মুক্তমনাদের দেশত্যাগ : আমার ভয়

আমি আসলে সমাজ বা দেশ-দুনিয়া নিয়ে খুবএকটা ভাবিনা আপনাদের মতো। সারাক্ষণ নিজেকে নিয়েই মেতে থাকি। নিজের সাধারণ সুখ দু:খ, পাওয়া না পাওয়া-এসবই আমার ভাবনার বিষয়। তারপরও ক’দিন ধরে একটা বিষয় খুব বেশি ভাবাচ্ছে আমাকে। নাস্তিক বা মুক্তমনা ব্লগারদের দেশ ত্যাগ-এর বিষয়টা।


আমি আসলে সমাজ বা দেশ-দুনিয়া নিয়ে খুবএকটা ভাবিনা আপনাদের মতো। সারাক্ষণ নিজেকে নিয়েই মেতে থাকি। নিজের সাধারণ সুখ দু:খ, পাওয়া না পাওয়া-এসবই আমার ভাবনার বিষয়। তারপরও ক’দিন ধরে একটা বিষয় খুব বেশি ভাবাচ্ছে আমাকে। নাস্তিক বা মুক্তমনা ব্লগারদের দেশ ত্যাগ-এর বিষয়টা।

দেশের যা পরিস্থিতি তাতে আসলেই নূন্যতম নিরাপত্তা নেই কারো জীবনের। বিশেষ করে যারা একটু মুক্তভাবে চিন্তা করছেন বা মুক্ত চিন্তার প্রকাশ করছেন তাদের তো প্রতিটা মুহূর্তই চাপাতির কোপ খাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বের হতে হয় ঘর থেকে। বের হবার কথায়ই বা ক্যানো বলছি ! ঘরেও তো নিরাপদ না কেউ এখন।

যা বলতে চাচ্ছি,
যারা এই ঘুণেধরা দেশ, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বা করতে চাচ্ছেন তারা তো দেশের পরিস্থিতি বুঝেই কাজ করছেন। কাজ বলতে আমি ব্লগ বা ফেসবুকে মুক্তভাবে লেখার কথা বলছি।
গত দু’দিন আমি কয়েকজন পরিচিত মুক্তমনা বন্ধুর সাথে একটু একান্তে আলাপ করার চেষ্টা করেছি। বন্ধুরা একটু বিরক্তও হয়েছেন। আলাপের শুরুতে আমি জানতে চেয়েছি, এসব কথা ক্যানো লিখছেন? প্রাই সবারই একইরকম উত্তর ছিলো। তা হলো, “দেশের মানুষ একটা অন্ধকার সময়ের মধ্যে ডুবে আছে। অামরা যদি এক্ষণি না জাগিয়ে তুলি তাহলে খুব ভয়ঙ্কর একটা পরিস্থিতিতে পড়বে পুরো দেশ। অন্ধকারে হারিয়ে যাবো আমরা। আমরা যেটা করছি, এটা একটা যুদ্ধ ।” কথাগুলো হুবহু এমন না হলেও প্রত্যেকের মুল বক্তব্য এমনই। আমিও শতভাগ একমত বন্ধুদের বক্তব্যের সাথে। আমার মনে হয়, আপনারাও একমত হবেন।

আমি মনে করি, যেহেতু আপনি ভাবছেন, কথা বলছেন; লিখছেন সেহেতু আপনি সমাজের আর সাধারণ জনগণ থেকে সচেতন একজন মানুষ। আপনার মস্তিস্ক সমাজের একটা বড় অংশের মানুষের চেয়ে উর্বর, উন্নত।

কথা হলো: যুদ্ধ করতে হলে আগে যুদ্ধের কারণ জানতে হয় তারপর প্রতিপক্ষকে চিনতে হয়। যুদ্ধের ক্ষেত্র সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা থাকতে হয়। নিজেকে বা নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হয়।
যাহোক, যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন আপনারা। কলম কীবোর্ড আপনাদের অস্ত্র। আর প্রতিপক্ষের হাতে চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল আর পিস্তল [উর্বর মস্তিস্কের বন্ধুরা এও স্বীকার করেন যে, প্রশাসনের নিরব গোপন সমর্থণও প্রতিপক্ষের একটা অস্ত্র]। বেশ চলছে যুদ্ধ। নিয়ম করে একটা একটা লাশ পড়ছে। প্রতিবাদে আপনারা মোমবাতি জ্বালাচ্ছেন, মিছিল করছেন, মিটিং ডাকছেন। সময় সুযোগ পেলে আমরাও মিছিলে যোগ দিচ্ছি মাঝে মধ্যে, প্রতিবাদ করছি। শপথ নিচ্ছি, আমার ভাইএর রক্তের প্রতিশোধ না নিয়ে ঘরে ফিরবো না। ঘরে ফিরে, লাশ হওয়া বন্ধুটির ছবি দিয়ে আমরা আমাদের প্রফাইলের ছবি পাল্টাচ্ছি..স্টাটাস দিচ্ছি… ইদ্যাদি ইত্যাদি।

আমার মনে পড়ছে, অনন্ত বিজয়কে হত্যার পর খুণ হওয়া পাঁচজনের ধারাবাহিক ছবি ও একজনের মুখ ফাঁকা রেখে এই কভার ফটোটা এঁকেছিলাম। সত্যিটা আজ বলি, ফাঁকা মুখটাতে আমি প্রথমে আমার চেহারাই এঁকেছিলাম। পরবর্তীতে খুব কাছের কয়েকজন বন্ধুর অনুরোধে আমার চেহারাটা মুছে সাদা রঙ করে দিয়েছিলাম। তাদের অনুরোধের কারণটা নিশ্চই বুঝতে পারছেন। যাহোক, ওটা ব্যাবহারের ধুম পড়ে গিয়েছিলো তখন। গণহারে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসতে শুরু করেছিলো। এতো এতো প্রশংসা পাচ্ছিলাম যে, মনে হচ্ছিলো আমি কোনো বড় মানের শিল্পকর্ম তৈরি করে ফেলেছি! এরপর নিলয় নিল হত্যার পর অনেকের কাছ থেকে অনুরোধ আসতে শুরু হলো এই বলে যে, ভাই/দাদা, প্লিজ নিলয়ের ছবিটা জুড়ে দেন ওখানে, কভার ফটোটা একটু চেঞ্জ করবো। আমি পারিনি, আমার হাত চলেনি তখন।

যা বলছিলাম… দেশে যুদ্ধ চলছে। এক এক করে সামনের সারির যোদ্ধাদেরকে আর দেশে পাওয়া যাচ্ছে না। সঙ্গত কারণেই পাওয়া যাচ্ছে না। আপনাদের নিরাপত্তা দিতে এই রাষ্ট্র ব্যার্থ, তাই আপনারা চলে গ্যালেন। প্রিয় বন্ধুটি আপাতত একটা নিরাপদ যায়গায় অবস্থান নিয়েছে এই ভেবে আমরাও কিছুটা চিন্তামুক্ত হলাম। এখন, এই দেশ ত্যাগ নিয়ে অনেকেই বলছেন পালিয়ে গ্যাছে, (!) কেউ কেউ বলছেন, এটা যুদ্ধের কৌশল। প্রাণ আগে তারপর অন্যকিছু। সবই ঠিক আছে, কিন্তু আমার মনে একটা প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে, তা হলো যুদ্ধ কি আপাতত বিরতি দেয়া হলো? নিশ্চই বলবেন, না! তা ক্যানো হবে!! আমরা বিদেশে বসে আমাদের লেখা, কাজ চালিয়ে যাবো।

কিন্তু বন্ধু, আপনি তো নিরাপদে বসে যুদ্ধ করে যাবেন। মানে, কলম-কি-বোর্ড চালিয়ে যাবেন। আর এখানকার পেছনের সারির আপনার বন্ধুরা যাদের বিদেশ যাবার সামর্থ নেই তারা কি পার পেয়ে যাবে মনে করছেন? আপনি ভালো করেই জানেন ক’দিন পর আপনার পেছনের সারির কোনো এক বন্ধু চাপাতির শিকার হবে। তার মানে, আপনি নিজে বাঁচার জন্য আরেকজনকে আপনার যায়গায় বসিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। শুনতে খারাপ লাগছে কিন্তু এটাই করেছেন।

যুদ্ধের কৌশল যদি এটা হয় তাহলে এটা খুব স্বার্থপরের মতো কৌশল। কৌশল পাল্টানো দরকার। আর যুদ্ধ শুরু করে আপনি এভাবে দেশ ছেড়ে চলে যাবেন এখানে আপনার ব্যার্থতাও একটু স্বীকার করে নেয়া দরকার। ব্যার্থতার কথা আসছে কারণ, আপনি ক্ষেত্র বুঝতে ব্যার্থ হয়েছেন। শুরুতেই আপনার চিন্তা করা উচিৎ ছিলো যে আপনি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। যেহেতু আপনি এখন আপাতত নিরাপদে আছেন এবং যেহেতু আপনার কিছু ব্যার্থতা আছে সেহেতু সেই ব্যার্থতার কারণগুলো বিশ্লেষণ করে, এখানকার বন্ধুদের তাদের করণীয় কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে, আরেকটু চিন্তা করে কলম কি-বোর্ড ধরার অনুরোধ করছি।

তা না হলে এভাবে এক এক করে যোগ্য মাথাগুলোকে হয়তো শুধু হারাতেই থাকবো।
আর তার দায় যতটুকু না এদেশের সাধারণ জনগণের তার চেয়ে বেশি আপনার। কারণ আপনি সামনের সারির।

[দয়া করে রাষ্ট্রকে টানবেন না । রাষ্ট্রের ভূমিকা জেনেই আপনারা শুরু করেছিলেন ]

১৬ thoughts on “মুক্তমনাদের দেশত্যাগ : আমার ভয়

  1. আপনার কথাগুলো ফেলে দেওয়ার মত
    আপনার কথাগুলো ফেলে দেওয়ার মত না। মুক্তিচিন্তার সাথে জড়িত সকলের ভেবে দেখা উচিত।

  2. দেশত্যাগী ব্লগারদের দায়িত্ব
    দেশত্যাগী ব্লগারদের দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ থাকা উচিত। তাদের মনে রাখা উচিত কেন তারা দেশ ছেড়েছে। তাদের ভক্তদের ফেলে তারা নিরাপদ জায়গায় আছে, এজন্য মুক্তচিন্তার প্রসারে তাদের আগের চেয়ে বেশি ভুমিকা রাখা উচিত। ব্যক্তিগত ইভেন্টের ছবি আপলোডের পাশাপাশি মুক্তচিন্তার চর্চা করা প্রয়োজন। অনুজদের দিক নির্দেশনা এই মুহুর্তে গুরুত্বপূর্ণ। না হয় মুক্তচিন্তা থমকে পড়বে।

  3. “আপনি আস্তিক হোন বা নাস্তিক
    “আপনি আস্তিক হোন বা নাস্তিক হোন।তাতে আমার কোনো আপত্তি নাই। আপনি ভাদা কিংবা পাদা হোন তাতেও আপত্তি নাই। আপনি জামাত হেফাজত বিএনপি আম্লীগ হোন এতেও কোনো আপত্তি নাই। আপনি শাহবাগী এন্টি শাহবাগী হোন এতেও কোনো আপত্তি নাই, আপনি সাহিত্যিক চটি সাহিত্যি গল্পকার, বিজ্ঞানী যা ইচ্ছা হোন কারো কোনো আপত্তি নাই, কিন্তু আপত্তি আপনার প্ৰতি আপত্তি সেখানেই যেখানে আমার ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দিবেন। আপনি মুক্তমনা হতেই পারেন তা আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার! তারমানে এইনয় অন্যের হৃদপিণ্ড খুলে ডাঙুলি খেলবেন। নিশ্চয়ই আপনার হৃদপিণ্ডে আঘাত দিতে এলে আপনি বুকটা পেতে দিবেন না? আপনার স্ত্ৰী মা বোন নিয়ে কেউ চটিগল্প লিখলে আপনি মুখ গুজে বসে থাকবেন না?
    .
    সব ধৰ্মের প্ৰতিটা ধার্মিকের কাছে ধর্ম হচ্ছে হৃদপিণ্ডের মতো। সেটার অনুভুতিতে আঘাত করে ক্ষত বিক্ষত করা নিশ্চয় কোনো মানুষের কাজ না।
    .
    কার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছেন? ধার্মিকর কি কারো পাকা ধানে মই দিয়ছে? আপনাদের মুক্তমনের অধীকার যদি হয় অন্যের ধানক্ষেত মাড়িয়ে নষ্ট করে যাওয়া, তবে ক্ষেতের দায়ীত্বে থাকা লোকেরও উচিত শায়েস্তা করা! জানেন তো অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালোনা!

    1. কে কার সম্পর্কে কি বলে,
      কে কার সম্পর্কে কি বলে, সেখানে গিয়ে কান না পাতলে জানার কথা না। যারা ধর্মের সমালোচনা করে, তারা নিশ্চয়ই পত্রিকায় লেখালেখি করে না। তারা তাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মেই লেখালেখি করে। আপনি যদি ধর্মপ্রাণ হয়ে থাকেন, ধর্মের সমালোচনায় কষ্ট পান, তবে নাস্তিকদের লেখাগুলো পড়ার জন্য তাদের প্ল্যাটফর্মে গিয়ে হাজির হন কেন? আপনাকে কি জলসায় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়? সেখানে আপনার কাজ কি? যেচে পড়ে নাস্তিকদের সাথে তর্ক করা? তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের নামের তালিকা আর মন্তব্যের স্ক্রীণশট নেয়া? মোদ্দাকথা, ওদের প্ল্যাটফর্মে/ব্লগে আপনার তো যাওয়ারই প্রয়োজন নাই, ওটা সবার জন্য না, নিজে গিয়ে হাজির হন, আবার ব্যাথাও পান। তাহলে দোষটা কার? স্ত্রী-মা-বোন নিয়ে চটিগল্প লিখলে কাউকে খুন করা জায়েজ হয়ে যায় না। তাহলে আর দেশে আইন-বিচার বিভাগ-সরকারের প্রয়োজন কি? নাস্তিকরা আপনাদের ধর্মীয় পেইজ, ওয়েবসাইট বা ব্লগে ত্যানা প্যাঁচাতে যান না। তাদেরকে নিয়ে আপনারা সমালোচনা করেন, তাদের মা-বোন-স্ত্রীকে নিয়ে নোংরা কথা বলেন, তাদেরকে খুন করার কথা বলেন, তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার কথা বলেন- তাদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে না? নাকি আপনাদের অনুভূতিটা সহী, আর তাদেরটা ধইঞ্চা? মাথা থেকে জঞ্জাল দূর করে একটু আলো-বাতাস ঢোকার পথ করে দিন।

      1. একটা সমাজের রাস্তাঘাট যেমন
        একটা সমাজের রাস্তাঘাট যেমন সবার ব্লগও সবার, এখন একজন মানুষ হাটছে তাকে ল্যাং মেরে ফেলে দিলেন, মুখ খিচে গালাগালীও দিলেন আর বললেন এই রাস্তা দিয়ে আসলি ক্যান? এটা বুঝি অনেক সহী?

  4. প্রথমেই স্বীকার করতে হবে যে
    প্রথমেই স্বীকার করতে হবে যে এদেশে মুক্তমনা বা নিও এথিজম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অনেক ব্যর্থতা আছে। আমরা যে ভোগবাদী উত্তরাধুনিক সমাজ কাঠামোয় বেড়ে উঠেছি সেই সমাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল আত্বকেন্দীকতা। মুক্তমনারা বা নিও এথিষ্টরাও এই সমাজ কাঠামোর বাইরে নয়। তাদের অনেকেই আত্বকেন্দীক ফেইমসিকার, যে কোন মুল্যে প্রচার পাওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। অনেকের মধ্যে ব্যক্তিগত এবং মতাদর্শগত রেষারেষিও প্রবল, রাজনৈতিক ঐক্যমত্য তো আরো অনেক দুরের ব্যাপার। এই শ্রেনীর আত্বকেন্দ্রীক মুক্তমনারাই মূলত এসাইলাম নিয়ে বিদেশে অবস্থান করছে। বিদেশে নিরাপদ অবস্থায় বেঁচে থেকে নিজেদের আত্বগরিমা প্রচার করছে। কিন্ত এরা সামনের সারিতে অবস্থান করছে বলে দেশে থাকা নাস্তিকদের হত্যার “সবচেয়ে বড় দায়” এদের উপর চাপিয়ে দেওয়া ঘোরতর অন্যায়। এরা কোন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সামনের সারিতে আসেনি , এসেছে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ভাবে। কেউ সামনের সারিতে থাকুক আর পিছনের সারিতে থাকুক প্রত্যেকেরই স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং একই সঙ্গে নিরাপদ আবাসস্থল বেছে নেওয়ার অধিকার আছে। যারা বিদেশে অবস্থান করে ধর্ম নিয়ে স্যাটায়ার লিখছে এটাও তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, আপনি তা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন না যদিও আমাদের দেশের প্রচলিত ধর্ম আশ্রিত সমাজ ব্যবস্থায় সেটা কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আপনার লেখার শেষের কথা গুলো খুবই আপত্তিকর। এই কথাগুলো দেশের সেক্যুলার মানুষদের মধ্যে বিভাজনকে আরো ত্বরানিত করবে এবং ধর্মান্ধদের হাতকে আরো শক্তিশালী করবে। মোট কথা এদেশে ধর্ম নিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়ীক, বিজ্ঞান মনষ্ক সমাজ প্রতিষ্ঠার মূল শত্রুদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভাবে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করতে হবে, একে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে লাভ নেই।

  5. আমি একটু ভিন্নভাবে দেখি
    আমি একটু ভিন্নভাবে দেখি বিষয়টা। অনলাইনে “মুক্তমনা” বলে যাদের চিহিৃত করা হয় সেটা মূলত লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। অনলাইনে সিপি গ্যাং বা এইরকম কোন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম নয়। কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক গ্রুপে থাকতে হলে লেখালেখি করতে হবে তার কোন বাধ্যকতা নেই। “মুক্তমনারা” বলতে আজকে যা বুঝাচ্ছে সেটা কোন সম্প্রদায়, পার্টি, দল নয়। এমনকি তারা “ইয়াং বেঙ্গল” ও নয়। লেখালেখি কোন নির্দিষ্ট মেন্যুফেস্ট বা নির্দিষ্ট বিধিলীপি দিয়ে হয় না। প্রত্যেক লেখক তার নিজস্বতা নিয়ে প্রকাশিত হয়। এই জন্যই দুনিয়ার কোথাও লেখকদের এক হয়ে একই ধারায় জোটবন্ধ হয়ে লেখালেখি করা হয়নি। এরকম চেষ্টা যে হয়নি তা নয়, পশ্চিমে, ভারতবর্ষে, সবগুলিই ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশে “মুক্তমনারা” লেখালেখি কেন্দ্রিক একটি পরিচয়। তাদের উপর হামলা, অত্যাচার খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। এটি মুক্তমনাদের মেনে নিতে হবে। তারা অতিত ইতিহাস দেখুক তাদের অগ্রজরা কি নিদারুণ ভাগ্য বরণ করেছিল। যারা নতুন করে লিখতে আসবে তারা জেনেবুঝে আসুক এখানে চাপাতীর কোপ খেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে হতে পারে।

    যারা বিদেশে চলে গেছেন তাদের ভূমিকা নিয়ে বলার কিছু নেই কারণ এটা হতোই। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমেরিকা থেকে ফিরে চলে এসেছিলেন লেখালেখি করার জন্য। যাদের জন্য লিখবেন তাদের কাছাকাছি না থাকলে শেকড় প্রাণরসটা পায় না। যে বাস্তবতায় তারা থাকছেন সেটাই প্রথম সত্য। দ্বিতীয় সত্য তাদের ফেলে আসা স্বদেশ। এই জন্যই তারা সেলফি, রান্নার ডিস, ফেস্টিভাল, সেমিনারের ছবি আপলোডে বেশি সময় ব্যয় করে। তাদের লেখালেখির যে উৎস যে অনেকটা আড়াল হয়ে গেছে। এটাই বাস্তবতা।

    যা হবার হবে, এখানে বসেই লিখবো, এরকম ভাবা ছাড়া বিকল্প নেই।

    1. আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে
      আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মুক্তমনা পরিচয়টা লেখালেখি কেন্দ্রীক হতে পারে কিন্ত মুক্তমনাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পিছনে মূল কারণটা রাজনৈতিক। যারা এই সব করছে তারা শুধু তাদের বিশ্বাসের উপর আঘাতের প্রতিশোধ হিসেবে এই কাজ গুলো করছে না, একই সঙ্গে তাদের একটা সুনির্দিষ্ট সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক লক্ষ্য আছে। কাজেই এর বিরুদ্ধে লড়াইটাও হতে হবে রাজনৈতিক। আন্দোলনের প্রক্রিয়াটিকে শুধু সাংস্কৃতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মনযোগী হতে হবে।

  6. আসিফ সহ আরও কয়েকজনকে দেখেছি
    আসিফ সহ আরও কয়েকজনকে দেখেছি জার্মানি থেকে ছবি দিয়ে আনসারুল্লাহকে শুভেচ্ছা জানাতে। এটা প্রমাণ করে, তারা ওখানে গিয়ে মনে করছে যে, আনসারুল্লার সীমা থেকে বেরিয়ে গেছে এবং বাস্তবে এখানে যে আরও অনেকে তার মধ্যে রয়েছে এটা নিয়ে তাদের কোনো ভাবনা নেই। স্বদেশ ছাড়ার দুঃখে কাতর, এবং এ পরিস্থিতি বদলানোর জন্য কাউকে কথা বলতে দেখিনি!

    1. আসিফরা নিজের কথা চিন্তা করে।
      আসিফরা নিজের কথা চিন্তা করে। অন্যদের অবস্থা খারাপ হলে তাদের কি? এরা হচ্ছে চরম স্বার্থপর।

  7. বাংলাদেশে কোন মুক্তমনা বা
    বাংলাদেশে কোন মুক্তমনা বা মুক্তচিন্তার মানুষ নাই। যারা দাবী করেন তারা মূলত একটা গুত্র বা গুষ্টিকে উদ্যেশ্যমূলক শালা, বানচ্যুত গালি দিয়ে থাকেন। কাউকে গালি দেওয়া যদি মুক্তচিন্তা হয় তাহলে আমাদের গ্রামের শামসু, নজরুল নামের ঘৃনীত লোকগুলাও মুক্তমনা দাবী করবে। সকল কাজের ভাল এবং মন্দ দুইদিক নিয়ে বেখ্যামূলক আলোচনা করুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *