গণসঙ্গীতের কিংবদন্তি হেমাঙ্গ বিশ্বাস

গণসঙ্গীতের কিংবদন্তিতূল্য ব্যক্তিত্ব হেমাঙ্গ বিশ্বাসের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল রোববার। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমৃত্যু সংগ্রামী এই মানুষটি ১৯১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তবে আজন্ম সংগ্রামী এ মানুষটি সম্মন্ধে এলাকাবাসী প্রায় বিস্মৃত। এমনকি জন্মভিটাও হয়ে গেছে বেদখল।


গণসঙ্গীতের কিংবদন্তিতূল্য ব্যক্তিত্ব হেমাঙ্গ বিশ্বাসের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল রোববার। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমৃত্যু সংগ্রামী এই মানুষটি ১৯১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তবে আজন্ম সংগ্রামী এ মানুষটি সম্মন্ধে এলাকাবাসী প্রায় বিস্মৃত। এমনকি জন্মভিটাও হয়ে গেছে বেদখল।

ছোটবেলা থেকে হেমাঙ্গ বিশ্বাস কৃষক পরিবারে বেড়ে উঠেন। কলেজ জীবন জড়িয়ে পড়েন স্বাধীনতা আন্দোলনে। কারাবরণ করেন বেশ কয়েক বার। তিনি তার আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন গণসঙ্গীত।

লোকসঙ্গীতকে কেন্দ্র করে তার গণসঙ্গীত ক্রমেই উজ্জীবিত করে সাধারণ মানুষকে। নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে নেমে তাকে বিসর্জন দিতে হয় জমিদারী। এমনকি অভিভাবকরা তাকে ঘর থেকেও বের করে দেয়। তিনি আরাম আয়েশ ছেড়ে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকেই জীবনের ব্রত হিসাবে বেছে নেন।

লোকসঙ্গীত কেন্দ্রিক গণসঙ্গীত সৃষ্টির অনন্য এ কারিগর অনুবাদে, লোকসুরের ব্যবহারে, সুর সংযোজনার দক্ষতায় বাংলা গণনাট্য সঙ্গীতে এক নতুন ধারার সৃষ্টি করেন।
তেলেঙ্গানা আন্দোলনে তাঁর গান ‘তোমার কাস্তেটারে দিও শান/ কিষাণ ভাই তোর সোনার ধানে বর্গী নামে…’ প্রভৃতি আসাম ও বাংলায় সাড়া ফেলে দেয়। পঞ্চাশের দশকে তাঁর গান দেশবিভাগের যন্ত্রণার পাশাপাশি সংগ্রামের কঠিন শপথে উদ্দীপ্ত হওয়ার প্রেরণা যোগায়।
হেমাঙ্গ কলকাতায় বসবাস করলেও ভুলতে পারেননি দেশকে, দেশের মাটি ও মানুষকে। লিখেন, ‘হবিগঞ্জের জালালি কইতর, সুনামগঞ্জে কোরা’।
১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে তিনি লিখলেন ‘শোন দেশের ভাই-ভগিনী শোন আচানক কাহিনী, কাঁদো বাংলা জননী…’।

১৯৬৫ খ্রীস্টাব্দে তিনি অনুবাদ করেন ‘উই শ্যাল ওভারকাম’ নামের মার্কিন লোকসঙ্গীত শিল্পী পিট সিগারের গাওয়া সেই জনপ্রিয় গানটি, যেটি বাংলায় পরিচিতি পায় ‘আমরা করব জয়’ নামে। ১৯৬৪-তে পারমাণবিক যুদ্ধের প্রতিবাদে রচনা করেন শঙ্খচিল গানটি। এরকম অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা তিনি।

বাংলাদেশের প্রতি অসীম টানের এ মানুষটির জন্মভিটা এখন বেদখল। হবিগঞ্জের লোকজন তার সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না বলেও জানা গেছে। তাকে নিয়ে পর্যাপ্ত চর্চা নেই বলে অভিযোগ গবেষকদের। জন্মভিটা উদ্ধার ও এলাকার একটি সড়ক তাঁর নামে নামকরণের দাবি এলাকাবাসীর।

২ thoughts on “গণসঙ্গীতের কিংবদন্তি হেমাঙ্গ বিশ্বাস

  1. ইয়ো ব্যাইবি….!
    শেহজাদ ভাই#

    ইয়ো ব্যাইবি….!
    শেহজাদ ভাই# এই চোখে পদ‍র্া আর কানে হেডফোন লাগানো উটতি বয়সীদের কাছে হেমাঙ্গ বিশ্বাসেরা বড় বেশি সেকেলে! সতি্য বলতে কজনইবা জানে তাঁর সমন্ধে 🙁
    বিনম্্র শ্রদ্ধা রইলো। বিশ্বাস রাখি “আমরা করবো জয়।”

    1. যে সসস্ত গানে মানুষের কথা
      যে সসস্ত গানে মানুষের কথা আছে, আছে প্রতিবাদী ঝাঁঝ, সেসব গান আমার সবসময়ই ভাল লাগে। বিভিন্ন ধরণের গণসঙ্গীতকেও সেজন্য আমার কাছে ভাল লাগে। ইচ্ছা আছে গণসঙ্গীত নিয়ে আরও কিছু লেখা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করার ! 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *