কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফিরলেন খালেদা!

চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর লন্ডনে যান বেগম খালেদা জিয়া। দুই মাসেরও বেশি সময় পর আজ ২১ নভেম্বর দেশে ফিরলেন তিনি। বিকেল ৫টার দিকে তাকে বহনকারী এমিরেটসের একটি বিমান ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে বহু নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাদের মূল সড়কেই আটকে দেয়। সাংবাদিকদের, এমনকি মওদুদ আহমেদ এবং আব্দুল্লাহ আল নোমানের মতো সিনিয়র নেতাদেরকেও বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। নিরাপত্তার কথা বলেই সরকার খালেদার দেশে ফেরার ক্যাম্পেইনকে মোকাবেলা করেছে।


চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর লন্ডনে যান বেগম খালেদা জিয়া। দুই মাসেরও বেশি সময় পর আজ ২১ নভেম্বর দেশে ফিরলেন তিনি। বিকেল ৫টার দিকে তাকে বহনকারী এমিরেটসের একটি বিমান ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে বহু নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাদের মূল সড়কেই আটকে দেয়। সাংবাদিকদের, এমনকি মওদুদ আহমেদ এবং আব্দুল্লাহ আল নোমানের মতো সিনিয়র নেতাদেরকেও বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। নিরাপত্তার কথা বলেই সরকার খালেদার দেশে ফেরার ক্যাম্পেইনকে মোকাবেলা করেছে।

খালেদার দেশে ফেরাটা রাজনীতিতে আলোড়ন তৈরী করেছে। সেপ্টেম্বরে যখন তিনি লন্ডন যান, তখন অনেক বিশ্লেষকই ধারণা করেন যে, খালেদা হয়তো এ যাত্রায় আর দেশে ফিরছেন না। ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরী হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বিদেশে অবস্থান করতে পারেন, এমন সম্ভাবনার কথা সরকারপক্ষও প্রচার করেছিল। বিপরীতে বিএনপির নেতা কর্মীদের আশা ছিল, নেত্রী বিদেশ থেকে আশার বাণী নিয়েই ফিরবেন। উল্লেখ্য, বিএনপি নেত্রীর পুত্র ও দলের পরবর্তী কর্ণধার তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারসমেত লন্ডোনে অবস্থান করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে খালেদার দেশে ফেরাটা অনেককেই অবাক করেছে। কারণ বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোকে সরকার সম্প্রতি দ্রুত পদক্ষেপে নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই এসব মামলার রায় হওয়ার মতো বাস্তবতা দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতারা বেশ কিছুকাল ধরেই এসব মামলার গতিবিধি লক্ষ্য করে একে সরকারি ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতকে ব্যবহার করে আসছে গোড়া থেকেই। আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে এবারও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের চেষ্টা করছে তারা। খালেদা জিয়াকে আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে অন্তরীণ করে বিএনপির ক্ষমতায় আসার সব পথ বন্ধ করাই সরকারের লক্ষ্য!

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতা হস্তান্তর করে। ক্ষমতা ছাড়ার পর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে খালেদার নামে কিছু মামলা দায়ের করে। মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, নাইকো দুর্নীতি মামলা, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা ও বড় পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলা। এ ছাড়া তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর সোনালি ব্যাংকের ঋণ খেলাপি মামলায় খালেদা জিয়াকে বিবাদি করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। ওই দুই মামলার কার্যক্রম চলছে খুবই দ্রুত গতিতে। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে অস্থায়ী আদালতে বিচার কাজ চলছে। সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলা বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার আবেদনও হাইকোর্ট বাতিল করেছে। এছাড়া ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনকেন্দ্রীক সহিংসতার মামলাও দেয়া হয়েছে খালেদার বিরুদ্ধে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একই সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টি নেতা এরশাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে অনেকগুলো মামলা থাকলেও সেগুলোর কার্যক্রম স্থবির। অথচ খালেদার মামলাগুলো চলছে জোর কদমে! এসব মামলার মাধ্যমে সরকার দ্রুত গতিতে খালেদাকে বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি করার চেষ্টা করছে। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই দেশে ফিরলেন বিএনপি নেত্রী। যদিও অনেকের আশঙ্কা ছিল, কারাভোগ এড়াতেই হয়তো তিনি এরকম সময়ে দেশ ছেড়েছিলেন।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা অবশ্য খালেদাকে কঠিন প্রবৃত্তির নেতা হিসেবেই মানেন। ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সেনা সমর্থিত সরকার যখন মাইনাস টু ফর্মুলা নিয়ে এগুচ্ছিলেন, তখন খালেদাই হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সবচেয়ে প্রতিবন্ধক। শেখ হাসিনা তখন অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেপে বিদেশে চলে গেলেও খালেদা দেশ ছাড়তে রাজি হননি। তার দৃঢ়চেতা মনোভাবের কারণেই শেষে নয়া দলের পরিকল্পনা ত্যাগ করে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সঙ্গেই সমঝোতা করে ফখরুদ্দিন সরকার। সেখানেও খালেদা তাদের সঙ্গে আপোস করেননি। ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা ইনডেমনিটির মাধ্যমে তাকেসহ অসংখ্য রাজনীতিককে জেলে ঢোকানো ফখরুদ্দিনের সরকারকে দায়মুক্ত করেন। অথচ খালেদা তখন ক্ষমতায় এলে তাদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দেন!

অনেক বিএনপি নেতা মনে করেন, খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করলে সরকার পতনের আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেবে। নেত্রীর দেশে থাকাটা তাই অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য বিরাট একটা চাপ! তাছাড়া দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজন করছে সরকার। এ সময় নেত্রীর দিক নির্দেশনা খুব জরুরী। নেত্রী ও তার পুত্র তারেক রহমানের মধ্যেকার বোঝাপড়াটাও এই সফরের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এতে করে দল আগামীতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে পারবে বলে তাদের আশাবাদ।

বিশ্লেষকরা এখন কেবল সময় গড়ানোর অপেক্ষায়। খালেদা কি পারবেন সরকারি আইনযন্ত্রের ছুঁড়ে দেয়া চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে? তবে এরকম কঠিন চাপের মধ্যেও বিএনপি নেত্রীর এই চ্যালেঞ্জিং মনোভাব তাকে ও তার দলকে এ মুহূর্তে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। এখন অপেক্ষা, তিনি কি পারবেন দেশের সামগ্রিক সমস্যাবলী সমাধানের পথ খুলে দিতে?

৫ thoughts on “কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফিরলেন খালেদা!

  1. তিনি জামাতসঙ্গ ত্যাগ করতে না
    তিনি জামাতসঙ্গ ত্যাগ করতে না পারলে কিছুই করতে পারবেন না। জামায়াতকে ঘোষনা দিয়ে ত্যাগ করে মানুষের কাছে আসুক, অন্তত তার দলের তৃণমুল নেতাকর্মীরা বিএনপির পক্ষে কথা বলার একটা সুযোগ পাবে। জামাত ও ধর্মীয় মৌলাবাদীদের সাথে নিয়ে বিএনপি রাজনীতিতে কোন কিছুই করতে পারবে না।

  2. আমিও ভেবেছিলাম হয়ত ম্যাডাম আর
    আমিও ভেবেছিলাম হয়ত ম্যাডাম আর দেশে ফিরবেন না।বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে অবশ্যই ম্যাডামের দেশে ফেরাটা একটা ইতিবাচক দিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *