ধর্মগুলোয় কেন স্ববিরোধিতা-অস্বচ্ছতা??!!

কখনো সখনো ধর্মীয় শিক্ষা বা নির্দেশ সমূহ আমাদের দ্বীধাগ্রস্থ করে তোলে,আমরা তখন সঠিক পথ হাতড়ে বেড়াই..বুঝে ওঠা দুষ্কর হয়ে ওঠে আসলে কী করা উচিৎ আমাদের…বা কোনটা সঠিক!

খীস্টধর্মে মোশীর দশ আজ্ঞার ১মটি:

 
“তুমি আপন প্রভূ ঈশ্বরের পূজা করবে এবং কেবল তারই সেবা করবে…

কিন্তু ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানএ খ্রীস্টানরা মান্ডলিক নিয়মানুসারে যিশু,মা মারীয়া বা সাধু যোসেফ সহ অগুনিত সাধু-সাধ্বীর পুজা অর্চনা করে থাকে..
ঈশ্বর স্বয়ং বলেছেন।

যাত্রা পুস্তক ২০:৪


কখনো সখনো ধর্মীয় শিক্ষা বা নির্দেশ সমূহ আমাদের দ্বীধাগ্রস্থ করে তোলে,আমরা তখন সঠিক পথ হাতড়ে বেড়াই..বুঝে ওঠা দুষ্কর হয়ে ওঠে আসলে কী করা উচিৎ আমাদের…বা কোনটা সঠিক!

খীস্টধর্মে মোশীর দশ আজ্ঞার ১মটি:

 
“তুমি আপন প্রভূ ঈশ্বরের পূজা করবে এবং কেবল তারই সেবা করবে…

কিন্তু ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানএ খ্রীস্টানরা মান্ডলিক নিয়মানুসারে যিশু,মা মারীয়া বা সাধু যোসেফ সহ অগুনিত সাধু-সাধ্বীর পুজা অর্চনা করে থাকে..
ঈশ্বর স্বয়ং বলেছেন।

যাত্রা পুস্তক ২০:৪

 তোমরা অবশ্যই অন্য কোন মূর্তি গড়বে না য়েগুলো আকাশের, ভূমির অথবা জলের নীচের কোন প্রাণীর মত দেখতে| 

যাত্রা পুস্তক ৩৪:১৭

 “কোনও মূর্ত্তি তৈরী করবে না| 

অথচ বিশ্বব্যাপী খৃস্টান গন বিশাল বিশাল মুর্তি বানিয়ে রাখছে এবং মান্ডলিক নিয়মানুযায়ী পূজা পাঠ করছে…
বাইবেলে ঈশ্বর স্বয়ং বলেছেন তিনি একমাত্র প্রভু এবং পরিত্রাতা এবং এবং তিনি একমাত্র ঈশ্বর,

ইসাইয়া 45 : 5

আমিই প্রভু| আমিই একমাত্র ঈশ্বর| আর কোন ঈশ্বর নেই| 

ইসাইয়া ৪৩:১১

 আমি নিজেই হলাম প্রভু| অন্য কোন পরিত্রাতা নেই, আমিই একমাত্র পরিত্রাতা| 
আমিই একমাত্র ঈশ্বর 

অথচ নানা ধরনের যুক্তির অবতারনা করে যিশুকে বলা হচ্ছে ঈশ্বর।

যীশু খ্রীষ্ট কে? http://www.dbs.org/libraries/bengali/Books/011_ImportantQuestions.html
যীশু কেন ঈশ্বর
যীশুই ঈশ্বর

খ্রীস্টধর্মের শিক্ষা অনুযায়ী যীশু একাধারে ঈশ্বর এবং ঈশ্বরের পুত্রও

লুক ১:৩২

 তাঁহাকে ঈশ্বরের পুত্র বলা যাইবে। ”

যেখানে খ্রীষ্টানদের ঈশ্বর বলছেন আমি ব্যতিত কোন পরিত্রাতা নেই সেখানে সেখানে জগতের সমুদয় খ্রীস্টভক্তকুলকে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে যিশুই একমাত্র পরিত্রাতা.. 
যাহোক খ্রীষ্ট ধর্মের এই সমস্ত স্ববিরোধীতা বা অস্বচ্ছতা মানব জাতির জন্য তেমন কোন ক্ষতি সাধন বা অর্থ বহন করেনা…
যিশু নিজেই ঈশ্বর,ঈস্বরপুত্র বা পরিত্রাতা না হলেও কারো কোন ক্ষতি নেই।।

তদ্রুপ ইসলাম ধর্মের কয়েকটা অস্বচ্ছতাও আমাকে /আমাদের দ্বিধান্বিত করে…

 

সুরা তাওবা-৯: ২৯:
তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।  

এখানে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যারা ইসলামের ওপর আল্লার ওপর ঈমান না আনে তাদের জোর জবরদস্তি যুদ্ধ করে হলেও সত্য ধর্মের পথে আনতে হবে,তাও সম্ভব না হলে তাদের কাছ থেকে কর আদায় করতে হবে,কিন্তু এই একই পবিত্রগ্রন্থে অন্য একটি সূরায় মহান আল্লা কি বলছেন??

 সূরা ইউনুস (মক্কায় অবতীর্ণ),৯৯
…. পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য 

মানবিকতা পূর্ন এই আয়াতটির বিপরিতে কি রকম দৃষ্টিকটু আর অমানবিক নিচের আরো একটি আয়াত,

 

সুরা আনফাল-৮: ১২:
——” অতি সত্বর আমি অবিশ্বাসীদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করব।সুতরাং তোমরা অবিশ্বাসীদের গ্রীবার উপরিভাগে আঘাত হান এবং তাঁদের আঙ্গুলের গ্রন্থিগুলো(হাত ও পাসহ) কর্তন কর। 

দৃষ্টিপাত করা যাক আরো দুটি আয়াতের ওপর

 সুরা আনফাল -৮: ৩৯:
আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় 

এখানে আল্লার হুকুম বা ইসলাম পূর্নাঙ্গরুপে প্রতিষ্ঠা পাবার আগ পর্যন্ত যে আল্লা যুদ্ধ করতে বলছেন,সেই তিনিই কিনা বলেছেন,(মূলত ব্যক্তি স্বাধীনতা দিয়েছেন)

 কাহফ ২৯
“যার ইচ্ছে বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। 

ধর্মীয় স্ববিরোধীতা কিংবা অসচ্ছতার কারনে সাধারন ধর্ম্প্রান মানুষ গুলো বিভ্রান্ত হচ্ছে,কেউ কেউ ধর্মের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ছে কেউবা বিপথামী

২ thoughts on “ধর্মগুলোয় কেন স্ববিরোধিতা-অস্বচ্ছতা??!!

  1. বেশি করে পড়, আর তাফসির দেখ
    বেশি করে পড়, আর তাফসির দেখ ক্লিয়ার হবে। দুই লাইনের অর্থ করলেই আগে পিছে কি আছে কেন কোন পর্যায়ে এই আয়াত নাজিল তা পড়। দেখ ক্লিয়ার হবে। না হলে হুদায় চিল্লা ফাল্লা বন্ধ কর

  2. ইস্লামের প্রাথমিক সময়কালের
    ইস্লামের প্রাথমিক সময়কালের অর্থাৎ মক্কায় অবতীর্ণ হিজরতপূর্ব সুরাগুলোতে উদার আয়াত লক্ষ্য করা যায়।কিন্তু হিজ্রত পরবর্তী মাদানি সুরাগুলোর আয়াতগুলো সে তুলনায় বেশ আক্রমণাত্মক। তবে একই বিষয়ের উপর অবতীর্ণ আয়াতের মধ্যে পরবর্তীতে নাযিলকৃত আয়াতগুলোই বলবৎ থাকার বিধান আছে।নাসিক-মানসুক ফর্মুলার কথা তো আপনার জানা থাকার কথা।নাসিক মানসুক ফর্মূলাটা হলো : কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দুই বা ততোধিক আয়াত নাজিল হলে শেষের আয়াতটি পূর্বোক্ত আয়াতগুলোকে আংশিক বা সম্পূর্ন রূপে রহিত বা বাতিল করে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *