মানুন আর না মানুন, কোরআনই আপনার একমাত্র সংবিধান। সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধার।

আউজুবিল্লাহ হি মিনাশ শায়তানির রাজিম-বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আমার প্রাণপ্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আজ আমরা মহাগ্রন্থ ‘আল-কোরআন’ থেকে সূরা আল মু’মিনূন এর ১৪ নম্বর আয়াত নিয়ে জানার চেষ্টা করব। দুঃখের বিষয়, অনেক মুসলিম আছেন যারা ইয়াহুদি-নাছাড়া’দের লেখা ভ্রুনবিদ্যার বই পড়ে ভ্রুনবিজ্ঞানী হচ্ছেন, কিন্তু এই সাধারণ সত্যটা জানেন না যে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগেই ভ্রুনবিদ্যা নিয়ে মহান আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে আমাদের দিক নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। আসুন আগে দেখে নেই মহাপবিত্র কিতাব আল-কোরআনে মহান আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন সূরা আল মু’মিনূন এর ১৪ নম্বর আয়াত আয়াতে আমাদের জন্য কি বলেছেন।

বাংলা অনুবাদ, সূরা আল মু’মিনূন, আয়াত ১৪
“এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি,অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি,এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি,অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি,অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত মহান!”

খুবই দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, এই আয়াতটি নিয়ে ইয়াহুদি-নাছাড়া’রা মিথ্যাচার করে বেড়ায়। সাধারণ একটি উদাহারন দেই। আমরা যখন কোন স্থাপনা নির্মাণ করি তখন ঢালাই দেয়ার সময় সেটি থাকে নরম, পরবর্তীতে তা শক্ত হতে থাকে। ঠিক একইভাবে শুক্রবিন্দু থেকে জন্ম নেয়া মাংসপিণ্ড প্রথমে থাকে নরম, পরবর্তীতে তা দৃঢ় অস্থিতে পরিণত হয়। সুতরাং এটা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত যে কোরআনের বানী, “শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি,অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি,এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি”-সম্পূর্ণ সঠিক। আরও একটি উদাহারন দেই। আমরা যখন বাড়ি তৈরি করি, তখন আমরা আগে রড সাজাই, তারপর তার উপর ঢালাই দেই। এভাবেই একটি দালান তৈরি করে ফেলি আমরা। তাহলে সাধারণ বুদ্ধিতে চিন্তা করে দেখুন, একটি শরীর তৈরি করতে হলে কোনটার উপর কোনটা তৈরি হবে? অবশ্যই হাড়ের উপর মাংস তৈরি করতে হবে। সুতরাং এটাও সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত যে কোরআনের বানী, “অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি”-সম্পূর্ণ সঠিক।
আমার প্রাণপ্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা, নাস্তিক-কাফের-ইয়াহুদি-নাছাড়া-মালাউন’দের প্রদত্ত মিথ্যা ও বানোয়াট ব্যাখ্যা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। মনে রাখবেন, সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে আল কোরআন। কোরআনই আপনার একমাত্র সংবিধান, সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধার। মহান আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন প্রেরিত এটিই একমাত্র সঠিক ও সত্য গ্রন্থ। আপনি কি মহাগ্রন্থ আল-কোরআন বিশ্বাস না করে ইয়াহুদি-নাছাড়া’দের কথা বিশ্বাস করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ রব্বুল আলামিনকে আপনাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিতে চান?

বিঃদঃ ইয়াহুদি-নাছাড়া’রা বলে, ফিটাসের (পেটের বাচ্চা) বয়স ১০ সপ্তাহ হলেই তা প্রায় অনেকটা মানুষের আকার নিয়ে নেয় এবং তখনই শুরু হয় কার্টিলেজ (সোজা বাংলায় অস্থি) তৈরি হওয়া। তাই “অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি”-এই কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আর “শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি”-এই প্রসঙ্গে ইয়াহুদি-নাছাড়া’দের বক্তব্য হল এটি নাকি গাঁজাখুরি কথা। কারণ শুক্রাণুর সাথে জমাট রক্তবিন্দুর কোন সম্পর্ক নেই। “অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি”- এই প্রসঙ্গে ইয়াহুদি-নাছাড়া’দের প্রায় একই বক্তব্য। তারা বলে, এই ব্যাপারটাতে জমাট রক্তবিন্দুর অবতরনা করা হল মূর্খতা। একই সাথে জমাট রক্তবিন্দু থেকে মাংস তৈরি হওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। (নাউজুবিল্লাহ্‌)

৩ thoughts on “মানুন আর না মানুন, কোরআনই আপনার একমাত্র সংবিধান। সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধার।

Leave a Reply to আলীক আশা Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *