পুলিশচারিত

[পুরাতন পোষ্ট]


[পুরাতন পোষ্ট]

কয়েক বছর আগের কথা । আমি আমার কলেজের আইডি কার্ড হারিয়ে ফেলেছি । ঠিক হারিয়ে নয়, চুরি হয়েছিল ওয়ালেট সমেত । আইডি কার্ড তোলার জন্য থানায় সাধারন ডায়েরী করতে গিয়েছিলাম । সেখানে গিয়ে একজন পুলিশ অফিসারের শুধুমাত্র একখানা সাক্ষরের দরকার হয় আর দরখাস্তের ফটোকপি হাতে ধরিয়ে দেন । সেদিন আমার সাথে আমার এক বন্ধুও ছিল । যখন নাকি আমার দরখাস্তখানা লিখে পুলিশ মহাশয়ের হাতে দিলাম তখন তিনি তার ছোট ফ্রেমের সোনালী চশমা চোখে দিয়ে ভ্রূদ্বয় কুঞ্চিত করে পড়তে লাগলেন । তারপর বলে উঠলেন, -প্রিন্সিপালের সই কই? -প্রিন্সিপ্যালের সই লাগে না , আমার বন্ধু বলল । -আপনেরে কে কইছে ? -আমি এর আগে একটা জিডি করেছি । আমার বন্ধুই বলল, আমি কোন কথাই বলছি না । -আপনাগো প্রিনসিপাল থানায় ফোন করে বলছে , তার সই ছাড়া কিছুই হবে না কলেজের ছাত্রদের । তখন মেজাজ টা খারাপ হচ্ছিল খুব । আর সেই পুলিশ মহাদয়ও তার রেডিও নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ল । কিছুক্ষন পর সে আবার আমায় ডাকলো, -যদি আমাদের চা নাস্তা করার একটা সুযোগ দেন, তবে আপনার একটা ব্যাবস্থা করতে পারি । সে কথা শুনে ইচ্ছা হচ্ছিল শালার গালে একটা লাথি মারি । ভাবলাম যাই ওসির কাছে নালিশ করি । কিন্তু পরমুহূর্তেই উদয় হলো, ওসির ছত্রছায়া না পেলে এই কনস্টেবল ঘুষ চাওয়ার সাহস করতো না । এই ভেবে আমি আমার কলেজে চলে আসি । আর সন্ধা পর্যন্ত অপেক্ষা করে প্রিনসিপ্যালের সাক্ষর নিয়ে আবার থানায় যাই । আমার সেই প্রিনসিপ্যালের সাক্ষর সমেত দরখাস্তখানা সেই সোনালী ফ্রেমের কস্টেবলের হাতে দিই । তা দেখে তেনার মুখখানা বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল । তিনি আমার এপ্লিগেশনটা যখন আবার পড়ছিলো তখন এক লোক সরাসরি তার সাথে কথা বলে থানার ভেতরে চলে যায় । আমার কাজ যখন শেষ , আমি আসবো । তখন দেখি সেই লোকটা ফিরে আসছে । সেই কন্টেবলের সাথে কথা বলছে । আসতে আসতে দেখলাম সেই লোকটা বুক পকেট থেকে একটা পাঁচশ টাকার নোট বের করে সেই কনস্টেবলকে দিচ্ছে। তখন আর জায়গাটাকে আমার থানা মনে হলো না , বরংচ মনে হলো মাছের বাজার । তারপর সেখানে থাকতেও শরীর ঘিনঘিন করছিলো ।
তখন মনে পড়লো, আমার জেঠুর কথা । তিনি ওসি ছিলেন । ছোট্টবেলায় দেখতাম সে লাকেজ ঠেসে টাকা নিয়ে আসতো । সে শুধুমাত্র পুলিশের চাকরি করে কলকাতার সল্টলেকে বাড়ি আর ব্যাবসা করেছে । জেঠু খুনের আসামি ছিল । যদিও সে বড় মাপের এক আসামিকে ই হত্যা করেছিল । তারপরও বাঙলাদেশে থাকতো । যেদিন তাকে খুঁজতে পুলিশ আসতো সেদিন সে সকাল থেকেই লা-পাত্তা হতো এক দৈবগুণে । এসব কীর্তির পরও আমার জেঠু রাষ্ট্রপতির মেডেল পেয়েছিল একসময় । যাইহোক, এসব কথা বল্লাম একটা নিউজ দেখে কোন ওসি কে ঘুষ নিতে দেখলে, তাকে বেঁধে পুলিশ খবর দিতে বলেছেন এক পুলিশ কর্তা । কিন্তু পুলিশ যে ঘুষ চাইবে না এই কথাটা বলতে পারেন নি । এই উল্টোপথে চলা দেশে হয়তো সবই সম্ভব ।।

২০-০৫-১৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *