বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হই

বাংলাদেশে প্রকৃত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে ধূম্রজালের শেষ নেই। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন প্রকাশিত সর্বশেষ (জুন-২০১৫) প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে এ মুহূর্তে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার। তবে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর হিসাবে দেখা যায়, আট কোটি গ্রাহক প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। সরকার সাশ্রয়ী ব্যবহারের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে নানা উদ্যোগ নিলেও মোবাইল ফোনে সোলার চার্জার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হয়নি। এখন সারাদেশে সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহার করে দৈনিক ২০০ মেগাওয়াটের কিছুটা বেশি মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে সোলার চার্জার ব্যবহার করলে একই পরিমাণ বিদ্যুত সাশ্রয় সম্ভব। দেশে সাধারণ মোবাইল সেটগুলোতে সাধারণত গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন ভোল্টের এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ মিলি এ্যাম্পায়ার ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে স্মার্ট ফোনের জন্য চার থেকে পাঁচ ভোল্টের দুই হাজার ৫০০ মিলি এ্যাম্পায়ার ক্ষমতার ব্যাটারি প্রয়োজন হয়। গড় হিসাব করলে একবার চার্জ দিতে সাধারণ ফোনে চার দশমিক পাঁচ ওয়াট বিদ্যুত প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে স্মার্ট ফোনে পাঁচ দশমিক পাঁচ ওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে আট কোটি ফোন একবার চার্জ দিতে বিদ্যুত প্রয়োজন হয় ৩৬০ মেগাওয়াট। প্রতিটি ফোন গড়ে দুই দিনে একবার চার্জ দিলে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুত মোবাইল ফোনের পেছনে খরচ হয়। এখন প্রায় সকল ফোনেই ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। মেইল, ফেসবুকিং, টুইটার ব্যবহার ছাড়াও বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। চাইলেই ইউটিউব আর গুগলে গিয়ে নিজের বিনোদোনের ঝটপট ব্যবস্থাও হচ্ছে মোবাইল ফোনে। সঙ্গত কারণে স্মার্ট ফোনের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে। যা বিদ্যুতের দ্বিগুণ ব্যবহার বাড়াচ্ছে মোবাইল ফোনে। এখন দেশেই খুব ভালমানের সোলার মোবাইল চার্জার বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু এখনও গ্রাহক মোবাইল চার্জ দেয়ার জন্য সোলার ব্যবহারে উৎসাহী নয়। সোলার মোবাইল চার্জারের সর্বোচ্চ দর ৩০০ টাকা। সাধারণত এ ধরনের চার্জার দিয়ে মোবাইল চার্জ দিতে তিন ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হয়। সূর্যের আলো রয়েছে এমন স্থানে চার্জার রাখলেই ব্যাটারি চার্জ হয়। অন্যদিকে এখন এমন চার্জারও পাওয়া যাচ্ছে যা ব্যাগের মধ্যে রাখলেও মোবাইল চার্জ হতে থাকে। এ ধরনের চার্জারের দাম এক হাজার টাকার মধ্যে। তবে দেশে বিদ্যুত নেই এমন এলাকায় সোলার মোবাইল চার্জার ব্যবহার হলেও শহরে এর প্রচলন একেবারেই কম। সাধারণ চার্জার ব্যবহার করলে ব্যাটারি যে সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকে মোবাইলে সোলার চার্জার ব্যবহার করলে তার দ্বিগুণ সময় ভাল থাকে। সরকার সাশ্রয়ী ব্যবহারের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে উদ্যোগ নিলে মোবাইল ফোনে সোলার চার্জার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হলে অনেকাংশ কমে আসবে বিদ্যুৎ খরচ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *