হাতছানি

ম্রাঝ রাতে ঘুমটা হঠাৎ করেই কেন জানি ভেংগে গেল। এর আগেও অনেকদিন এভাবেই ভেংগে গিয়েছিল কিন্তুু আজকেরমত না। আজ মনটা কেমন হয়ে গেল ঘুম ভেংগে যাওয়ার কারনে।
.
নাহ্ এমনতো হওয়ার কখা না, আজ এতো অস্থির কেন লাগছে শরীর ও মনটাতে। ক্যালেন্ডারের পাতায় চোঁখটা রেখেই চমকিয়ে উঠে গেলাম। সেখানে আজকের তারিখে লাল কলমের কালি দিয়ে গোল করে মার্ক করা লেখা ছিল “শুভ বিবাহ” বলে।
.
নুসরাতের সাথে প্রথম যেদিন দেখা হয়েছিল সেদিনও আজকের তারিখেই, তারপর তার সাথে চলে বন্ধুত্বের এক কঠিন সময়। সব কিছুই শেয়ার করা থেকে শুরু করে মনের ব্যাথা প্রকাশ করাও ছিল আমাদের দুজনের নিত্যদিনের কথাপকথন।
.

ম্রাঝ রাতে ঘুমটা হঠাৎ করেই কেন জানি ভেংগে গেল। এর আগেও অনেকদিন এভাবেই ভেংগে গিয়েছিল কিন্তুু আজকেরমত না। আজ মনটা কেমন হয়ে গেল ঘুম ভেংগে যাওয়ার কারনে।
.
নাহ্ এমনতো হওয়ার কখা না, আজ এতো অস্থির কেন লাগছে শরীর ও মনটাতে। ক্যালেন্ডারের পাতায় চোঁখটা রেখেই চমকিয়ে উঠে গেলাম। সেখানে আজকের তারিখে লাল কলমের কালি দিয়ে গোল করে মার্ক করা লেখা ছিল “শুভ বিবাহ” বলে।
.
নুসরাতের সাথে প্রথম যেদিন দেখা হয়েছিল সেদিনও আজকের তারিখেই, তারপর তার সাথে চলে বন্ধুত্বের এক কঠিন সময়। সব কিছুই শেয়ার করা থেকে শুরু করে মনের ব্যাথা প্রকাশ করাও ছিল আমাদের দুজনের নিত্যদিনের কথাপকথন।
.
ক্লাশ শেষে এক রিক্সায় উঠে কিছুক্ষণ দুজনে ঘুরে আড্ডা দিয়ে গল্প করে তাকে বাড়ীতে পৌঁছে দিয়ে আমার বাড়ী চলে আসতাম। এভাবেই বন্ধুত চলে একটি বছর। তারপর কিছুদিন তার অনুপস্থিতে বুঝতে পারি আমি তার মোটেও বদ্ধু নই, আমি তার প্রেমে পড়ে গিয়েছি।
.
কিন্তুু আমার মন কিছুতেই নুসরাতকে আমার মনেরকথা বলতে চাচ্ছিল না। আমি আমার ভাব ভংগি কিছুটা প্রেমের দিকে নিয়ে গেলাম, নুসরাত সহজেই বুঝতে পেরেছিল আমার মন কি চায়। অতঃপর হয়েই গেল দুজনের প্রেম। সেই দিনটিও ছিল আজকের তারিখের, সেটেও ক্যালেন্ডারে মার্ক করতে ভুলি নি।
.
প্রেম চলতেছিল খুব সন্দর করেই, একদম নিখুঁত প্রেম। মনে হয় সর্গ থেকেই আমরা দুজন দুজনার হয়ে চলে এসেছি এবং চিরজীবন থাকবো ।
.
ফুসকা খাওয়ার প্রবণ আর হাতে হাত রেখে পথ চলার নেশাটাও ছিল না কম, নুসরাত একটু ভাবুক আর লজ্জাবতী মেয়ে হওয়ায় আমার ভালবাসার কথা কিছুটা অপূর্ণ থেকে যেতে। বিয়ের পর বাকী জীবন কি করবো আর কেমন ভালবাসার হবে সেগুলি আমি প্রথমে বলতাম তারপর শুরু হতো বাকী কথা।
.
নুসরাতকে একদিন বললাম আচ্ছা আমরা বিয়ে করবো কবে…..?
.
নুসরাত উত্তর দিলো ঐ তারিখেই, যে তারিখটা আমাদের দুজনের স্বরণীয় হয়ে আছে। যে তারিখটা তুমি মার্ক করে রাখেছিলে সব সময়………….. আর হ্যাঁ তুমি কিন্তুু জীবনে আর একটি ক্যালেন্ডার পাতায় এই তারিখে মার্ক করে রাখতে পারবা। আর কোন দিন পারবে না মার্ক করতে, শেষ মার্ক টা সামনেই করতে যাচ্ছো কিন্তুু……….
.
আমি নুসরাতকে বললাম শেষ মার্কটা কিসের জন্য করবো….?
.
উত্তরে বলে দিল……… সেদিন সব চেয়ে তোমার জীবনে বড় আনন্দের দিন, সেদিনটিকেই তুমি সব সময় মনে রাখবা। সেদিনটিতেই আমাকে কাছে পাবে তোমার পাশে।.
.
……… সেদিনের মত আমি খুশি মনে নুসরাতের কাছ থেকে হাসি মুখে চলে এলাম, আমি জানি নুসরাত আমাকে সেই তারিখে বিয়ে করতে চলছে। সেই কারনে খুশিতে দিনটিতে গোল মার্ক করে “শুভ বিবাহ” লিখে দিলাম। আর দিন গুনতে শুরু করেছিলাম।
.
………….. সেদিন মাঝ রাতে একটি ফোন চলে আসলো আমার ফোনে, পরিচিত নাম্বার ছিল। নিসরাতের চাচাতো বোনের নাম্বার সেটা। রিসিভ করতেই কান্নাঁ কন্ঠে একটা কথা বলে দিল…………
.
নুসরাত নেই, সে পরপারে চলে গেছে স্ট্রক হয়ে হাসপাতালে মারা গিয়েছে মনির ভাইয়া…..তুমি দেখতে আসো তারাতারি ।
.
সেদিনের পর থেকে আমি তেমন কিছু কথা বলতে পারি না, শুধু দু চোঁখ দিয়ে দেখি আর নীরব থাকতে পছন্দ করি। আমার মস্তিস্ক আর আগের মত ছিল না। নুসরাত এভাবে চলে যাওয়ায় আমি সহ্য করতে পারি নি…..!!!.
.
………… সত্যি আজ সেই মার্ক করা দিনটিও ছিল, কিন্তুু আমার মনে ছিল না। আজকের দিনটিতে আমার আর নুসরাতের বিয়ে হয়ে যেতো………………. স্বরনালী অতীত তখনেই আমার মনে পড়ে গেল।
.
জানালা দিকে তাকিয়ে দেখি রাতের পূর্ণিমাতিথির আলো আমার ঘরে প্রবেশ করেছে। একটু চাদের আলোকে হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখলাম। ভালবাসার পরশ আর চাদের হাসি দেখতে ছাদে গিয়ে দাড়িয়ে চাদটার দিকে অবাক দৃষ্টিতে দেখতে লাগলা……………………………….
.
…………………………………. আজও চাদের গায়ে থেকে সাদা জামা গায়ে দিয়ে সাদা কাপড়ে ঘোমটা দিয়ে আমার দিকে দুহাত বাড়িয়ে দিয়ে আমায় ডাকছে সেই আগের মতই করে……..
.
কাছে এসো…………. আমার কাছে এসো……….
– Shaidur Rahman Siddik

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *