মন্ত্রী মহোদয়ার ফেসবুক বন্ধ সম্পর্কে মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে

গতকাল আমাদের সম্মানিতা মন্ত্রী মহোদয়া বললেন , যতদিন পর্যন্ত প্রত্যেকটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায় , ততদিন ফেসবুক বন্ধ থাকবে।

এখানে দুটি ব্যাপার লক্ষণীয় :

১. প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
২. ফেসবুক বন্ধ রাখা নিরাপত্তার খাতিরে।

আপাদদৃষ্টিতে কথাগুলো যৌক্তিক মনে হলেও ব্যাপারটি সহজে মেনে নেয়া যাচ্ছে না।


গতকাল আমাদের সম্মানিতা মন্ত্রী মহোদয়া বললেন , যতদিন পর্যন্ত প্রত্যেকটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায় , ততদিন ফেসবুক বন্ধ থাকবে।

এখানে দুটি ব্যাপার লক্ষণীয় :

১. প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
২. ফেসবুক বন্ধ রাখা নিরাপত্তার খাতিরে।

আপাদদৃষ্টিতে কথাগুলো যৌক্তিক মনে হলেও ব্যাপারটি সহজে মেনে নেয়া যাচ্ছে না।

প্রথমতঃ প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা অবশ্যই যে কোন কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারেন , জনসচেতনতা তৈরী করতে পারেন ,সন্ত্রাস দমনে কঠিন আইন প্রণয়ন ও আইনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে বিচার নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে পারেন। আর তারপরও বাস্তবতার নিরিখে সুশিক্ষিত পুলিশ ,গোয়েন্দা সংস্থা ,উন্নত প্রযুক্তি থাকা স্বত্বেও ইউরোপ ,আমরিকার মত উন্নত রাষ্ট্রগুলো ও কি পেরেছে প্রতিটি (!) মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে?? সবাই জানেন ,পরিসংখ্যান বলে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খুন আর ধর্ষণের হার পৃথিবীর যেকোন রাষ্ট্রের চেয়ে বেশী। কাজেই প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান যদি তারা করতেও পারেন , (দোয়া করি) সেটা যে স্বল্প সময়ে পারবেন না ,তা অনুমান করে নেয়া যায়। এই কাজ বিগত ৪০ বছরে যখন করা সম্ভব হয়নি , ধরে নিলাম আরো ১০/২০ বছর কমপক্ষে লেগে যেতে পারে। তাহলে কি ততদিন ফেসবুক বন্ধ থাকবে?

দ্বিতীয়ত : যে নিরাপত্তা জনিত অজুহাতে ফেসবুক , ওয়াটস এপ ,ভাইবার বন্ধ (!) রাখা হয়েছে , সেই কৌশল কি আদৌ কাজ দিচ্ছে? অনলাইন এক্টিভিস্টদের কথা বাদই দিলাম , অধিকাংশ সাধারণ ইউজার এখন বিকল্পপথে আইডিতে ঢুকছেন। একেবারেই যারা টেকি ব্যাপারে অজ্ঞ ,তারাই শুধু দূরে আছেন। কয়দিন পর তাও আর থাকবেন বলে মনে হয়না। আর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় যাদের কারণে ,সেই সন্ত্রাসীরা বহু আগে থেকেই VPN ব্যবহার করেন বিস্বজুড়ে। কারণ এই পদ্ধতিতে আইডি ট্রেস করা অনেক কস্টকর্। বিভিন্ন উস্কানিমূলক পেইজগুলো চলছে বহাল তবিয়তেই। তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত আসলে হচ্ছে আমজনতাই। আসল কালপ্রিটদের টিকিটিও কেউ স্পর্শ করতে পারার সম্ভাবনা খুবই কম।

পরিশেষে ভিন্ন একটি প্রসঙ্গ টানি , ডাইনোসরের বিলুপ্তির কারণ খুজতে গিয়ে অনেক সম্ভাবনার মধ্যে এক জাতীয় পচন রোগের কথা পাওয়া গিয়েছিল। এই পচন টা ধরতো লেজের দিকে। কিন্তু নার্ভ সিস্টেমের দূর্বলতার কারণে সেই সংবাদ মস্তিষ্কে পৌঁছাতে সময় লাগতো অনেক। আর যতদিনে পৌঁছাতো , ততদিনে আর করার কিছু থাকতো না। এই সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে এক্টিভিস্টরা অভাব ,অভিযোগ , সামাজিক অসঙ্গতি ইত্যাদি জনগণের সামনে তুলে ধরেন। হয় মতামতের বিনিময়। একে প্রতিপক্ষ না ভেবে , নিজেদের চোখ আর কান হিসেবেই তো বিবেচনা করতে পারেন তারা। এতে আখেরি লাভ রাষ্ট্রেরই। অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে এভাবে সামাজিক যোগাযোগ এর মাধ্যম বন্ধ করে রাখলে পরিণতি হতে পারে ডাইনোসরের মতো। শক্তিশালী নার্ভ সিস্টেমের অভাবে পচনের খবর পেতে পেতেই তাদের অনেক দেরী হয়ে যেতে পারে। পরিণতি যে সুখকর হবেনা ,সেকথা বলাই বাহুল্য।

কবির ভাষায় বলতে গেলে ,

“দ্বার রোধ করে দিয়ে ভ্রমটাকে রুখি ,
সত্য বলে , তবে আমি , কোথা দিয়ে ঢুকি????”

৪ thoughts on “মন্ত্রী মহোদয়ার ফেসবুক বন্ধ সম্পর্কে মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে

  1. জঙ্গি গণ ফিসবুকের মাইধ্যমে
    জঙ্গি গণ ফিসবুকের মাইধ্যমে গুলি করিয়া ডেশি চুচিল ব্যাক্তিদের হত্যা করিবে। এই জন্নি ফিসবুক বুন্ধো করা হইসে। অথচ তাহারা বুলছে ডেশে কুনো জঙ্গি নাই। এমা ইডা কি করি অয়? ক্ষনে ক্ষনে জঙ্গি আসে আবার লুকায়। খালি নিতাগো কাছে শুনি জঙ্গির আছে(হাতি ওড়ে) জঙ্গি নাই(পাখি ওড়ে)। আমি তো কিছুই বুঝিনা ভাইছা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *