সি.এন.জি অটোরিক্সা সমাচার… ডাকাতির অভিনব কায়দা!

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সাম্প্রতি সি.এন.জি চালিত যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি করেছে সরকার। বর্তমানে সি.এন.জি অটোরিক্সাগুলোতে প্রথম ২ কিমি ভাড়া ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি মিনিট ৭ টাকা ৬৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও সিগন্যাল-এ বা জ্যামে বসে থাকার জন্য প্রতি মিনিটে গুণতে হচ্ছে আতিরিক্ত ২টাকা।


গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সাম্প্রতি সি.এন.জি চালিত যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি করেছে সরকার। বর্তমানে সি.এন.জি অটোরিক্সাগুলোতে প্রথম ২ কিমি ভাড়া ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি মিনিট ৭ টাকা ৬৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও সিগন্যাল-এ বা জ্যামে বসে থাকার জন্য প্রতি মিনিটে গুণতে হচ্ছে আতিরিক্ত ২টাকা।

নতুন ভাড়ার এই বন্দোব্যস্ত কার কাছে কেমন লাগছে জানি না তবে আমি কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে বেশ খুশি! কারণ অফিসিয়াল কাজে প্রায়ই আমাকে তেজগাঁও থেকে কাকরাইল যেতে হয় সি.এন.জিতে। আগে দামাদামী করে ভাড়া ঠিক করতে হতো। নূন্যতম ১২০টাকা থেকে শুরু করে জ্যামের সম্ভাব্যতার ওপর ১৫০টাকা এমনকি ১৮০টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয়েছে।
আর এখন শুধু জানতে চাই কাকরাইল যাবে কিনা! এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা জ্যামে বসে থেকেও প্রায় ৪ কি.মি এই রাস্তায় আমার ১৪৪টাকার বেশি ভাড়া আসেনি! সর্বনিন্ম ৮০টাকাও এসেছে…
সেদিন ভোরে রামপুরা ব্রীজের গোড়া থেকে এক সি.এন’জি ঠিক করলাম তেজগাঁও এর জন্য। ভাড়া চাইলো ১২০টাকা! বললাম মিটারে যাব। জ্যাম-ট্যাম কিছু নেই তাই হাতিরঝিল হয়ে ১৩ মিনিটে নাবিস্কো মোড়ে এসে দেখি মিটারে এসেছে ৫২টাকা! ৬০ টাকা দিয়ে হাসি মুখে নেমে গেলাম! 😀

কাজেই বলা যায় নতুন নিয়মে বেশি নয় বরং আরো সাশ্রয়ী হয়েছে সি.এন.জি ভাড়া। আমি শুধু ভাবি তাহলে আগে ওরা কী ডাকাতিটাই না করতো যাত্রীদের সাথে! ফেসবুকে দেখলাম মিটারে না গেলে অভিযোগের জন্য তিনটা ফোন নাম্বারও দিয়ে দিয়েছে। যদিও আমার এখনও ওগুলোতে ফোন করতে হয়নি কারণ সব সি.এন.জিওয়ালাই মিটারে যেতে রাজি হয়েছে। এককথায় আইন এবার অনেক বেশি কড়াকড়ি ফলে কমেছে দুর্ভোগ।

এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু আইন যদি চলে ডালে ডালে তো দুষ্কৃতিকারীরা চলে পাতায় পাতায়! তারই নমূনা দেখছি গত কয়েকদিন ধরে। সর্বশেষ তিনবার একই ঘটনা ঘটলো আমার সাথে।
৪/৫দিন আগে তেজগাঁও থেকে কাকরাইল যাচ্ছি। মগবাজার গিয়ে সি.এন.জির স্টার্ট বন্ধ! আমাকে বসিয়ে রেখে এবং মিটারও চালু রেখে টানা ৭/৮ মিনিট খুট খাট করে ড্রাইভার বললঃ গাড়ি নষ্ট! অন্য গাড়িতে যান…
আমি দেখলাম ভাড়া এসেছে ৮৬ টাকা! যেটা স্টার্ট বন্ধ হবার আগেও ছিল ৭২! সে ১০০টাকা নোটের বিপরীতে আমাকে ১০টাকা ফেরত দিল! বাকি দেড় কি.মি. রাস্তা আমাকে যেতে হলো আরো ৫০টাকা দিয়ে। সময় এবং টাকা দুইটাই লস, ভোগান্তির কথা নাহয় বাদই দিলাম!
২দিন আগে একই ঘটনা ঘটলো আমার কলিগের সাথেও! একই যায়গায় একইভাবে গাড়ি নষ্ট এবং একই ভাবে বেশি ভাড়া নিয়ে অন্য গাড়িতে যেতে বলা!

গতকাল উত্তরা থেকে সি.এন.জি ভাড়া করেছি। বনানী ওভার পাস পর্যন্ত এসে ইচ্ছে করে ব্রীজের ওপরে না উঠে নিচ দিয়ে গেল গাড়িটা। ব্রীজের গোড়া থেকে ১০ গজ সামনে গিয়েই স্পীড ব্রেকার পার হয়ে গাড়ি বন্ধ! সুইচ দেয়, সেলফ ঘুরে না! শুরু হলো পেছনের ঢাকনা খুলে খুট খাট… আমার তাড়া ছিল, ছিল গতবারের তিক্ত অভিজ্ঞতাও… তাই ৩/৪ মিনিট দেখে নেমে পড়লাম।
ড্রাইভারও আমাকে নামতে দেখে বললঃ গাড়িটা মনে হয় সমস্যা… অন্য গাড়ি…
মিটারে তখন ১০৬। ভাংতি ১১০ টাকা দিয়ে বললামঃ এমন এক জায়গায় থামালেন, এখানে তো গাড়িও পাব না!
তারপর হাঁটা দিলাম এম.ই.এস এর দিকে। ৩০/৪০ কদম হাঁটার পর কেন যেন একটু সন্দেহ হলো… পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি সি.এন.জিটা নাই! নষ্ট গাড়ি এতো দ্রুত হাওয়া হয়ে গেল? ঠেলে নিয়ে গেলেও আরো বেশি সময় লাগার কথা! আর ঠিক হয়ে গেলে আমাকে পেছন থেকে ডাকার কথা। ক্যামনে কি!?

আমি জানি না এরকম ঘটনা আর কারও সাথে ঘটেছে কিনা! তবে আমি কিন্তু ঘটনাগুলোর মধ্যে একটা সূত্র খুঁজে পেয়েছি… সি.এন.জির নতুন ভাড়ায় ড্রাইভারদের বিরাট লস হয়ে গেছে। তারা আগের মত আর ডাকাতি করতে পারছে না। আবার বলতেও পারছে না “যাব না”; তাই বেঁছে নিয়েছে একটি অনন্য কুবুদ্ধি!

লক্ষ্য করুনঃ প্রথম ২ কি.মি. এর জন্য সে ভাড়া পাচ্ছে ৪০ টাকা অর্থাৎ ২০টাকা করে। কিন্তু পরবর্তী প্রতি কিলোতে ১২টাকা। তাই সে যেটা করছে- মগবাজার পর্যন্ত ৩ কি.মি. ভালোভাবে যাচ্ছে। এতে মূল ভাড়া আসছে ৫২টাকার মত। পাশাপাশি জ্যাম-সিগনাল মিলিয়ে আরো ২৫-৩০টাকা। গাড়িটা যদি ঠিক সিগন্যাল শেষ হয়ে যাবার পর নষ্ট হয় তাহলে বসে থাকা সময়টার পুরো ভাড়াই সে পাচ্ছে! পাশাপাশি গাড়ি “ঠিক করার চেষ্টা”(!) করতে গিয়ে আরো ৫/১০ মিনিট বাড়তি! সব মিলিয়ে এই ৩ কি.মি. তে সে ভাড়া আদায় করতে পারছে ৮০-৯০টাকা! অর্থাৎ কাকরাইল না গিয়েও সে পুরো ভাড়াটাই পেয়ে যাচ্ছে মগবাজারেই। উপরন্তু তার আরেক “দোস্ত” বাকি পথটুকু নিয়ে গিয়ে পাচ্ছে আরো ৫০/৬০ টাকা। চোরে চোরে মাস্তুত ভাই কিনা!
মানে হলো- আইনে যাহাই থাকুক আমার লাভ আমি ঠিকই উঠিয়ে ফেললাম!

আমার এই ধারনা শতভাগ সত্য এমন দাবী করছি না। কিন্তু ঠিক ২.৫-৩ কি.মি. যাবার পর বেঁছে বেঁছে জ্যামের জায়গাগুলো পার হবার পরেই কেন প্রতিবার সি.এন.জি নষ্ট হচ্ছে সেটাও তো ভেবে দেখা দরকার! স্রেফ কাকতালীয় বলে তো মনে হচ্ছে না। বিশেষ করে ভাড়া দেবার পর সেই নষ্ট গাড়িই যখন আবার চালু হয়ে চলে যাচ্ছে!

করণীয় কি এখনও জানি না। আপনাদের কিছু জানা থাকলে পরামর্শ দিন…

– সফিক এহসান
(৬ নভেম্বর ‘১৫)

Posted by সফিক এহসান on Thursday, November 5, 2015

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *