শিক্ষায় ভ্যাট, আন্দোলন ও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে সরকারের বাড়তি ভ্যাট বসানোর বিষয় নিয়ে কিছু একটা বলার জন্য গত কয়েকদিন যাবত বুকের ভেতর হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু ঠিক বুঝতে পারছি না কোন বিষয়ের উপরে জোড় দিয়ে কথাগুলো বলবো- সরাকারের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে, নাকি এই বাড়তি ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতমুখী বক্তব্য নিয়ে। দুটো বিষয়-ই গুরুত্বপূর্ণ, তাই দুটোকেই একসাথে বলার চেষ্টা করছি। প্রথম অংশে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে, এবং পরবর্তী অংশে দুই জগতের শিক্ষার্থীদের মতপার্থক্য নিয়ে।

সরকারের বাড়তি ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত এবং যৌক্তিকতা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে সরকারের বাড়তি ভ্যাট বসানোর বিষয় নিয়ে কিছু একটা বলার জন্য গত কয়েকদিন যাবত বুকের ভেতর হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু ঠিক বুঝতে পারছি না কোন বিষয়ের উপরে জোড় দিয়ে কথাগুলো বলবো- সরাকারের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে, নাকি এই বাড়তি ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতমুখী বক্তব্য নিয়ে। দুটো বিষয়-ই গুরুত্বপূর্ণ, তাই দুটোকেই একসাথে বলার চেষ্টা করছি। প্রথম অংশে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে, এবং পরবর্তী অংশে দুই জগতের শিক্ষার্থীদের মতপার্থক্য নিয়ে।

সরকারের বাড়তি ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত এবং যৌক্তিকতা।
———————————————————————
সরকার তাঁর আয়ের ক্ষেত্র বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্রে বাড়তি ভ্যাট যোগ করবে এটা একটা প্রাচীন আর পরিচিত কৌশল। সরকারের কাজই হলো তাঁর আভ্যন্তরীণ আয়ের ক্ষেত্র বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা। কিন্তু সে হিসেবে শিক্ষার উপরে বাড়তি ভ্যাট কতটা যৌক্তিক? আমার মতে মোটেই না। আমার যুক্তিগুলো আমি ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছি-

** উন্নয়নশীল দেশে সর্বপ্রথম দরকার শিক্ষা। একটা দেশের উন্নতির জন্য সর্বস্তরের জনগণকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারাটা হয় প্রথম লক্ষ্য। কারণ, এক সরকারের পক্ষে কখনোই বিভিন্ন কর্মসূচী দিয়ে আর নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করে দেশের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন করা সম্ভব না। একজন শিক্ষিত মানুষ নিয়মমাফিক চাকুরী করুক আর না করুক, নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও কোন না কোন আয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে। এতে শেষে গিয়ে দেশেরই লাভ হয়। কারণ, ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানুষের উন্নয়ন বৃদ্ধি পেলে সেটার যোগফল দেশের সার্বিক উন্নয়ন হিসেবেই পরিগণিত হয়। আর শুধু এই কারণেই শিক্ষার যে কোন ক্ষেত্রকেই সরকার উৎসাহিত করবে এবং করাটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে দরকারে সরকার শিক্ষাখাতকে করমুক্ত করা, ভর্তুকি দেয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন উতসাহোদ্দীপক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে বা করা উচিৎ।

** বাড়তি ভ্যাট মানুষকে কোন পণ্য বা সেবা ক্রয়ে নিরুৎসাহিত করে। সাধারণত সরকার সেই সকল পণ্য বা সেবার উপরে বাড়তি ভ্যাট আরোপ করে, যেটা হয়তো দেশের এবং জনগণের জন্য ক্ষতিকর এবং সরাসরি নিষিদ্ধ করা যাচ্ছে না মানুষের চাহিদার কারণে। তাই, নিরুৎসাহিত করতেই বাড়তি ভ্যাট আরোপ করা। আবার কখনো সরকার কৌশলগত কারণে খুব বেশি বিক্রিত পণ্য বা সেবা থেকে বাড়তি আয় করার জন্য সেই পণ্য বা সেবার তুলনামূলক ক্ষতিকর দিক মানুষের সামনে তুলে ধরে এর উপরে বাড়তি ভ্যাট আরোপ করে। কারণ, সরকার জানে মানুষ ওই পণ্য বা সেবা গ্রহণ করবেই। তাই বাড়তি কিছু আয় করে নেয়াটাও হবে, আবার মানুষ তাঁর প্রয়োজনও পূরণ করে নিলো। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তামাকজাতীয় পণ্য এবং আমদানি-নির্ভর বিলাসদ্রব্যের বিষয়টা উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

** সরকারের ভাষ্যমতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসলে ব্যবসার এক একটা নিরাপদ ক্ষেত্র। জী, এই কথার পেছনে যুক্তি আছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসলেই এক একটা ব্যবসাকেন্দ্র। এবারে তাহলে ব্যবসায়ীদের আচরণ একটু লক্ষ্য করি- সরকার প্রত্যেক বাজেটের শুরুতে সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করে। কোন জাতের সিগারেটের প্যাকেটে যদি সরকার ৪-৫টাকা কর বাড়ায়, সাথে সাথে সেই সিগারেটের দাম শলাকা-প্রতি এক টাকা অর্থাৎ, প্রতি প্যাকেটে বিশ টাকা বেড়ে যায়। কারণ, সিগারেট কোম্পানি তো আর পাঁচ পয়সা বা দশ পয়সার কয়েন নিয়ে ঘুরবে না। তাঁরা বিক্রি সহজ করার একটা উপায় যেমন বের করে নেয়, তেমনি বাড়তি টাকাটাও তাঁদের পকেটে ঢুকিয়ে নেয়। তো, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায়ী মালিকেরাও কি এই উপায় অবলম্বন করে কিছু বাড়তি কামাতে চাইবে না? চার লাখ টাকার অনার্স কোর্স চার লাখ তিরিশ (ভ্যাটসহ) হওয়ার সাথে সাথে কি তাঁরা এটাকে সাড়ে চার বা পাঁচ লাখ করার চেষ্টা করবে না? ব্যবসায়ী তো!

** সরকার বলছে এই বাড়তি ভ্যাট শিক্ষার্থীদের দিতে হবে না, এটা বিশ্ববিদ্যালয় দিবে। বেশ, বিশ্ববিদ্যালয় দিবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় টাকাটা কোত্থেকে কামাই করে? আচ্ছা, এখানে যদি বিষয়টা এমন হতো যে- সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষামান যাচাইয়ে স্থায়ী কোন মনিটরিং কমিটি নির্ধারণ করে দিতো যারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং এর বিভিন্ন বিভাগগুলোর র‍্যাঙ্কিং ঠিক করে দিয়ে এবং সেই বিভাগগুলোর জন্য সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন নয়, সরাসরি একটা মূল্য ধার্য করে দিবে। তাহলে তখন সরকার সেখানে ৭.৫% বা ইচ্ছে হলে ২২.৫% বাড়তি ভ্যাট আরোপ করলেও সমস্যা ছিলো না। তাঁরা তো তখন শিক্ষার্থীদের থেকে বাড়তি টাকা বের করে আনার বদলে ব্যবসায়ী মালিকদের ব্যবসার একটা অংশ বাগিয়ে নিতে পারতো। কিন্তু এখন কি সেটা সম্ভব?

** সরকার বলছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব পয়সাওয়ালা বাবা-মায়ের সন্তানেরা পড়ে। আসলে কি ঘটনা তাই? নিজে ঢাকায় থেকে পড়াশুনা করছি বলে এবং নিজের অনেক বন্ধু- এমনকি আমার বউ নিজেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় খুব ভালো করেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে বেশ পরিষ্কার একটা ধারণা আমার আছে। আমাদের দেশে বর্তমানে সম্ভবত ৬৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কোনটার আবার একাধিক শাখাও আছে। এক একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনটায় পাঁচ হাজার, কোনটায় দশ হাজার আবার কোনটায় বিশ হাজার থেকেও অনেক বেশি শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। সব মিলিয়ে মোট কতো হয় সেটা কি একবার সরকার খেয়াল করেছে? দেশে এতো ধনী মানুষের সন্তান? নিয়ম এবং নীতি বলে গনতান্ত্রিক সরকার যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠের দ্বারা নির্বাচিত, তবুও তাঁরা এমন কোন নীতি কার্যকর করতে পারবে না, যাতে অন্তত একজন হলেও নিরপরাধ মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। হ্যাঁ, যদি দেশের স্বার্থে তেমন করাটা বাধ্যতামূলক হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্তকে ক্ষতিপূরণ দিতে সরকার বাধ্য। সরকার যদি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাস্তায় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আইন ভাঙার শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে অপরাধীর আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করার নিয়মের অনুসরণ করতে চায়, তাহলে বাড়তি ভ্যাট আরোপের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের ভর্তুকি কেন দিবে না? যদিও এখানে কথা থাকে যে- শিক্ষা কোন অপরাধ নয়, এটা একটা মৌলিক অধিকার এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের জন্য এটা ফরজের থেকেও বড় ফরজ। তাই, ওই আইন এখানে খাটে না। আবার, যেহেতু এটা অপরাধ-ই না, তাই এখানে একজনের টাকা বেশি বলেই তাঁর থেকে সরকার বাড়তি টাকা নেয়ার অধিকার রাখে না। আমার টাকা আছে বলেই আমি একই জিনিস কেনার ক্ষেত্রে অন্যজনের তুলনায় বেশি টাকা দিতে বাধ্য থাকবো এটা শুধু মগের মুল্লুকের ক্ষেত্রেই মানানসই। টাকাটা কষ্ট করে আয় করতে হয়। তবুও সরকার যদি দেশের মানুষের আয়-ব্যয় বা অর্থনৈতিক অবস্থার ক্ষেত্রে কিছুটা সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা করতে চায়, তবে তাঁরা বিত্তশালীদের উপরে বাড়তি ভ্যাট আরোপ করলেই পারে। সে কারণে তো তাঁদের সন্তান কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এটা খোঁজার দরকার নেই। তাঁরা চাইলেই মানুষের আয়ের এবং সম্পদের হিসেব বিবেচনা করেই কাজটা করতে পারে।

** সরকার বলছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রচুর টাকা। এখানকার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দিনের হাত খরচ হাজার টাকার উপরে। এবার আর মুখ খারাপ না করে পারছি না। আরে বাইঞ্চোদ, তুই দেশের অর্থমন্ত্রী না হয়ে রুপকথার কাহিনীকথক হইলি না ক্যান? দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে যার ন্যূনতম ধারণা নাই, সেই মানুষ কীভাবে অর্থমন্ত্রী হয়? তোর যদি আসলেই জানার শখ থাকে, তাহলে পারলে এই শহরের হাজার হাজার মেসে লাখ লাখ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবন দেখে যা। তাহলে বুঝবি সবার আর্থিক অবস্থা কেমন। আর একটা কথা- দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু NSU, BRAC, AIUB, IUB বা এমন অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয় না। এখানে IBAIS, IUB, CITY, VICTORIA থেকে শুরু করে অনেক সাধারণ চেহারার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সর্বপ্রথম কম খরচের কথা চিন্তা করেই ভর্তি হতে আসে।

মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে, এই বিষয়ে আর লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে না। এবার দ্বিতীয় অংশে চলে যাই। তবে যাওয়ার আগে এই অংশের সারমর্ম হিসেবে কিছু কথা বলে যাই-

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণত (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের একটা বিকল্প মাধ্যম। বেশীরভাগ শিক্ষার্থী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা কম হওয়া, আসন কম থাকা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার নিম্নমান এবং অতিরিক্ত সময় নষ্ট করার প্রবণতার কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চেষ্টা করে বা বাধ্য হয়। আমাদের এই দেশে হাতেগোনা কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবার হাতেগোনা কিছু শিক্ষার্থী ছাড়া বাকিরা একপ্রকার অসহায়, নিরুপায় এবং বাধ্য হয়েই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এটা কোন শখের জায়গা না।

সরকার তো ওদের উপর বাড়তি ভ্যাট চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে, কিন্তু আমার মতামত হলো- দেশের উন্নতির জন্য আমাদের শিক্ষা যেমন খুব বেশি দরকার, তেমনি গণপ্রজাতান্ত্রিক দেশ তথা জনকল্যাণমুখী দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থী এখানে সরকারি সহযোগিতায় শিক্ষা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে। তাই, মা-বাবার আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম ভর্তুকি দেয়া এই সরকারের কর্তব্য। কারণ, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে না পারাটা অবশ্যই সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেই ধরে নেয়া উচিৎ। আর বাড়তি ভ্যাট? বাড়তি ভ্যাট যদি নিতেই হয় সেটা ধনীদের সন্তানের শিক্ষার উপরে আরোপ না করে ধনীদের আয়ের উপরে, বিলাসদ্রব্য ব্যবহারের উপরে এবং অলস সম্পত্তির উপরে আরোপ করলেই সেটা বেশি যৌক্তিক হবে।

আর একটা কথা- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায়ী মালিকদের থেকে বাড়তি টাকা নিতে চাইলে সেটা তাঁদের আয়ের হিসেব থেকে নিয়ে সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে সেখানকার সুযোগ-সুবিধা এবং বিভাগগুলোর শিক্ষার মান যাচাই করে নির্দিষ্ট পরিমাণে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া উচিৎ। কেউ যদি চাইলেই মোটা চাল চিকন চালের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে, তাহলে তথাকথিত কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণীকক্ষ বানিয়েই পাঁচ-সাত লাখ টাকার বিনিময়ে পাড়ার স্কুলের মানের শিক্ষা বিতরণের সুযোগ কেন পাবে? এটার বিহিত সরকারকেই করতে হবে, তবে অবশ্যই সেটা শিক্ষার উপরে কর আরোপ করে নয়; বরং মানসম্মত কমিটির দ্বারা শিক্ষা এবং সুযোগের পূর্ণাঙ্গ মনিটরিং করে সঠিক ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমেই করতে হবে।

সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও যৌক্তিকতা।
————————————————————————————————–

“প্রাইভেটের পোলাপাইন ফার্মের মুরগী।”
“ঢাবিতে যারা পড়ে সব ফকিন্নি।”
“সরকার ভ্যাট আরোপ করছে ভালো হইছে। পড়ার নামে ঠনঠন, খালি মাঞ্জা মারে। এবার বুঝুক।”
“ফকিন্নিরা তো আমাদের টাকায় পড়ে। আমরা টাকা না দিলে ওরা না খাইয়া মরতো”

এখানে দুই পক্ষের সবচেয়ে প্রচলিত দুটি করে বাক্য দেয়া হলো। আর এই বাক্যগুলি দেখলে সহজেই বোঝা যায় আমাদের এখানে সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্পর্কটা কেমন।

এখানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিজেকে দেশের সবথেকে পণ্ডিত মনে করে আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিজেকে মনে করে রাজার সন্তান আর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনে করে “আনস্মার্ট” বা “খ্যাত”। বেশ বেশ! এবারে একটু এই দুই দলের জন্য কিছু কথা বলছি। প্রথমে বেসরকারিদের এবং পরে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

আপনারা যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন
——————————————————-

হ্যাঁ, হাতেগোনা কিছু বিত্তবানদের সন্তান শিক্ষার্থী আছেন যারা নিজেদের আধুনিক চাকচিক্যময় পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের জন্য আধুনিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেন। তাঁরা মূলত সরকারি বা বেসরকারির পড়ার মান বা জীবনমান সম্পর্কে ধারণা রাখবেন না এটাই স্বাভাবিক। তাঁরা এই দুই জায়গার সাংস্কৃতিক পার্থক্য ধরতে পারবেন না এটাও স্বাভাবিক। তাই তাঁরা এই তালিকা থেকে বাদ। কিন্তু অন্যরা?

হ্যাঁ আপনাকেই বলা হচ্ছে। আপনি দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পেতে পরীক্ষা দিয়ে বেড়িয়েছেন। কেউ দুই জায়গায়, কেউ বিশ জায়গায়। সুযোগ হয়নি। আবার কেউ কেউ সুযোগ পেলেও নিজেদের পছন্দের বিষয় পাননি। ভালো কথা। আপনি চেষ্টা করেছেন কিন্তু হয়নি। এর অর্থ এই না যে আপনি শেষ হয়ে গেছেন।

হ্যাঁ, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সংস্কৃতি অনেক উন্নত ও ঐতিহ্যবাহী। দেশের সেরা শিক্ষকেরা এখানে পাঠদান করেন। দুনিয়ার যাবতীয় বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জ্ঞান আদান-প্রদানের একটা রীতি এখানে চালু থাকায় বা ঐতিহ্যগতভাবেই এখানে শিক্ষায় এবং জাতির বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় অবদান রাখার প্রচলন থাকায় এখানে পড়তে পারাটা জীবন গড়ার ক্ষেত্রে একটু হলেও বাড়তি সুবিধা প্রদান করে। কিন্তু এখানে পড়তে না পারলেই কি জীবনে সফল হওয়ার সুযোগ শেষ? কখনোই না।

একজন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণী পাসের সময় যে মানের থাকে, চার-পাচ বছর পরেও কি তাঁর সেখানেই বা সেই ধারাবাহিকতায় থাকার কথা? আমি যখন আমার কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম তখন প্রাতিষ্ঠানিক পড়া থেকে শুরু করে যাবতীয় সাংস্কৃতিক বিষয়ে সবার থেকে পেছনে ছিলাম। প্রথমদিন কলেজে গিয়ে সবার পেছনে বসেছিলাম। কিন্তু, দুই বছর পরে যখন আমি সেই কলেজ থেকে বের হই, তখন কলেজের যতগুলো আভ্যন্তরীণ বৃত্তি ছিলো (কলেজের নিজস্ব পরীক্ষার ফলাফল), যতগুলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছিলো বা এমন যে কোন কিছুতেই এককভাবে সামনে ছিলাম। কলেজে আমার শিক্ষা নেয়া শুরু করার মাত্র দুই থেকে তিন মাসের মাথায় আমার সামনে কেউ দাড়াতেই পারেনি। তাহলে যারা দুই-তিন মাস আগে আমার থেকে এতো বেশি এগিয়ে ছিলো, তাঁরা কি সবাই ততদিনে মোরে গিয়েছিলো? না। সব ঠিক ছিলো, শুধু আমি নিজেকে এগিয়ে নিয়েছিলাম। এভাবেই যে কেউ যে কোন সময়ে নিজেকে এগিয়ে নিতে পারে। অর্থাৎ, বেসরকারিতে পড়লেই তাঁর সম্ভাবনা শেষ নয়।

এতক্ষণ আপনাদের যা বললাম সেটা বলা আমার মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। আমি বলতে চাচ্ছি- নিজের পুরনো ব্যর্থতা ঢাকার জন্য বা যার কাছে আপনি মেধার পরীক্ষায় পরাজিত হয়েছিলেন তাঁকে ছোট করার জন্য এসব কথা বলে কি নিজেকে প্রবোধ দিতে চাচ্ছেন? কী লাভ হচ্ছে এতে? আপনি এভাবে হীনমন্যতায় ভুগবেন কেন? হ্যাঁ, আপনি তাঁর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন ভালো কথা, সে আপনার থেকে সম্মান পাবে এবং এটা তাঁর প্রাপ্য। আপনার দায়িত্ব হলো তাঁর সম্মান তাঁকে দিয়ে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করা। সে আর আপনি তো শত্রু নন। শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী কি আপনার ক্যারিয়ার গড়ে দেবে? সেখানে যোগ্যতা দেখা হবে। সেইদিন এখন আর নেই যে- কোথার সার্টিফিকেট সেটা দেখেই আপনাকে চাকুরী দিয়ে দিবে। এখন মানুষ যোগ্যতা খোঁজে।

আপনি বলছেন সরকারি বিসশবিদালয়ের শিক্ষার্থীরা ফকিন্নি, খ্যাত। আপনার টাকায় তাঁরা পড়ে। বেশ তো! আপনার যখন এতোই টাকার গরম, তাহলে সরকারের ভ্যাট দিয়ে দিন না! আপনাদের আন্দোলনে তাঁদের সমর্থন চাচ্ছেন কেন?

দেখুন, বিষয়টা ক্ষমতার না; যোগ্যতার। বিষয়টা একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের। আপনি তাঁকে আপনার পাশে তখন পাবেন যখন আপনি তাঁর প্রতি স্বাভাবিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন। আপনি তাঁকে আপনার মনের পুরাতন ব্যর্থতার রেশ ধরে অপমান বা হেয় করার চেষ্টা না করে ভাই-বোন হিসেবে ভাই-বোনের কাছে সহযোগিতা চান, একাত্মতা প্রকাশ করতে বলুন। এরপরেও তাঁদের কেউ যদি আপনার পাশে না দাড়ায়, তাহলে বুঝে নেবেন সে আপনার ভাই হওয়ার যোগ্য না। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তোলা তো দূর, সে এখনো আদিম যুগের মানুষই রয়ে গেছে। পাঁচটা বই পড়ে সে হয়তো আপনাকে একবার হারিয়ে দিয়েছিলো সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ নেয়ার ক্ষেত্রে, কিন্তু সে আসলে কখনোই মানুষ নয়। আর হ্যাঁ, তাঁরা যদি নিজেদের উচ্চমাত্রার বুদ্ধিমান মনে করে এই মানবিক এবং অধিকার রক্ষার আন্দোলন থেকে সরিয়ে রাখতে চায়, তাতেও কিছুই আসবে যাবে না। আপনারা একারাই যথেষ্ট।

আপনারা যারা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
——————————————————-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু এই আন্দোলনের খুব কাছে আছে, তাই ঢাবিকে দিয়েই কথাগুলো বলছি-

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলা কথাগুলোর মাঝে আশা করি সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানের পার্থক্য পরিষ্কার হয়েছে। এবার এখানে বরং শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তথা আপনাদের ভাষায় “ফার্মের মুরগিদের” আন্দোলন এবং সে বিষয়ে আপনাদের মতামত নিয়ে কিছু কথা।

নিজে ঢাবিতে পড়েন! বাহ! অনেক গর্বের কথা, অনেক আহ্লাদের কথা। আসুন, কিছুক্ষণ নাচ হয়ে যাক। আপনারা দেশের সেরা মেধাবী, দেশের সেরা মস্তিস্ক। আপনারা যা বলবেন তাই তো এদেশের কোরআন। আপনারা আপনাদের ছাত্র-রাজনীতির শক্তি দেখাবেন, আপনারা প্রশাসনের সকল স্তরে থাকা আপনাদের পূর্বসূরিদের ক্ষমতা দেখাবেন। আপনারা যে সেই এক ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে এসে নিজেদের শ্রেষ্ঠ মেধাবী প্রমাণ করেছেন, তার গরম দেখাবেন। সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য, দেশের প্রতি এই প্রতিষ্ঠানের অবদানের ইতিহাস বিক্রি করবেন তো আপনারাই, তাই না?

শোনেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এই দেশের শিক্ষার্থীদের শুধু নয়, বরং এই দেশটারই এক প্রকার অভিভাবক মানা হয়। অভিভাবক কাকে বলে বুঝেন তো? মনে হয় না। শোনেন, আপনার পরিবারে যদি আপনার বাবা অভিভাবক হয়, তাহলে ঘরের বাকি সদস্যদের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাঁর। পরিবারের বাকিদের যাবতীয় প্রয়োজন-অপ্রয়োজন খেয়াল করা, সেগুলো পূর্ণ করায় সহায়তা করার দায়িত্বও তাঁর। অভিভাবক সবাই হতে জানে না। অভিভাবক হতে যোগ্যতা লাগে। পরিবারের অভিভাবক যদি অন্য সদস্যদের সারাদিন এই ক্ষমতা প্রদর্শন করে যে- আমি এই পরিবারের প্রধান। আমাকে সবাই ভয় করো, আমাকে সম্মান প্রদর্শন করো। দেখো দেখো, আমার কতো যোগ্যতা, তোমাদের কি এই যোগ্যতা আছে? তোমরা নিচু আর আমি উঁচু। তাহলে বুঝতে হবে ওকে অভিভাবকের স্থান থেকে সরিয়ে প্রথমে হালের জোয়াল ঘাড়ে বসিয়ে ডান-বাম চলা শেখাতে হবে। অভিভাবক হওয়া ওর কাজ না।

এবারে অভিভাবকের জায়গা থেকে নামিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আপনাদের কিছু বলছি-

শোনেন, আপনি সৌভাগ্যবান কারণ আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারছেন। মনে রাখবেন, সবসময় যে সৌভাগ্য যোগ্য ব্যক্তির উপরে পতিত হয়, বিষয়টা কিন্তু এমন না। অন্যদের দুর্ভাগ্য ছিলো বলেই আপনার সৌভাগ্য হয়েছে। আবার, আপনি হয়তো ভাগ্য বা যোগ্যতা যেভাবেই হোক, ঢাবিতে এসেছেন, এটা এই কথা প্রমাণ করে না যে- আপনি সব বিষয়েই সবার থেকে যোগ্য। আইনস্টাইন একটা কথা বলেছিলেন- “মাছের গাছে ওঠার ক্ষমতা দিয়ে কখনো যোগ্যতা নিরূপণ করা যায় না” অর্থাৎ, শুধু কিছু নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েই আপনি সব বিষয়ে অন্যদের তুলনায় যোগ্য হয়ে যাননি। সবারই যোগ্যতা থাকে। প্রত্যেক মানুষকে তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মান দিতে শিখুন।

হ্যাঁ, শেষ কথা- আপনারা বড়াই করেন আপনাদের প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের, অবদানের। আপনারা বড়াই করেন বর্তমানেও চাকুরীর বাজারে আপনাদের বিপুল সম্ভাবনা ও সফলতার। হ্যাঁ, সেটা স্বীকার করতে হয় যে আপনাদের ঐতিহ্য আছে, আপনাদের সফলতার ইতিহাস আছে। আপনাদের প্রতিষ্ঠানের অনেক অনেক মহারথী পুরাতন শিক্ষার্থী আছে। কিন্তু ভাই, ইতিহাসে কি সব হয়? এক সময়ের দুনিয়ার সেরা ফোন নোকিয়া। কিন্তু এখন নকিয়ার অবস্থান জানেন তো? আপনি কি এখনো ফোন কিনতে গেলে নকিয়ার ইতিহাস চিন্তা করে ফোন কেনেন? শোনেন, যুগটা প্রতিযোগিতার। এখানে যোগ্যতা সবসময়েই কষ্টিপাথর দিয়ে যাচাই করা হয়, ইতিহাস দেখে না।

আপনি যদি আসলেই ঢাবির শিক্ষার্থী হন, আপনি যদি আসলেই ঢাবির সংস্কৃতির বাহক হন, তাহলে আপনাকে মানুষের পক্ষে থাকতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন একটা সম্পূর্ণ যৌক্তিক আর মানবিক আন্দোলন। এই আন্দোলনে যোগ দিতে না পারলেও সাধারণ নৈতিক সমর্থন তো প্রত্যেকটা মানুষেরই জানানো উচিৎ। আপনাদের যদি এতো ক্ষমতা থাকে, তাহলে পারলে একটু দোয়া করে ছেলে-মেয়েগুলির আন্দোলনটা সফল করে দেন না! ওরা কি মানুষ না? ওরা কি আপনার ভাইবোন না? আপনি আজ ঢাবিতে সুযোগ না পেলে আর জীবনে কিছু হলেও করার ইচ্ছা থাকলে পয়সা খরচ করে বেসরকারিতে পড়তেন না? দরকারে ঘটিবাটি পর্যন্ত বিক্রি করতেন না? খুব যে দেমাগ দেখাচ্ছেন ছেলে-মেয়েগুলির আন্দোলনের বিপক্ষ করে, খুব যে তাচ্ছিল্য করছেন, মজা নিচ্ছেন, লজ্জা লাগছে না?

আপনাদের ওয়েবসাইট হ্যাক করা নিয়ে কথা বলছেন, এটাকে বেয়াদবি বলছেন। আপনাদের গাড়ির পথ আটকানো নিয়ে কথা বলছেন। বেসরকারির শিক্ষার্থীদের ভাব নিয়ে কথা বলছেন। কিছুক্ষণ আগে কী বলেছিলাম? অভিভাবক! পরিবারে কেউ বিপদে পড়লে অভিভাবক একটু অসুবিধাতে পড়তেই পারে। এ কারণে তাঁকে তো অবজ্ঞা করা যাবে না। তাঁর বিপদ আগে দূর করতে হবে। যদি আসলেই নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে থাকেন, তাহলে অবদান রাখুন। ওদের ভাই হিসেবে, বন্ধু হিসেবে, অভিভাবক হিসেবে। আর যদি সেটা নাই পারেন, তাহলে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস আর ঐতিহ্য নিয়ে গ্যাঁজানো বন্ধ করে দূরে গিয়ে মুখ ভরে ইতিহাস-পোড়া ছাই খান। লাগলে হজম হয়ে যাওয়া ইতিহাস খান। বুঝছেন তো হজম হওয়া বলতে কী বুঝাইছি?

পারলে নেতৃত্ব দিয়ে ওদের সাহায্য করুন, নয়তো পাশে সরে যান। ওরা একারাই পারবে সব, যেভাবে ঢাবি পারতো আপনাদের মতো অযোগ্য শিক্ষার্থীরা এখানে সুযোগ পাওয়ার আগে। যাঁদের ইতিহাস আপনারা এখনো বেচেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *