হেফাজতের ১৩ দাবি-সরকারের ১৩ ব্যাখ্যা

হেফাজত ইসলামের ১৩ দফা দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের দাবির বিষয়ে সাংবিধানিক ও আইনগত ব্যাখ্যা দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে হেফাজতের দাবিগুলোর আইনগত ব্যাখ্যা চেয়ে আইনমন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। পরে বুধবার আইনমন্ত্রণালয় প্রতিটি দাবির বিপরীতে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাখ্যা বিভিন্ন দুতাবাস , মিশন ও কূটনৈতিকদের কাছে তুলে ধরা হবে। সরকারি একটি সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

হেফাজত ইসলামের পাঁচটি দাবি সংবিধানের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কিছু দাবি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন সম্ভব। এছাড়া একাধিক দাবি বিদ্যমান আইনেই বাস্তবায়ন সম্ভব। এক্ষত্রে নতুন কোন আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হবে না বলে সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে।

হেফাজত ইসলামের দাবি ও সরকারের ব্যাখ্যা

১। হেফাজতে ইসলামের প্রথম দফায় সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুন:স্থাপন এবং কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী সব আইন বাতিলের কথা বলা হয়েছে।

সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সংবিধান প্রস্তবনার দ্বিতীয় দফায় সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের কথা রয়েছে। তা ছাড়া কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন বাংলাদেশে বিদ্যমান নেই। কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাও নেই সরকারের। বাংলাদেশের সকল ধর্মাবলম্বী নাগরিক নিজ নিজ ধর্মের জন্য বিদ্যমান ব্যক্তিগত আইন অনুসরণ করে থাকেন।এছাড়া সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ প্রণয়নকালে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভুতিকে সর্বোচ্চ সম্মানের স্থানে রেখে সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতেই ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ এবং অনুচ্ছেদ ২ক- এ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানে সংরক্ষণ করায় মূলতঃ আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানে সংরক্ষিত রয়েছে। তাই হেফাজতে ইসলামের প্রথম দাবীটি সংবিধানের মূল নীতির পরিপন্থি হওয়ায় তা পূরণের সাংবিধানিক আবশ্যকতা নেই।

২। হেফাজতে ইসলামের দ্বিতীয় দফায় রাসুল (সা:) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে সংসদে আইন পাসের কথা বলা হয়েছে।

সরকারের ব্যাখায় বলা হয়েছে, দন্ড বিধির ২৯৫এ ধারা অনুসারে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া দন্ডনীয় অপরাধ। দন্ডবিধির ২৯৫ এ ধারাটিতে বলা হয়েছে, বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশের যেকোন শ্রেনীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানলে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে তাদের শাস্তি হবে ২ বছরের কারাদন্ড বা জারিমানা। এমনকি উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন তারা। তাছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ধর্মের প্রতি অবমাননাকর কোন অপরাধ করলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এর ৫৭ ধারা অনুসারে শাস্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী, (১) কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংস্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার মাধ্যমে মানহানি ঘটে, আইন শৃংখলার অবনতি হয় বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তা হলে তার এই কার্য হবে একটি অপরাধ। ২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করলে তিনি অনধিক দশ বছর কারা্দন্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন। হফাজতে ইসলামের দাবী মতে ২/১ টি মুসলিম রাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্রেই বিষয়টির উপর মৃত্যুদন্ড দেওয়ার বিধান নেই। এই অবস্থায় হেফাজতে ইসলামের দুই নম্বর দাবিটি সম্পর্কে দেশের বিদ্যমান আইন বর্তমান পর্যায়ে যথেষ্ঠ উপযোগী বলে মৃত্যুদন্ডে বিধান করে আইন প্রনয়নের কোন আবশ্যকতা নেই।

৩।কথিত শাহবাগি আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ এবং প্রিয় নবী (সা:)-এর শানে জঘন্য কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলাম বিদ্বেষিদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তির দাবি করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের তৃতীয় দফায়।

সরকারের মতামত, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যারা শাহবাগ চত্ত্বরে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটনকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী করে আসছে তারা ধর্মদ্রোহী বা ধর্ম অবমাননাকারী নয় বলে শুরু থেকেই তারা দৃঢ়ভাবে দাবী করে আসছে। শাহবাগ প্রজম্ম চত্ত্বরে নেতৃত্বদানকারী এবং অংশগ্রহণকারী যুব সমাজ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে বহুবার উচ্চারন করেছেন, তারা কোন সময়ই আল্লাহ, হযরত মোহাম্মদ (স:), ইসলাম ধর্ম কিংবা অন্য কোন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মানুভতিতে আঘাত করে কোন বক্তব্য দেননি। এ বিষয়ে কোন কার্যত্রক্রমও গ্রহণ করেননি। এতদস্বত্ত্বেও ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স:) সম্পর্কে কিছু অনাকাখিত বক্তব্য সরকারের দৃষ্ঠিগোচর হওয়ায় প্রধানমন্ত্রির নির্দেশে সনশলিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ৯ সদস্য বিশষ্ট উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যেই সন্দেহভাজন ৪ জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যত্রক্রম চলবে। কোন ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে সুপরিকল্পিততভাবে অন্যের উপর দোষ চাপানোর লক্ষ্যে এ ধরণের ষড়যন্ত্র করছে কিনা সে বিষয়েও সরকারের তদন্ত কার্যক্রম চলবে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য প্রমান পাওয়া যাবে তাদেরকে প্রচলিত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

৪। ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্জলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করার কথা হেফাজত ইসলামের চতুর্থ দাবিতে বলা হয়েছে।

সরকারের ব্যাখ্যা হলো-– ব্যভিচার দন্ডবিধির ৪৯৭ ধারা অনুসারে দন্ডনীয় অপরাধ। দন্ডবিধির ৪৯৭ ধারাটি ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতা এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অবাধ বিচরণ সংবিধানের স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। উক্ত অধিকার ক্ষুন্ন করে কোন বিধান প্রণয়ন করা হলে উহা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬ পরিপন্থি হবে বিধায় অনুচ্ছেদ ৭ ও ২৬ অনুযায়ী উক্ত বিধান বাতিল হবে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অবাধ বিচরণ নিষি™ব্দ করা হলে সরকারী বেসরকারী কর্মস্থানসহ জাতীয় উন্নয়নের চাবি কাঠি গার্মেন্টস্ সেক্টরে নিয়োজিত লক্ষ লক্ষ নারী কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়বে যা জাতীয় অর্থনীতি ও উন্নয়নকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। এছাড়াও এ দাবী পূরণ করা হলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করতে হবে। ফলে নারীর ক্ষমতায়ন বিগ্নিত হবে, যা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থি।

৫। পঞ্চম দাবিতে বলা হয়েছে, ইসলামবিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা।

সরকারের ব্যাখ্যা হলো– প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যসূচীতে মুসলমানদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য তাদের নিজ নিজ ধর্ম শিক্ষার ব্যবস্থা বিদ্যমান। ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলে তা সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের লংঘনের সামিল। সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তাছাড়া সংবিধানের বিধান এবং জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রনীত নারীনীতি ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী না হওয়ায় এবং জাতীয় শিক্ষা নীতিতে ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকায় উক্ত নারী নীতি ও শিক্ষা নীতি বাতিলের কারণ ও সুযোগ নেই।

৬। হেফাজত ইসলামের ৬ষ্ঠ দফায় বলা হয়েছে সরকারীভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষনা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতৎপরতা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে ।

সরকারের ব্যাখ্যা হলো– সংবিধানের ২৮ এবং ৪১ নং অনুচ্ছেদ নাগরিকদের ধর্ম চর্চার সমতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। উক্ত অনুচ্ছেদের লংঘন করে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষনা এবং তাদের প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে তারা মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন। সংবিধানের উক্ত বিধান অনুযায়ী কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষনার কোন সাংবিধানিক সুযোগ নেই।

৭। হেফাজত ইসলঅমের সাত দফা দাবিতে বলা হয়েছে, মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাষ্ট্রের মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাষ্কর্যের নামে মুর্তি স্থাপন বন্ধ করা।

সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সরকার জাতীয় সংস্কৃতি ও শিল্পকলা সমূহের পরিপোষণ এবং উন্নয়নের ব্যাবস্থা গ্রহণ করিবেন। রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্কপ্পকলাসমূহের এমন পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন, যাহাতে সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধ অবদান রাখিবার ও অংশগ্রহণ করিবার সুযোগ লাভ করিতে পারেন। তাছাড়া সংবিধানের ২৪ অনুচ্ছেদ জাতীয় সংস্কৃতির নিদর্শন সমূহ সংরক্ষনের জন্য রাষ্ট্র ক্ষমতা প্রদান করেছে। ২৪ অনুচ্ছেদটি নিম্নরূঃ- ‘বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বপুর্ন বা তাৎপর্যমন্ডিত সংস্কৃতি নিদর্শন, বস্তু, বা স্থান-সমুহকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ হইতে রক্ষা করিবার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। সংবিধানের উক্ত বিধান অনুসারে বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বপুর্ন বা তাৎপর্যমন্ডিত সংস্কৃতিনিদর্শন, বস্তু, স্থানসমুহকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ করার সাংবিধানিক ও আইনগত কোন সুযোগ নেই। এছাড়া, জাতিসংঘের কালচারাল হেরিটেজ সংক্রান্ত বিভিন্ন কনভেনশন এবং ইউনেসকোর কার্যত্রক্রমের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের প্রস্তাব গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল থেকে নিজেকে বিছিন্ন করতে পারে না।

৮। হেফাজত ইসলামের অষ্টম দাবিতে বলা হয়েছে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধাবিপত্তি ও প্রতিবলন্ধকতা অপসারণ এবং ওয়াজ নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধাদান বন্ধ করা।

সরকারের ব্যাখ্যা হলো– সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রের সকল নাগরিককে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের সুযোগ প্রদান করেছে। সরকার নাগরিকদের এই সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি সচেতন। সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে বিশ্বাস করে না। তবে সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের কতিপয় সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন মুসল্লী বেশে জাতীয় মসজিদ বায়তুলমোকাররম-এ প্রবেশ করে উক্ত মসজিদের সম্মানিত খতিবকে জুম্মার নামাজে ইমামতি করা হতে বিরত থাকতে জোরপুর্বক বাধ্য করায় এবং মসজিদের ভিতরে জায়নামাজে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় জাতীয় মসজিদ ও আপামর ধর্মপ্রান মুসল্লির নিরাপত্তার সার্থে মসজিদ প্রশাসন এবং আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু শৃংখলামুলক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ধর্মপ্রান মুসল্লিগণ নির্বঘ্নে উক্ত মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ধর্মীয় কার্যকলাপে অংশ গ্রহণ করছেন।

৯। হেফাজত ইসলামের নবম দাবিতে বলা হয়েছে, রেডিও টেলিভশন সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামি কৃষ্টি -কালচার নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস-পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমুলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করা।

রকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নাটক-সিনেমায় সাধারণত সামাজিক ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির প্রতিফলন ঘটানো হয়। সেখানে ইতিবাচক-নেতিবাচক উভয় ধরনের চরিত্রই প্রদর্শণ করা হয়। ইচ্ছাকৃত ভাবে নাটক-সিনেমায় ধর্মের প্রতি অবমাননাকর কোন কিছু প্রচার করা হলে তা প্রচলিত আইনেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। (দন্ডবিধি ধারা ২৯৫ এ)

১০। তাদের দশ দফা দাবিতে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত এনজিও এবং খ্রিষ্টান মিশনারিগুলোর ধর্মন্তরকরণসহ সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।

সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনসহ ধর্ম প্রচারেরও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। খ্রিষ্টান মিশনারীদের ধর্ম প্রচারের কাজ বন্ধ করা সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের লংঘন হবে। কোন এনজিও বা মিশনারী কোন ধর্মের প্রতি অবমাননাকর কোন কর্মকান্ড করলে তা প্রচলিত আইনেই বিচারযোগ্য।

১১। এগার দফা দাবিতে বলা হয়েছে রাসুল প্রেমিক প্রতিবাদী আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র ও তৌহিদি জনতার ওপর হামলা, দমন-পীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং গণহত্যা বন্ধ করা।

সরকারের ব্যাখ্যা হলো, রাসুল প্রেমি তৌহিদি জনতার ওপর হামলা, দমন-পীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং গণহত্যার মত কোন ঘটনা বাংলাদেশে সংঘটিত হয়নি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সমাজে শান্তি শৃংখলা বজার রেখে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকার সে প্রচেষ্টায় গ্রহণ করেছে।

১২। বার দফা দাবিতে বলাহয়েছে, সারা দেশের কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ ও মসজিদের ইমাম-খতিবকে হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি দানসহ তাঁদের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করা।

সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দেশের কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ ও মসজিদের ইমাম-খতিবকে হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত কোন প্রকার ঘটনা সংঘটিত হয়নি। হেফাজতে ইসলাম এর পক্ষ হতে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ উথাপন করা হলে সে সম্পর্কে আইনানুগ ব্যবস্থ গ্রহণ করতে সরকার সংশ্লিষ্ট আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে। এছাড়াও সংক্ষুব্ধ যে কোন ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে আশ্রয় গ্রহণের অধিকারী।

১৩। সর্বশেষ দাবিতে বলা হয়েছে, অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত সব আলেম-ওলামা মাদ্রাসাছাত্র ও তৌহিদি জনতাকে মুক্তিদান, দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আহত ও নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপুরণসহ দুষ্কৃতিকারীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, রাসুল প্রেমি, তৌহিদি জনতার ওপর হামলা, দমন-পীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং গণহত্যার মত কোন ঘটনা বাংলাদেশে সংঘটিত হয়নি। যে সকল ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে নাশকতা সৃষ্টি করেছে এবং উক্ত অপরাধ সংঘটনের উস্কানিদাতা ও হুকুমদাতা হিসেবে যে সকল অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দেশে প্রচলিত আইনের আওতায় এনে বিচারে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা কেউই হেফাজতে ইসলাম এর দাবী অনুযায়ী আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র ও তৌহিদি জনতা নয়।

২১ thoughts on “হেফাজতের ১৩ দাবি-সরকারের ১৩ ব্যাখ্যা

  1. ভালো… সরকার বিশাল কাম কইরা
    ভালো… সরকার বিশাল কাম কইরা ফেলছে। হেফাজতিদের সংবিধান গুলিয়ে খাওয়ায়ে দিলেও নিরেট মস্তিস্কে কিছু ঢুকবে বলে কি মনে হয়? বরং সংবিধান পরিপন্থি এসব দাবী তোলার জন্য এই সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। সভ্য কোন দেশ হলে হেফাজতের নেতারা এতক্ষন জেলের ভাত খাইত। আর এই দেশে খাইতেছে বিরিয়ানি।

  2. চুতিয়াদের প্রায় সবগুলা দাবি
    চুতিয়াদের প্রায় সবগুলা দাবি সংবিধান পরিপন্থি হওয়ায় এবং মিথ্যাচারের মাধ্যমে ধর্ম বিদ্বেষ তৈরী করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়ে অবিলম্বে কতিপয় ব্যক্তি গং দের গরম শিক থেরাপি প্রদানের দাবি জানাই।

  3. দেখেন আমার মতে হেফাজতে
    দেখেন আমার মতে হেফাজতে ইসলামের নেতারা সংবিধান সম্পর্কে কতটুকু বুজবে ? তারা এখনও সেই মধ্যযুগীয় কায়দায় থেকে গেছে। যদিও অবশ্যই ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। এরপরেও প্রতিনিয়তই যুগের হাওয়া বদলাচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে এটা সত্যি। বাংলাদেশের ৯০% মানুষ মুসলমান। সেখানে কিভাবে তার ধর্ম গেল ধর্ম গেল বলতে পারে বুঝিনা। বিষয়টা এমনই মনে হচ্ছে ধর্ম বাচাইতে দুধের শিশুকেও কোরবানীর উদ্দেশ্যে খঞ্জরের নিচে সোয়াইতে দ্বিধাবোধ করবে না। চলে আসা এতদিন তারা মুখ বুঝে থাকলো আর যেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া শুরু করল তখন তাদের ধর্ম গেল ধর্ম গেল বলা আরম্ভ হলো।

    তবে যাই হোক সব কিছু নিয়ে যে একটা খেলা চলছে সেটা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না তেমন।

  4. হেফচুতিয়ারা ভালো করেই জানে
    হেফচুতিয়ারা ভালো করেই জানে সংবিধান সম্পর্কে। এইজন্যই তো এদের এতো গা জ্বালা। তাদের শয়নে স্বপনে তো পাকিস্তান আর আফগানিস্তান।
    জোনো কালেই এদেশ তাদের ছাড় দেয়নি দেবেও না।

  5. আমি বিশ্বাস করি, এই ১৩ দফা
    আমি বিশ্বাস করি, এই ১৩ দফা হেফাজতীদের নয়! দাবীগুলো মউদুদীবাদী জামাতীদের। তারা সরাসরি না বলে হেফাজতিদের মাধ্যমে বলছে আর কি! জামাতিরা বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দাবীগুলো করার সাথে সাথে বাংলার মানুষ ঝেটিয়ে বিদায় করবে, তাই তারা ষড়যন্ত্রের আশ্রয় গ্রহণ করেছে… বিষয়টা বুঝতে হবে…

  6. হেফাজতিদের এই ১৩ দফা
    হেফাজতিদের এই ১৩ দফা বাংলাদেশের একজন খেটে খাওয়া মানুষও কখনই মেনে নিতে পারবেনা। আর ধর্মের বড়ি গিলানো মোল্লাদেরকে সফি হুজুর আর দাঁদ সাঈদী যা বলবে তাই আল্লার নির্দেশ বলে মেনে নেবে অশিক্ষিত কুংস্কারে আচ্ছন্ন ধর্মীয় মাদ্রাসা আবালগুলা।

    তারপরও সরকারের সংববিধানের আলোকে উপলব্দির জন্য ধন্যবাদ। পোস্টদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

  7. অপেক্ষায় থাকছি যে এই ঘটনাকে
    অপেক্ষায় থাকছি যে এই ঘটনাকে ইস্যু করে কবে হেপাযুত ই জামায়াত আবারো একটা নতুন কর্মসূচী দিবে,দেশের মৌলবাদকে আবার একটু ঝাঁকুনি দিবে,শাপলা চত্তরে বসে পাকিস্তানের,আফগানিস্তানের স্বপ্ন দেখবে !!

    পোস্টটি দেবার জন্য পোস্টদাতাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  8. সরকারের বক্তব্য তুলে ধরাতে
    সরকারের বক্তব্য তুলে ধরাতে আরো পাকাপোক্ত হলো হেফাজতের ১৩ দফার দশা কি হতে পারে।
    তবে এটা নিশ্চিত যদি ১৮ দল ক্ষমতায় আসে তাহলে এগুলো বাস্তবায়ন হতে খুব একটা সময় লাগবে না।

    1. ফেসবুকের মত লাইক অপশন’টি না
      ফেসবুকের মত লাইক অপশন’টি না থাকায় আপনার মন্তব্য’টিতে লাইক দিতে পারলাম না :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ:

  9. হেফাজতিরা সরকারকে এবং
    হেফাজতিরা সরকারকে এবং ব্লগারদেরকে নাস্তিক বলবে, আর সরকার এবং আমরা নাস্তিক নই এর ব্যাখ্যা দিতে ব্যস্ত থাকবো এসুযোগে তারা (হেফাজতি জামাতিরা) নতুন করে আর একটি গুজব ছড়িয়ে তান্ডব আরম্ভ করবে ! আর আমরা শুধু দুঃখ প্রকাশ সহমর্মিতা ইত্যাদি করে যাব…

  10. হেপাঝথি’দের ১৩ টা বেড
    হেপাঝথি’দের ১৩ টা বেড ডেলিভারি’তে সরকারের বল টু বল “সুপার স্ট্রোক”
    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:
    কিন্তু হেপাঝথি’দের মাথায় কিছু ঢুকবে বলে মনে হয়না । “হেপাঝথি’রা”– :মাথানষ্ট:

    1. সবাই সরকার দুই নৌকায় পা দিয়ে
      সবাই সরকার দুই নৌকায় পা দিয়ে মাইনকার চিপায় পড়েছে। এখন দেখতেছি সরকার যে নৌকা সামনে পাচ্ছে সেটাতেই পা দিচ্ছে।

  11. সবাই হেফাজতের দাবী গুলারে খুব
    সবাই হেফাজতের দাবী গুলারে খুব গুরুত্ত দিতেছে। এখানেই জামাত শিবির হেফাজতের সার্থকতা। তারা এটাই চেয়েছিল। তারা সবার নজর ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিল। তারা অনেকটাই সফল এ ব্যপারে। তারা নিজেরাও কখনো আশা করেনা যে এসব ফালতু দাবী পূরণ হবে। দাবী পূরণ করা তাদের উদ্দেশ্য ও নয়। তাদের উদ্দেশ্য যুদ্ধাপরাধী দের বিচার থেকে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়া। এটা পানির মতো পরিস্কার। তাদের সব দাবীর সারাংশ হল তারা রাজাকারের মুক্তি চায়। এই মুহূর্তে যদি রাজাকার দের ছেড়ে দেওয়া হয়, সাথে সাথে তাদের আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *