পুর্ণিমা রাতের আমাবশ্যা

রাত প্রায় সাড়ে ৩ টা। বাহিরে
কিছুটা ঠান্ডা মৃদু হাওয়া বইছে।
রিহান বারান্দার চেয়ারটায় বসে
পূর্ণিমার বড় চাদটার দিকে তাকিয়ে
আছে। চাদের আলোটা গাছগুলোর উপর
পড়েছে, গাছগুলো মৃদু বাতাসে ছন্দহীন
ভাবে দুলছে।। শুন শান রাতে যখন সবাই
ঘুমিয়ে পড়ে রিহান তখন বারান্দায়
এসে একা একা আকাশের দিকে
তাকিয়ে থাকে।
৪ মাসের আগের কথা………
রিহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ফিনান্স বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র।
ছাত্র হিসেবে অনেক ভাল। বরাবরই
বন্ধুদের নিয়ে মেতে থাকতে ছন্দ করে
ছেলেটি। হাসি-তামাশা-আড্ডা আর
প্রেম করেই কেটেযাচ্ছিল স্বপ্নীল
দিনগুলো। আভা আরেক পাগলী মেয়ে।
যে কিনা রিহানের প্রেমে পড়ে
পাল্টে ফেলেছে নিজেকে।

রাত প্রায় সাড়ে ৩ টা। বাহিরে
কিছুটা ঠান্ডা মৃদু হাওয়া বইছে।
রিহান বারান্দার চেয়ারটায় বসে
পূর্ণিমার বড় চাদটার দিকে তাকিয়ে
আছে। চাদের আলোটা গাছগুলোর উপর
পড়েছে, গাছগুলো মৃদু বাতাসে ছন্দহীন
ভাবে দুলছে।। শুন শান রাতে যখন সবাই
ঘুমিয়ে পড়ে রিহান তখন বারান্দায়
এসে একা একা আকাশের দিকে
তাকিয়ে থাকে।
৪ মাসের আগের কথা………
রিহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ফিনান্স বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র।
ছাত্র হিসেবে অনেক ভাল। বরাবরই
বন্ধুদের নিয়ে মেতে থাকতে ছন্দ করে
ছেলেটি। হাসি-তামাশা-আড্ডা আর
প্রেম করেই কেটেযাচ্ছিল স্বপ্নীল
দিনগুলো। আভা আরেক পাগলী মেয়ে।
যে কিনা রিহানের প্রেমে পড়ে
পাল্টে ফেলেছে নিজেকে।
ভালোই কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো।
রিহান আর আভা ছিলো ভার্সিটিরর
সেটা জুটি। যারা কিনা একে অন্যের
জন্য পাগল।
রিহান ছোটবেলা থেকেই লিভার এর
প্রব্লেম নিয়ে দিন কাটাচ্ছিল।
পড়ালেখার ব্যস্ততা আর নিজের
স্বপ্নীল জীবনের মাঝে সেই রোগটার
কথা ভূলেই গিয়েছিল সে। হঠাত ই
একদিন রিহান দুপুরে বিছানায় সুয়ে
আভার কথা ভাবছিল, এমন সময় তার বুকে
প্রছন্ড ব্যাথা অনুভূত হলো। রিহানের
বাবা এমবুলেন্স ফোন সিলো।তাকে
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো।
ডাক্তার সব টেষ্ট করে রিপোর্ট
করলেন।রিপোর্ট এ রিহানের “লিভার
সিরোসিস” ধরা পড়ল। রিহানের বাবা
ডাক্তারের কথা শুনে নিজের কানকে
বিশ্বাস করাতে পারলেন না। রিহান
আর ছয় মাস বেচে থাকবে। কখন যে
রিহানের জ্ঞান ফিরেছিল ডাক্তার
খেয়াল করেনি। রিহান সব কিছুই শুনতে
পেল।সে আর বেশীদিন এই দুনিয়াতে
নেই। তাহলে সেই পাগলীটাকে কষ্ট
দিয়ে কি লাভ হবে যে কিনা তাকে
প্রানের চেয়েও বেশী ভালোবাসে।
হ্যা, রিহান আভার কথা ভাবছিল।
হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে
রিহান বাসায় এসেছে।খাটের উপর
সুয়ে আভার কথা ভাবছে, এদিকে ৫
দিন যাবত তার ফোন বন্ধ। ভার্সিটি
তে ও যাওয়া হয়নি, ৫ দিন পর আজ
রিহান ফোন অন করলো।
সাথে সাথে আভার ফোন
-হ্যালো
-এই শয়তান তুই কই, ফোন বন্ধ ছিলো কেন,
ভার্সিটি তে আসস নাই কেন, আমার
চিন্তা হয় তুমি জানোনা?? বলেই
কান্না করে দিল আভা
রিহানা আভার উপর খুব রাগ হলো। আভা
কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিহান ফোনটা
কেটে দিলো।
পরের দিন ভার্সিটি তে গিয়ে
রিহান আভাকে অনেক আজে বাজে
কথা বললো, আভার সাথে ব্রেকয়াপ এর
কথা বললো,
আভা কিচ্ছু বুঝতে না পেরে কাদতে
কাদতে চলে গেল।
রিহান এখন আর ভার্সিটি তে যায়না।
সারাদিন বাসায় চুপচাপ বসে থাকে,
আভার দেওয়া গল্পের বইগুলো বার বার
পরে আর রাত যখন গভীর হয় যখন শহরতলী
নিস্তব্ধ হয় তখন বারান্দায় বসে
আকাশের দিকে তাকিয়ে আভার কথা
ভাবে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে আর
ভাবে,,,
আর কয়দিন সে এভাবে আকাশ দেখতে
পাবে???
আজ পূর্ণিমারাতের চাদটাকেও তার
কাছে আমাবশ্যার রাতের নিষ্ঠুর
চাদটার মতই লাগছে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *