একবার বাংলাদেশী চলচ্চিত্রকে বুক দিয়ে আগলে ধরুন।

যখন খাল কাটা হয় তখন সেই খাল দিয়ে যেমন কুমিরও আসে তেমনি তৃষ্ণা নিবারনের জলও আসে। নির্ভর করছে আপনি কোনাটার দিকে নজর দিচ্ছেন।
তারেক মাসুদ স্যার চাইতেন বিদেশের সাথে যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা নির্মাণ হোক। তিনি চেষ্টাও করেছিলেন। ‘কাগজের ফুল’ প্রযোজনায় ভারতের অংশ ছিল। তারেক স্যার নেই। তার অনুসারীরা আজ সেই কাজই করছেন। যদিও প্রত্যেকের কাজ করার ধরন ভিন্ন ভিন্ন।
আপনি কি বলবেন, তারেক মাসুদ চেয়েছিল বাংলাদেশের সিনেমা ধ্বংস হোক??

যখন খাল কাটা হয় তখন সেই খাল দিয়ে যেমন কুমিরও আসে তেমনি তৃষ্ণা নিবারনের জলও আসে। নির্ভর করছে আপনি কোনাটার দিকে নজর দিচ্ছেন।
তারেক মাসুদ স্যার চাইতেন বিদেশের সাথে যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা নির্মাণ হোক। তিনি চেষ্টাও করেছিলেন। ‘কাগজের ফুল’ প্রযোজনায় ভারতের অংশ ছিল। তারেক স্যার নেই। তার অনুসারীরা আজ সেই কাজই করছেন। যদিও প্রত্যেকের কাজ করার ধরন ভিন্ন ভিন্ন।
আপনি কি বলবেন, তারেক মাসুদ চেয়েছিল বাংলাদেশের সিনেমা ধ্বংস হোক??
টলিউড তার বাক্স খুলে বসেছে। বলতে দ্বিধা নাই সেটা নিতান্তই ব্যাবসার জন্য। কিন্তু সেই মনোহরি বাক্স থেকে আপনি কি কিনবেন আর কিনবেন না, সেটা তো আপনার সিদ্ধান্ত। বলতে দ্বিধা নাই আমরা যত বেশি যৌথ কাজ করব তত বেশি ম্যাচিউর হয়ে উঠব। পৃথিবীর সব থেকে নবীন তম শিল্পের নাম চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রের বিকাস, পথচলা, অগ্রহতি অনেকটা সময়ের থেকেও দ্রুততর। তাই পুরাতন তকমা আওড়ে বেশিদিন টিকে থাকাটা কঠিন। অতীত গৌরব নিয়ে গর্ব করে অনুপ্রাণিত হওয়া যায়। কিন্তু অনুপ্রেরণাকে যুক্তিযুক্ত পন্থায় নিয়ন্ত্রনও করতে হয়। আমরা সেটা পারিনি। এটাই মূল সমস্যা।
আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। সেই সীমাবদ্ধতা কিন্তু আপনি দর্শকের চেয়ারে বসে সব সময় উপলব্ধি করতে পারবেন না। সেটা জানতে হলে দাঁড়াতে হবে ক্যামেরার পেছনে। এমন কথাই বলছিল সৈকত ভাই। সকালে যখন শুটিং সেটে গিয়ে পা রাখলাম তার ঠিক কিছুক্ষন আগেই ক্রেনের দড়ি ছিঁড়ে গিয়ে আহত হয়েছে হিরো ওম। পরিচালক এটাই বলছিলেন- “দর্শক কিন্তু দেখতে পাবে না যে, এই ছেলেটা কতোটা আহত হল। কতোটা শারীরিক যন্ত্রণাকে ঝেরে ফেলে কাজে মন দিল। এটা কিন্তু আমরা দেখতে পাই। তাই দুম করে ঠিক বলে দিতে পারি না এটা খারাপ ছবি”।
আমার মতে বাংলাদেশী দর্শকরা বড় অস্থির। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে, দর্শক হিসেবেও আপনার কিছু দায়িত্ব কিন্তু আছে এই ইন্ডাস্ট্রির প্রতি। প্রতিটা দেশের দর্শকেরই থাকে। ভেবে দেখুন দর্শক হিসেবে আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করছেন কি না?
বাংলাদেশীরা পারে না এমন কিছু নাই। তার প্রমান আমরা দিয়েছি বহুবার। ভারতে বাংলাদেশী ক্রিকেটকে আলাদা ইজ্জত দেওয়া হয়। এখানের মানুষ উদাহরণ টেনেই বলে- “বাংলাদেশের কাছ থেকে আমাদের শেখার আছে। দেখেছ, বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম হারুক বা জিতুক কখনোই তাদের সাপোর্টাররা টিমের উপর থেকে আশীর্বাদ তুলে নেয় না।”
আমিও সেই কথাটা বলতে চাই। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের দুর্দিনেও আমরা যেমন বুক দিয়ে তাদের আগলে রেখেছিলাম সেভাবে একটিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্রকে আগলে ধরুন। দেখবেন রাতারাতি সব বদলে যাবে। যেতে বাধ্য। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম যেমন বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ব্রান্ডিং করে তেমনি করে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রও কিন্তু বাংলাদেশের ব্রান্ডিং করে।
দর্শক হিসেবে আপনি যখন শুধু ভুল গুলোই দেখেন বা সমালোচনার মোড়কে আপনি যখন সব ভুল গুলোই আওড়ান তখন তো চাইলেও আমরা বেশিদূর উড়তে পারি না। কেননা চলচ্চিত্র নামক ঘুড়ির নাটাই তো আপনাদের হাতে।

আজ সারাদিন কেটেছে ‘হিরো-৪২০’ সিনেমার শুটিং এ। আমি চোখ কান খোলা রেখে পর্যবেক্ষণ করতে চেষ্টা করেছি। কি নেই আমাদের আর কি আছে আমাদের? সত্যি কথা হল আমাদের যে জিনিসটার সব থেকে বেশি অভাব তা হল দর্শকের ভালোবাসা। আপনার পজেটিভ সাপোর্ট। সেটা কিন্তু আমার জন্য না। আমাদের মৃত প্রায় চলচ্চিত্রের জন্য। আমাদের দেশের জন্য। কেননা চলচ্চিত্রই পারে হাজার হাজার মাইল দূরে বাংলাদেশের নামটা বয়ে নিয়ে যেতে।

৬ thoughts on “একবার বাংলাদেশী চলচ্চিত্রকে বুক দিয়ে আগলে ধরুন।

  1. চলচ্চিত্র বিকাশে প্রয়োজন
    চলচ্চিত্র বিকাশে প্রয়োজন সিনেমা হলের। অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক হল ভেঙে শপিংমল তৈরি হচ্ছে কোথাও বা বহুতল অট্টালিকাও হতে দেখছি।শুধু দর্শক কিন্তু বাঁচাতে পারবে না এই শিল্পকে।সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও বৃদ্ধি করতে হবে।

  2. সিনেমা হলের আধুনিকায়ন খুবই
    সিনেমা হলের আধুনিকায়ন খুবই প্রয়োজন। আর ভালো হয় প্রতিটি জেলায় একটি করে সিনেকমপ্লেক্স করলে।

  3. চলচ্চিত্রের দর্শক বাড়াতে হলে
    চলচ্চিত্রের দর্শক বাড়াতে হলে প্রয়োজন ভালমানের মার্কেটিং এবং ব্যাপক মিডিয়া কাভারেজ। এই ঘাটতি মেটাতে পারলে চলচ্চিত্রের প্রতি ভালবাসা জন্মাবে, দর্শকরা হলমূখী হবে। বর্তমানে বেশ ভালমানের মুভি দেশে তৈরি হচ্ছে।

  4. অসম্ভব ভালো উদ্যোগ। আপনার
    অসম্ভব ভালো উদ্যোগ। আপনার সিনেমাটি মুক্তিপেলে অবশ্যই জানাবেন আর তার আগেই যদি আমার কাছে চলে আসে তাহলে তো আর কোন কথাই নেই। যদি সিনেমা ভালো লাগে তাহলে কথা দিচ্ছি আপনার সিনেমার উপর প্রথম রিভিউটি আমি লিখব। আর শুধু লিখবই না আমার ব্লগ-সাইটে সেটি প্রচার করব এবং আমার স্বল্প পরিসর থেকে সেটি বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় প্রচার করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *