে, যিনি হিন্দু  পরিবার থেকে এসেছিলেন ও পড়াশোনা করেছিলো এক হিন্দুপন্থি স্কুলে ;এবং তিনি ছিলেন সেই বিনায়ক দাদোদর সভাকরের অন্ধ ভক্ত । সেই নাথুরাম গডসে ৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮ এ মোহনদাস করমচঁাদ গান্দীকে হত্যা করেন গুলি করে । ফলে সম্পুর্নরুপে রাজনীতে প্রভাব ফেলে ধর্ম । যার ফলসরুপ জিন্নাহ সাধারন মুসলমানদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন । এবং দাবার শেষ ছকে পৌছে যায় সৈন্য, পরিণত হয় রানীতে । ফলে সাধারন মুসলমান বুঝে কিংবা না বুঝে অংশগ্রহন করে এই রাজনৈতিক ছকে  । এবং তাদের তথাকথিত মুসলমান আন্দোলনের দাবী সরুপ দেশ প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয় মিস্টার জিন্নাহ । আর এই ভারত পাকিস্তান ভাগ হওটা  যতটা না মুসলমানদের দাবীর বহিংপ্রকাশ তার চাইতে বেশি অন্তঃস্থ রাজনীতির ফল ।

এখন বলি কেন এই বিশেষ আলোচনা । আসলে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কোন বিশাল পরিবর্তনের পেছনে যতটা না সাধারন জনগন ও তাদের চাওয়াপাওয়া মূখ্য তার চাইতে বেশি মূখ্য হচ্ছে রাজনেতিক ব্যাক্তিবর্গদের চাওয়া পাওয়া ।

বর্তমান কালের বাঙলাদেশের বিশেষ ঘটনা ব্লগার, লেখক, প্রকাশক হত্যায় শুধুমাত্র আপনি জঙ্গী সংগঠনের কাজ হিসেবে ভাবলে ভুল করবেন শতভাগ এবং শতভাগ নিশ্চিত । হ্যাঁ, একজন  মুক্তচিন্তার কিংবা বিধর্মী মানুষ হত্যা করার রসদ মুসলিযদের ধর্মগ্রন্থে বেশ পাকাপোক্ত ভাবেই আছে । যার ফলে অপরিপক্ক কম বয়েসি  মস্তিস্কের  অধিকারী ছেলে-মেয়েদের  ধর্ম দিয়ে সহজেই করা যাচ্ছে ব্যাক্তি-স্বার্থে  । হ্যাঁ , ঠিকই শুনেছেন । এই সব খুনোখুনিতে ওতোপ্রেতভাবে  জড়িয়ে আছে ব্যাক্তি ও রাজনৈতিক স্বার্থ । যা কিনা কিছুদিনের মাঝেই উন্মোচিত হবে । তাই কোন কিছুকে পরিবর্তন করতে চাইলে অবশ্যই সেই অনুযায়ীই কাজ করতে হবে । ভুল রাজনীতির হাত থেকে দেশ ও মানুষকে বাঁচাতে দরকার সঠিক ও সুষ্ঠ রাজনীতি ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *