ভারত : গণতন্ত্র, হিন্দুত্ব ও বর্ণতন্ত্রের অব্যাহত যাত্রা !

স্বাধীনতার পর ৬৮ বছরে ভারতের অর্জন কম নয়। গত এক দশকে দেশেবিদেশে তাদের সাফল্যগাঁথা নিয়ে নানা মিডিয়ায় নানা কাহিনী লেখা হচ্ছে। আম্বানী-মিতালদের নাম পাশ্চাত্য গণমাধ্যমে অাজকাল প্রায়ই চোখে পড়ে। বলিউডী সিনেমা বিশ্বজয়ের পথে অলমৌস্ট হলিউডকে ঠেক্কা দিচ্ছে, যদিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরস্কারের স্বীকৃতি তাদের ভাগ্যে খুব একটা জুটে না। স্লামডগ মিলিয়নেয়ারের ভাগ্যে অস্কারের শিকে ছিড়েছিল অবশ্যই ব্রিটিশ পরিচালক ড্যানি বয়েলের কারণে।


স্বাধীনতার পর ৬৮ বছরে ভারতের অর্জন কম নয়। গত এক দশকে দেশেবিদেশে তাদের সাফল্যগাঁথা নিয়ে নানা মিডিয়ায় নানা কাহিনী লেখা হচ্ছে। আম্বানী-মিতালদের নাম পাশ্চাত্য গণমাধ্যমে অাজকাল প্রায়ই চোখে পড়ে। বলিউডী সিনেমা বিশ্বজয়ের পথে অলমৌস্ট হলিউডকে ঠেক্কা দিচ্ছে, যদিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরস্কারের স্বীকৃতি তাদের ভাগ্যে খুব একটা জুটে না। স্লামডগ মিলিয়নেয়ারের ভাগ্যে অস্কারের শিকে ছিড়েছিল অবশ্যই ব্রিটিশ পরিচালক ড্যানি বয়েলের কারণে।

ভারতের এই রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সাফল্যের চিল্লাচিল্লির আড়ালে আরেকটা ভারতীয় চেহারা সমান্তরালে অব্যাহত রয়েছে, যেটা এখনো প্রাচীন এবং পশ্চাতমুখী। প্রথমেই বলা যায় হিন্দু ধর্মের ‘বর্ণ-প্রথা‘ সম্পর্কে। বর্ণ-প্রথা আজও ভারতীয় সমাজকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রেখেছে। এ থেকে মুক্তির আর কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ বর্ণ-প্রথার ধারক-বাহক হিন্দুত্ববাদীরা বছর বছর ধারাবাহিকভাবে শক্তি সঞয় করে চলেছে। ১৯৮৪ সালে বিজেপি সংসদে মাত্র ২টি আসন জিতেছিল, ১৯৮৯ সালে সেটা দাঁড়ায় ৮৫টিতে, ১৯৯১তে ১১৯টি,১৯৯৮তে ১৮২টি। বর্তমানে তারা কোথায় আমরা সবাই জানি।
এক হিসেবে দেখা যায়, ভারতের গুজরাট রাজ্যে (গান্ধী এবং মোদির জন্মস্হান) ৯৮% গ্রাম বর্ণ-প্রথা কঠোরভাবে মেনে চলে। সেখানে দলিত এবং অচ্যুত সম্প্রদায়ের লোকদের উচ্চবর্ণের হিন্দুদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়। ফলে তারা সরকারী সুযোগসুবিধা থেকে থাকে বঞিত। আর এক জরিপে দেখা যায় সমগ্র ভারতে মাত্র ৫% আন্ত:বর্ণের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। যে বছর দিল্লীর বাসে এক হিন্দু ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়, যার ফলে ইন্ডিয়া বিশ্বমিডিয়ার হেডলাইন হয়েছিল, সে বছরই ১৫০০ দলিত মহিলাকে ধর্ষণ করা হয় ,শুধুমাত্র দলিত হওয়ার কারণে। দলিত কোন মেয়ে উচ্চবর্ণ বা অন্য বর্ণের কোন ছেলেকে বিয়ে করলে তাকে ধরে এনে উলঙ্গ করে প্যারেড করানো হয়। তারপর অনেকক্ষেত্রে সেই মহিলাকে ‘লিন্চ‘ বা গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। আর ভারতের শিল্প-বাণিজ্য-মাঝারি-ক্ষুদ্র সকল ব্যবসা বলা যায় ২% বৈশ্যদের হাতে। ১০০জন উচ্চবর্ণের হিন্দু শিল্পপতি ভারতের জিডিপির ২৫% এর মালিক।

হিন্দুত্ব বা মুসলমান সাম্প্রদায়িকতা বা দেশভাগ নিয়ে অালোচনা উঠলেই আমরা জিন্নাহকে দোষারোপ করি দ্বিজাতিতত্বের বিষবাষ্প ছড়ানোর জন্য। এখন দেখা যাক, উপমহাদেশের ভারতীয় কৃতি সন্তান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন কি বলেন এ সম্পর্কে। তাঁর বই ‘দি আরগুমেনটেটিভ ইন্ডিয়ান‘এ তিনি লিখেছেন ‘‘বিনায়েক দামোদার সাভারকার ১৯২৩ সালে ‘হিন্দুত্ব‘ নামে একটি বই লেখেন। বিনায়েক ছিলেন উগ্র-হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা, যাকে ভারতে হিন্দুরা বীর-সাভারকার বলে আখ্যায়িত করে। যদিও মনে করা হয়ে থাকে (ভুল করে) যে মোহাম্মদ অালী জিন্নাহই প্রথম দ্বিজাতিতত্বের ধারণার জন্ম দেন, কিন্ত সত্য ঘটনা হল, জিন্নাহর ১৫ বছর আগে এই সাভারকার ‘হিন্দুত্ব‘ গ্রন্হে ভারতে দ্বিজাতিতত্বের বীজ বপন করেন। হিন্দু এবং মুসলমান – দুটো ভিন্ন জাতি এবং তারা এক সঙ্গে বাস করতে পারবে না এটা সাভারকারই প্রথম জনপ্রিয় করেন। হিন্দুত্ববাদীদের সকল কর্মকান্ডে গান্ধী সমর্থন না করায় হিন্দু উগ্রপন্হী নাথুরাম গডসে তাকে খুন করে। অার এই নাথুরাম গডসে ছিলো সাভারকারের শিষ্য।‘(The Argumentative Indian, Amartya Sen page 51, Penguin Books,2005)

প্রশ্ন হল এটা কিভাবে সম্ভব যে, বিনায়েক সাভারকারের স্হলে আমরা জিন্নাহকে দ্বিজাতিতত্বের জনক হিসেবে জানি। এর কারণ বুঝতে হলে তাকাতে হবে বলিউডী সিনেমার দিকে। একটা বিষয় হিন্দুত্ববাদীরা ইউরোপীয়ানদের কাছ থেকে, আরো পরিষ্কার করে বলা যায়, ফ্যাসিস্ট হিটলারের কাছ থেকে ভালো করে শিখেছে , সেটা হলো ‘একটা মিথ্যাকে বারবার বলা, অার বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তারা নির্জলা মিথ্যাকে সমাজে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে নেয়।‘ যেমন ধরেন বলিউডী প্রায় সকল সিনেমার সকল ‘খলনায়ক‘ হিসেবে মুসলমানরা চিত্রিত হয়ে থাকে, মনে পড়ে , সেলিম ভাই, সোলায়মান ভাই, কাশিম ভাই ইত্যাদি ইত্যাদি। যে ভারতের মুসলমান পপুলেশন মাত্র ১৮% সেখানকার খারপ মানুষের প্রায় ১০০% মুসলমান- এ ধরণের ধারণা যারা দেশেবিদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাদের অামরা যতই সমালোচন্ করি না কেন, তাদের হিটলারী-বুদ্ধির তারিফ না করে পারা যায় না । ঢাকা শহরে টপ-টেরর বা সন্ত্রাসীদের ১০ জনের মধ্যে খুঁজলে অন্তত ২ জন হিন্দু পাওয়া যাবে, যেমন এক সময় ছিল ,এই মুহূর্তে মনে পড়ছে ‘সুব্রত বাইনের কথা‘। মোহাম্মদপুরে ছিল ২ ভাই টপ সন্ত্রাসী, যারা হিন্দু ছিল(নামটা মনে পড়ছেনা) । অথবা জোসেফ সেও হয়তো হিন্দু ছিল। চট্রগ্রাম , খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ইত্যাদি সব শহরেই মুসলমান সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ২/৪টা হিন্দু সন্ত্রাসীও আছে। ভারতের সাথে আমাদের তফাত হলো আমরা বাংলাদেশের মুসলমানরা এই হিন্দু সন্ত্রাসীদের ‘হিন্দু‘ সন্ত্রাসী বলি না, বলি শুধুই সন্ত্রাসী। আমরা এই হিন্দু সন্ত্রাসীদের নাটক-সিনেমায় প্রতিনিয়ত নানা খল-চরিত্রে রুপায়নের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মকে ‘বাঁশ‘ দেয়ার ধান্ধা করি না, যেটা ভারতে ডালভাতের মত করা হয়। আর আমরা দুনিয়াজুড়ে সব ধর্মের মানুষরা তাঁদের বানানো সিনেমা দেখে স্টুপিডের মতো আনন্দে তা-ধিন তা-ধিন নাচি। এ দিক থেকে বলা যায়, ভারতীয়রা আমাদের চেয়ে চালাক , ধূর্ত, ম্যানিপুলেট-বিদ্যায়, পিআর-কারিশমায় পারঙ্গম। এই প্রশংসা তাদের প্রাপ্য। আমরা তাদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। এ বিষয়ে উন্নতি করার জন্য আমরা তাদের কাছ থেকে ট্রেনিংও নিতে পারি !

ভারতীয় মুষলমানদের সেকেন্ড-ক্লাশ জীবন নিয়ে পুরো একটা মহাকাব্য লেখা যায়। সেদিকে আজ আর যাচ্ছিনা। শুধু একটা উদাহরণ দেই তাদের জন্য, যারা কথায় কথায় ভারতের ‘মুসলমান‘ প্রেসিডেন্টের বুলি আওড়ায় আর ‘বলিউডী-খানদের-বাদশাহীর‘ কথা কথা মনে করিয়ে দেয়। তাদের বলি, কষ্ট করে এনডিটিভিতে বারাকা দত্তের সঙ্গে সাঈফ আলী খানের সাক্ষাতকারটা মনোযোগ দিয়ে দেখুন। সাঈফ অত্যন্ত বেদনা নিয়ে বারাকাকে বলেছে যে, সে বোম্বের জুহুতে একটা ফ্লাট কিনতে পারে নি। কেন? কারণ সে মুসলমান, অন্তত নামে। বারাকা দত্ত জানতে চাইলেন ‘ Are you serious, Saif? Saif said ‘yes, I was not sold a flat in Zuhu (Bombay) only because of my religion. Everyone knows about that. The estate agent knows about that’. ভাইয়েরা এই হলো ভারতের গণতন্ত্র আর ধর্ম নিরপেক্ষতার পরাকাষ্ঠা যে একজন সেলেব্রিটি নায়ক বোম্বে শহরের একটি বিশেষ স্হানে ফ্লাট কিনতে পারে না, কারণ সে মুসলমান। সে এৗ এলাকায় থাকলে হিন্দুরা অপবিত্র হয়ে যাবে। এই যদি হয় একজন তথাকথিত সেলেব্রিটি মুসলমানের অবস্হা , তাহলে ভারতে সাধারণ মুসলমানের কী ভয়াবহ অবস্হা তা আপনেরা বিজ্ঞানমনস্করা হিসেব করে নেন !! এই বিষয়টা আরেকটা জিনিস প্রমাণ করে, সেটা হল এই ‘বলিউডী-খানদের-ভুয়া-বাদশাহীকে‘ ভারতীয় মিডিয়া এবং হিন্দু নেতারা ব্যবহার করে ‘মুসলমানদের সামগ্রিক সাফল্যের প্রতীক‘ হিসেবে, মুসলমানদের প্রকৃত সেকেন্ড-ক্লাশ জীবন ঢেকে রাখার জন্য। মুসলমানদের অধিকার বা দুরবস্হা নিয়ে কেউ কিছু বললে বা লিখলে সবাই তেড়ে আসবে ‘আরে ভাই কী যে বলেন, ইন্ডিয়ার সব বড় নায়করা হল মুসলমান !!‘‘ মুসলমান এমপি? সেটা বাংলাদেশের হিন্দু এমপিদের চেয়ে বেশী নয়। মুসলমান মন্ত্রী ? সেই অমুক বছরে একজন ছিলেন – যেটা নিয়ে এখনও সবাই জাবর কাটে। মুসলমানদের সরকারী চাকরি? এই ধরেন ১.৫%-২% এর মধ্যে। মুসলমান পপুলেশন সরকারী হিসাবে প্রায় ১৮% সত্তেও ? হ্যাঁ।

ভারতীয় সমাজের অভ্যন্তরীণ চেহারা, বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠি-বর্ণের মানুষের প্রকৃত অবস্হান জানার কোন সহজ উপায় নাই। কারণ ভারতের ‘কর্পোরেট মিডিয়া‘ আর বলিউডী সিনেমার উদ্দাম নাচ-গান সেটাকে দক্ষতার সঙ্গে আড়াল করে রাখে। জানতে হলে আপনাকে রীতিমত অমর্ত্য সেনের মত গবেষণা করতে হবে। ভারতের এক ‘রিলায়েন্স গ্রুপ‘ ২৭টা টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক। বাকীদের কথা বললাম না। চিন্তা করুন বিষয়টা , একটা বিজনেস গ্রপ ২৭টা টিভি চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করে। তারা সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করবে, নাকি অরুন্ধতী রায়-অমর্ত সেন করবে?

এত কিছুর পরও আমি সব সময় একটা বিষয়ে ভারতের প্রশংসা করি সেটা হলো, তারা অন্তত স্বাধীনতার পর থেকে নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠান করে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের প্রকৃত অবস্হা যাইহোক, নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠান চাট্রিখানি সাফল্য নয়। কিন্ত উপরোক্ত মৌলিক সমস্যাসমূহ সমাধানে ভারতকে সর্বাগ্রে এই সমস্যাগুলোর অস্তিত্ব স্বীকার করতে হবে, যেটা তারা খুব সহসা করবে বলে মনে হয় না। সুতরাং গণতন্ত, মানবাধিকার, সাম্য আর মৈত্রীর পথে ভারতকে এখনও যেতে হবে বহু দূর।

১১ thoughts on “ভারত : গণতন্ত্র, হিন্দুত্ব ও বর্ণতন্ত্রের অব্যাহত যাত্রা !

  1. অমর্ত্য সেন কি বলেছে মুসলিম
    অমর্ত্য সেন কি বলেছে মুসলিম সম্পর্কে সেটি লিখলে , লেখাটা আরও ভাল লাগত ।

  2. @দেবজ্যোতিকাজল : সেটা আপনি
    @দেবজ্যোতিকাজল : সেটা আপনি লিখেন। আপনাদের তো অমর্ত্য সেনের মত লেখকদের রেফারেন্স লাগে না। আপনারা একাডেমিক/পন্ডিতদের রেফারেন্স ছাড়াই প্রতিদিন ‘মুসলমান‘ আর ‘ইসলাম‘ নিয়ে সস্তা উপন্যাসের রুচিহীন ভাষায় যাচ্ছেতাই লিখে যাচ্ছেন ! আপনাদের লেখায় তো কখনো কোন বিশ্বাসযোগ্য রেফারেন্স দেখা যায় না।

  3. হে…হে…হে আপনার লেখা পড়েই
    হে…হে…হে আপনার লেখা পড়েই সেটা বলেছি। মুসলমানদের যারা পাইকারী হারে ম্লেচ্ছদের ভাষায় গালাগালি করে লেখে … তাদেরও তো বাহবা দেন। আবার গঠনমূলক সমালোচনার কথা বলে ব্যালান্স করেন !! হেইজন্যই হে…হে…..হে ওইটা বলছি।

  4. নিজেনিজে ,নিজেকে ছোট করছো
    নিজেনিজে ,নিজেকে ছোট করছো কেনো । পৃথিবীতে তিন শো কোটি পুরুষ আছে ,তারমধ্যে 0.0000009% পুরুষ মানুষ আছেন তারা ধর্ষণ করেন ,তার মানে এইনা গোটা পুরুষ মানুষই খারাপ । তুমি মুসলিম আমি হিন্দু আমরা দুজনই যদি খারাপের বিরুদ্ধে কথা বলি তবে দুজন দুজনার প্রতি আত্মবিশ্বাস স্থাপন হবে ।তবে এই জায়গাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করতে পারি ,তবে কিন্তু সমস্যা থাকার কথা না

  5. এইতো সুন্দর কথা বলেছেন। এরকম
    এইতো সুন্দর কথা বলেছেন। এরকম যুক্তি কে না মানে? কিন্ত আপনি কি করবেন , যখন দেখবেন মুষ্টিমেয় কিছু মুসলমানের (যা সব ধর্মবর্ণেই থাকে,) উল্টাপাল্টা কর্মকান্ডের জন্য পুরো মুসলমান জাতিকে ‘ছাগু‘ বলে এই ব্লগেই কিছু কিছু স্বঘোষিত কান্ট-ডারউইন প্রতিদিন লিখে যাচ্ছে। বাংলা ব্লগগুলো ঘুরলে দেখা যায়, এরা এতই আহম্মক যে আস্তিক মুসলমান মানেই ‘ছাগু‘ মনে করে। অাস্তিকরা যদি ‘ছাগু‘ হয়, তাহলে উপমহাদেশের সবচে বড় দুই আস্তিক গান্ধীজি আর রবি ঠাকুরকেও তাদের কথামত ‘ছাগু‘ ডাকতে হয় ! এদের বিরুদ্ধে কোন শক্তিশালী লেখা দেখি না। কিছু মনে করবেন না, সেজন্যই আমি কিছুটা ক্ষেপে গেছি। প্রতিদিন মুসলমানদের পাইকারী হারে গালাগালি করে লেখা হয়। কেউ কিছু বলে না। আমরা সবাই যদি ‘জাস্টলি এন্ড ফেয়ারলি‘ সবাইকে বিচার করি , তাহলে তো কোন সমস্যা থাকে না, কে হিন্দু কে মুসলমান। লিখেন বা কাজ করেন , যাই করেন, ‘ন্যায়বিচার‘ করা হচ্ছে মানবজন্মের সবচে বড় চ্যালেন্জ। আমাদের কোরানে একটা কথা অাছে , ‘‘ To be just means God-fearing”. ন্যায়বিচারে দৃঢ় থাকাই আমাদের জন্য সবচে বেশী জররুরী এই মূহুর্তে ।

  6. ভারতের এই রাজনৈতিক এবং
    ভারতের এই রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সাফল্যের চিল্লাচিল্লির আড়ালে আরেকটা ভারতীয় চেহারা সমান্তরালে অব্যাহত রয়েছে, যেটা এখনো প্রাচীন এবং পশ্চাতমুখী। প্রথমেই বলা যায় হিন্দু ধর্মের ‘বর্ণ-প্রথা‘ সম্পর্কে। বর্ণ-প্রথা আজও ভারতীয় সমাজকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রেখেছে। এ থেকে মুক্তির আর কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ বর্ণ-প্রথার ধারক-বাহক হিন্দুত্ববাদীরা বছর বছর ধারাবাহিকভাবে শক্তি সঞয় করে চলেছে। ১৯৮৪ সালে বিজেপি সংসদে মাত্র ২টি আসন জিতেছিল, ১৯৮৯ সালে সেটা দাঁড়ায় ৮৫টিতে, ১৯৯১তে ১১৯টি,১৯৯৮তে ১৮২টি। বর্তমানে তারা কোথায় আমরা সবাই জানি।
    এক হিসেবে দেখা যায়, ভারতের গুজরাট রাজ্যে (গান্ধী এবং মোদির জন্মস্হান) ৯৮% গ্রাম বর্ণ-প্রথা কঠোরভাবে মেনে চলে। সেখানে দলিত এবং অচ্যুত সম্প্রদায়ের লোকদের উচ্চবর্ণের হিন্দুদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়। ফলে তারা সরকারী সুযোগসুবিধা থেকে থাকে বঞিত। আর এক জরিপে দেখা যায় সমগ্র ভারতে মাত্র ৫% আন্ত:বর্ণের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। যে বছর দিল্লীর বাসে এক হিন্দু ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়, যার ফলে ইন্ডিয়া বিশ্বমিডিয়ার হেডলাইন হয়েছিল, সে বছরই ১৫০০ দলিত মহিলাকে ধর্ষণ করা হয় ,শুধুমাত্র দলিত হওয়ার কারণে। দলিত কোন মেয়ে উচ্চবর্ণ বা অন্য বর্ণের কোন ছেলেকে বিয়ে করলে তাকে ধরে এনে উলঙ্গ করে প্যারেড করানো হয়। তারপর অনেকক্ষেত্রে সেই মহিলাকে ‘লিন্চ‘ বা গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। আর ভারতের শিল্প-বাণিজ্য-মাঝারি-ক্ষুদ্র সকল ব্যবসা বলা যায় ২% বৈশ্যদের হাতে। ১০০জন উচ্চবর্ণের হিন্দু শিল্পপতি ভারতের জিডিপির ২৫% এর মালিক।

    —– অত্যন্ত বিচক্ষণ কথা । সত্য পরীক্ষিত এবং বাস্তব। ভারত এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। এদিক দিয়ে বিবেচনা করলে বাংলাদেশ অনেক অনেক এগিয়ে আছে ……

    যেমন ধরেন বলিউডী প্রায় সকল সিনেমার সকল ‘খলনায়ক‘ হিসেবে মুসলমানরা চিত্রিত হয়ে থাকে, মনে পড়ে , সেলিম ভাই, সোলায়মান ভাই, কাশিম ভাই ইত্যাদি ইত্যাদি।
    ——– ভারতের অধিকাংশ খল নায়ক চরিত্র তৈরি হয় দাউদ ইব্রাহিমের অনুকরণে। দ্বিতীয়ত কাশ্মির সমস্যার সাথে জড়িত ছবিগুলোতে অতঙ্কবাদীদের পাশাপাশি হিন্দু দালালাদের চরিত্রগুলোও থাকে …।

    যে ভারতের মুসলমান পপুলেশন মাত্র ১৮%

    ——– আরও কম আছে । আসেন বাংলাদেশে ঘুরি —-

    ঢাকা শহরে টপ-টেরর বা সন্ত্রাসীদের ১০ জনের মধ্যে খুঁজলে অন্তত ২ জন হিন্দু পাওয়া যাবে, যেমন এক সময় ছিল ,এই মুহূর্তে মনে পড়ছে ‘সুব্রত বাইনের কথা‘। মোহাম্মদপুরে ছিল ২ ভাই টপ সন্ত্রাসী, যারা হিন্দু ছিল(নামটা মনে পড়ছেনা) । অথবা জোসেফ সেও হয়তো হিন্দু ছিল। চট্রগ্রাম , খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ইত্যাদি সব শহরেই মুসলমান সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ২/৪টা হিন্দু সন্ত্রাসীও আছে। ভারতের সাথে আমাদের তফাত হলো আমরা বাংলাদেশের মুসলমানরা এই হিন্দু সন্ত্রাসীদের ‘হিন্দু‘ সন্ত্রাসী বলি না, বলি শুধুই সন্ত্রাসী। আমরা এই হিন্দু সন্ত্রাসীদের নাটক-সিনেমায় প্রতিনিয়ত নানা খল-চরিত্রে রুপায়নের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মকে ‘বাঁশ‘ দেয়ার ধান্ধা করি না, যেটা ভারতে ডালভাতের মত করা হয়।

    —————– বাংলাদেশে হিন্দুদের জন সংখ্যা কতো ভাই ? পরিসংখ্যানে একটু চোখ বুলান না …

    মুসলমানদের প্রকৃত সেকেন্ড-ক্লাশ জীবন ঢেকে রাখার জন্য। মুসলমানদের অধিকার বা দুরবস্হা নিয়ে কেউ কিছু বললে বা লিখলে সবাই তেড়ে আসবে ‘আরে ভাই কী যে বলেন, ইন্ডিয়ার সব বড় নায়করা হল মুসলমান !!‘‘ মুসলমান এমপি? সেটা বাংলাদেশের হিন্দু এমপিদের চেয়ে বেশী নয়। মুসলমান মন্ত্রী ? সেই অমুক বছরে একজন ছিলেন – যেটা নিয়ে এখনও সবাই জাবর কাটে। মুসলমানদের সরকারী চাকরি? এই ধরেন ১.৫%-২% এর মধ্যে। মুসলমান পপুলেশন সরকারী হিসাবে প্রায় ১৮% সত্তেও ? হ্যাঁ।

    ————– কোনো সন্দেহ নাই ভারতে মুসলীমদের জন জীবন ২য় শ্রেণীর। আর সংখ্যালঘুদের জন জীবন কোন দেশে প্রথম শ্রেণীতে আছে ? মন্ত্রীদের কথা বলছেন — ভারতের রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবুল কালাম আজাদ — বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রপতি কি হিন্দু বা অন্য কোনো সংখ্যালঘু ছিলো কখনও ?

    ভারতের কোথায় মুসলীমদের আনাগোনা নেই বলেন … শিক্ষায় ? খেলাধুলায় ? চলচ্চিত্রে? সংগীতে ? কোথায় নেই ? জ্ঞান-বিজ্ঞানের কোন শাখায় মুসলীমরা প্রবেশ করেন নি ? আর কোন শাখায় তাদের নক্ষত্র জ্বলে নি ? বাংলাদেশের কয়টা শাখা দেখাবেন ? দেখান …এটা টপ মুসলীম সেলিব্রেটিদের লিষ্ট —- http://www.thetoptens.com/most-famous-indian-muslims/

    যেখানে সব থেকে আগে ড জাকির নায়েকের নাম আছে। আজ পর্যন্ত আমাদের দেশে Peace TV র মতো কোনো হিন্দু টিভি করা গেছে কিনা আমার তা জানা নেই …।। জানা থাকলে জানাবেন …।।

  7. ভারতের সংগীতের রড়রড় ওস্তাদ
    ভারতের সংগীতের রড়রড় ওস্তাদ ছিলেন ও আছেন মুসলিম । জাভেদ আক্তার হিন্দি কবি ।তিনি ত হিন্দি গানের সবচে বড় লেখক ।

  8. আমার ইচ্ছে নেই আরেকটা প্রবন্ধ
    আমার ইচ্ছে নেই আরেকটা প্রবন্ধ লিখি এ নিয়ে । তবু আপনি যখন বেশ জোরেসোরে আসলেন , তাহলে চলুন আলোচনা আরেকটু চালাই।
    ১. আপনার শেষেরটা দিয়ে দিয়ে শুরু করি। বাংলাদেশের সবচে বড় এবং পপুলার ক্রীড়া বর্তমানে ক্রিকেট। ছোট দেশ হিসেবে সেলেব্রিটি তৈরীর ক্ষেত্রও আমাদের অনেক কম। ভারত বিশাল দেশ, তাদের সেলেব্রিটি তৈরীর ক্ষেত্র এবং সংখ্যাও বিশাল, এমনকি তাদের পর্ণোগ্রাফিক স্টারও সাউথ এশিয়ায় আমাদের ঢাকাই ফিল্মস্টারের চেয়ে বড় সেলেব্রিটি। যাইহোক সেই ক্রিকেটে একদম শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলে হিন্দু স্টার প্লেয়াররা খেলছে। অলক কাপালী, তাপস বৈশ্য, সৌম্য সরকার – এই নামগুলো অাপনি পাশ কেটে যেতে পারলেন?

    ২য় কথা হল : একটা দেশের মাইনরিটির সার্বিক উন্নতির সূচক কি? সংখ্যালঘু একজনকে ধরে প্রেসিডেন্টের মগডালে বসা্ইয়া দেয়া? ক্রীড়া এবং বিনোদন জগতে সংখ্যালঘু ২/১ জন তারকার সাফল্য? অথবা সংখ্যালঘু গ্রুপ হিসেবে তারা কতটুকু ভাল বা খারাপ সেটা কি একজন দাউদ ইব্রাহিম বা একজন সুব্রত বাইনের উপন নির্ভর করে? ঢাকা শহরের টপ টেররদের একজন ‘সুব্রত বাইন‘। তাহলে অাপনি বলছেন, ঢাকাই মুসলমানরা অধিকাংশ নাটকে হিন্দুদের ‘সুব্রত বাইন‘ হিসেবে চিত্রিত করতে পারে? যেমন আপনারা করেন বোম্বাই ছবিতে? এটা কোন ধরনের যুক্তি দাদা? একজনের পাপের জন্য পুরো একটা জাতিকে শাস্তি ! এ ধরনের যুক্তি বা ফিলোসফি তো আদিম বন্য মানুষের মধ্যেও ছিল না। আমি এটাকে বলি ‘বাঘের-রাজ্যে‘ শেয়াল রাজা। জঙ্গলে বাঘরা মিলে সিদ্ধান্ত নিল স্ট্রাটেজিক কারণে শেয়ালকে তাদের রাজা নির্বাচিতি করবে। রাজনৈতিক-কৌশলগত উদ্দেশ্য হাসিল হবে, আর একটু ফানও হবে। দেখেন না ওবামা কিরকম বেকায়দায় পড়েছে। তাকে হোয়াইট হাউসে বসিয়ে পুলিশ পাখির মত গুলি করে একটার পর একটা কালো নিরীহ ছেলেদের মারছে। অার ‘বিজেপি তো অাকবরের নবরত্ন নয়‘,যে আকবর সংখ্যালঘুর প্রতি গভীর ভালবাসা মমত্ববোধ শ্রদ্ধা থেকে মানসিংহ-টোডামলদের উপযুক্ত স্হানে বসিয়েছিলেন। আকবর ছিলেন পৃথিবীতে ধর্ম নিরপেক্ষতার অগ্রদূত – এটা আমরা মুসলমান নই, সারা দুনিয়ার পন্ডিতরা বলে। বাস্তবতা হল, মুসলমান শব্দটাই এখন কিছু মানুষের গাত্রদাহক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা স্বীকার করে নেয়াই ভাল।

    ৩. অামি মনে করি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক অবস্হান জানার জন্য তাদের সংখ্যানুপাতে শিক্ষা, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, বিশেষ করে সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব,মন্ত্রীপরিষদে তাদের অবস্হান, চাকরিবাকরি (সরকারী-বেসরকারী), ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ ইত্যাদি অাগে বিবেচনা করতে হবে। তারপর দেখা যাবে ‘‘সেলেব্রিটি‘‘ কজন আছে। আফটার অল ‘‘সেলেব্রিটি‘‘ সাধারণ জনগণ খায় না, মাথার তেল হিসেবেও ব্যবহার করে না। সব সমাজে নিচের তলার দিকে বৃহত একটা অংশ থাকে, যারা বলা যায় জীবন-জগত-সমাজে সম্পর্কে কিছুটা ‘বোকাসোকা-মূর্খসূখ্য‘ ‘কাজ করে-খায়-দায়-হাগে-মরে‘ টাইপের , তাদের অালুভালু অার কল্পনার ফানুসে পেঁচিয়ে রাখাই হচ্ছে সেলেব্রিটিদের কাজ। সমাজপতিরা এটাকে ষোল-অানাই কাজে লাগায়।
    এ নিয়ে মনগড়া কথা বলে লাভ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতামত শুনতে হবে, যেমন ধরেন অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী , কী বলেন? ‘আমি বোম্বের নটরাজ বালঠাকরে !‘ আর আমার চৌদ্দগোষ্ঠি বংশপরম্পরায় কুলি মজুরের কাজ করে , এটা কোন্ ধরনের উন্নয়নের সূচক দাদা? এনিওয়ে, দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে ‘বালের‘ নামটা বললেও ভাল হত।

    ৪. বাংলাদেশের হিন্দুদের সংখ্যা এখনও ভারতের মুসলমানদের অনুপাতে এক্কবারে কম নয়, ১২.১%. আমি জানি এই ফিগারও আপনি মানবেন না। তাহলে বলি, লন্ডনে অসংখ্য শিক্ষিত শিখ , যাদের জন্ম ইন্ডিয়াতে, অামাকে বলেছে, যে ভারতীয় সরকারের দেয়া কোন তথ্য বিশ্বাস করো না। ভারতে শিখ এবং মুসলমানদের সংখ্যা সরকারী হিসাবের চেয়ে অনেক বেশী।

    মনে রাখতে হবে , আপনাদের কল্পিত ‘ম্যাস-হিন্দু-মাইগ্রেশনের‘ প্রচারণা সত্ত্বে বাংলাদেশে এখনও ১২.১% হিন্দু। হিন্দুরা কেউ কেউ ভারত যাচ্ছে, আমি কখনো অস্বীকার করি না। কিন্ত সত্য হচ্ছে এৗ ধরনের হিন্দুরা অধিকাংশ নিজেদের দুই দেশের নাগরিক মনে করে। আমি ব্যক্তিগহতভাবে অন্তত ৫ টা হিন্দু পরিবারকে চিনি যাদের সদস্যরা ২ দেশে ভাগাভাগি করে থাকে। বাংলাদেশের হিন্দুরা যদি ‘ব্যবসাবাণিজ্য-শিক্ষাদীক্ষার সুযোগ‘ নিতে ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ভারতকেও তাদের সমান বাড়ি মনে করে, তাহলে আমরা কি করতে পারি ?

    ৫. এখন দেখো, মহাদেশ সাইজের ১২০ কোটি মানুষের বিশাল দেশ ভারতে সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় আসন অাছে ৫৪৩টি। মুসলমান সংসদ সদস্য কতজন? গুণে দেখুন, মাত্র ২৫ বা ২৬ জন।
    এখন ঘুরতে আসেন বাংলাদেশে , ১৬ কোটি মানুষের ছোট দেশ, সংসদে সিট ৩০০টি। হিন্দু ১২.১% (আপনে মানেন অওর না মানেন) । হিন্দু সংসদ সদস্য কত? ২৪ জন। কিছু বুঝলেন?
    ছোট দেশ হিসেবে অামরা তো এক্ষেত্রে আপনাদের প্রায় সমপর্যায়ে অাছি, মানে আমাদের হিন্দুদের জনপ্রতিনিধিত্ব আপনাদের মুসলমানদের চেয়ে অনেকগুণ ভাল, কী বলেন? বাংলাদেশে স্কুল, কলেজে শিক্ষকদের কত পারসেন্ট হিন্দু জানেন? গবেষণা করে নির্ভরযোগ্য গ্রহণযোগ্য তথ্যসূত্র নিয়ে আসেন। অাপনাকে আশ্বস্ত করতে পারি সেটা কোন অবস্হাতেই ২০% উপরে বৈ নিচে নয়। কোন কোন স্কুল-কলেজে এমনকি ৫০%। আমার স্কুলে টিচার ৫০% হিন্দু ছিলেন, কলেজে ৪০%এর কম নয়।
    এক কাজ করেন , আপনি আমাকে দিল্লী ব বোম্বের কোন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুসলমান ছাত্র- শিক্ষকদের একটা তালিকা দেন, আর আমি দেব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। রাজী? চলুন গবেষণা এবং ফান দুটো একসাথে হয়ে যাবে ! শুধু স্কুল-কলেজ নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও হিন্দুদের ব্যাপক সংখ্যায় উপস্হিতি আপনাকে শুধু অবাক করবে না, আপনার পিলে চমকে দেবে।

    সবশেষে একটা প্রস্তাব। বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বাংলা নিয়ে। সত্যজিত রায় সম্পর্কে কে না জানে? তাঁর মতো হিমালয় মাপের মানুষ উপমাহদেশে বিরল। অামি ধরে নিয়েছিলাম তাঁর মনটাও নিশ্চয়ই সুনামের মত বিশাল ছিল। যাইহোক , প্রস্তাবটা হল : অামি এবং অাপনি সত্যজিতের ১০টা সিনেমা এবং ঢাকাই সিনেমার মান যেহেতু খুব ভাল না, আমরা এখান থেকে দেখব ‘ঢাকাই ১০াট নাটক‘। শুনেছি কলকাতার কেউ কেউ ঢাকাই নাটক পছন্দ করে।
    সত্যজিতের ১০টি সিনেমায় অভিনয় করা/কাজ করা শিল্পী-কলাকুশলী-টেকনিশিয়ানসহ সব ধরনের বিষয়ে যারা কাজ করেছেন, তাদের মধ্য থেকে ‘মুসলমান‘দের সংখ্যা নির্ণয় করব।
    তারপর ঢাকাই ১০টি নাটকে অভিনয়/কাজ করা শিল্পী-কলাকুশলী-টেকনিশিয়ানসহ যারা কাজ করেছেন , তাদের মধ্য থেকে ‘হিন্দু‘দের সংখ্যা বের করব। তারপর আমারা
    তুলনা করব পশ্চিম বাংলা এবং বাংলাদেশে যথাক্রমে হিন্দু এবং মুসলমানদের অন্তত সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব কতটুকু । অল্প হলেও একটা ধারণা পাওয়া যাবে।
    শেষ করব , এই বলে , আমি খুব মনোযোগ দিয়ে, সময় নিয়ে , সত্যজিতের ২০টা সিনেমা দেখেছি, বাংলাদেশের এক ববিতা ছাড়া আর পশ্চিম বাংলার কোন মুসলমান শিল্পী-কলাকুশলী-টেকনিয়ান এমনকি প্রোডাকশন পর্যন্ত মুসলমান দেখিনি। পশ্চিম বাংলায় মুসলমানদের সংখ্যা কত? তাদের মধ্য থেকে একজনও কি নেই যারা শিল্পসংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত !
    জানি আপনি এটাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবেন, সত্যজিত কত মহান ছিলেন , তার লেকচার দেবেন, সত্যজিত এত মহান ছিলেন যে তার সিনেমায় কে কোন চরিত্রে কাজ করেছে, তার খেয়াল ছিলনা ….. ইত্যাদি ইত্যাদি বলবেন … । বাংলাদেশে সবচে গরীব মানুষরা শহরে রিক্সা চালায় অথবা ভিক্ষা করে। আসেন দেখেন তাদের কত পারসেন্ট হিন্দু?

  9. সর্বশেষ যখন চেক করি ‘পিস
    সর্বশেষ যখন চেক করি ‘পিস টিভির‘ সঙ্গে ভারত সরকারের বা ভারতের সংশ্লিষ্টতার কোন প্রমাণ পাই নি। পিস-টিভি চালু হয় ২০০৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে, দুবাইতে। হেডকোয়ার্টারও দুবাইতে। যে স্যাটেলাইট তারা ব্যবহার করে সেটি ভারতীয় নয়, সেটার নাম হলো ‘‘অারবস্যাট‘‘। একটাই যোগসূত্র ড. নায়েকের জন্মস্হান বোম্বে। দেটস ইট, নাথিং মৌর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *