আমার ঘর ছাড়ার গল্প

১১ বছর বয়সের এক বিকেলে বুকে কারো হাতের বিচরন টের পেয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠি ,ঘুম ভেঙ্গে যার মুখ দেখলাম তারজন্য আমি প্রস্তুত ছিলামনা ,কয়েক সেকেন্ড সময় লেগে গেল বিশ্বাস করতে যে আমারি চাচাত ভাই যাকে কিনা আমার আইডল ভাবতাম ,যার হাতের লেখা আমি নকল করার প্রানপণ চেষ্ঠা করতাম ,চেষ্টা করতাম তার মত করে কথা বলতে, বক্তৃতা দিতে সে আমার (তার ছোটবোন) ঘুমন্ত শরীরে নির্লজ্জের মত হাত চালাচ্ছিল এতক্ষণ !অপমানে গা গুলাচ্ছিল আর তাই কিছু নাবুঝেই হাতের কাছে পাওয়া কাঠের তৈরি কুপি বাতির স্ট্যান্ড ছুড়ে মেরেছিলাম তাকে লক্ষ্যকরে , তার কপাল থেকে যখন গলগল করে রক্ত বের হচ্ছিল তখনো বিন্দুমাত্র বিচলিত হইনি আমি। একবারের জন্যও মাথায় আসেনি তার পরিনাম কি হতে পারে!কিন্তু পরিণামটা টের পেলাম তার পরেরদিন সকালে ,জানতে পারলাম রাতে আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে তার বাবা( যাকে আমি বড় আব্বু বলি ) সিদ্ধান্ত দিয়েছে আমাকে মামাবাড়ি রেখে পড়াশুনা করাতে , আমার আব্বু তার বড়ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিল আমার মেয়ের অপরাধটা কি ? তা্র উত্তর নাদিয়ে সে বলেছিল আমার ছেলের কপালের দাগ তোর মেয়ের ইজ্জতের উপর না দেখতে চাইলে ডিসিশনটা ভেবে দেখবি । তারপর থেকে ৬ বছর আমার বাবাকে তারা শান্তিতে ঘুমাতে দেয়নি,ঘুমাতে দেয়নি আমার মা আর ছোট ভাইকেও ,দিনেরপর দিন রটাতে থাকল আমার নামে মিথ্যে গল্প,সমাজের চোখে আমাকে সাজাল নষ্ট মেয়ে ,এলাকার ছেলেরা আমাকে দেখে বলত এই দেখ ডেহাইত (ডাকাত) মাইয়া যায় ,প্রতিদিন বাড়িতে এসে লুকিয়ে কাঁদতাম ,অনুশোচনায় জ্বলতাম কেন আমি সেদিন তার কপাল ফাটিয়ে দিয়েছিলাম , যদি কাউকে না বলে চুপচাপ থাকতাম তাহলে আমাকে এতকথা শুনতে হতনা ,একদিন আব্বুকে জিজ্ঞেস করলাম আব্বু আমি খুব খারাপ করেছি ভাইয়ার কপাল ফাটিয়ে দিয়ে ?আব্বু সেদিন আমাকে বুকে জড়িয়ে শুধু বলেছিল কিচ্ছু খারাপ করিসনি , দেখিস আজ যারা তোকে বিদ্রূপ করে একদিন ঠিক তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে ,আমি অপেক্ষায় থাকি সেই দিনের । পড়তে পারিনা ,পরীক্ষার খাতায় লিখতে পারিনা ,স্কুলে যেতে ইচ্ছে করেনা আমার নামে নতুন নতুন গল্প শুনতে হবে সেই ভয়ে। তারপর শুরু হলো রাস্তাঘাটে ছেলেদের অত্যাচার ! ইচ্ছে করেই সাইকেলের সাথে এসে সাইকেল নিয়ে ধাক্কা লাগাত বখাটে গুলা ।বাড়িতে এসে বললে মা বলত সাইকেল নিয়ে যাওয়ার দরকার নেই , হেটে স্কুলে যাবি কিন্তু আব্বু বলত তোর সাইকেলে ধাক্কা লাগালে তুইও লাগাবি ,তারাও মানুষ তুইও মানুষ । দুয়েকদিন বখাটে ছেলেগুলোর বাড়িতে আমার আব্বু নালিশ করতে গিয়েও নাজেহাল হয় ,তারা বলে তোমার মেয়ে যে গুন্ডা এটা সবাই জানে তার হয়ে নালিশ করতে আস তোমার লজ্জা থাকা উচিত , তাছাড়া মেয়ে মানুষ সাইকেলে করে স্কুলে যায় কেন ?আমার বাবার আর কিছু বলার থাকেনা ,অপদস্ত হয়ে ফিরে আসে । প্রতিটা দিন যন্ত্রনার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করে অবশেষে কোনমতে এস এস সি পাশ করে কলেজে ভর্তি হলাম ,সেখানেও শুরু হয় আমার নামে নতুন নতুন কিসসা কাহিনি,পারা_প্রতিবেশীরা প্রশ্ন তোলে কেন আমি মহিলা কলেজে ভর্তি নাহয়ে কমবাইন্ড কলেজে ভর্তি হয়েছি ? ডেইলি রচিত হয় আমার নামে নতুন নতুন গল্প ,আজ এই ছেলেকে জড়িয়েতো কাল ঐছেলেকে জড়িয়ে । শেষ পর্যন্ত যুদ্ধকরে আর পেরে উঠিনি ,প্রতিদিন বাবা মায়ের এই আতংকে থাকা মুখ দেখে আর সহ্য করতে নাপেরে অবশেষে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম সেদিন ।সেই থেকে শুরু আমার হোষ্টেল জীবন ।
আমার সেই চাচাত ভাইয়ের মেয়ের বয়স এখন ১০ বছর হবে হয়ত , মাঝে মধ্যে আতংকিত হই আমি তাকে নিয়ে ,১০ বছরের বাচ্চা মেয়েটি যে তার বাবার কাছে নিরাপদ তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারেন যার কাছে তার ১১ বছর বয়সী বোন নিরাপদ ছিলনা !

১ thought on “আমার ঘর ছাড়ার গল্প

  1. Hats off to your great dad
    Hats off to your great dad who always stood by you. It’s been ten years I’ve been in the West. Almost every month we hear or read here some story of child abuse by older men , in some cases, by close relative. They call them paedophiles here and literally thousands of them are teeming everywhere.Women’s conditions have not changed as much as their fashion has over the centuries all over the world. It’s still a big problem and big questions need to be asked for our collective failure as a society to eradicatae it.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *