সাকা মুজাহিদের ফাসিঁ : বাংলাদেশে হলো যেন নতুন সূর্যোদয়

সাকা মুজাহিদের ফাসিঁর মধ্যে দিয়ে সমাপ্ত হলো অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি কলংকজনক অধ্যায়ের্। ৪৪ বছর ধরে বয়ে চলা গঞ্জনা আর চেপে রাখা দীর্ঘশ্বাসের হলো অবসান। হলো মাতৃভূমির কলঙ্কমোচন।


সাকা মুজাহিদের ফাসিঁর মধ্যে দিয়ে সমাপ্ত হলো অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি কলংকজনক অধ্যায়ের্। ৪৪ বছর ধরে বয়ে চলা গঞ্জনা আর চেপে রাখা দীর্ঘশ্বাসের হলো অবসান। হলো মাতৃভূমির কলঙ্কমোচন।

এদেশের রাজনীতিতে ৭৫ পরবর্তীকালে একটু একটু করে ডালপালা বিস্তার করতে করতে এই অপশক্তি পরিণত হয়েছিল মহীরুহে। সাধারণ মানুষের ধর্মানুভুতিকে ব্যবহার করে সুকৌশলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বপন করে প্রতিক্রিয়াশীলতার বিষবাস্প। গড়ে তোলে সম্পদের পাহাড়। একসময় আপোষকামী রাজনীতির দূর্বলতার সূযোগে দেশের মন্ত্রী পদেও অধিষ্ঠিত হয় তারা। যে লাল সবুজের পতাকার তারা একদা বিরোধীতা করেছিল , সেই পতাকাই উড়িয়ে দেয় গাড়িতে। ফুল দেয়ার নামে শহীদ মিনারের করে চরম অবমাননা।

মনে পড়ে মন্ত্রী হওয়ার পরে ফরিদপুরের জনসভায় মুজাহিদ বলেছিল , ” দাত কেলিয়ে মানুষকে রাজাকার ডাকা বন্ধ করুন। সেই দিন শেষ হয়ে গেছে”

আর মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সাকা চৌধুরীর তীব্র কটাক্ষ তীরের মতো বিদ্ধ করে অসংখ্য শহীদদের স্বজনদের হৃদয়ে। এদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধের বিচার কোনদিন হতে পারে এটাই অনেকের কাছে অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়।

২০০৬ সালে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইস্তেহারের অন্যতম দফা ছিলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার্। এক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে প্রেরণা জোগায় শহীদ জননী জাহানারা ঈমামের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শুরু হয় বহুপ্রতিক্ষিত বিচারের কার্যক্রম।

কিন্তু শুরুতেই আসে ধাক্কা। রাজাকার কাদের মোল্লার প্রথম রায়ে ফুসে উঠে তরুণ প্রজন্ম। অনলাইন এক্টিভিস্টদের ডাকে ছুটে বাধভাঙা জোয়ারের মতো ছুটে আসে শাহবাগে। “ফাসিঁ ফাসিঁ ফাসিঁ চাই , রাজাকারের ফাসিঁ চাই” শ্লোগানে কাপিয়ে দেয় সারা দেশ। জয় বাংলার রণহুঙ্কারে প্রকম্পিত হয় আকাশ বাতাস। শুরু হয় বিচারের ক্ষেত্রে এক নবতর অধ্যায়।

ষড়যন্ত্র কারীদের কুটচাল কিন্তু থেমে থাকেনি। মাহমুদুর রহমান গংদের আস্তিক নাস্তিক বিতর্ক দ্বিধাগ্রস্ত করে ফেলে শাহবাগ আন্দোলনকে।জন্ম নেয় হেফাজতে ইসলাম।শাহবাগের প্রতিপক্ষ হিসেবে গড়ে ওঠে শাপলা চত্বর।কোটি কোটি ডলার খরচ করে নিয়োগ দেয়া হয় বিদেশী লবিস্ট ফার্ম। জাতির দুলাভাই খ্যাত ডেভিড বার্গম্যানদের মতো পেইড এজেন্টরা শুরু করে প্রপাগাণ্ডার বেসাতি। পাকিস্তান ,সৌদি আরব সহ মার্কিন বলয়ের শক্তিগুলোর প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তৃত হয় চারদিকে। আভ্যন্তরীণ পর্যায়ে শুরু হয় হরতাল ,অবরোধ ,পেট্রোল বোমার মহোৎসব ,বাশেঁরকেল্লার দেলোয়ার হোসেন সাইদীর চাদে দেখার গুজবকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের উপর চরম নির্যাতন চালায় জামাত ক্যাডাররা। সাথে যুক্ত হয় ব্লগার আর বিদেশী হত্যা।পেট্রোডলারের জোড়ে বিবৃতি আসে এমনেস্টি আর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলোর কাছ থেকে। তবুও সরকার আর শাহবাগ পিছু হটে যায়নি আন্দোলন থেকে। অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণে তারা ছিলো অবিচল। অনলাইন ,অফলাইনে নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধারা গড়ে তোলে তীব্র প্রতিরোধ। সমবেত কন্ঠে উচ্চারিত হয় , “আমি শূকরের সাথে সহবাসের ফতোয়া অস্বিকার করি”

বিচারের পথেও অসংখ্য প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে কাশেম বাজার কুটির ষড়যন্ত্রকারীরা। অসংখ্যবার খোড়া অজুহাতে সময় নস্টের কুটকৌশল বেছে নেয় তারা। ডেভিড বার্গম্যান গং দেশে বিদেশে ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা নিয়ে অপপ্রচার চালাতে থাকে। তাদের সাথে যোগ দেয় রাজনীতির মঞ্চে ব্যর্থ কিছু বুদ্ধিবেশ্যা বামপন্থী মহল। অথচ নুরেমবার্গ , টোকিও বা অন্য কোন ট্রাইব্যুনালে বিশ্বের কোথাও আপীলের নজির পর্যন্ত ছিলো না। ট্রাইব্যুনালের রায়ই ছিলো চূড়ান্ত। সে জায়গায় আপীল ,রিভিউ এমনকি রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চাওয়ার বিধান পর্যন্ত সংযুক্ত করা হয়। তারপরও থেমে থাকেনি অপপ্রচার্। এছাড়া বিচার চলাকালে সাক্ষীদের হুমকি প্রদান নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়। সাকা চৌধুরীর মামলার একজন সাক্ষীকে প্রাণে পর্যন্ত হত্যা করা হয়।

অবশেষে সকল বাধার বিন্দ্যাচল পেরিয়ে রিভিউ আবেদন খারিজের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আইনী লড়াই। শেষ ভরসা হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে সব দোষ স্বিকার করে প্রাণভিক্ষা করে তারা। অথচ কাদের মোল্লা আর কামরুজ্জামানের রায়ের পরে বাশেঁরকেল্লা মহল সদর্পে ঘোষণা দিয়েছিল “তারা মরলে শহীদ ,বাচলে গাজী। এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে তারা প্রাণ ভিক্ষা করবেনা” কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে দুজন রক্তপায়ী খুনীর চেয়ে লাখো শহীদের আত্মার আবেদন স্বভাবতই বড় হয়ে দেখা দেয়। নাকচ হয় মার্সি পিটিশন। কার্যকর হয় মৃত্যুদণ্ড।

৪৪ বছরের কলঙ্কমোচন করে ইতিহাসের দায়মুক্তি ঘটে বাঙালী জাতির্। পতপত্ করে উড়ছে লাল সবুজের বিজয় কেতন। শান্তি লাভ করুক রুমি ,বদি ,আজাদ , আলতাফ মাহমুদ ,নতুন চন্দ্র সিংহের মত অসংখ্য বীর শহীদদের বিদেহী আত্মা।

জয় বাংলা ………………

২ thoughts on “সাকা মুজাহিদের ফাসিঁ : বাংলাদেশে হলো যেন নতুন সূর্যোদয়

  1. যা প্রত্যাসিত তা নিয়ে উচ্ছাস
    যা প্রত্যাসিত তা নিয়ে উচ্ছাস নেই। সরকারের আন্তরিকতা থাকলে আরো আগেই এসব ঘাতকদের ঝুলানো সম্ভব হত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *