ধর্ম পালন না করলে ক্ষতিটা কি????

প্রিয় আকাশী,
আমার শেষ লেখায় কেনো আমি পাহাড়ে মেডিকেল আর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে বিরোধিতা করি তা তোমাকে জানিয়েছি। তোমার বা তোমাদের যুক্তি খণ্ডন করে দেখিয়েছি কেন এখন ঐ প্রতিষ্ঠানগুলো পাহাড়ে গুরুত্বহীন। কিন্তু আমার, আমাদের বা সে সব ভুক্তভোগীদের কথা শোনার কেউ নেই। দুঃখটা এখানেই। যাক, তোমাকে কথা দিয়েছিলাম আমার পরবর্তী লেখায় ধর্ম সম্পর্কে আমার অবস্থান পরিষ্কার করার। যদিও রাষ্ট্র যন্ত্র যখন ধর্ম রক্ষার দায়িত্ব নেয় তখন ঐ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিস্কার করা একটু কঠিনই বৈকি।


প্রিয় আকাশী,
আমার শেষ লেখায় কেনো আমি পাহাড়ে মেডিকেল আর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে বিরোধিতা করি তা তোমাকে জানিয়েছি। তোমার বা তোমাদের যুক্তি খণ্ডন করে দেখিয়েছি কেন এখন ঐ প্রতিষ্ঠানগুলো পাহাড়ে গুরুত্বহীন। কিন্তু আমার, আমাদের বা সে সব ভুক্তভোগীদের কথা শোনার কেউ নেই। দুঃখটা এখানেই। যাক, তোমাকে কথা দিয়েছিলাম আমার পরবর্তী লেখায় ধর্ম সম্পর্কে আমার অবস্থান পরিষ্কার করার। যদিও রাষ্ট্র যন্ত্র যখন ধর্ম রক্ষার দায়িত্ব নেয় তখন ঐ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিস্কার করা একটু কঠিনই বৈকি।

কোথা হতে শুরু করবো ঠিক বুঝতে পারছি না। ধর্মের উৎপত্তি সম্পর্ক থেকে শুরু করলে কেমন হয়? আচ্ছা থাক। সেটার আগে অন্য একটা কথা নিয়ে শুরু করি। ইন্দিরা গান্ধী কে না চেনার কোন কারণ নেই। নাকি চিনো না? তাহলে বলি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে উনি হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন অকৃত্রিমভাবে। উনি যদি হাত বাড়িয়ে না দিতেন তাহলে আজ বাংলাদেশ স্বাধীন হতো কিনা বড় একটা প্রশ্ন থেকে যায়। বুঝলে, উনি তখন ১০ বছরের ছোট্ট মেয়ে, থাকতেন মিসৌরীতে। আর উনার বাবা নেহেরু থাকতেন এলাহাবাদে। নেহেরু উনার ছোট্ট মেয়েকে পৃথিবীর গঠন, কীভাবে হল, প্রকৃতি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, পাহাড় কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, মানুষেরা কীভাবে আজকের রুপ পেলো তা চিঠি লিখে জানাতেন। আর বলতেন মানুষকে ভালোবাসার কথা। কিন্তু কখনো ধর্মের কথা বলেন নি। আর ইন্ধিরা যখন বড় হলেন তখন আমরা দেখেছি উনার মানসিক গঠন কি রকম হয়েছে। আর একবিংশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক যুগে বাস করে আমাদের ছেলেমেয়েদের কি শিখাচ্ছি, কি জানাচ্ছি?? স্কুলের পরিবর্তে ওদের পাঠাচ্ছি মাদ্রাসায়, বিহারে, গির্জাই, মন্দিরে। আর শেখাচ্ছি নিজ ধর্ম ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষেরা সব খারাপ। ফলস্বরূপ তারা হয়ে উঠছে প্রবল সাম্প্রদায়িক, উগ্র ধর্মান্ধও, সহনশীলতাহীন সর্বোপরি মৌলবাদ। আর এর মাধ্যমে কি প্রকারন্তে মানুষে মানুষে ভেদাভেদের দেওয়াল তুলে দিচ্ছি না???? তুমি তা কখনো অস্বীকার করতে পারো না। পারো কি??? মানুষের চেয়ে আমাদের গুরুত্ব হচ্ছে ধর্ম। কিন্তু ধর্ম তো সৃষ্টি করেছে মানুষ, ধর্ম মানুষ সৃষ্টি করে নি, তাহলে মানুষের চেয়ে ধর্মের বেশী হতে যাবে কেন???? বিশ্বাস হয় না?? বিশ্বাস না হওয়ারই কথা, কারণ তুমি ধর্মতে মুক্তি খুঁজো।

তোমাকে বিশ্বাস করানোর জন্য এখন ধর্মের উৎপত্তি সম্পর্কে বলবো। আগে বলে রাখি, ধর্ম কোন ঈশ্বর প্রদত্ত নয়, মানুষরা বা মানুষের কোন গোষ্টী ধর্ম সৃষ্টি করেছে। তা না হলে এতোগুলো ধর্ম কেন??? ঐ ঈশ্বর তো একটা ধর্ম পাঠালেই পারতেন, তাই না?? কিন্তু তা না করে উনি অনেকগুলো ধর্ম পাঠালেন কেন???

আদিম কালের মানুষেরা প্রকৃতির অনেক ঘটনায় ব্যাখ্যা করতে পারতো না। সে জন্য তারা সে ঘটনাগুলো ব্যাখ্যার জন্য নিজেদের মতো করে কল্পনার আশ্রয় নিত। বলাবাহুল্য সে কল্পনাগুলো ছিল অসত্যের ভরপুর। সেগুলোর বৈজ্ঞানিক কোন ব্যাখায় নেই। তারা যখনই কোন ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারতো না, তখনই আশ্রয় নিতো ভিত্তিহীন ঐ অবৈজ্ঞানিক কল্পনায়। এবং ঐখান থেকে ধীরে ধীরে জন্ম নিলো পুরাণ। আর জানোই তো মানুষ উদ্ভাবনশীল। তার ঐ উদ্ভাবনী ক্ষমতা দিয়ে সে পুরাণ থেকে ধার নিয়ে তৈরি করল পৃথিবীতে প্রথম ধরম-সরবাত্মাবাদ যা বিশ্বাস করে প্রত্যেক বস্তুর আত্মা আছে! সরবাত্মাবাদের সাথে জড়িয়ে আছে আদিম মানুষের আরেকটি বিশ্বাস যাকে বলে জাদুবাদ বা ইন্দ্রজাল্বাদ। জাদুবাদের পর মানুষ পোঁছে ধর্মের আরেক স্তরে, যার নাম টোটেমিজম। টোটেম হচ্ছে কোন বস্তু, বা পশু বা উদ্ভিদের সাথে সম্পর্কিত সামাজিক সম্পর্ক। এটার পর আছে দেবতা, দেবতা এবং দেবতা। যেহেতু মানুষরাই সৃষ্টি করেছিল দেবতা সেহেতু মানুষেরা নিজেদের ইচ্ছে মতো করে শক্তি আর দায়িত্ব অর্পণ করেছিল। কাও কে পানিতে, কাও কে আকাশে, কাও কে সূর্যে, কাও কে বা বাতাসে। দেবতারদের সাম্রাজ্য বাড়ত তখনই যখন যুদ্ধে জয়ী হতো সে সে দেবতার ভক্তরা, পরাজিত হলে হারিয়ে যেতো কালের গহ্বরে। প্রায় তিন -চার হাজার বছর পর ঐ দেবতাবাদের পর জন্ম নেয় একেশ্বরবাদ। এই একেশ্বরবাদ স্বৈরাচারী ছিল। এবং এখান থেকে ধার করে মানুষ হয়ে মানুষের উপর শাসন করার জন্য কতকগুলো উদ্ভাবনশিল মানুষ জন্ম দেয় আধুনিক ধর্মগুলো। ( এটা ভালোভাবে বুঝার জন্য তোমাকে আরও জানতে হবে কিন্তু সমাজ বিবর্তনের ধারাও)। তুমি পুরাণ পড়লে দেখবে যে আধুনিক প্রচলিত ধর্মগুলো কিন্তু সব ঐ পুরাণ থেকে ধার করা।

মানুষ যেহেতু উদ্ভাবনশিল আর খুবই আগ্রহী মৃত্যুর পর মানুষ কোথায় যায়, তাই সে কারণে সে সৃষ্টি করলো আত্মা এবং ভিত্তিহীন কল্পিত আর অবৈজ্ঞানিক স্বর্গ-নরক। যেখানে পাপীরা শাস্তি পায় আর পুণ্যবানরা পুরস্কৃত হয়। এবং সেটা লুফে নিলো শাসকেরা। ইতিহাস পাঠে আমরা লক্ষ্য করেছি মধ্যযুগের ধর্মীয় অবস্থা, আর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহর দিকে লক্ষ্য করলে তো দেখতে পাই ধর্মীয় উগ্রতা কি সৃষ্টি করছে। ধর্মের নামে মুক্তমনা, প্রকাশকদের একে একে খুন করা হচ্ছে। কিন্তু সে দায় ভার কেউ নিচ্ছে না। দেখো এবার তোমার ধর্মের স্বরূপ। যদি ধর্ম না থাকতো তাহলে কি ঐ মৃত্যুগুলো সংঘটিত হতো??? ধর্ম প্রশ্ন করতে দেয় না, সবসময়ই নীরব থাকতে উৎসাহিত করে। কেউ প্রশ্ন তুললে কি হয় তা আমরা লক্ষ্য করেছি। বলাবাহুল্য তুমি আমি কিন্তু নিজেই পছন্দ করে ধর্ম নিই নি। পরিবার, সমাজ সর্বোপরি রাষ্ট্র আমাদের বাধ্য করেছে ধর্ম নিতে, ধর্ম পালন করতে। সেটা তো এক প্রকার বর্বরতা?? নাকি না??? আমি পালন করবো নাকি করবো না সেটা তো সম্পূর্ণ আমার ব্যাপার। মজার ব্যাপার কি জানো? আমি যদি কোন ধর্মের পালন না করি তাহলে কিন্তু কেউ বলতে পারে না মৃত্যুর পর আমার অবস্থান কোথায় হবে।

আচ্ছা তুমি আমাকে বলতে পারবে কোন ধর্ম নারীদের পুরুষের সমান অধিকার দিয়েছে বা কোন ধর্ম নারীদের মানুষ হিশাবে গণ্য করেছে??? একটাও না কিন্তু। আর এতো এতো ধর্ম কোন ধর্ম কি নারীরা প্রচলন করতে পেরেছে??? কেন পারে নি??? উত্তর খুঁজেছো কখনো?? আর পুরুষেরা দ্যাখ তো নিজেদের সুখের জন্য তাদের কল্পিত স্বর্গেও তাদের সেবার জন্য নারীদের রেখেছে। তোমরা এগুলো নিয়ে কখনো প্রশ্ন করেছো??

যারা ধর্ম পালন করে না, তারা কিন্তু কাও কে কোন ক্ষতি করে না, যারা করে তারা অধিকাংশই ধার্মিক!!! সত্যি বলছি। লিখতে লিখতে অনেক লিখলাম। তোমার জবাবের অপেক্ষায় থাকব কিন্তু…

রাতের আকাশটা এখন অনেক সুন্দর। মেঘহীন জোৎস্না আলো এক অপার্থিব সুখ দেয়। তপ্ত রোদ্দুরের সাথে স্বচ্ছ নীল জলরাশি আনন্দে ভরিয়ে দেয় জগত টা। পড়ন্ত বিকালগুলো হয়ে উঠে জীবন্ত। সেগুলো কি কখনো মৃত্যুর পর তথাকথিত কল্পিত স্বর্গে বা নরকে পাওয়া যাবে?? আফসোস, ধার্মিকেরা সেটা উপলব্ধি করতে পারল না……
ভালো থেকো।

৮ thoughts on “ধর্ম পালন না করলে ক্ষতিটা কি????

    1. কাজল সাহেব,
      কোন ক্ষতি নাই বলে

      কাজল সাহেব,
      কোন ক্ষতি নাই বলে দিলেন। কিন্তু হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে কোন লেখা ব্লগে আসলে আপনি কাইকুঁই করেন কেন?

  1. মানুষের তৈরি দেব-দেবি মানুষের
    মানুষের তৈরি দেব-দেবি মানুষের মতই দেখতে।ষাঁড়ের যদি মানুষের মত হাত ও ক্ষমতা থাকত তাহলে তারা দেব-দেবির আকার রুপ চরিত্র ষাঁড়ের মত করেই তৈরি করত।

  2. “মানুষের তৈরি দেব-দেবি
    “মানুষের তৈরি দেব-দেবি মানুষের মতই দেখতে।ষাঁড়ের যদি মানুষের মত হাত ও ক্ষমতা থাকত তাহলে তারা দেব-দেবির আকার রুপ চরিত্র ষাঁড়ের মত করেই তৈরি করত।” (y) অবশ্যই তারা টা করতো।

  3. আগবাড়িয়ে আপনাদের ধর্মকে
    আগবাড়িয়ে আপনাদের ধর্মকে কটাক্ষ করে মুক্তমত প্রকাশেরই বা তাহলে দরকার কি ?
    ভুপেন ধর্ম না থাকলে মুক্তমত কোথায় প্রকাশ করবেন জানবার চাই !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *