প্রথম যাত্রা ::::: (আমার প্রথম ব্লগ)

বাঙালিদের একটা বড় গুণ হচ্ছে তারা নিপীড়িত হতে বেশ ভালবাসে। নাহ , ভুল বললাম। বাঙালিরা ধর্ষিত হতে বেশ ভালবাসে। “ধর্ষিত” শব্দটি শুনে যারা উৎসাহী বা উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন এবং কোন ১৮+ বস্তুর কথা ভাবছেন, এবং বিনোদনের অপেক্ষায় আছেন, তাদের বলে রাখি, আপনাদের কোন রকম বিনোদন দেওয়ার জন্য আমি লিখছি না। যাই হোক, সেটা আমার ফোকাস না।আমার ফোকাস আমাদের একটি বড় গুণ নিয়ে, যার চর্চা ইতিহাসের কিছু সময় বাদ দিলে পুরো সময় জুড়েই আমরা করে এসেছি।


বাঙালিদের একটা বড় গুণ হচ্ছে তারা নিপীড়িত হতে বেশ ভালবাসে। নাহ , ভুল বললাম। বাঙালিরা ধর্ষিত হতে বেশ ভালবাসে। “ধর্ষিত” শব্দটি শুনে যারা উৎসাহী বা উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন এবং কোন ১৮+ বস্তুর কথা ভাবছেন, এবং বিনোদনের অপেক্ষায় আছেন, তাদের বলে রাখি, আপনাদের কোন রকম বিনোদন দেওয়ার জন্য আমি লিখছি না। যাই হোক, সেটা আমার ফোকাস না।আমার ফোকাস আমাদের একটি বড় গুণ নিয়ে, যার চর্চা ইতিহাসের কিছু সময় বাদ দিলে পুরো সময় জুড়েই আমরা করে এসেছি।

আমাদের মৌর্যরা শাসন করে গেল, গুপ্তরা শাসন করে গেল, পালরা এলো আর গেল, এর বহু পরে আফগান, পাঠান, মুঘলরা এলো, তারা গিয়ে ব্রিটিশরা এলো। এরপর পাকিস্তান এলো। এরপর আমরা স্বাধীন হলাম। কিন্তু আমাদের মানুশিকতা বদলালো না। আমরা যা ছিলাম তাই রয়ে গেলাম। আত্মঘাতী বাঙালি।

ইতিহাসের আবর্তে একেক সময় একেক শাসক এসেছে, আর এদেশের মানুষকে যেভাবে খুশি ব্যবহার করেছে। ভাইকে ভাইয়ের সাথে লড়িয়েছে। একজনের হাত আরেকজনের লোহিতে শোণিত করেছে। আমরা সবই বুঝেছি। কিন্তু অন্তঃপুরের আঁচল ছেড়ে কেউ বের হতে পারিনি। কখনো ধর্মের নামে, কখনো জাতের নামে, কখনো অখণ্ডতার নামে আমরা লড়েছি, হত্যা করেছি, রক্তের নদী বইয়ে দিয়েছি। কাদের রক্তে? যারা আমাদের আপন ছিল। তাদের দোষ ছিল রাজনীতির পুতুলখেলা খেলতে তারা রাজি ছিল না।

দেশ স্বাধীন হল,কিন্তু আমাদের উদার জমিন বানিয়ে সবাই যার যার আঁখের গুছিয়ে গেল। আবার সেই পুরনো অজুহাত। ধর্ম, জাতীয়তাবাদ হাবিজাবি। আজকে আমরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে অস্তিত্তের সঙ্কটে ভুগছি।আমরা কি বাঙালি আগে? নাকি মুসলিম আগে? নাকি দুটোই? কোনটা? আর এতে লাভ হচ্ছে কিন্তু তাদেরই। বিভক্তি তৈরিই যে তাদের কাজ!

ধর্মের নামে আজ মানুষ মানুষকে মেরে ফেলতে দ্বিধাও করে না, ধর্ম কি এই শেখায়? আমার তো মনে হয় না। স্কুল-কলেজ জীবনের কোন বইয়ে এমন পাইনি যে ধর্মের নামে মানুষ মারা জায়েজ। এখন, নিজের স্বার্থে যদি কেউ ধর্মগ্রন্থও বদলে ফেলে, সেখানে এমন হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু তারপরও আমরা কিছু বলি না। আমরা ধর্ষিত হতে থাকবো কিন্তু কিছু বলব না। কারণ, আমাদের দেহে রক্ত নামের জিনিসটার বড়ই অভাব।

আমরা সে দেশে বাস করি যে দেশে দেশে মসজিদে খোলামেলাভাবে ঘোষণা দিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়, যেদেশে তার একজন নাগরিককে দেশ ছাড়ার কথা ভাবতে হয় কারণ সে সংখ্যালঘু? আমরা সেই দেশের গর্বিত নাগরিক যারা চাঁদে শয়তানের ছবি দেখে নাচে। আমরা সেই দেশের সেইসব বাসিন্দা যারা তাদের সূর্যসন্তানদের আত্মত্যাগ ভুলে যায়। যারা নিজের সামান্য স্বার্থের জন্য নিজের ঈমান নিজের দেশ বিকিয়ে দেয়।

রাজনীতিবিদরা একের পর এক আসবে, আর আমাদের ধর্ষণ করে যাবে। কিন্তু আমরা চুপ থাকব। নো অব্জেকশন এট অল। ৫ বছর শেষে আমরা সেই ধর্ষকের উপর অতিষ্ঠ হয়ে আবার আরেক ধর্ষককে ক্ষমতায় বসাব। আবার চুপচাপ ধর্ষিত হব। কিন্তু আমরা কিচ্ছু বলব না। আমাদের হাত আবার রক্তে রঞ্জিত হবে, আমাদের মা বোনেরা আবার নিপীড়িত হবে, তারপরও আমরা কিচ্ছু বলবো না। কারণ আমরা বাঙালি। ধর্ষিত হওয়া আমাদের গুণ। যে কারণে ধর্ষিত আমাদের সংবিধান, আমাদের সমাজ, আমাদের জীবন, আমাদের স্বপ্ন। আমরা কি এই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম? আমাদের পূর্বপুরুষরা কি এজন্য দেশ স্বাধীন করেছিলেন যে সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে? আমরা সবই সইব, নীরবে হয়ত অনেকে কাঁদবো। কিন্তু অন্তঃপুরের মায়া ত্যাগ করে কেউ আসবে না। আর যদি কেউ আসেও, তার হাজারটা দোষ খুঁজে বের করা হবে। তার সম্ভাবনা অঙ্কুরে শেষ করে দেওয়া হবে।

আমরা মানি যে আমরা হুজুগে চলি। এবং কার্যক্ষেত্রে আমরা তাই করি। কিন্তু এই হুজুগ এড়ানোর কোন ঔষধ আমাদের নেই। আর কেউ যদি চেষ্টা করে তখন তাকে অপমান করে নর্দমায় নামিয়ে দেয়া হয়।

হায়রে বাংলাদেশ! হায়রে বাঙালি? এই কি চেয়েছিলাম? হায়দার হুসেন ৩০ বছর পরেও স্বাধীনতা খুঁজেছিলেন। আমাদের হয়ত সারাজীবনই খুঁজতে হবে। শুধু আমাদের নিজের দোষে। আর কিছু নয়।

একটা কথা বলে শেষ করব, আপনি যদি শিকারে পরিণত হতে চান তবে শিকারির অভাব হবে না। কিন্তু আপনি যদি উঠে দাঁড়াতে চান, অনেক বাঁধা হয়ত আসবে, কিন্তু আপনি ঠিক থাকলে সব ঠিক থাকবে। বাঁধা আসবেই। আপনাকে নর্দমায় নামানোর চেষ্টা করা হবে, আপনাকে নিয়ে নানান কথা বলা হবে, আপনার ব্যক্তিগত বিশ্বাসে এবং বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে, এবং তারাই কাজগুলো করবে যারা নিজেদের এসবের ধারক দাবি করে। কিন্তু আপনি থেমে থাকতে পারবেন না। আপনি একলা হয়ত কিছুই নন। কিন্তু এমন অনেকেই আছে যারা অনুপ্রেরণার অভাবে হতাশ হয়ে পড়েছে। হয়ত আপনি একজন সেই অনুপ্রেরণা হতে পারেন।

বিড়ালের গলায় ঘন্টা কে বাঁধবে বলে বসে না থেকে ঘন্টাখানা নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। কেউ না কেউ, কখনো না কখনো তো অবশ্যই বাঁধবে।

৮ thoughts on “প্রথম যাত্রা ::::: (আমার প্রথম ব্লগ)

  1. আমরা সেই দেশের সেইসব বাসিন্দা

    আমরা সেই দেশের সেইসব বাসিন্দা যারা তাদের সূর্যসন্তানদের আত্মত্যাগ ভুলে যায়। যারা নিজের সামান্য স্বার্থের জন্য নিজের ঈমান নিজের দেশ বিকিয়ে দেয়।

    দেশে এ জাতীয় লোকের সংখ্যা নিতান্তই কম ! কারণ সমাজে অশান্তির জন্য খুব বেশী লোকের প্রয়োজন হয় না। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর পরিশ্রমসহ অনেক মানুষের ত্যাগ স্বীকার জরুরী। সতরাং এখনও দেশে দেশ প্রেমিক মানুষের সংখ্যা অনেক বেশী…..

    1. মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার কথা ঠিক যে এ জাতীয় লোকের সংখ্যা নিতান্তই কম। কিন্তু এই কমসংখ্যক লোকেরাই কিন্তু আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে। কারণ, যাদের সামর্থ্য ছিল সমাজকে সঠিক পথ দেখানোর, তারা অপারগতা প্রকাশ করায় এই অবস্থা। তারা যদি তাদের দায়িত্ব থেকে পিছপা না হত, আজকে এই অবস্থা আসত না।

      আর দেশে দেশপ্রেমিকের সংখ্যা কখনই কম ছিল না। কম ছিল উদ্যোগ আর তাদের সংগঠিত করার চেষ্টা।

  2. ইস্টিশনে ভাল লেখার কদর আছে।
    ইস্টিশনে ভাল লেখার কদর আছে। নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন? সুতরাং চালিয়ে যান আমরা আছি, থাকবো…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *