লাভেরিওসিস

“যে যাহাকে ভালবাসে সে তাহাকে পায় না”-বলেছিলেন মানিক বন্ধোপ্যাধয় তার “পদ্মানদীর মাঝি” উপন্যাসে। কিন্তু তার উপন্যাসের নায়ক কুবের গল্প শেষে মালাকে পেয়ে গেল। কেনই বা তিনি (লেখক)তার উপন্যাসের প্রথমে এমন কথা লিখে শেষে দুজনের মিল করিয়ে দিলেন তা আমার জানা নেই। কিন্তু আমি একটা কথা বলতে পারি এবং এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত যে-“যে যাহাকে মন থেকে সত্যি সত্যিই ভালবাসে সে তাহাকে পায় না”। আমি “পদ্মানদীর মাঝিকে” কোন ভাবেই ভূল প্রমান করার চেষ্টা করছি না, আমি শুধু আমার মতামত প্রকাশ করছি মাত্র। কথাটা লিখলাম এই কারনে যে, এখন এই যুগে কিছু ছেলে-মেয়ে এই লাভেরিয়াতে সাফার করছে। তবে এটাতে মেয়েরা কম সাফার করে, ছেলেরা ভুক্তভোগি বেশি কারন তারা একটু বেশি ইমোশোনাল কিনা তাই। মেয়েরা আবার মাইন্ড করতে পারেন,কিন্তু মাইন্ড কইরেন না। একটা ছেলে একটা মেয়েকে ভালবাসতে পারে, এটা জানা সত্বেও যে সেই মেয়েটা অন্য একটা ছেলেকে ভালবাসে। কিন্তু একটা মেয়ে তা পারেনা। যেহেতু তারা এটা পারেন না সেহেতু তারা আমার উপরের কথার জন্য রাগ করবেন না। আমার মনে হয় ও প্রকৃত ছেলে যে এমনটা করতে পারে। “কুসুম কুমারী দাশ” তার কবিতায় বলেছেন -“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে? যে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।” সেখান থেকে আমরা আদর্শ ছেলের সংগা পেয়ে যায়। ” কথায় না বড় হয়ে যে কাজে বড় হবে সেই আদর্শ ছেলে আর যে তাকে পাবে না জেনেও ভালবাসে সে প্রকৃত ছেলে।” এখন প্রকৃত আর আদর্শ ছেলের মধ্যে পার্থক্য আপনারাই খুজুন। খুব বেশি পার্থক্য নয়। “কুসুম কুমারী দাশ” আগামী ৫০ বছর পর মেয়েরা কি রকম হবে যদি জানতেন তাহলে হয়তো “আদর্শ মেয়ে” নামে আরো একটা কবিতা লিখতেন। যেটা হয়তো মেয়েদের জন্য আজকে সহায়ক হতো। আমি এই লেখিকা কে অসম্মান করছি না বরং তার লেখনির মধ্যেদিয়ে কিছু জানার চেষ্টা করছি। আমি কিন্তু প্রকৃত ছেলের সংগা দিয়েছি প্রেমের দৃষ্টিকোন থেকে,অন্যান্য দৃষ্টিকোন থেকে তা নিশ্চই আলাদা হবে। প্রকৃত ছেলেরা নি্ঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসে। এই নি্ঃস্বার্থ ভালবাসা কি জিনিস সেটা অনন্ত জলিলই ভাল জানেন। আমি নিঃস্বার্থ ভালবাসা বলতে এটাই বুঝি যে ভালবাসা থেকে লাভ বা প্রফিট পাওয়ার আশা নাই। আর এটাই প্রকৃত ভালবাসা। আমি প্রকৃত ভালবাসা বলতে এটাই বুঝি যে সে যাকে ভালবাসে তাকে কল্পনা করতে পারে, তাকে স্বপ্নে দেখতে পারে, তার না বলা কথাগুলো অন্তর থেকে শুনতে পারে, সে যখন না থাকে তার যাওয়া-আসার রাস্তা দেখে মুগ্ধ হতে পারে, তার কোন লেখা দেখে মনে মনে হাসতে পারে-কমেন্ট করতে পারে। তার খুশির জন্য তার অন্য বয়ফ্রেন্ডের সাথে হাসিমুখে কথা বলতে পারে, তাকে আশ্রয় দিতে পারে এমনকি তাকে ফোন করে ডেকেও দিতে পারে।
আমার এই লেখা পড়ার পর হয়তো অনেক নারীবাদি পাঠক-পাঠিকা বিদ্রোহী থেকে বিদ্রোহীতর হয়ে উঠতে পারেন, আমি বলি কি আপনারাও লিখবেন। কারন সুফিয়া কামাল, বেগম রোকেয়া, সেলিনা হোসেনদের দেখে আপনাদের শেখার দরকার আছে।
যাকগে, আমি বলছিলাম ভালবাসার কথা। আমি সেই মেয়েকে ভালবাসিনা, যে তার অন্য বয়ফ্রেন্ডের জন্য ব্যস্ত থাকে্,আমি সেই মেয়েকে ভালবাসিনা যে আমার কথা একটুও চিন্তা করেনা।আমি সেই মেয়েকে ভালবাসিনা যে আমার প্রকৃত ভালবাসার কথা জেনেও ভ্রুক্ষেপ করে না।আমি সেই মেয়েকে ভালবাসিনা যে আরেকজনকে(বয়ফ্রেন্ড ছাড়া) ভালবাসেনা বলে তাকে ছোট মনের মানুষ বলে বিবেচনা করে। আমি সেই মেয়েকে ভালবাসিনা যে অন্যের ভালবাসাকে একটুও মুল্য দেয়না। তার মানে এই যে আমি কাউকে প্রকতভাবে ভালবাসি না।কারন আমি আমার দেওয়া সংগার বাইরে।
এখন আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন- তাহলে আপনি এসব কেন লিখছেন? আমি এগুলো লিখছি লাভেরিওসিস এ আক্রান্তদের জন্য, তাদেরকে কিছুটা সার্পোট করছি।
আমি সেই সমস্ত মেয়েদের রেস্পেক্ট করি যারা অন্যের ভালবাসার মুল্য দিতে জানে।
আমি লেখক বা পাঠক কোন সমাজেই সমাদৃত হতে চাই না, চাই শুধু কিছু কথা মন থেকে বুঝতে এবং সেই অনুযায়ী পথ চলতে। আর আপনারা তো জানেন “প্রকৃত লেখক পাঠকের মনরন্জন করে না”। আমি এখানে ছেলেদের মনরন্জন করেছি।সো,আমি প্রকৃত লেখক ও না আবার প্রকৃত লাভারও না আমি পাঠক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *