লজ্জার ইতিহাস জন্ম দিলো মাদারীপুর; ঘরের বেড়া কেটে খালা-ভাগ্নিকে গনধর্ষণ !

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও তার খালাকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী । এই ন্যাক্কারজনক বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্তরা। ঘটনার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নিতে গড়িমসি অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধেও ।

তবে ধর্ষণের শিকার হয়েও মনোবল হারায়নি ওই স্কুলছাত্রী। অসুস্থ অবস্থায়ই এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। তবে পড়াশুনায় প্রবল আগ্রহ ও মনোবল অটুট থাকলেও ধর্ষণের বিচার নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে ওই স্কুলছাত্রী।


পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও তার খালাকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী । এই ন্যাক্কারজনক বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্তরা। ঘটনার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নিতে গড়িমসি অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধেও ।

তবে ধর্ষণের শিকার হয়েও মনোবল হারায়নি ওই স্কুলছাত্রী। অসুস্থ অবস্থায়ই এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। তবে পড়াশুনায় প্রবল আগ্রহ ও মনোবল অটুট থাকলেও ধর্ষণের বিচার নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে ওই স্কুলছাত্রী।

গত শুক্রবার গভীর রাতে মাদারীপুর কালকিনির ডাসার থানার বালীগ্রামের ঘুনগারকুর গ্রামে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থী ও তার খালা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও এখনও মামলা হয়নি।

স্থানীয়, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, পারিবারিক ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার বালীগ্রামের চিড়াইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থী ও শরীয়তপুর থেকে বেড়াতে আসা ওই পরীক্ষার্থীর খালাসহ (২২) গত ২০ নভেম্বর রাতে নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলো । মধ্যরাতে বেড়া কেটে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে স্থানীয় আতাউর ও তার ৫ সহযোগী।

স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, গভীর রাতে একই গ্রামের আকছেদ দর্জির ছেলে আতাউর দর্জির (২৫) নেতৃত্বে ৪-৫ জনের একটি দল ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় ঘরের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা-মুখ বেঁধে জিনিসপত্র লুট করে। পরে যাওয়ার সময় সমাপনী পরীক্ষার্থী ও তার খালাকে জোর করে বাড়ির পাশে একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। প্রায় দুই-আড়াই ঘণ্টা পর ধর্ষণ শেষে তাদের আবার বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে ওই ধর্ষকরা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে যায়।

পরের দিন শনিবার ধর্ষিতাদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনা ভুক্তভোগী পরিবার এলাকার মেম্বর মহিনুর আকনকে জানায়। মেম্বর তাদের থানায় জানাতে বলেন। ওইদিনই ওই ঘটনায় ধর্ষিতা পরীক্ষার্থীর বাবা ডাসার থানায় মামলা করতে যায়। এ সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে ধর্ষকের নাম লিখে রেখে তাদের বাড়ি চলে যেতে বলে।

খবর পেয়ে মাদারীপুর মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কণা ডাসার থানার ওসি মো. এমদাদুল হকের কাছে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জানায় এবং মামলা নেওয়ার ব্যাপারে কথা বলেন। এ সময় ওসি মামলার আশ্বাস দিলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ডাসার থানায় মামলা হয়নি। তবে বিকেলে ডাসার থানার দারোগা মো. আফসার ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ওই দারোগা মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে পরীক্ষার্থীর বাবা জানান।

ধর্ষণের শিকার পরীক্ষার্থী জানান, পড়ালেখা করে অনেক বড় হবার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। তবু আমি হতাশ হয়নি। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। তবে আমি এর বিচার চাই। যাতে আমার মতো কেউ এ ঘটনার শিকার না হয়। পরীক্ষার্থীর বাবা বলেন, “শনিবার মামলার জন্য থানায় গিয়েছিলাম। তারা শুধু নাম লিখে রেখে আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। আমরা এর বিচার চাই।”

এ ব্যাপারে মাদারীপুর মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কণা বলেন, “আমি ডাসার থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি মামলা নেবেন বলে জানিয়েছেন। ধর্ষণের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তাছাড়া ধর্ষিতা মেয়েটি এবারের সমাপনী পরীক্ষার্থী। আজ মঙ্গলবার ওই মেয়েটির একটি পরীক্ষা ছিল। সম্পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মেয়েটির পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

ডাসার থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, “ওরা থানায় এসে অভিযোগ করলেই মামলা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এদিকে, শারীরিক পরীক্ষার পর নির্যাতিতাদের হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আতাউর ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে।
সুত্র:- ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *