বাংলাদেশে বিনোদন সাংবাদিকতা পেশায় কারা আসেন??

বিনোদন সাংবাদিকতা যে শিল্পের মানে উর্তিন্ন হতে পারে বা বাংলা সিনেমার মাঝেও যে অপার সম্ভাবনা আছে তা নিশ্চয়ই বাংলাদেশী বিনোদন সাংবাদিকরা জানে না। একটি প্রশ্ন খুব ভাইটাল তা হল- বাংলাদেশে বিনোদন সাংবাদিকতা পেশায় কারা আসেন??
উপরের এই প্রশ্নই বলে দেবে কেন একটা ভালো সিনেমাও শেষ পর্যন্ত সকলের হয়ে উঠতে পারে না। দায়টা কার বা কোথায়??

বিনোদন সাংবাদিকতা যে শিল্পের মানে উর্তিন্ন হতে পারে বা বাংলা সিনেমার মাঝেও যে অপার সম্ভাবনা আছে তা নিশ্চয়ই বাংলাদেশী বিনোদন সাংবাদিকরা জানে না। একটি প্রশ্ন খুব ভাইটাল তা হল- বাংলাদেশে বিনোদন সাংবাদিকতা পেশায় কারা আসেন??
উপরের এই প্রশ্নই বলে দেবে কেন একটা ভালো সিনেমাও শেষ পর্যন্ত সকলের হয়ে উঠতে পারে না। দায়টা কার বা কোথায়??
গতবছর বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় একটি বিনোদন অনলাইন পোর্টালের কড়া সমালোচনা করেছিলাম। আমার বক্তব্য ছিল- কখন কোন সংবাদটা ছাপাতে হবে সেটাই যদি না জানেন তো দয়া করে সাংবাদিকতায় এসেন না ভাই। সেই সময় রুবেলের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সকে ছাপিয়ে কি করে হ্যাপির বিষ খাওয়া জাতীয় একটা নিউজ পোর্টালের শিরোনাম হয়ে উঠতে পারে সেটাই আমার মাথায় ঢোকেনি। অবশেষে তার উত্তর মিলেছে চলতি মাসে ঢাকা গিয়ে। সেই সময় অবশ্য এডিটর প্যানেল থেকে আমাকে অনুরধ করা হয়েছিল আমি যেন আমার লেখাটা সরিয়ে নেই। অনুরধের ঢেকি গিলতে গিয়ে আমাকে সেই লেখাকে পরিমার্জন করতে হয়েছিল।
এবার ঢাকায় গিয়ে কাকতালীয় ভাবে সেই পত্রিকার একজন সাংবাদিকের সাথে দেখা হয়ে গেল। তিনি আবার হ্যাপির খুব কাছের মানুষ। সেদিনের সেই কথা উঠতেই তিনি লুঙ্গির কাছা বেঁধে তর্কে নেমে গেলেন এটা প্রমান করতে যে, “রুবেল বাংলাদেশ টিমের কোন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় না, রুবেল ধর্ষক, রুবেল সেলিব্রেটি বলে কি সাস্থি হবে না?” ইত্যাদি ইত্যাদি।
১৮ কোটি জনতার মাঝে ১১ জনের ১ জন হিসেবে রুবেলের ইনপর্টেন্সি যে বুঝতে পারে না তার মস্তিষ্কের উর্বরতা নিয়ে প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করতে চাই না। শুধু তাকে দেসিন এটাই বুঝিয়েছিলাম যে- আমি একজন সবুজ পাসপোর্ট ধারী। আর এই পাসপোর্টের মান রুবেল যে পরিমান বাড়িয়েছে তা আপনি ১০০ বার জন্ম নিয়েও পারবেন না। এর পরের কথা হল রুবেল যদি অপরাধ করেই থাকে অবশ্যই তার সাস্থি হবে। হতেই হবে। কিন্তু কোর্ট যেহেতু তাকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে দেশের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে। সুতরাং দেশের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে হলেও আপনাদের এই হিট কামানো সংবাদ প্রকাশ করা বন্ধ রাখা উচিৎ। কেননা রুবেলের মানসিক স্থিতিশীলতার সাথে আমার দেশের সুনাম প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত।
আমার মাথায় ঢোকে না যে, হ্যাপি বিষ খেয়েছে এটা কি অর্থে বিনোদন?? আমার মতে তো রিয়েল লাইফ বিনোদন এটাই যে হ্যাপি হটাত করে মাউলানা হয়ে গেছেন। বিনোদনই যদি কাম্য হয় তবে এই কমিডি নিয়েই তো নিউজ হতে পারে। একজন নাইকা বিষ খেল, কি হিসেবে সেটা তার ফ্যান, ফলোয়ার বা দর্শকের কাছে কষ্টের কারন না হয়ে বিনোদন হয় সেই ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেন নি। তিনি এটাও বলার চেষ্টা করলেন যে, সংবাদ পত্রের কাজ সংবাদ বিক্রি করা। এটাই তো তারা করবে। মহামান্য সাংবাদিক সংবাদ বোঝে কিন্তু সংবাদের গুরুত্ব বোঝেন না, তিনি রাষ্ট্রও বঝেন না, রাষ্ট্রীয় স্বার্থও বোঝেন না। শুধু বোঝেন কি করে পত্রিকার হিট বাড়াতে হবে। আর হ্যাপি বোঝে কি করে ফেসবুকিয় লাইক কামাতে হবে এবং সেটা অব্যাহত রয়েছে। হটাত করে হ্যাপির হুজুর হয়ে যাওয়াটা এই পত্রিকার জন্য কতোটা কাল হল সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
বড় দুর্ভাগা জাতি আমরা। এমন সাংবাদিকের লেখাই আমাদের রোজ পড়তে হয়। পড়েই যাব। এদের হাত দিয়েই লেখা হয় সিনেমার রিভিউ। সিনেমার কথা। তা হলে সিনেমা কি করে শেষ পর্যন্ত দর্শকের ঘর পর্যন্ত যাবে?
কামার আহমাদ সাইমনের চলচ্চিত্র “শুনতে কি পাও” গিয়েছে কনফারেন্স অব ইয়ুথ বা বিশ্ব যুব সম্মেলনে। গত ২৬ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে চলবে এই সম্মেলন। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন সেক্টরের থেকে ভবিষ্যৎ বিশ্ব নেতারা যোগ দিয়েছেন। সিনেমাটি দেখার পরে ডিরেক্টরস স্পিসে তারা কথা বলবেন পরিচালকের সাথে।
বাংলাদেশের প্রথম সারীর সংবাদ পত্র প্রথম আলো, এমন একটি দুর্দান্ত সংবাদের শিরোনাম করেছে- “ভয় পেয়েও প্যারিস ভ্রমন পিছিয়ে দেননি কামার” । পরিচালক আদনান কবির প্রশ্ন তুলেছেন-“আমরা আম জনতা না হয় কিছু জানি না, প্রথম আলোর মত একটা পত্রিকা কেন জানবে না? একটু বলুন তো এই সংবাদের নাম কোনটি উচিত ছিল?
ভয় পেয়ে প্যারিস-ভ্রমণ পিছিয়ে দেননি কামার
(কামার ভাই কেন ভয় পাবেন জিনিশটা মাথায় আসছে না?)
নাকি
কনফারেন্স অব ইয়ুথ এ বাংলাদেশের ‘শুনতে কি পাও’ ছবিটি সারা দুনিয়ার ভবিষ্যৎ নেতারা দেখতে যাচ্ছেন”
সিনেমাটি নির্মাণ হয়েছে ক্লাইমেট চেঞ্জ ও বাংলাদেশে এর ইমপ্যাক্টের উপরে। যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন তখন তার প্রকৃত রুপ তুলে ধরা সিনেমাটির শিরোনাম হচ্ছে এমন হাস্যকর। প্রথম আলোর কাছে বাংলাদেশের অর্জনের থেকে মুখ্য হয়ে উঠেছে জঙ্গি আক্রমন। কিন্তু কেন? “ভয় পেয়েও প্যারিস ভ্রমন পিছিয়ে দেননি কামার” এই শিরোনামের মধ্য দিয়ে কি জঙ্গি আক্রমণকে একধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হয় না??
আটলান্টিক মহাসাগরের সকল পানি শুখিয়ে গেলে বঙ্গোপসাগরে যেমন ভাটা পড়বে, ঠিক সেই ভাবেই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে সৃষ্টি হওয়া “শুনতে কি পাও” আজ আর শুধু বাংলাদেশের সিনেমা হয়ে থাকে না। তা হয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক। সিনেমাটির সাথে যখন এতো বৈশ্বিক রাজনীতির এতো গভীর সম্পর্ক রয়েছে তখন নিতান্তই সেটাকে সিনেমা বলে না উড়িয়ে দিলেও আমরা পারতাম।
এই সিনেমার যে অর্জন তা এই উপমহাদেশের আর কোন ডকুমেন্টারি সিনেমার নেই। অনেকেই বলে থাকেন যে, এমন একটি সিনেমা যদি ভারতে সৃষ্টি হত তবে ভারত সরকার প্রয়োজনে প্রজ্ঞাপন জারি করে সকল সিনেমা হলকে দেখাতে বাধ্য করতেন। কিন্তু অদ্ভুত কারনে সিনেমাটি বাংলাদেশে উপেক্ষিত। কিন্তু কেন?? সাইমন ভাই বিনোদন সাংবাদিকদের লেজুড়বৃত্তি করেন না এটাই কি তার কারন??
এই সিনেমাটি আওয়ামীলীগ সরকারের প্রচারণার হাতিয়ার হতে পারত। সরকার সেদিকে নজর দেবে নাকি শুধু বিশ্ব রাজনীতির পুতুল হয়ে “চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ হাতে নিয়েই বসে থাকবে সেটা একান্তই তাদের বিষয়। কিন্তু বলতে দ্বিধা নেই ক্লাইমেট চেঞ্জ ও তার জন্য আমাদের যে সংগ্রাম তা নিঃসন্দেহে সম্মান পাওয়ার দাবীদার। বিশ্ব রাজনীতির মোড়লদের জানা উচিৎ আমরা তাদের দাড়া কিভাবে ভিক্টিম হচ্ছি প্রতিদিন।
সিনেমা আপনা আপনি দাঁড়াবে না। এর জন্য নিচে থেকে যেমন ধাক্কা দরকার ঠিক সেইভাবে উপর থেকে সরকারের/ পত্রিকার হাত ধরা টান ও লাগবে। অন্যথায় সিনেমা আপনাআপনি স্বর্ণ প্রসব করবে না। সিনেমা থেকে যে পত্রিকাও ফায়দা নিতে পারে সে বিষয়ে তাদেরো জ্ঞাত হতে হবে। না হলে শুধু আক্ষেপই হবে। ফলাফল কেবল জিরো।
প্রথম আলোর কাছে হাত জোর করে অনুরধ করব, বলিউড সিনেমার প্রচারণা বাদ দিয়ে স্বদেশী সিনেমার প্রচারণা করুন। আপনি বলিউড সিনেমার প্রচারণা না করলেও ছাঁদ ফুঁড়ে সে ঠিকই পাঠকের ঘরে ঢুঁকে যাবে। কিন্তু আমার স্বদেশী সিনেমা যে বড় দুর্বল। এখনো যে তার বিষদাঁত ওঠেনি।

২ thoughts on “বাংলাদেশে বিনোদন সাংবাদিকতা পেশায় কারা আসেন??

  1. অসাধারন লেখা।ব্লগারদের
    অসাধারন লেখা।ব্লগারদের পরিচর্যায় বাংলাদেশের সিনেমা অনেক এগিয়ে যাবে-এটা জোর দিয়ে বলতে পারছিনা। তবে আমরা চাইলে কিছু পথ কিন্তু এগিয়ে নিতেই পারি আমাদের দুর্বল সিনেমা কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *