জাফর ইকবাল স্যারকে

শাহজালালল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আক্রমণ করেছে। ভিডিওতে দেখলাম ছাত্ররা ‘ধর ধর‘ বলে শিক্ষকদের ধাওয়া করছে। এর নিন্দা জানানোর মত শক্তিশালী ভাষা নেই। কতটা নিচ, কতটা নির্লজ্জ্ব হলে পর কোন ছাত্র তার শিক্ষকের গায়ে হাত তুলতে পারে। আজ্ও ভুলিনি, নবম শ্রেণীতে পড়া শাহ মুহাম্মদ সগীরের কবিতা ‘বন্দনা‘। সগীর শিক্ষকদের শুধু পিতামাতার পরে স্হান দেন নি, বলেছেন তারা আমাদের ‘দ্বিতীয়-জনম‘ দেন। সেই অর্থে শিক্ষক পিতামাতার সমতুল্য।


শাহজালালল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আক্রমণ করেছে। ভিডিওতে দেখলাম ছাত্ররা ‘ধর ধর‘ বলে শিক্ষকদের ধাওয়া করছে। এর নিন্দা জানানোর মত শক্তিশালী ভাষা নেই। কতটা নিচ, কতটা নির্লজ্জ্ব হলে পর কোন ছাত্র তার শিক্ষকের গায়ে হাত তুলতে পারে। আজ্ও ভুলিনি, নবম শ্রেণীতে পড়া শাহ মুহাম্মদ সগীরের কবিতা ‘বন্দনা‘। সগীর শিক্ষকদের শুধু পিতামাতার পরে স্হান দেন নি, বলেছেন তারা আমাদের ‘দ্বিতীয়-জনম‘ দেন। সেই অর্থে শিক্ষক পিতামাতার সমতুল্য।

মানে আছে, ২০০০ সালের আশেপাশে কোন এক বছর,(এগজেক্ট বছরটা মনে নেই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ছেলেরা এক শিক্ষককে গুলিবিদ্ধ করেছিল। জাফর ইকবাল স্যারের হয়তো মনে অাছে। এবারে তাঁর প্রতিক্রিয়া শুনলাম, তিনি ছাত্রদের হাতে মার খাওয়ার চেয়ে গলায় দড়ি দেয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। ২০০০ সালের ঘটনায়ও নিশ্চয় স্যারের মধ্যে এরকম তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। অথবা ঢাকায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ক‘বছর পরপরই যেভাবে ছাত্ররা (নিশ্চয় কোন না কোন সংগঠনের) মেয়েদের বস্ত্রহরণের উতসবে মেতে উঠে, তাতে অন্তত পুরো ছাত্রসমাজ এবং বিবেকবান মানুষদের রাগে-দু:খে-ক্ষোভে রাজপথে নেমে আসা উচিত ছিল। তারা আসে ঘটনার পর ২/১দিন। তারপর ফিরে যায় যারযার রুটিনে পরবর্তী উন্মত্ত ঘটনার আগ পর্যন্ত।

পৃথিবীর কোন দেশে এরকম ক্যাম্পাস দখল, হল দখল করে, মূলত ঠিকাদারী ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ‘মাল‘ কামানো আর রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল হিসেবে ছাত্ররা ব্যবহৃত হয় না। এমনকি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে তাকালেও এরকম দেখা যায় না। অথচ পাকিস্তান আমলে ‘ভাষা আন্দোলনে, সামরিক অাইনের বিরুদ্ধে, এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে‘ গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার দোহাই দিয়ে মান্ধাদাতার আমলের নেতৃত্ব এবং কিছু বাতিল বুদ্ধিজীবি , এখনও ছাত্ররাজনীতি চালু রাখার পক্ষে সাফাই গায়। হেই কোন্ যৌবনে আপনে বীরত্ত্বপূর্ণ ‘একটা‘ কাজ করেছিলেন, এইজন্য আমরা পুরা জাতি ভালোবাসায়, কৃতজ্ঞতায় আপনাদের বংশধরদের কিয়ামত পর্যন্ত লাইসেন্স দিলাম- যাচ্ছেতাই করার জন্য ! বাহ্ চমতকার যুক্তি ! আরে বাবা ষাটের দশকে যারা দেশের জন্য ত্যাগ করেছিল, তারা তো এরা না। যারা ত্যাগ করেছিল, তাদের আমরা মূল্যায়ন করেছি যথেষ্ঠ, আগামী প্রজন্মরাও করবে। ষাটের দশকের অনেক ছাত্রনেতাই (কর্মীরাতো আর উচ্ছিষ্ট পায় !) রাজনৈতিকভাবে, সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে,বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন স্বাধীন দেশে। । এখনও জাতি তাদের স্মরণ করে কৃতজ্ঞতায়।

সুতরাং ছাত্ররাজনীতি বর্তমানে যে ধারায় চলছে স্ট্রেইটওয়ে সেটা বন্ধ করে দেয়া উচিত, কোন বিতর্ক না করে। এটা নিয়ে বিতর্কের কি আছে? অথবা এমনভানে ‘রেগুলেট‘ করা উচিত , যেভাবে মাদক চোরাকারবারীদের আইন দিয়ে রেগুলেট করা হয়। যাতে তাদের কর্মকান্ড খুবই ক্ষুদ্র গন্ডীতে সীমাবদ্ধ থাকে এবং আইনশৃংখলা বাহিনী সহজে এদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ভিডিওতে দেখলাম, পুলিশ অফিসার ছাত্র-শিক্ষক দুদলের কাছে হাত জোর করে মিনতি করছে শান্তির জন্য। কী করুন অবস্হা ! যে পুলিশ পুচকে পকেটমার থেকে শুরু করে বিরোধী দলের চিফ হুইপ , এমনকি কখনো উপনেতার শার্টের কলার অাগে ঝাপটে ধরে, তারপর কথা বলে (শুধু দুই নেত্রী বাকী আছেন) , সেই পুলিশ হাত জোর করছে ! দেখার মত দৃশ্য বটে !

তাই জাফর ইকবাল স্যারকে অনুরোধ , আপনার কলমটা এবার ছাত্ররাজনীতি ব্যবচ্ছেদ করার কাজে ব্যবহার করুন। ছাত্ররাজনীতি সম্পূর্ণ বন্ধ বা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জনমত গঠনে কলম ধরুন। তাহলে দেশের ৩/৪টা মৌলিক সমস্যার অন্তত একটার সমাধান পাওয়া যেতে পারে, যদি শক্তিশালী জনমত এবং জনআন্দোলন গড়ে তোলা যায় ।

৩ thoughts on “জাফর ইকবাল স্যারকে

  1. স্যারের কলম চালু আছে। আমার
    স্যারের কলম চালু আছে। আমার জানামতে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের ব্যাপারে উনি কিছু বলেন নি। বন্ধ নয়, দরকার সঠিক দিক নির্দেশনা। উনি সেটাই করছেন।

  2. @ পথচারী : কেন বন্ধ নয়? ২/৪
    @ পথচারী : কেন বন্ধ নয়? ২/৪ লাইনে ব্যাখ্যা করলে ভালো হত। স্কুলে রচনা পড়তাম। একটা অংশে থাকত ‘উপকারিতা‘ এবং ‘অপকারিতা‘। ছাত্ররাজনীতি আমাদের দেশ জাতি মানুষের কি উপকার করছে? ছাত্ররাজনীতি ছাড়াই তো আমেরিকা-ব্রিটেন ‘বিশ্ব-চালানোর‘ মত নেতৃত্ব তৈরী করছে। এই আবেগে আমাদের খাইলো। অহেতুক আবেগরে ‘বোতলবন্ধী‘ না করা পর্যন্ত আমাদের মুক্তি নাই । আর অামার মাথায় ঢুকেনা, জাফর স্যার ছাত্রনেতাদের কি এমন ‘সঠিক-দিক-নির্দেশনা‘ দিলেন, যে তারা তার গায়ে (এৗ একই কথা) হাত তুলতে উতসাহিত হলো?

  3. ভিডিওতে দেখলাম, পুলিশ অফিসার
    ভিডিওতে দেখলাম, পুলিশ অফিসার ছাত্র-শিক্ষক দুদলের কাছে হাত জোর করে মিনতি করছে শান্তির জন্য। কী করুন অবস্হা ! যে পুলিশ পুচকে পকেটমার থেকে শুরু করে বিরোধী দলের চিফ হুইপ , এমনকি কখনো উপনেতার শার্টের কলার অাগে ঝাপটে ধরে, তারপর কথা বলে (শুধু দুই নেত্রী বাকী আছেন) , সেই পুলিশ হাত জোর করছে ! দেখার মত দৃশ্য বটে !
    ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হোক আমিও চাই। সুন্দর লিখেছেন, ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *