সবুজের বেষ্টনিতেই আসুক নিরাপদ উপকূলের নিশ্চয়তা

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু বিপর্যয়ে ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় গৃহিত নানা পদক্ষেপের মধ্যে বহুমুখী উপযোগিতা সম্পন্ন কার্যকর প্রচেষ্টা হিসেবে স্বীকৃত উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনি গড়ে তোলার উদ্যোগে কোনোভাবেই সাফল্য আসছে না। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে একদিকে যখন উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনি গড়ে তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে তখন কিছু অসচেতন-অসাধু মানুষের সীমাহীন লোভ আর অজ্ঞানতা প্রসূত কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত তা ধ্বংস হয়ে চলেছে। এই অসাধু মুনাফালোভীরা উপকূলের সবুজ বেষ্টনি নষ্ট করে প্রতিনিয়ত উপকূল এলাকায় চিংড়ি ঘের, লবণ চাষ, শিপ ব্রেকিং শিল্প, নতুন নতুন শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক হোটেল–মোটেল–রিসোর্ট এবং বসতবাটি–ফ্লাট ইত্যাদি তৈরির অশুভ কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক মুনাফার উদ্দেশ্যে ভূমিদস্যুরা উপকূলজুড়ে অবৈধ দখলদারিত্বের আগ্রাসন চালাচ্ছে। পরিবেশ ও বনমন্ত্রণালয়ের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, কক্সবাজারে অবৈধ দখলদারিত্বে প্রায় ২৮ হাজার একর এবং চিংড়ি ঘেরের কারণে প্রায় দুই হাজার ১১৪ একর নতুন করে গড়ে তোলা উপকূলীয় বনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে। সুবর্ণচর ও নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে ধ্বংস হয়েছে আরও প্রায় ৫০ হাজার একর, এ চিত্র দেশের পুরো উপকূলজুড়ে। নোয়াখালী থেকে কক্সবাজার উপকূল পর্যন্ত মানুষের জীবন ও সম্পদ আজ অরক্ষিত, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে এসব এলাকা কোনোভাবেই রক্ষা পাবে না, পরিণত হবে ধ্বংসস্তূপে। এ সকল অপকর্মে শুধু সবুজ বেষ্টনি নয়, অনিন্দ্যসুন্দর নানা পর্যটন স্পটও ধ্বংস হওয়াতে ব্যাহত হচ্ছে দেশের অমিত সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতের প্রবৃদ্ধি, পাশাপাশি অনিবার্য হয়ে উঠেছে উপকূলজুড়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি, আইলা ও সিডরে উপকূলজুড়ে কী ভয়াবহ ধ্বংসলীলা ও মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। সে সময় আইলা ও সিডরের পূর্ণশক্তিকে ঠেকাতে উপকূলে যদি সুন্দরবন না থাকতো, তবে যে বিপর্যয় ঘটত তা কল্পনাও করা যায় না। পরিবেশবিদরা বহুবার বলেছেন বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন জনিত নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে উপকূলজুড়ে বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনি গড়ে তোলা অপরিহার্য। উপকূলীয় এলাকা যথাযথভাবে রক্ষার ব্যবস্থা না করলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শুধু প্রাণহানিই ঘটবে না, বিপুল সম্পদও ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই আসুন আমাদের দেশের উপকূলীয় এলাকার আগামী প্রজন্মের সুরক্ষা আর সমৃদ্ধি নিশ্চিত করণার্থে উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনি গড়ে তোলার উদ্যোগকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে সচেষ্ট হই – সকলের সচেতনতায় গড়ে উঠা সম্মিলিত প্রতিরোধে প্রতিহত হোক সবুজ বেষ্টনি ধ্বংসের সকল অশুভ প্রচেষ্টা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *