হুমায়ূন আহমেদের ‘টুনির’ মৃত্যুরহস্য এখনো জটে

বিটিভিতে প্রচারিত হুনমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় এইসব দিনরাত্রি ধারাবাহিক নাটকের টুনি চরিত্রে অভিনয় করা নায়ার সুলতানা ওরফে লোপার মৃত্যুরহস্য এক বছরেও উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হলেও এটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পুলিশ বলছে, মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনে মামলার আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতাসহ বিভিন্ন কারণে তা করা যাচ্ছে না।

বিটিভিতে প্রচারিত হুনমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় এইসব দিনরাত্রি ধারাবাহিক নাটকের টুনি চরিত্রে অভিনয় করা নায়ার সুলতানা ওরফে লোপার মৃত্যুরহস্য এক বছরেও উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হলেও এটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পুলিশ বলছে, মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনে মামলার আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতাসহ বিভিন্ন কারণে তা করা যাচ্ছে না।
নায়ারের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হত্যা মামলার আসামি নায়ারের স্বামী আলী আমিন মিথ্যা তথ্য দিয়ে জামিন নিয়ে বেরিয়ে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন এবং হয়রানি করছেন। অন্যদিকে মামলার অপর দুই আসামি নায়ারের শ্বশুর ও শাশুড়ি উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছিলেন। কিন্তু জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাঁরা আদালতে হাজির হচ্ছেন না।
গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাতে গুলশান ১ নম্বরের ১২৬ নম্বর রোডের নিজ ফ্ল্যাট থেকে নায়ার সুলতানার লাশ উদ্ধার করে গুলশান থানার পুলিশ। লাশটি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। সুরতহাল রিপোর্টে পুলিশ উল্লেখ করে, নায়ারের দুই পায়ের হাঁটু খাটের সঙ্গে লাগানো ছিল। গলার ডান দিকে কালো দাগ ও বাঁ হাতের কবজিতে আঘাতের কাটা দাগ ছিল।
নায়ারকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তাঁর মা রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। আলী আমিন ও তাঁর মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। ১৭ অক্টোবর পুলিশ আলী আমিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে। গত বছরের নভেম্বরে আলী আমিন জামিনে ছাড়া পান এবং ৪ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন নায়ারের শ্বশুর আমিন আলী ও শাশুড়ি ইয়াসমিন আমিন।
নায়ারের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মামলার বাদী নায়ারের মা আদালতে হাজির হয়ে আলী আমিনের জামিন চেয়েছেন—এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে আলী আমিন জামিন নিয়েছেন। এই জামিন বাতিলে এরই মধ্যে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী বারবার সময়ের আবেদন করে কালক্ষেপণ করছেন। অন্যদিকে চার সপ্তাহের জামিন শেষ হয়ে গেলেও নায়ারের শ্বশুর-শাশুড়ি আদালতে হাজির হচ্ছেন না। এসব কারণে মামলা আর এগোচ্ছে না।
জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) উত্তম কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এখনো এই মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন করতে পারিনি। তবে যে অবস্থায় লাশটি পাওয়া গেছে, এতে এটা আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন করতে হলে প্রয়োজন আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ।’
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আলী আমিনকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। পরে আসামিকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করার নির্দেশ দেন আদালত। আসামি এ নিয়ে সিআইডিকে তিন দফা বক্তব্য দিয়েছেন। আসামি আলী আমিনের দাবি, নায়ার আত্মহত্যা করেছেন। আগে থেকেই তাঁর আত্মহত্যার প্রবণতা ছিল।
এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আসামির কাছে জানতে চাওয়া হয়, আত্মহত্যার প্রবণতা থাকলে এ ব্যাপারে কোনো চিকিৎসা করা হয়েছিল কি না? চিকিৎসা হয়ে থাকলে এর কাগজপত্র দিতে বলা হয়। কিন্তু আসামি এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজ দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে জানতে নায়ারের স্বামী আলী আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসলে বাদীপক্ষ আপনাদের ভুল তথ্য দিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছেন।

সূত্র প্রথম আলো

যরা সেইসব দিনরাত্রি এখনো পড়েন নি তাদের জন্যঃ

বইয়ের নামঃ এইসব দিনরাত্রি
লেখকঃ হুমায়ুন আহমেদ
সাইজঃ ৫৫ এমবি
ফরম্যাটঃ পিডিএফ

ডাউনলোড লিংক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *