শামারোখের জন্যে চিঠি

প্রিয় সোহিনী,

প্রিয় সোহিনী,
তোমার একটা নাম দেয়ার দরকার বিধায় তোমায় এই নামে ডাকছি। আজ তোমায় কিছু অপূর্ণ কথা বলতে চাই এই চিঠির দ্বারা। শামারোখের কথা নিশ্চয়ইই মনে আছে তোমার। হ্যা, সে শামারোখ; যার জন্য কি নাজেহাল অবস্থায়ই না হয়েছিলো আমার। যার জন্য একসময় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যেতেও গায়ে লাগতো না। যার জন্য সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক-শিক্ষিকা, হোস্টেলের বোর্ডার এমনকি অপরিচিত মানব কুলের সাথে ও আমি লড়াই করেছিলাম। যে কিনা শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরীটা পেয়েছিলো। পদ্মপলাশ আখি দুটো মেলে ময়ূরের মত পেখম তুলে যে কিনা সারা বিশ্ববিদ্যালয় নাচিয়ে বেড়াত। শেষের দিকে আমার জীবনের প্রথম অর্জনের টাকায় মিথ্যে কথার ছলে অপরিচিত চামড়ার গন্ধে ছুটে যাওয়া শাহরিয়ার কেই বেছে নিয়েছিল। সোহিনী, একটা কথা কি জানো?? আমি পাষন্ড এবং খুব বোকা। কথায় আছে না, চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। আমার ও ওইরকম অবস্থা। যখন শামারোখ নিজে থেকে আমার হতে চেয়েছিলো তখন সেটাকে আমি পরিস্থিতি মনে করে শামারোখকে সাহায্য করেছিলাম যা কিনা করুণা ছিলো। তখন যদি বুঝতে পারতাম কিংবা শামারোখের দিকে একবার অন্তর্দৃষ্টি দিতাম। বড্ড দেরি করে ফেলেছি। শাহরিয়ারের কবিতায় প্রকাশ পায় শামারোখের দ্বারা কিভাবে দুনিয়াটা বদলে ফেলা যায় ক্ষনিকের মাঝে। এত অল্প সময়ের শাহরিয়ার কিভাবে পারলো শামারোখকে আঁকড়ে ওপারে যেতে অথচ বেচে থাকলো ক্ষনিকের ভালোবাশার স্থায়ী সব দলিলপত্র। এই শামারোখের জন্য আমি কত কিছু করলাম কিন্তু শামারোখ। আসলে, শামারোখেরই বা কি করার কি?? সে তো ধার করে হলেও আমাকে শার্ট শোয়েটার উপহার দিয়েছিলো। যদিও সে বিপদে ছিলো তবুও তো একবারের জন্যে বলেছিল বিয়ের কথা। আমার অন্তর্দৃষ্টিতে আঘাতের জন্যই হয়তো সে আমায় তার লেখা কবিতা পড়তে দিয়েছিলো। এতে শামারোখের কোনো দোষ নেই আর তাছাড়া ওর কিছুই করার ছিলো না। ইশ্বর তাকে এত মহান দান সৌন্দর্য দিয়েছে। এখন সে যদি এই সৌন্দর্যের কয়েকজন পূজারীই না বানাতে পারলো তবে ইশ্বরের সার্থকতা কোথায়?? যখন তুমি এই কয়েকজনের মধ্যে কারো অর্ধেক ইশ্বরী হলে তবেই তো তোমার সৌন্দর্যের সার্থকতা মুক্তি পাবে। সেই পূজারীই ছিলাম আমরা কজন তবে সঠিকভাবে পূজা করতে পেরেছিল শুধু শাহরিয়ারই। “আমি একজন পাষন্ড, আমার হৃদয়ে চোখ জন্মাবে কেমন করে?? ইশ্বরের মহত্তম দান আমি অবহেলা করেছি বলে দাম দেয়ার কেউ থাকবে না, সেটা কেমন করে হতে পারে?? ইশ্বরের রাজত্বে এত অবিচার কি সম্ভব?? শেষ পর্যন্ত শামারোখ সেই মানুশের সাক্ষাত পেয়ে গেছে যে তাকে পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে হোক তা ক্ষনিকের জন্যে”। শামারোখ কি পেলো দুপেয়ে পশু জমিরুদ্দিনকে আর নোংরা স্বর্গে হারানোর পথ?? কিন্তু, শাহরিয়ার এবং আমি আর ওরা। যা পাওয়ার তা তো ওরাই পেলো।

ভালো থেকো
ইতি
জাহিদ হাসান

বি:দ্র: এই রকম জাহিদ, শাহরিয়ার কে উৎসর্গ করে কিন্তু সোহিনী এবং শামারোখের মত অর্ধেক নারী, অর্ধেক ইশ্বরীর খোঁজে লেখা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *