বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার উপর ভ্যাট : কে দিবে, কেন দিবে???

মাননীয় অর্থমন্ত্রী, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারা কিন্তু অতটা গর্দভ নয়, যতটা আপনি ভাবছেন। কেন, বলছি। তার আগে দুই বন্ধু লেদু ও মফিজের গল্পটি বলি-
লেদু : চল, আজ দুই বন্ধু মিইলা বিরানি খাই
মফিজ : আমার অত টাকা হইবো না। বিল তোরে দেওয়া লাগবো।
লেদু : এইটা একটা কথা হইলো, দিমু।
অতপর খাওয়ার পর বিল আসলে,
লেদু: দোস্ত টেকা দে।
মফিজ : তুই না কইলি বিল তুই দিবি।
লেদু: হ, বিল দিমু কইছি। কিন্তু আমার পকেট থেইকা নিয়া দিমু, সেইটা তো কই নাই।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারা কিন্তু অতটা গর্দভ নয়, যতটা আপনি ভাবছেন। কেন, বলছি। তার আগে দুই বন্ধু লেদু ও মফিজের গল্পটি বলি-
লেদু : চল, আজ দুই বন্ধু মিইলা বিরানি খাই
মফিজ : আমার অত টাকা হইবো না। বিল তোরে দেওয়া লাগবো।
লেদু : এইটা একটা কথা হইলো, দিমু।
অতপর খাওয়ার পর বিল আসলে,
লেদু: দোস্ত টেকা দে।
মফিজ : তুই না কইলি বিল তুই দিবি।
লেদু: হ, বিল দিমু কইছি। কিন্তু আমার পকেট থেইকা নিয়া দিমু, সেইটা তো কই নাই।
তেমনি মাননীয় অর্থমন্ত্রী যদি ” ভ্যাট মালিকেরা দিবে বলছি, কিন্তু কার পকেট থেকে নিয়ে দিবে সেটা ত বলি নাই” এমন কথা বলে বিস্মিত হবো না। তবে মাননীয় অর্থমন্ত্রী, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মফিজ ভাবলে কিন্তু ব্যাপক ভুল করবেন। ইতোমধ্যেই তার প্রমাণ আপনি পেয়েছেন।

এবার ভ্যাট কি ও কে দেয় তা বলি। VAT (Value Added Tax) হল এমন একটি ট্যাক্স যা ভ্যালু বা মুল্যের সাথে যুক্ত থাকে। এই ট্যাক্স পরিশোধ করে তিনি, যিনি উক্ত পণ্য বা সেবা ভোগ করে। তাই ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়, পণ্যের মূল্যের উপর। ফলে,এই ট্যাক্স কনজুমারের উপর প্রভাব ফেলে। এখানে মালিক বা সেবাদানকারীর কর্তব্য হচ্ছে, ভোক্তার পকেট থেকে ট্যাক্সটা নিয়ে সরকারকে পরিশোধ করা। সুতরাং ভ্যাট কার পকেট থেকে পরিশোধ করা হবে তা শিশুর নিকট ও বোধগম্য।

টিউশন ফির উপর ভ্যাট নিয়ে সরকারের দুইটা যুক্তির ব্যাপারে বলি-
১) ভ্যাট ইতোমধ্যে নির্ধারিত টিউশন ফির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে। তাই নির্ধারিত টিউশন ফির থেকে ভ্যাট কেটে রাখা হবে, টিউশন ফির সাথে নতুন করে সমন্বয় করা হবে না- এমন যুক্তি দেয়া হলে দুটি প্রশ্ন চট করে মাথায় আসে। তা হল-
ক) ভ্যাট দেয়ার কারণে খরচ বৃদ্ধির অযুহাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকেরা যে টিউশন ফি বাড়াবে না, তার গ্যারান্টি কে দিবে?
খ) ট্রাস্ট মূলে যেসব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি ও পরিচালিত হয়(যদিও বর্তমানে সব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় তথাকথিত ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে) তারা কোন আয় থেকে ভ্যাট দিবে, কেন দিবে?

২) অনেক ব্যবসায়ীরা লাভজনক খাত হওয়াই, নামে বেনামে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় খুলে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারকে কিছু দিচ্ছে না। এক্ষেত্রেও দুটি পাল্টা যুক্তি দেয়া যায় –
ক) সরকার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আয়ের উপর কেন উচ্চ হারে আয়কর না বসিয়ে, ছাত্রদের উপর ভ্যাট চাপিয়ে দিচ্ছে?
খ) অলাভজনক বিনিয়োগ বলে লাইসেন্স নিয়ে যখন তারা লাভ করছে, তখন সরকার কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে না?
আসলে শিক্ষার উপর ভ্যাট আরোপ করা হবে কিনা?- প্রশ্নটি যতটা না যুক্তি ও তর্কের,তার চাইতেও নৈতিক। তাই এই প্রশ্নের সমাধান নৈতিকতার মাপকাঠিতে করতে হবে।
তবে, ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিলেই যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যা রাতারাতি সমাধান হয়ে যাবে এমনটাও কিন্তু না। কারণ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকেরা শিক্ষা বিস্তার কম, অর্থ আয়ে ব্যস্ত বেশী। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর অস্বাভাবিক টিউশন ফির দিকে তাকালে তা সহজেই বোঝা যায়। তাই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর শিক্ষার মানের গুণগত উন্নতি না হলেও, নানান অযুহাতে টিউশন ফির পরিমাণগত ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে। সুতরাং এর থেকে পরিত্রাণের স্থায়ী সমাধান খুজতে হবে আমাদের।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা ও প্রতিকার নিয়ে টিআইবি এর গবেষণাটি দেখতে পারেন –
http://m.bdnews24.com/bn/detail/bangladesh/813442

৩ thoughts on “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার উপর ভ্যাট : কে দিবে, কেন দিবে???

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *