আমার পথচলা (১ম পর্ব)

জন্ম ও শৈশব :-

জন্মেছিলাম সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা
ভুদেব বাবু প্রচারিত দ্বিতীয় স্বর্গে
১৯৯৫ সালের ১৯ জানুয়ারি নানা
বাড়ি।ঠিক কতদিন পর একই জেলা
থানাধীন পৈতৃক বাড়ি এসেছিলাম
জানি না, জানার প্রয়োজনও মনে করি
নাই কখনো। কারণ ভুদেব বাবুর
প্রচারিত স্বর্গকে আমার রীতিমত
নরকের মতই বোধ হয়েছে।
পাড়ার ছেলেদের সাথে ক্রমেই বড়
হয়ে উঠছি আমি। স্বভাবে,
চরিত্রে,কথার ধরণ সব কিছুতেই ওদের
মত আমি তবে একটা দিকে অবশ্যই
পার্থক্য ছিল তা হল নানা বাড়ির
সম্পর্ক, ওদের কখনো নানা বাড়ি
যেতে বা গল্প করতে দেখতাম না।
আমি প্রতিদিন না গেলেও সপ্তাহে
একদিন তো যেতামই। আহা নানা
বাড়ি কী যে মধুর! কত আদর, সেহ্ন,

জন্ম ও শৈশব :-

জন্মেছিলাম সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা
ভুদেব বাবু প্রচারিত দ্বিতীয় স্বর্গে
১৯৯৫ সালের ১৯ জানুয়ারি নানা
বাড়ি।ঠিক কতদিন পর একই জেলা
থানাধীন পৈতৃক বাড়ি এসেছিলাম
জানি না, জানার প্রয়োজনও মনে করি
নাই কখনো। কারণ ভুদেব বাবুর
প্রচারিত স্বর্গকে আমার রীতিমত
নরকের মতই বোধ হয়েছে।
পাড়ার ছেলেদের সাথে ক্রমেই বড়
হয়ে উঠছি আমি। স্বভাবে,
চরিত্রে,কথার ধরণ সব কিছুতেই ওদের
মত আমি তবে একটা দিকে অবশ্যই
পার্থক্য ছিল তা হল নানা বাড়ির
সম্পর্ক, ওদের কখনো নানা বাড়ি
যেতে বা গল্প করতে দেখতাম না।
আমি প্রতিদিন না গেলেও সপ্তাহে
একদিন তো যেতামই। আহা নানা
বাড়ি কী যে মধুর! কত আদর, সেহ্ন,
ভালবাসা,খাবার,খেলাদুলা অন্ত
নেই যেন। যখন চার পাঁচ বছর বয়স আমার
তখন বেশির ভাগ সময়ই নানা বাড়ি
কাটাই, বলতে গেলে এই দুবছরের দেড়
বছরই। নানা বাড়ি খেলার সাথী
বলতে ছিল প্রায় সমবয়সী মামা
নেয়ামত উল্লাহ আর ভাগ্নে নাইমুল
হাসান(চাচাত মামার মেয়ের ঘরের
ছেলে)। নাইমুলও বেশির ভাগ সময়
নানা বাড়ি কাটাত। আমি থাকলে
তো কথাই নেই, মাঝে মাঝে মাস পার
করে দিতাম দুজনে। আমাদের প্রিয়
খেলার মধ্যে ছিল পেঁপে গাছের নল
দিয়ে পানি নিয়ে দুষ্টমি, নারিকেল
ডাল অথবা খেজুরের ডাল দিয়ে গরু,
মহিষ বানানো ও তা কল্পিত মাঠে
চরানো। আমাদের খেলাদুলা
প্রত্নতাত্ত্বিকগণ হয়ত আবিষ্কার করতে
পারবেন কারণ প্রমাণ স্বরূপ আছে,
নানা বাড়ির পশ্চিম পার্শের আম
তলায় আমরা খেলতাম সেখানে মাটি
অন্য জায়গার তুলনায় উঁচু এবং খুড়লে হয়ত
শখানেক মার্বেল পাওয়া যাবে,হায়
এই উঁচু মাটিতে ছিল আমাদের মরিছের
খেত কিন্তু শেষে মার্বেল রাখার
কারণে কি হয়ে গেল? এখনো মাঝে
মাঝেই আমি যাই সেই আম তলায়, হয়ত
মামার মেয়ে ছেলে গুলি ভাববে
আমি বুঝি লোভী কারণ ফল গাছের
নিচে গেলে এটা ভাবা স্বাভাবিক।
আবার তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে জরিয়ে
পড়তেও পারে কারণ বাড়ির উঠনে এত
পেয়ারা গাছ থাকতে আমি কেন আম
তলায়? কিন্তু আমি যাই সেই সোনালী
জীবনটাকে খুজতে, যেখানে ছিলাম
আমি মহাসুখে।আমাকে নিয়ে নানা
বাড়ির বড় একটা ঘটনা হল, বড় মামা বড়
একটা আয়না এনেছিল, যেটা
বারান্দার দেয়ালে লাগানো ছিল,
তখন সচারচার টিভি ছিল না,
আয়নাকে টিভি বানাতাম, চেয়ারে
দাড়িয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতাম আর
ভাবতাম টিভি দেখতেছি। হঠাৎ
মহাকাণ্ড ঘটে গেল হাতের নাড়াতে
আয়না গেল মাটিতে পড়ে তারপর জন
জন শব্দ। আমি তো ভয়ে থরথর, আজ না
জানি মামা কি করে আমায়? আমি
আসন্ন বিপথ থেকে রক্ষার জন্যে
পড়নের সর্ট প্যান্টি ছিল তা নিয়েই দু
ঘণ্টার পথ হেটে হেটে নিজ বাড়ি
চলে যাই, পথে কত জল্পনা কল্পনা, কত
ভুত প্রেত,কুকুর, পাগলের আনাগোনা
মনের ভিতর ।আর ঐদিকে আম্মা ছিল
নানা বাড়ি সে তো পিছু পিছু
কাঁদতে কাঁদতে লোকের কাছে কত
প্রশ্ন, এই যে ভাই কালো প্যান্টি পড়া
সুন্দর মুন্দর একটা ছোট্ট ছেলেকে
দেখেছেন? এই ভাবী ——? এই যে
চাচি ——–? তারপর সন্দেহজনক
ঠিকানায় আমাকে ফিরে পেলেন
নিজ বাড়ি। যাহক তারপর আবার নানা
বাড়ি ।নানুর জিজ্ঞাসা ভয়
পেয়েছিলে? লজ্জায় সেকি আমার
অবস্থা?
মায়ের কোল ছেড়ে একটু বড় হওয়ার পর
যখন দীর্ঘ দিন আমি নানা বাড়ি সে
সুবাদে লেখাপড়ার হাতে খরি
হয়েছিল নানার কাছে সুরা ফাতিহা
পড়ার মধ্যে। তারপর আরবি, বাংলা,
ইংরেজী বর্ণমালা, শতকিয়া কিছুটা
বলতে অধিকাংশ নানার কাছে।
নানা মৌবলী জয়নাল আবেদীন
বিজ্ঞ পণ্ডিত সরকারী প্রাইমারী
স্কুলের শিক্ষক ও জুম্মামসজিদের খতিব।
তারপর নিজ বাড়িতে এসে পড়লাম।
হায়রে আসার সময় কত জ্বালাতনই না
করেছিলাম বাবাকে। আসব না
বলেছিলাম, আনসার মামার ঘরের
পিছনে পালিয়েছিলাম। কিন্তু আমার
সব ফন্দি ভেস্তে গেল।
চলবে ———
প্রিয় পাঠক সঙ্গে থাকবেন আশা
রাখি।

২৫ আগষ্ট ২০১৫ইং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *