বেড়েছে ইন্টারনেটের অপব্যবহার যা ভুল তথ্যপ্রবাহের মহাসড়ক

একটি পয়সার যেমন দুই দিক আছে। তেমনি বিজ্ঞানের আবিষ্কারের প্রতিটি জিনিসেরই রয়েছে দুইটি দিক। ভালো এবং খারাব। বর্তমান পৃথিবীতে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগের মধ্যেম এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা চাইলে যে কোন কিছুকে মুহুর্তের মধ্যে পাল্টে দিতে পারে। একজন সহজ-সরল মানুষের জীবন ও নষ্ট করে দিতে পারে। তার ছোট্ট একটি উদাহরণ ও তার প্রমাণ হিসেবে আমি বলতে পারি গত সপ্তাহের প্যারিস হামলা। ইন্টারনেটে ছবি জালিয়াতি করে একজন ভারতীয় শিখকে বানানো হলো আরব মুসলমান আর তার হাতে ল্যাপটপটি হয়ে গেল কোরান শরীফ। এমনি ঘটনা ঘটেছে গত সপ্তাহের প্যারিস হামলার এক ঘন্টা পর। জালিয়াতি করা এই ছবিটি আবার ইন্টারনেটে ছাড়া হয়েছিলো। তাতে দেখা যায়, দেখতে আরবদের মত এক ব্যাক্তি বুকে কোরান শরীফ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। টুইটে এবং পোস্টে এই ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মুহুর্তের মধ্যে তার ছবিটি ছড়িয়ে গেল লাখ লাখ মানুষের কাছে। আর সেই শিখ মানুষটি হয়েগেলো প্যারিস হামলার মুল সন্ত্রাসী। যদি এই মানুষটিকে তখন কাছে পেতো তাহলে তাকে মেরেই ফেলতো। কিন্তু আসল ঘটনাটি বুঝা যেতো যদি ওই ব্যাক্তিটির সামনে তাদের নিয়ে আসা হতো। আসলে যাকে মুহুর্তের মধ্যে বিশ্বের মানুষের কাছে সন্ত্রাসী বানানো হয়েছে সে একজন খুব সহজ-সরল ভারতীয় শিখ। তার নাম বীরেন্দ্র জুবাল। সে কানাডায় থাকে। তার হাতে যে বস্তুটি কোরান শরীফ বানানো হলো তা মুলত আইপ্যাড। কিন্তু কেউ একজন তার ছবিটি তুলে তা অশুভ চিন্তাভাবনা নিয়ে এডিট করে তুরুন এই শিখের জীবটাই নষ্ট করে দিলো।
ঠিক এরকম সারা বিশ্বে প্রতিদিন কত শত মানুষের জীবন নষ্ট হচ্ছে তা আমাদের জানা নেই। শুধু ইন্টারনেটের এই ভুল তথ্যপ্রবাহের কারণে।
বাংলাদেশ সরকার দেশ ও জাতীর সার্থে সামাজিক যোগাযোগের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার এটা ভেবে বন্ধ করেছে যে এইসব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আজ দেশে জঙ্গি হামলা ও মুক্ত চিন্তার মানুষগুলোকে হত্যা করছে। অর্থ্যাৎ হত্যার দিক নির্দ্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এইসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। এটা সত্যি। জঙ্গিরা এইসব মাধ্যম ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু আসলে কি সরকার ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ গুলো বন্ধ করতে সফল হয়েছে? না হয়নি। কারণ সরকার থেকে ও বড় বুদ্ধি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ইউজাররা বসে আসে। যারা নিশেধাজ্ঞার পরেও ব্যবহার করে আসছে ফেসবুক। অন্যান্য সাইট গুলোর মাধ্যমে। বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেটের মাধ্যেমে মানুষ হাতের নাগালে অনেক কিছু পাচ্ছে মুহুর্তের মধ্যে। যেমন, সংবাদ পত্র। নিজের ঘরে বসে ইন্টারনেটের মধ্যেমে বিশ্বে যে কোন দেশের খবর জানতে পাচ্ছে। যেকোন তথ্য কয়েক মিনিটের মধ্যে পাচ্ছে। যতই ভালো দিক থাকুক না কেন এই ইন্টারনেট ও তার অপব্যবহার করে অনেক কিশোর-কিশোরী তাদের জীবন নষ্ট করছে। কিছু নোংরা সভাবের কিশোর ও যুবক কিশোরীদের ছবি এডিট করে ফেসবুকে পোস্ট করছে। আর মহুর্তের মধ্যে সারা বিশ্বে হাজার হাজার ফেসবুক ইউজারের হাতে তার পোস্ট চলে যাচ্ছে। আর অন্যদিকে ঐ কিশোরীর জীবন নষ্ট হচ্ছে। বর্তমান ফেসবুক হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের ও মানুষের সময় কাটানোর সব চেয়ে বড় মাধ্যম। যা বিশ্বের সব ছেয়ে বড় বন্ধু । রাতদিন ২৪ ঘন্টা মানুষ এই বন্ধুকে ব্যবহার করছে। কেউ কেউ ভালো দিকটা করছে আর কেউ কেউ এটার খারাব দিকটা করছে। প্রায় দেখা যায়, লাইক ও কমেন্ট বেশী পাওয়ার জন্য বাংলাদেশী ছেলে মেয়েরা ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে নোংরা পিক আপলোড করছে। রোংরা ভাষায় লিখা লিখে তা পোস্ট করছে।
বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতে ফেসবুক সাংবাদিকতা বেড়ে যাচ্ছে। যেখানে ভুল তথ্য শেয়ার করে মানুষকে শুধু শুধু হয়রানি করা হচ্ছে। নামে বে-নামে ফেইজ খুলে যাচ্ছে। যেগুলোতে সব নোংরা ভাষায় তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *