সত্য জানা উচিত

ধরুন আমি লিখলাম, “মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক দূর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। অর্থাৎ তিনি মানবিক দূর্বলতার বশীভূত হয়ে গুনাহ করেছিলেন।” – আপনি আমাকে কি ভাববেন ? বলবেন হারামজাদা তুই একটা নাস্তিক। ঠিক কিনা ? এমনটা ভাবাই স্বাভাবিক। তারপর ধরুন আপনাকে আরো চুলকানী দিতে আমি লিখলাম, “মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে মনগড়া কথা বলেছেন এবং নিজের কথায় নিজেই সন্দেহ পোষণ করেছেন” এবার তো নিশ্চিন্ত হয়েছেন আমি নাস্তিক। মনে করেন আমি সাইকো নাস্তিক, আপনার ধর্মানুভুতিকে আরো নির্মম ভাবে আঘাত করার জন্য লিখলাম,”হযরত মুহাম্মদ (সা.) রিসালাতের দায়িত্ব পালনে ত্রুটি করেছেন, তাকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।” এতক্ষনে নিশ্চয় আমার গুষ্টি উদ্ধার করেছেন ? আপনার জায়গায় আমি থাকলে, আমি নিজেও করতাম। কিন্তু আপনাকে বলি, থামেন ভাই ! এটা আমার কথা না। আমি এই সব লিখি নাই, এই সব লিখেছেন, জামাতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা জনাব আল্লামা আল্লামা মওদুদি সাহেব। কিন্তু একি !!! আপনি আমার দিকে এই ভাবে তাকাচ্ছেন কেন ? আমাকে ঝাড়ি দিয়া বললেন, ফাইজলামি কথা বলস ? কোন রেফারেন্স আছে ? কোন তথ্য প্রমান আছে ?? আমি আপনার ঝাড়ি শুনে ভয় পেয়ে ঢোঁকগিলে বলব, জী ভাই, আলবৎ আছে। জনাব আল্লামা মওদুদী সাহেবের বেশ কয়েকটি বইয়ে এই রকম বহু উক্তি, মন গড়া বক্তব্য, ধর্ম বিশ্লেষন দেয়া আছে। যেমন প্রথম যে কোটেশনটি দিয়েছি, তা জনাব মওদুদী সাহেবের লিখিত তরজমানুল কোরআন ৮৫ তম সংখ্যা, ২৩০পৃ. ও তরজমানুস্ সুন্নাহ, ৩য় খণ্ড, ৩০৫ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে। তারপর যে কোটেশনটি দিয়েছি তা তরজমানুল কোরআন, রবিউল আউয়াল সংখ্যা, ১৩৬৫ হিজরী থেকে নেয়া এবং সর্বশেষ যে কোটেশনটি দিয়েছি তা তাফহীমুল কুরআন, আল্লামা মউদুদ কর্তৃক সুরায়ে নসর এর তাফসীর থেকে নেয়া হয়েছে। কি ভাই, আমাকে এখনও নাস্তিক ভাবছেন ? মুরতাদ ভাবছেন ? আমি তো লিখি নাই। আমি শুধু এই মহান ধর্মজ্ঞানীর কিছু বই এর লাইন তুলে দিলাম। এতে আপনার ধর্মানুভূতি কি আঘাত করেছে?? এখনও কি আমাকে নাস্তিক মনে হচ্ছে ? জাকাল্লাহ খায়ের। আশা করি মনে হচ্ছে না। কিন্তু আপনার মন খারাপ হয়ে গেল কেন? আপনি কি জামাত শিবির সমর্থক ? ঐ ধর্ম ব্যবসাকারী ? যাদের নেতারা উঠতে বসতে আল্লাম মউদুদীকে তাদের নেতা বলে মানেন ? তাদের গুরু বলে মানেন ? যাদের ভিত্তি ভ্রান্ত ধারনার মধ্য দিয়ে, যাদের ভিত্তি মনগড়া ধর্ম ব্যখ্যা দিয়ে, এবং যেই দলের নেতা প্রিয় নবীকে নিয়ে এই সব নোংরা কথা বলেন, তাদেরকে সমর্থন করবেন আর নবীকে ভালোবাসবেন সেটা হয় না। তারচেয়ে নিজেকে নাস্তিক হিসেবে পরিচয় দিন, নিজেকে মুনাফিক হিসেবে পরিচয় দিন। নিজেকে নবী প্রেমী দাবি করে সত্যিকারে নবী প্রেমিদের অপমান করবেন না। হে জামাত শিবির এবং নিরপেক্ষতার আবরনে ঢাকা শিক্ষিত ছুপা জামাত শিবির- দয়া কইরা পড়েন, জানেন। আমার কথা মানতে হইব না। আমি মূর্খ মানুষ। কষ্ট কইরা পড়লেই জানবেন। নিজের ধর্মকে, নিজের বিশ্বাসকে কিছু ভন্ডদের কথায় প্রভাবিত কইরা ভাসাইয়া দিয়েন না। এই জীবনেও গালি খাবেন পরকালে তো কথাই নাই । সময় থাকতে পিওর হন, সাপোর্ট
দিবে জনগন।

(সংগ্রহিত ও সংকলিত)

৪ thoughts on “সত্য জানা উচিত

  1. জামাতিরা এর সবই জানে। কেবল
    জামাতিরা এর সবই জানে। কেবল জানে না আমার দেশের সাধারণ জনসাধারণ। তাদেরকে জানানোর ব্যবস্থা করাই হবে আমাদের কাজ… আসুন সবাই সর্বক্ষেত্রে চেষ্টা করে যাই..

    1. ভাই আপনি যতই ডাকেন লাভ নাই,
      ভাই আপনি যতই ডাকেন লাভ নাই, আমরা চুতিয়া বাঙ্গালী। ঘুরে ফিরে ছাতিটা ওদের মাথায়ই ধরি…
      আফসোস……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *