রাসূলের জীবনী, মহানবী নয় তাহলে আসলে কি ছিলেন তিনি???

প্রথমে একটা ঘটনা দিয়ে শুরু করছি। গত পরশুদিন আমি কাজ করছিলাম এক মাউরি মহিলার সাথে। খুবি ভাল একজন মহিলাই বলা চলে সব কাজেই অনেক হেল্পফুল। কাজ শেষে সে আমাকে ডিনার অফার করলো, ম্যানু ছিল পোর্ক। আমি তাকে বিনয়ের সাথেই বললাম দেখ আমি মুসলিম আমি পোর্ক খাইনা। তখন সে আমাকে চিকেন অফার করলো, এবং বললো দেখ আমি জানিনা এটা হালাল কিনা। তুমি চাইলে খেতে পার। আমি ডিনার তার সাথেই করেছিলাম। কারন, এখানে আসার পর হালাল হারামের ভুত আমার মাথা থেকে অনেক আগেই নেমে গেছে। অকল্যান্ডে আসার পর আমি দেখেছি আমরা এশিয়ানরা অনেক রেসিস্ট, আমার আবার এসব পছন্দ না। মাংস মাংসই, খাবার খাবারই এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর ইচ্ছা আমার নেই। এখন পাঠক হিসেবে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে তাহলে আমি কেন পোর্ক খেলামনা? আসলে দেশে পোর্কের বাসস্থান আর খাবার দেখেছিলাম। পোর্ক খাইনা স্রেফ ঘৃনা লাগে বলেই।

যাইহোক ডিনারের একপর্যায়ে সে বলল, তোমরা মুসলিমরা চারজন বউ রাখতে পার তাইনা? আমি তাকে বললাম দেখ আমি এ ব্যপারটা ক্লিয়ার না। আমি তোমাকে পরে জানাবো। আরো অনেক কথাই হলো কিন্তু আমার মনে ঐ চারজন বউয়ের কথাই গেথে রইল। কারন আমি যেদিন শুনেছিলাম মুহাম্মদ সাহেব বিবাহ করেছিলেন ১১খানা এরপর আর এ বিষয়ে কথা বলতে ভালো লাগতোনা। আমরা আসলে ধর্মকে এতই বিশ্বাস করি যে আমরা এর ব্যাপারে কোন প্রশ্ন তুলতেই পছন্দ করিনা। আসলে ধর্মের এমন অনেক কিছুই আছে যা মানবিকতাকে প্রতি মুহূর্তে চাবুক মারে। আজ যদি আমি বলি মুহাম্মদ ছিল প্রচন্ড পরিমান লোভি একজন মানুষ তাহলে কাল হয়ত আমাকে খুন করতে চাপাতি বাজরা রেডি হয়ে যাবে। কিন্তু তারা কখনো এ কথা চিন্তা করবেনা কেন আমি এ কথা বললাম বা এর পিছনের লজিকটাই বা কি? তাই এই মূর্খদের কথা বাদদিয়েই আমি এই লেখা লিখছি।

যাইহোক মূলবিষয়ে আলোকপাত করা যাক, মুহাম্মদ সাহেব তার জীবনের প্রথম বিবাহ করেছিলেন তার ২৫ বছর বয়সে। ২৫ বছর বয়সের একজন মহামানব ৪০ বছরের একজন মহিলাকে বিয়ে করেছে যার কিনা দুইজন স্বামী পরলোকগমন করেছেন। সেটাকে আপনি কিভাবে দেখেন? আমি এখানে খাদিজা বা নারী জাতিকে অপমানের উদ্দেশ্যে এই কথা বলছিনা। একটু ভেবে দেখুন আপনি আপনি একজন ২৫ বছরের যুবক। আপনি আপনার বউ হিসেবে কোন বয়সের কিরকম নারীকে পছন্দ করবেন? যাইহোক এই প্রশ্ন আপনার বিবেকের কাছে রেখেই আমি সামনে এগুচ্ছি।

সাধারনত এরকম একজন নারীকে ঐ বয়সের কোন যুবক গ্রহন করার কথা না। হ্যা করতে পারে, আজকাল প্রথম আলো খুললেই পশ্চিমা পাসপোর্টধারী বয়স্ক বাঙালী মহিলা দের পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দেখি। তারা হয়ত পাত্র পেয়েও যান কিন্তু আপনি এগুলো কে সাধারন ঘটনা বলতে পারবেননা। কারন এই ঘটনা গুলো ঘটে খুবি কম। আর ওই ছেলে গুলো ঐ পাসপোর্ট ধারীকে পুজি করে নিজের আখের গুছাতেই হয়ত বিয়ে গুলো করে। তাহলে মুহাম্মদ সাহেব কেন এই ঘটনা ঘটালেন?

আসলে মুহাম্মদ সাহেব কোন সাধারন পুরুষ ছিলেননা। তিনি ছিলেন প্রচন্ড পরিমান ক্ষমতা অর্থসম্পদ লোভী একজন চতুর যুবক। খাদিজা মুহাম্মদকে প্রথমে তার ব্যাবসায়ীক কাজের জন্য নিয়োগ দেন। সেখান থেকেই মূলত খাদিজা আর মুহাম্মদের চাকর জীবন শুরু। কিন্তু মুহাম্মদ ত একজন চালাক যুবক উনি কেন সারাজীবন চাকর হয়েই থাকবেন? তাই যখন খাদিজা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, রাজকন্যা আর রাজত্ব দুইটাই তিনি নিজের আয়ত্বে আনার সুযোগ হাত ছাড়া করলেননা। ধার্মিকরা অনেক গাজাখোরি যুক্তি দেখায় এই বিয়ের পিছনে। অনেকেই বলেন মুহাম্মদের যদি কুমতলব থাকতো তাহলে তিনি খাদিজা বেচে থাকা অবস্থায় আর বিয়ে করেননি কেন? আরে ভাই সহজ হিসাব, সব সম্পত্তির মালিক ছিল খাদিজা তাই তিনি রাজত্ব হারাতে চাননি।

খাদিজা মারা যাওয়ার কিছুদিন পরেই তিনি বিয়ে করেন, সাওদা বিনতে যামআ কে। মুহাম্মদ যদি এতই মহান হয়ে থাকে আর খাদিজা কে এতই ভালোবাসত তাহলে দ্বিতীয় বিয়ে করার কি দরকার ছিল? রাজত্ব পুরোপুরি হাতে আসার পরেই প্রকাশ হতে থাকে তার আসল চেহারা । এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে সাওদা, আয়িশা, হাফসা, যয়নাব, সালামা, যয়নাব, জুওয়াইরা, রামালাহ সহ মোট ১১খানা মতান্তরে তের খানা বিয়ে করেন। এরমধ্যে দাসী, বিধবাসহ শিশুও আছে।

মুহাম্মদের একজন কৃতদাসী ছিলেন যার নাম ছিল মারিয়া। তিনি ছিলেন একজন মিশরীয় খ্রিস্টান দাসী, যাকে মুহাম্মদের নিকট সম্রাট মুকাউইস উপহার হিসেবে প্রদান করেন। তার গর্ভে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ নামে মুহাম্মদের একটি সন্তানও জন্ম দেন। যদিও ঐ সন্তান শিশু কালেই মারা যায়। ঐ সন্তান জন্ম দেয়ার পর মৃত্যূর পূর্ব পর্যন্ত পাঁচ বছর মারিয়া দাসত্ব থেকে মুক্ত ছিল। এটাকে মুহাম্মদকে খুশি করার জন্যই দেয়া হয়েছিল। মুহাম্মদ কখোনই মারিয়াকে বিয়ে করেননি। তাদের মধ্যে কোন বৈবাহিক সম্পর্কও ছিলনা। যেটা ছিল সেটা হল শুধুই একজন কৃতদাসীর উপর মালিকের যৌনতার সম্পর্ক। একজন মহা মানবের চরিত্রের এর চেয়ে বড় উদাহরন আর কিইবা হতে পারে???

প্রকৃত পক্ষে মুহাম্মদ কখোনই কোন মহামানব ছিলেননা তিনি ছিলেন প্রচন্ড ক্ষমতা লোভী, নারী লোভী এবং সম্পদ লোভী একজন পুরুষ। যিনি আয়েশা কে বিয়ে করে পৃথিবীকে বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছে শিশু কামিতা কাকে বলে। ৬ বছরের আয়েশা আর যাই হোক যৌনতার উপযোগী তখন কোনভাবেই ছিলনা। সে ছিল শুধু একজন বিকৃত যৌন কাতর একজন লোকের স্বীকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *