হীরক রাজার দেশে

মনে আছে ক্ষণজন্মা বহুমূখী বাঙ্গালী প্রতিভা সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত চলচ্চিত্র “হীরক রাজার দেশে”র কথা? পাঠশালায় গিয়ে শিক্ষক এবং ছাত্রদের রাজার মন্ত্রক উপদেশ দিয়েছিলেন,

“লেখাপড়া করে যে,
অনাহারে মরে সে…!!!”

“জানার কোন শেষ নাই,
জানার চেষ্টা বৃথা তাই…!!!”

আপাতঃখামখেয়ালী স্বেচ্ছাচারী হীরক রাজা কিন্তু ঠিকই জানতেন শিক্ষা কত “ভয়ংকর”! রাজা বুঝতে পেরেছিলেন যে স্বৈরাচারীর জন্য শিক্ষিত জাতি মানেই স্বৈরাচারী রাজার মাথাব্যাথা। শিক্ষিত জাতি বড্ড খারাপ। এরা প্রশ্ন করে, প্রতিবাদ করে, দড়ি ধরে টান দেয়।

“দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খানখান…”

উরিবাবা, কি ভয়ংকর কথা!!! তাই রাজা বলেছিল,


মনে আছে ক্ষণজন্মা বহুমূখী বাঙ্গালী প্রতিভা সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত চলচ্চিত্র “হীরক রাজার দেশে”র কথা? পাঠশালায় গিয়ে শিক্ষক এবং ছাত্রদের রাজার মন্ত্রক উপদেশ দিয়েছিলেন,

“লেখাপড়া করে যে,
অনাহারে মরে সে…!!!”

“জানার কোন শেষ নাই,
জানার চেষ্টা বৃথা তাই…!!!”

আপাতঃখামখেয়ালী স্বেচ্ছাচারী হীরক রাজা কিন্তু ঠিকই জানতেন শিক্ষা কত “ভয়ংকর”! রাজা বুঝতে পেরেছিলেন যে স্বৈরাচারীর জন্য শিক্ষিত জাতি মানেই স্বৈরাচারী রাজার মাথাব্যাথা। শিক্ষিত জাতি বড্ড খারাপ। এরা প্রশ্ন করে, প্রতিবাদ করে, দড়ি ধরে টান দেয়।

“দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খানখান…”

উরিবাবা, কি ভয়ংকর কথা!!! তাই রাজা বলেছিল,

“এরা যত বেশী জানে, তত কম মানে…”

সুতরাং যেই ভাবা, সেই কাজ। Action, action, direct action… সেপাই লেলিয়ে তুলে দিয়েছিলেন রাজ্যের পাঠশালা, শিক্ষককে করেছিলেন রাজ্যছাড়া।

কিন্তু “হীরক রাজার দেশে” সেতো কেবল সিনেমার গল্প! বাস্তবে কি এরকম হয়? উঁহু, কাভি নেহি। হলেও হয়তো হয় দূরের কোন জঙ্গুলে অসভ্য “এনালগ” আজেবাজে দেশে, কিংবা মগের মুল্লুকে। কিন্তু, আমাদের সোনার বাংলায়? Impossible!!!

একবার ভাবুনতো আমাদের কত “সৌভাগ্য” যে এরকম এক সরকার শাষিত বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা এমন এক “উন্নয়নকামী (ডিজিটাল)”, “গণমুখী(এটাও ডিজিটাল)”, শিক্ষানুরাগী (আব্বার জিগায়, এইটাতো সবার আগেই ডিজিটাল) সরকারের নেতৃত্বে এগিয়ে (!!!) যাচ্ছি, যে বোঝে সবকিছুর চেয়ে মূল্যবান হচ্ছে শিক্ষা। কিন্তু শুধু সরকার নিজে বুঝলেইতো হবে না, আম/কাঠাল, হরিতকি জনতাকেওতো বোঝাতে হবে, নাকি? উপায় কি? খুব সোজা। শুধু মুখে বললে হবে না, Practically বোঝাতে হবে। পকেটের পয়সা না খসলে কি মূল্য বোঝা যায়, বল? সুতরাং দাও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির বেতনের সাথে VAT যোগ করে। এবার বোঝা গেল শিক্ষা কত মূল্যবান?

আচ্ছা যারা সোডিয়াম লাইট, তাদের জন্য আরো সহজ করে দেই। এই যেমন মনে করেন VAT, TAX সহ একটা মোটামুটি নতুন মডেলের Luxurious SUV’র দাম ১ কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা। এখন যদি সেই SUV আমাদের দেশের “সূর্যসন্তান” কোন সংসদ সদস্য কেনেন তাহলে দাম পড়বে সাকুল্যে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।

কারন কি? কারন একটাই, শিক্ষার মূল্য বেশী। সুতরাং সংসদ সদস্যের বিলাসবহুল গাড়ী VAT/ TAX মুক্ত “কমদামী” হতে পারে, কিন্তু শিক্ষিত হতে চাইলে VAT দিতে হবে। তাই যেইসব অর্বাচীন পোলাপাইন VAT এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে তাদের আব্বু-আম্মুরা দয়া করে ওদের ঠান্ডা করুন, ছেলেমানুষী ছাড়তে বলুন, ওদের শিক্ষার মূল্যটা বোঝান। দরকার হলে নিজেরা একবেলা কম খান, সন্তানকে দুই-চারটা পড়ার বই কম কিনে দেন। কিন্তু VAT দিয়ে শিক্ষার যথাযথ মূল্যায়নে “ডিজিটাল” সরকারকে সহায়তা করুন। নিজেকে সুনাগরিক প্রমান করুন।

(Disclaimer : মনে রাখবেন, আইন কিন্তু ভীষণ কড়া। এতো ভালোভাবে বোঝানোর পরেও যদি ঠান্ডা না হয় তাহলে কিন্তু পুলিশের ডান্ডা…. তখন কিন্তু বলবেন না যে নির্দয় সরকার ছাত্রদের অন্যায়ভাবে পিটাইসে…)

২ thoughts on “হীরক রাজার দেশে

  1. চৌধুরী সাহেব অশেষ
    চৌধুরী সাহেব অশেষ ধন্যবাদ।।।
    অার হে আপনার উপদেশ অনুযায়ী আমার নিজের বই কেনার টাকা জমিয়ে রাখব আমার হবু সন্তানের জন্যে, ডিজিটাল সরকারকে সাহায্য করার জন্যে, শিক্ষার মূল্যায়ন করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *