ভালো জনতা, মন্দ নেতা

‘প্রথমে বেছে নিতে হবে রাজা, তারপর সম্পদ , তারপর স্ত্রী‘ – সংস্কৃত এই প্রবাদটির যথার্থতা যৌক্তিকতা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করার জন্য বাংলাদেশের চেয়ে উপযুক্ত স্হান খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। হয়তো আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকাতে দু‘একটি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ আছে। স্পষ্টতই বোধগম্য প্রবাদটির সারকথা হলো শাসক ভালো না হলে সম্পদ এবং স্ত্রী কোনোটাই রক্ষা করা যায় না। দেশের বর্তমান পরিস্হিতিতে আবারও মানুষ হাড়ে হাড়ে তা টের পাচ্ছে। রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব-কর্তব্য-সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় চীতকার চেচামেচি করে সর্বত্র-সার্বক্ষণিক বিতর্ক্, আলোচনা সমালোচনা শোনা যায়। এতে আমরা বেশ পুলক এবং তৃপ্তি বোধ করলেও এর প্রভাব তাদের আচরণে মোটেই পরিলক্ষিত হয় নি গত কয়েক দশকে। কিন্ত নাগরিক দায়িত্ব বলে তো একটা জিনিস আছে। যোগ্য আপন শাসক বেছে নেয়া কী সেই দায়িত্বের আওতায় পড়ে না? এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্কে আমরা কতটুকু সময় ব্যয় করি? এ বিষয় নিয়ে মিডিয়াতে আদৌ কী কোনো বিতর্ক্ আমরা কখনো দেখেছি? আমরা কী সেই দায়িত্ব (সততা নিষ্ঠার মতো বিরল বিলাসী উপকরণের কথা নাই বা বললাম) পালন করছি?
দেশে লাগামহীন রাজনৈতিক দুর্বৃ্ত্তপনা, সন্ত্রাস দুর্ণীতি চলছে দশকের পর দশক ধরে। ঈদ-পূজোর মতো এসব ঘুরেফিরে আসছে আমাদের জীবনে। ফরাসীরা এটাকে বলে ‘ডেজা-ভ্যু‘। অধিকাংশ ভালো মানুষেরা নির্লিপ্ত, অসহায়, চার দেয়ালে বন্দী, বলা যায় আশপাশ সম্পর্কে নিস্পৃহ, নির্মোহ। পরিবর্তনের কোন আশা নেই- সেটা তারা বহু আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে হাতপা গুটিয়ে বসে আছেন কোন মিরাকলের আশায়!! তারা অবশ্য বছর বছর দেশের রাজনৈতিক অবস্হার ক্রমাবনতিতে ঘরোয়া বৈঠকে-আড্ডায় গভীর দু:খ প্রকাশ এবং রাজনীতিবিদদের কঠোর সমালোচনায় নিজেদের নিয়ত নিয়োজিত রাখেন। ওদিকে গুটিকয়েক সন্ত্রাসীদের প্রভাব যেন বছর বছর জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
আমি মাঝেমধ্যে বন্ধুদের বলি এমনকি সবচেয়ে পাষাণ-হৃদয় জঘন্য অপরাধীও অবচেতনমনে অপরাধকে ঘৃনা করে। এটা বোঝা যায় আমরা যখন সিনেমাতে যাই। সিনেমার পর্দায় নায়ক যখন খলনায়ককে ঢিসুসঢিসুম উত্তমমধ্যম দেয় – তখন হলে উপস্হিত ১০০% দর্শ্কই আনন্দে প্রায় নাচানাচি করে। কেউকেউ হাততালি দেয়, কেউ সিটি দেয়। এমনকি পর্দার ভিলেনকে নিজেরাও দুচারটে লাথিগুতো দেয়ার জন্য কারো হাত পা নিশপিশ করে। দর্শকদের মধ্যে অবশ্যই বাস্তবজীবনের দুচার‘টে খলনায়কও থাকে। সন্ত্রাসীরাও তো সিনেমা দেখে! তারাও নিশ্চয় অন্যান্য দর্শকদের সাথে হাততালি দেয়। সিনেমার মতো এই যে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের এতো আবেগ, এতা কান্না আর সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তির দাবীতে সোচ্চার হওয়া – তারপরও কিভাবে রাজনৈতিক দলগুলো এ ধরণের ঘটনা বারবার ঘটানোর সাহস পায়? কারণ হতে পারে যে তারা জানে সাধারণ মানুষের এই আবেগে শীগগীরই ভাটা পড়বে। নেতারা জানে তারা নিজেরা সংখ্যায় স্বল্প হলেও ব্যক্তিক-শ্রেণীক-দলিক-গৌষ্ঠিক স্বার্থে নিবেদিত সংগঠিত। আর ভালো জনতা সংখ্যায় অযুত হলেও অসংগঠিত। তারা ভালো করেই জানে কয়েকশত এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে কয়েকডজন সংগঠিত মানুষের শক্তি অসংগঠিত লাখো মানুষের শক্তির চেয়ে অনেক বেশী। সাধারণ মানুষরা হাটে-মাঠে-ঘাটে-বাটে দেশের পরিস্হিতির জন্য মাতম করছে , দেশটার একী দশা হলো বলে হায়হায় করছে- প্রতিবাদ করছে গণমাধ্যমে, ঘরেবাইরে রেস্তোরায় আড্ডায় চায়ের কাপে ঝড় তুলছে। কিন্ত এর কানাকড়ি মূল্য নেই সংগঠিত শক্তির কাছে, যদি না জনগণ সেটাকে কার্য্করী শক্তিতে রূপান্তরিত করে ফলপ্রসূ করতে পারে।
যদি না আমাদের রাগ-দু:খ-শোককে ইতিবাচক শক্তিতে রূপ দেয়া যায় এবং সঠিক, যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ে নির্বাচনে যদি সেই শক্তি প্রতিফলিত না হয় – তাহলে সেটা শুধু শক্তির অপচয় নয় তা সরকারী-বিরোধীদলের কুশীলবদের তাদের রুটিন ধ্বংসাত্বক কর্মকাণ্ডে উতসাহিত করে। এটা বোঝা কোনো রকেট সাইন্স নয়। প্রায় ছাগলের সাইজের ছোট্র এক হায়েনা এক পাল হরিণকে তাড়া করছে – এই দৃশ্য আমরা টেলিভিশনে হরহামেশাই দেখি। হরিণের পাল যদি সংঘবদ্বভাবে রূখে দাঁড়ানোর সাহস পেত তাহলে একটামাত্র হায়েনার হাত থেকে বেঁচে যেত। কিন্ত ভীতসন্ত্রস্ত হরিণপাল হায়েনাকে দেখামাত্রই দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে ছুটতে থাকে। এক হরিণ আরেক হরিণের দিকে তাকানোরও ফুরসত পায় না। বাউল আব্দুল করিমের ভাষায় ‘হারাজিতা ছুবের মাঝে কে কার পানে চায়?‘ আমরা সাধারণ জনগণের অবস্হাও হয়েছে সেই ভীতসন্ত্রস্ত হরিণপালের মতো। সংঘবদ্বভাবে দুচারজন সন্ত্রাসী আমাদের ধাওয়া করছে আর আমরা তাদের সংঘবদ্ধভাবে মোকাবেলা করার পরিবর্তে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য হয়ে যে যেভাবে পারছি পালাচ্ছি। কিন্ত পালাতে কী পারছি?
আজ সময় হয়েছে আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করার। যোগ্য নেতা নির্বাচনের গুরুত্ব এবং তাতে ব্যর্থ্ হওয়ার খেসারত উপলব্ধি করতে আর কতকাল আমাদের ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়? আমরা সাধারণ নাগরিকরা জেনে না জেনে অবচেতনে সন্ত্রাসের, সন্ত্রাসীদের মাহাত্ব্য প্রচার প্রসারে কোন ধরণের ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছি না তো? ছোটবেলা দেখেছি পাড়ামহল্লায় মুরব্বীরা বিচারসালিশ করছেন। তাঁদের স্হান এখন তাদেরই নাতিপুতির বয়সী পুঁচকে সন্ত্রাসীদের হাতে। পাড়ামহল্লায় কোন সমস্যা হলে সজ্জ্বন বলে পরিচিত লোকজনকেও বলতে শোনা যায় ‘কান-কাটা-কাছিম ভাই‘ বা ‘কানা মাছিম ভাইর‘ কাছে যেতে হবে! সন্ত্রাসীদের এই সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা সত্যিই আতকে উঠার মতো ভয়াবহ ব্যধি। এমনকি কোন কোন পরিবারের পিতা,মাতা ভাইবোনরাও তাদের সন্ত্রাসী ছেলের জন্য গর্ব্বোধ করে এবং এ থেকে যতটুকু সম্ভব ফায়দা লুটার নির্ল্জ্জ চেষ্টা করে।
নির্বাচন এলে আমরা তথাকথিত ‘ভালো জনতা‘ কী করি? আমরা কী চর্বিওয়ালা-টাকাওয়ালা প্রার্থীদের ছিটিয়ে দেয়া উচ্ছিস্ট সংগ্রহে অহোরাত্র দৌড়ঝাপ করি না? একটা মুরগীর দামে আমরা কী প্রার্থীর সুচরিত্র-সুশিক্ষা-দেশপ্রেমের মতো বিরল গুণাবলীকে বিসর্জন দেই না? বিনিময়ে কী করি? ভোটবাণিজ্যে মত্ত হই! যোগ্য শাসক বেছে নিতে আমরা কী কোন বাছবিচার করি? যদি নাই করি তবে তার পরিণাম দেখে ডরাই কেনো?
দেশে সন্ত্রাসের একটা বড় উতস হলো ছাত্ররাজনীতি। কিন্ত প্রশ্ন হলো কত পারসেন্ট ছাত্র সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত? জানি অনেক গুরুত্বপূর্ণ্ বিষয়ের মতো এ নিয়েও দেশে কোন গবেষণা-জরিপ হয় নি। একই কারণ । এগুলো করে কী লাভ? ইংরেজী ভাষায় ‘অ্যাকুইসেন্স‘ বলে একটা শব্দ আছে যার্র অর্থ্ কোন কিছু বিনা প্রতিবাদে কিন্ত অনিচ্ছায় অসন্তষ্টচিত্তে গ্রহণ করা। আমাদের দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্হিতি ব্যাখ্যায় এই শব্দটা্ বেশ জুতসই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যা অন্তত পঁচিশ হাজার। তাদের কত পারসেন্ট ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়? কতজন ছাত্রসংগঠনগুলোর সক্রিয় সদস্য? কত পারসেন্ট মিটিংমিছিলে অংশগ্রহণ করে? ঢাকসু চত্ত্বরে, টিএসসি চত্ত্বরে , অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বাংলাকে পশ্চাতদিকে নেয়ার উদ্দেশে আয়োজিত বিভিন্ন মিটিংএ কত পারসেন্ট ছাত্র অংশগ্রহণ করে? এ ধরণের দু‘একটি মিটিংএ তামাশা-দেখা-দর্শক হওয়ার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছে। দেখেছি ৫০ জন ছাত্রও হবে না। এই গুটিকয়েকের ভয়ে পঁচিশ হাজার ছাত্র থাকে সন্ত্রস্ত। কেনো? উত্তর সহজ – ওরা সংগঠিত আর এরা সংগঠিত নয়। এটা ঠিক আমরা অসংগঠিত, ভীত। কিন্ত উল্লেখিত ফ্যাক্টসগুলো কী প্রমাণ করে না যে এদের ভয় পাবার কিছু নেই?
নীতি-আদর্শের তোয়াক্কা না করে যদি বারবার ক্ষমতায় আসা-যাওয়া করা যায়, তাহলে নীতি-আদর্শের চর্চা না করার জন্য রাজনীতিবিদরা কি পুরোপুরি দায়ী? যারা তাদের নির্বাচিত করেন সেই ভালো জনতার(!) কি কোন দায় নেই? একজন দুর্ণীতিবাজ বা বোমাবাজ সাংসদের বারবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়াকে আমরা কিভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি? ২০০১ সালের দুর্ণীতিবাজ এমপি যখন ২০০৮ সালেও নির্বাচিত হন তখন তো তিনি সেটাকে পূর্ব্বর্তী আমালের দুর্ণীতির পুরস্কার হিসেবে গণ্য করতেই পারেন ! ৯৬ সালের বোমাবাজ এমপি ২০০৮ সালে যদি দ্বিগুণ ভোটে আবারও নির্বাচিত হন তাহলে তো তিনি বিপুল উদ্যমে আরো বেশী সন্ত্রাসীতে লিপ্ত হবেন-ই! সাধারণ জ্ঞান এবং অঙ্কের হিসেবে সেটা নিয়ে বিস্মিত হবার কিছু নেই। এইজন্যই দেশের নেতারা আজ নীতিহীন-আদর্শহীন রাজনীতির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এটাকেই বলে স্ট্যাটাস-কো। এই স্ট্যাটাস-কোর খাদে পড়ে পাবলিকের অবস্হা হয়েছে ম্যাশড্ পটেটোর মতো।
এই স্ট্যাটাস-কো‘তে চির ধরাতে হলে ভালো মানুষদের গণহারে রাজনীতি থেকে পলায়ন বন্ধ করতে হবে। তাদেরকে ফেরাতে হবে রাজনীতির সম্মখসারিতে। সৈয়দ মুজতবা আলী এক সময় লিখেছিলেন ‘আমার মতে জগতটাতে ভালোটারই প্রাধান্য/ মন্দ যদি তিন-চল্লিশ ভালোর সংখ্যা সাতান্ন‘। রাজনীতিবিদদের নীতি-আদর্শ্-কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা যেভাবে আলোচনা-সমালোচনা করি ঠিক সেভাবে নাগরিকদের নীতি-আদর্শ্-কর্মকাণ্ড-ভোটাধিকারের সুষ্ঠু প্রয়োগ ইত্যাদি বিচার-বিশ্লেষণ করার আজ সময় হয়েছে। সভ্য-ভব্য সমাজ গঠন কোন একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠনের ডিলারশিপ নয়। এই দায়িত্ব যেমন সবার তেমনি এর ব্যর্থতার দায়ও সবাইকে বহন করতে হবে। রাজনীতিবিদদের গালি দিয়েই আমাদের দায়িত্ব সেরেছে ভাবলে এই চোরাবালি থেকে উদ্ধারের কোন পথ পাওয়া যাবে না । আমরা সাধারণরা কি উপযুক্ত যোগ্য শাসক বেছে নেয়ার সেই পবিত্র দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করছি?

৪ thoughts on “ভালো জনতা, মন্দ নেতা

  1. বাংলাদেশে উপযুক্ত শাসক আদৌ
    বাংলাদেশে উপযুক্ত শাসক আদৌ আছে কী ????????
    মনে কিছু করোনা , মুসলিমদের দিয়ে আর যাই হোক দেশ শাসন চলেনা ।কেনো? ব্যাখ্যা দিলাম না ।

  2. দেখেন ভাই, ‘গন্ধ বাতাস‘ আপনার
    দেখেন ভাই, ‘গন্ধ বাতাস‘ আপনার সঙ্গে বিতর্ক করার ইচ্ছে বা রুচি কোনটাই আমার আর নেই। আপনি ‘মুসলিম‘ বলে স্টেরিওটাইপড লেখা লেখেন। মুসলিমদের প্রতি আপনার এত গোস্বা কেন? কিছুটা বুঝতে পারি। কিন্ত আপনার মন্ত্রব্য, ভদ্রভাষায় বললেও, শুধু রুচিহীন কুপমন্ডুকতা নয়, এটা মূর্খতার পরিচয়। মুসলিমরা ১০০০ বছর ভারত শাসন করেছে এটা কি ভুলতে পারেন না? এখনও কি আপনাদের ‘মেয়েলী পৌরুষে‘ লাগে? ইংরেজরা এটাকে বলে Bigoted Opinion. আপনি সেইরকম একজন। আমি ভুলে গিয়েছিলাম আপনার নামেই রয়েছে ‘গন্ধ‘ , সেটা যে দুর্গন্ধ তার ভালোই প্রমাণ দিলেন।

  3. লেখাটা খুবই যুগোপযোগী, কিন্তু
    লেখাটা খুবই যুগোপযোগী, কিন্তু এইসব বাণী সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌছানোর দায়িত্ব নিতে হবে, সাধারণ সবাই তো আর ব্লগগুলো ঘুরে বেড়ায় না, আপনারা লিখেই শেষ, আর আমি পড়েই শেষ, তাহলে এই ভাল কথাগুলোর যথার্থ সুফল কিভাবে আশা করতে পারি। তারপর সহজেই দেখাযায়, ভালা সৎ রাজনীতিবীদদের মূল্যায়ন সব জায়গায় কম, কি পার্টি কি জনগণ। আমাদের দেশে একটা ব্লকের মেম্বারশীপ নির্বাচন করতেও কয়েক লক্ষ টাকার বেগ সামলাতে হয়, ভাল উচ্চপর্যায়ে চাকরিতে ডুকতে হলে লাগে বিশাল অংকের টাকা, মামা, চাচা, কে কিভাবে দায়ী?
    ভুল বলে ফেললে ক্ষমা করবেন,

  4. @ নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন :
    @ নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন : ‘সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছানো‘- কথাটা চমতকার বলেছেন। পুরোপুরি একমত। মাত্র গতকাল সন্ধায় এক বন্ধুর সঙ্গে এটা নিয়েই আলাপ হচ্ছিল। আমারা কিছু মানুষ লিখি আর কিছু মানুষ পড়ি- তাতে পাবিলিকের কিছ্ছু যায় অাসেনা। বন্ধুকে আমার উত্তর ছিল , আমরা যত বেশী সংখ্যক মানুষ এই ধরনের কথাবার্তা যত বেশী মাধ্যমে যত বেশী সংখ্যক সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব তত তাড়াতাড়ি পরিবর্তন আসতে পারে। সত্যি কথা বলি ভাই, আমি একজন অাশাবাদী মানুষ। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি , এমনকি খারাপ মানুষকেও কখনোসখনো পরিবর্তন করা যায়। কিন্ত এই পরিবর্তনের জন্য সর্বপ্রথম একদল মানুষকে আগাইয়া আসতে হবে- সময় দিতে হবে দেশের জন্য – প্রচন্ড পরিশ্রম করতে হবে- ত্যাগ স্বীকার করতে হবে- । আমরা কেউ কখনো সাধারণ মানুষকে সহজ করে বোঝানোর – বা উজ্জীবিত করার চেষ্টা করিনা – আবার তাদের দোষারোপ করি – এটা ঠিক নয়। অামার মাতে এটার জন্য যতদিন না আমরা নিজেরা কিছু সেকরিফাইস করব ততদিন কিছু হবে না। To everything there is a price. লেখালেখি করেই অামি শেষ করতে চাই না। সরাসরি কাজ করতে চাই। এবং সেক্রিফাইসও করতে চাই, শুধুমাত্র নিজের বউ-বাচ্ছা-স্ত্রী-পুত্র-পরিবারের সেবা করে মরতে চাই না। আমি যদি ব্যাংকে তাদের জন্য ৫ কোটি রেখে যাই, তার অর্থ নয় যে তারা ৫ দিন বেশী আমার কবরে গিয়ে দোয়া করবে !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *