তবুও গ্রামে যাবে …… চাপাতি কি পারবে থামাতে গ্রামে যাওয়া?

রাত সাড়ে ১১টায় বাস থেকে আরিফ নেমে বাড়ির পথের ভ্যানে উঠে। ঈদের সময় তাই এটা এখন কোন রাতই না গ্রামে। ঢাকা থেকে গাড়ি গুলো এই সময় থেকেই আসা শুরু করে।
ওদের বাসার সবাই চলে গেছে তিনটে গ্রাম দুরে মামার বাড়ি। আজকে সেখানে যেতে ইচ্ছে করছে না। নিজেদের বাসায় আজকে রাত কাটিয়ে কাল সকালে ঈদের নামাজের পরে দিয়ে মামাবাড়িতে চলে যাবে আরিফ।

রাত সাড়ে ১১টায় বাস থেকে আরিফ নেমে বাড়ির পথের ভ্যানে উঠে। ঈদের সময় তাই এটা এখন কোন রাতই না গ্রামে। ঢাকা থেকে গাড়ি গুলো এই সময় থেকেই আসা শুরু করে।
ওদের বাসার সবাই চলে গেছে তিনটে গ্রাম দুরে মামার বাড়ি। আজকে সেখানে যেতে ইচ্ছে করছে না। নিজেদের বাসায় আজকে রাত কাটিয়ে কাল সকালে ঈদের নামাজের পরে দিয়ে মামাবাড়িতে চলে যাবে আরিফ।
আধাঘন্টার মধ্যে বাসায় এসে পৌছেছে। পাড়ার বাল্যবন্ধু সালামকে ফোন দিতেই সে দোকানে কর্মচারী রেখে চলে এসেছে আরিফদের বাসায়। আজ একসাথে থাকবে ওরা। দুজনে রউফ মুন্সির হোটেলে জম্পেশ খেয়েদেয়ে দোকানের দিকে হাটা দেয়। সালাম ২ বছর আগে বিয়ে করেছে। ওর একটা মেয়ে শিশু হয়েছে। মেয়েটা বুড়োদের মত করে কথা বলে সে গল্পই করছে পথে পথে। সারারাত দুইজনে দোকানদারি করে ভোর ৪ টায় আরিফদের বাসায় আসে। ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বেলা ১২ টায় ঘুম থেকে উঠে আরিফ ফেসবুকের নোটিফিকেশন চেক করতে করতে ব্রাশ করছে। স্নান সেড়ে সালামদের বাসায় পৌছে যায়। ঈদের সকালে সেমাই খাওয়ার রীতি থাকলেও এখানে লোকজন নুডুলস রান্না করে থাকে। নুডুলস খেয়ে বাইরে বেরিয়ে চা সিগারেট শেষ করে সালামের থেকে বিদায় নিয়ে আরিফ মামাবাড়ির পথ ধরে। বিকেল ছুইছুই এমন সময় সে মামাবাড়িতে পৌছায়। লাঞ্চটা সেড়ে নেয়। বিছানায় গড়াগড়ি খায় , আত্নীয়স্বজন আসে কুশলাদি বিনিময় হয়। সিগারেট নিতে বাইরে বেরোয় খানিক বাদে।
একটা সিগারেট নিয়ে একটু দুরে গলির মধ্যে দাড়িয়ে টানছে আর ফেসবুকের পাতায় চোখ বুলাচ্ছে। হটাৎ গলিত হেলান দিয়ে দাড়ানো ওয়ালটায় দুইটা ছায়া দেখতে পায় সে। ততক্ষনাত পেছনে তাকায়। স্কুল জীবনের বন্ধু সেকান্দার একটা গাছকাটা দা হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। চোখাচোখি হওয়া মাত্রই সেকান্দার কোপ দিতে সচেষ্ট হয়। একহাত দিয়ে ঠেকায় প্রথম কোপটা আরিফ। মোবাইল ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে। দা টা আরিফ.জোড়াজুড়ি করে নিজের হাতে নিয়ে ঝেড়ে দৌড় দেয়। রাস্তায় হোটেল ব্যবসায়ী ও আরেক স্কুল বন্ধু ওর সবুজ ওর দেখাদেখি পেছনে দৌড় দেয় ঘটনা কিছু না বুঝেই। খালপাড়ে ব্রীজের উপড়ে এসে দাড়ায় এরমধ্যে সেকান্দার দৌড়ে আসছে।
-খা**র পোলারে আজকা মাইরাই ফালামু। শুয়ারের বাচ্চা নাস্তিকতা চোদ*য়! কত্তবড় সাহস ফেসবুকে আল্লা -নবির সমালোচনা করে।

সবুজ পেছন থেকে পিছমোরা করে সেকান্দারকে ধরে আছে। আরিফ কে বলছে তুই পালা। এখান থেকে চলে যা।
একটা অটোরিক্সা পেয়ে যায় উঠে পড়ে সে।
দা টা ফেলে দিয়ে চলে যায় নিজের বাসায়।
হাতটা সামান্য কেটে যাওয়ায় সেখান থেকে রক্ত ঝড়ছে।
পথে অটোড্রাইভার জিজ্ঞেস করলে আরিফ উত্তর দেয় নিজেদের মধ্যে কোন্দল নিয়ে সামান্য ঝগড়া হয়েছে। নাস্তিক হবার জন্য ওকে ওর বন্ধু চাপাতি নিয়ে কোপাতে চেয়েছে এটা সে বলতে পারেনা। কারণ , তাহলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে , এই ভেবে সে ব্যাপারটা চেপে যায়।
পরের দিন স্থানীয় আর এক প্রভাবশালী তরুন নেতা সোহেলের কাছে ঘটনা খুলে বলায় সেকান্দার কে ডেকে আনা হয়।
কোপানোর কারণ জিজ্ঞেস করলে সেকান্দার উত্তর দেয় সে সালামের কাছে শুনেছে আরিফ নাকি নাস্তিক হয়ে গেছে। সে নাকি নবির সমালোচনা করে। নবিকে নাকি শিশুকামী বলে।
সোহেল আরিফ কে জিজ্ঞাসা করলে আরিফ বলে কেউ যদি ৬বছরের কন্যাশিশুকে বিয়ে করে ৯ বছরের সময় তার সাথে সঙ্গম করে তবে তাকে শিশুকামী বলা যায় নাকি?
সাথে আরিফ বুখারি শরীফ থেকে হাদিসটা দেখায় সোহেলকে।
অবস্থা সুবিধেজনক মনে না হওয়ায় সোহেল আরিফ কে বলে দেয়। গ্রামে আসছে ভালো কথা তবে ধর্ম নিয়ে যেন কোন আলোচনা না হয়। গ্রামের মানুষ কেমন সেটা সবাই জানে। এরা ধর্মান্ধতার চরমে বসবাস করে।
সেকান্দার কে সরি বলতে বলায় সেকান্দার সরি বলে। কিন্তু ক্ষোভ যায়না তখনও!
আরিফ ভেবে পায়না সালাম কেন সেকান্দারকে ব্যবহার করলো কোপানোর জন্য?
তবে একেই কি বলে ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *