ফটিকছড়ি ম্যাসাকারঃসরকার,মিডিয়া ও সুশীল সমাজ

ফটিকছড়িতে হেফাজত জামাত মিলে যে ম্যাসাকার চালিয়েছে তা এখনও মানতে চাচ্ছেনা অনেকে।অনেক বাম
বন্ধু আওয়ামী দালাল ট্যাগ দিয়েছে।সমস্যা নাই।মাথা কারো কাছে বিকিয়ে দেইনি।

বিশ্বজিত্‍ মারা যাওয়ার পরপরই ঐ সময় নাগুতে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। বিশ্বজিত্ ইস্যুতে সুশীল ও বামরা মিলে যেভাবে লীগের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করেছে,ফটিকছড়ির তান্ডবে তারা চেপে যাচ্ছে। কোন সহানুভূতিমূলক স্ট্যাটাসও তারা দিতে চাচ্ছেনা। সরকার,মিডিয়া যেভাবে স্বার্থগত কারনে বিষয়টা চেপে গেছে,সুশীল সরকারবিরোধীরাও মুখে কুলুপ
এঁটেছে। এক প্রাচীনতম বাম ছাত্র সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ছাত্রনেতার বক্তব্য ছাত্রলীগ মরেছে,তাতে আমাদের কি? আমরাতো আওয়ামীবিরোধী! বাহ্!! মানবতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত। কর্পোরেট মিডিয়া সবসময় চরিত্রহীন,তা আবারও প্রমানিত হল। টকশো বহু সুশীল সমাজের চুতিয়া বুদ্ধিবেশ্যার নানারকম ডিসকোর্স চোদায়। বিশ্বজিত্‍,হলমার্ক ও সোনালী ব্যাংক নিয়ে কথার ফুলঝুড়ি ছোটায়। ফটিকছড়ির এই তান্ডব নিয়ে এক খাপোও মুখ খুলেনি। একমাত্র একাত্তর টিভি কোন দায়ে যে,হেফাজতি শিবিরের ক্যাডারদের দুজনকে নৃশংসভাবে উপর্যপুরি কুপানোর মোবাইল ফুটেজ দেখাল? কিছুটা হলেও ক্ষোভ প্রশমিত করেছে একাত্তর
টিভি।সরকার যেখানে চেপে যাচ্ছে,সেখানে একাত্তর টিভির এরকম সাহসী পদক্ষেপ বিপদ ডেকে আনতে পারে চ্যানেলের পক্ষে।

শাহবাগের আরেক ওলামা ইমরান সরকার নাকি তিনজনরে শহীদের সার্টিফিকেট দিয়েছেন। তালিয়া হবে ওনার জন্য। এদিকে এক সেলিব্রেটি ব্লগাররা পহেলা বৈশা ফ্রিজে কি পরিমান স্টক আছে এইটা নিয়েই ব্যস্ত।

পৃথিবীর যেকোন সভ্য দেশের সরকার এরকম ম্যাসাকারের দায় অস্বীকার করতে পারেনা। আদৌ সরকার নামক
বস্তুটির দেশে অস্তিত্ব আছে কিনা সন্দেহ!থাকলে তিন দিন পরও মৃতের সংখ্যা কোন যুক্তিতে প্রকাশ করা হলনা সংবাদ সম্মেলন করে।এমনকি দলীয়ভাবেও কোন শোকপ্রস্তাব আনা হয়নি। এটা কি আওয়ামী সরকার
নাকি হেফাজতি সরকার।

কোন উপসংহার নেই।শুধু দেখে যান,আর চেপে যান।

৮ thoughts on “ফটিকছড়ি ম্যাসাকারঃসরকার,মিডিয়া ও সুশীল সমাজ

  1. বিএনপি বা জামাত-শিবিরের কোন
    বিএনপি বা জামাত-শিবিরের কোন কর্মীর গায়ে টোকা পড়লেও এরা সেই কর্মীকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে মাঠে নামে। অথচ এতগুলো কর্মীকে এভাবে নৃশংস ভাবে কুপিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হলো সেটা নিয়ে আওয়ামী লীগ নিজেও মুখে কুলুপ এঁটেছে, মিডিয়ার মুখেও কুলুপ আঁটার ব্যবস্থা করেছে। সামনের দিনে আওয়ামী লীগ ডেডিকেটেড কর্মী পাবে কিনা সন্দেহ।

  2. কোন উপসংহার নেই, শুধু দেখে

    কোন উপসংহার নেই, শুধু দেখে যান আর চেপে যান

    এছাড়া আর উপায় কি ??!! মুখ খুললেই তো ব্লগ লইয়া উল্টা দৌড়ানি খাইতে হয় !!!

  3. সরকারি দলের এতগুলো তাজা প্রাণ
    সরকারি দলের এতগুলো তাজা প্রাণ দিয়ে সরকার কি হেফাজতিদের খুশী করার চেষ্টা করছেন? এদের জীবণের কি কোন মূল্য নেই? এরা কি সরকারের বলির পাঠা হওয়ার জন্য আওয়ামী রাজনীতি করেছিল ? একজন বিশ্বজিৎকে নিয়ে পুরা মিডিয়া, পুরা দেশ প্রকম্পিত করেছিল(আমিও বিশ্বজিৎ হত্যার সুবিচার চাই)। অথচ ভুজপুরে এতগুলো তাজা প্রাণ গেল, এত রক্ত ঝরলো, এতগুলো গাড়ি পোড়ানো হল, সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও পোড়ানো হলো (সম্ভবতঃ বাংলাদেশে এটাই প্রথম ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পোড়ানো) তাতে সরকার, তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠন, সুশীল সমাজসহ সবাই মুখে কুলুপ এটেছে কেন? মধ্যযুগীয় কায়দায় ভুজপুরের ন্যক্কারজনক ঘটনার বিচার এ সরকারকেই করতে হবে। নইলে সরকারি দলের ঔসব কর্মীদের আত্মার অভিষাপ পোহাতে হবে এ সরকারকেই…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *