ব্লগ এলায়েন্স এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ইস্টিশন।

শৈশবে যখন বড় ভাইবোনরা স্কুল ইউনিফর্ম পড়ে, পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে পরিপাটি হয়ে স্কুলে যেত তখন আমারও খুব ইচ্ছে হত তাদের সাথে স্কুলে যেতে। প্রায়দিনই কান্না জুড়ে দিতাম। পড়াশুনার প্রথম পাঠ মায়ের কাছে শেষ হলেও বয়সের কারণে আমাকে স্কুলে ভর্তি করা হত না। অবশেষে আমার আগ্রহ এবং কান্নার যন্ত্রনায় বাবা আমাকে নিয়ে গেলেন স্কুলে ভর্তি করাতে। তখনকার দিনে এখনকার মতো এত রং বেরংয়ের কিণ্ডারগার্টেন ছিল না বাড়ীর কাছাকাছি প্রাইমারী স্কুলই ভরসা। বাবা আমাকে সাথে নিয়ে হেডমাষ্টারের রুমে গেলেন। হেডমাষ্টার আমার দেখে বললেন- ” হক সাব পুলাতো ছুডু। ক্যামনে ভর্তি করুম, এটিও সাব জামেলা করব।” বাবা স্যারকে বুঝালেন আমি সব পারি। স্যার অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করে আমাকে পরীক্ষা করলেন। আমি সব পারায় তাকে বেশ চিন্তিত মনে হল। তারপর আমাকে লক্ষ্য করে বললেন- “ডাইন হাত মাথার তালু বরাবর উপ্রে দিয়া বাম কানের লতিতে ধর।” আমি কিছু না বুঝে হা করে তাকিয়ে রইলাম। কিছু না বুঝলেও হাত আর কান শুনে বুক দুপদুপ করতে লাগল। স্যার আমার অবস্থা বুঝতে পেরে “বুইজ্জ না, এই রহম কর” বলে নিজেই নিজের ‘ডাইন হাত মাথার তালু বরাবর উপ্রে দিয়া বাম কানের লতিতে’ ধরলেন। কেন বললেন তা বুঝতে না পারলেও ব্যাপারটাতে বেশ মজা পেলাম। কিন্তু স্যারকে অনুকরণ করতে গিয়ে বাম কানের লতির নাগাল পাচ্ছিলাম না। ঘাড় বাকিয়ে, মাথা কাত করে কোনো রকমে নাগাল পেলেও স্যার বাবাকে বললেন- “এমনে অইব না,ওর ইস্কুলে ভর্তির বয়স অয় নাই, সামনের বার আসেন।” স্যারের কথা শুনে আমার বুক ফেঁটে কান্না আসছিলো, নিজেকে খুব অপমানিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু আত্মসম্মান বোধটা খুব বেশি হওয়ায় স্কুলে কান্না করি নি। বাড়ি ফিরেই মায়ের কোলে মুখ বুঁজে আমার সে কি কান্না! মা আমাকে যতই বোঝায় আমার এক কথা, আমি সব পেরাছি তবুও কেন আমাকে স্কুলে নেয়া হবে না? আমার শিশুমনে সেদিন অপমানের যে দগদগে ঘা তৈরি হয়েছিল তা দুনিয়ার কোনো এ.টি.ই.ও সাব, হেডমাষ্টার দূর করতে পারেন নি।

ইস্টিশন!! তুমি অপ্রাপ্ত বয়স্ক! নাবালক! বয়সের যোগ্যতায় তুমি উত্তীর্ণ হতে পার নি, তাই ব্লগ এলায়েন্সে তোমার স্থান নেই! তুমি আবার আন্দোলনে অংশ নিতে চাও! আক্কেল দাঁত দূরে থাকুক এখনও দুধ দাঁতই তোমার উঠেনি, নাক টিপলে মুখ দিয়ে হড় হড় করে দুধ বেরোবে। এত সাহস তুমি কোথা থেকে পাও ছোকড়া?

বিভিন্ন ব্লগের সম্মানিত হেড মাষ্টারদের বলছি, অতি দ্রুত আপনাদের ব্লগ নীতিমালায় কিছু বিষয় যুক্ত করুন। এই যেমন-
১. ব্লগে প্রবেশের বয়সসীমা নূন্যতম ১৮ বছর হতে হবে।
২. রেজিষ্ট্রেশনের সময় থেকে পরবর্তী এক বছর কোন প্রকার মন্তব্য করা যাবে না। এসময়টাকে পঠনকালীন সময় হিসেবে আখ্যা দেয়া যেতে পারে।
৩. পঠনকালীন সময় শেষ হওয়ার পরবর্তী একবছর শুধুমাত্র মন্তব্য করা যাবে।
৪. মন্তব্যকালীন সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দু’কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবিসহ জাতীয় পরিচয় পত্রের সত্যায়িত কপি অথবা আইডি নম্বর জমাদান সাপেক্ষে পোস্ট দেয়া যাবে।
৫.উল্লেখ্য ব্লগে পোস্ট দেয়ার নূন্যতম বয়সসীমা ২০ বছর।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনেক শিশু কিশোর অংশগ্রহণ করেছেন। জীবনবাজি রেখে দেশের প্রতি ভালোবাসার টানে তারা লড়ে গেছেন। বয়সের মানদন্ডে তারা নাবালক হলেও দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কতর্ব্যবোধে তারা নাবালকত্বের পরিচয় দেন নি। সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করে আমাদের পাথেয় হয়েছেন। শাহবাগ আন্দোলনেও এরকম বহু নাবালক রয়েছেন। হেফাজতীরা যখন শাহবাগের দখল নিতে এসেছে তখন অনেক পুলিশ ভয়ে দৌঁড়ে থানার ভেতরে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু সাত-আট বছরের কয়েকজন যোদ্ধাকে দেখলাম সামনের সাড়িতে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে। এদেরই একজন হৃদয়। দল বেঁধে মিছিল করে আর সেই মিছিলে স্লোগানের লিড ধরে হৃদয়। রুমী স্কোয়াডে অনশনকালে প্রতিরাতে আমাদের জড়িয়ে ধরে ঘুমাত সে। রুমী স্কোয়াডের দ্বীপ-আনন্দদের বয়সই বা কত? বড় জোড় ১৬/১৭। ঊনসত্তরের শহীদ মতিউরের বয়স কত ছিল? দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। শহীদ ক্ষুদিরাম? মুখে তখনো গোফের রেখাও স্পষ্ট হয় নি। তবুও তাদের বয়সের সীমাবদ্ধতা দেশপ্রেমে বাঁধা হয়ে দাড়ায় নি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নিজেদের নির্লিপ্ত রাখে নি।

বিভিন্ন ব্লগের সম্মানিত প্রবীণ মডারেটর বৃন্দ! আপনারা যারা ব্লগ এলায়েন্স গড়ে তুলতে চাইছেন তারা সরকারের কাছে একটা দাবি জানাতে পারেন- প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত কোন প্রকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ আইন করে নিষিদ্ধ করা হোক!!

১৪ thoughts on “ব্লগ এলায়েন্স এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ইস্টিশন।

  1. বিভিন্ন ব্লগের সম্মানিত

    বিভিন্ন ব্লগের সম্মানিত প্রবীণ মডারেটর বৃন্দ! আপনারা যারা ব্লগ এলায়েন্স গড়ে তুলতে চাইছেন তারা সরকারের কাছে একটা দাবি জানাতে পারেন- প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত কোন প্রকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ আইন করে নিষিদ্ধ করা হোক!!

    আপনার সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে আমিও একই দাবী জানাচ্ছি। এলায়েন্সে থাকা অনেক ব্লগের মাসে একশত ভিজিটর আছে কিনা আমার সন্দেহ আছে। বাল উঠে নাই এমন মডারেটর আছে কয়েকজন। এদের বিষয়ে এলায়েন্স কোন নীতিমালা কি গ্রহন করেছে?

  2. কি কব কন!! কইলে তো কয় লুঙ্গি
    কি কব কন!! কইলে তো কয় লুঙ্গি খুল তুর খৎনা হইছে কিনা দেখা।

    ব্যাপারটা একটু খুলেই বলি। একাত্তরের বিভিন্ন ছবিতে যেখানে লুঙ্গির গিট খুলে ধোনটা নিরীক্ষা করে দেখা হয় সেটার মাথার টুপি আছে কি নাই, যদি থাকতো তাহলে “তুম সাচ্চা মুসলমান হ্যায়” এটা বলতো হয়তো; আর না থাকলে…. নতুন করে কি বলার দরকার আছে?
    আবার খৎনাটিও একটি নির্দিষ্ট বয়সে গিয়ে করা হয় অপ্রাপ্ত বয়সে করা হয় না। তেমনি এই এলায়েন্সের বেলাতেও দেখছি বয়সের একটা ব্যাপার।
    অথচ ঐ এলায়েন্সের ভেতরে দেখলাম সারাদিনে মিলে ২০ জন ভিজিটর পায় কিনা সন্দেহ (অথচ দেখায় হাজার জন!!!) এমন জনৈক ব্লগও মাতব্বর হইয়া বইয়া আছে।

    কিছুই বলার নেই শুধু বলব থাকুন আপনারা দল বানিয়ে, যতদুর জানি ইস্টিশন কারোই তোষণ করে চলে না, সুতরাং এই ইস্টিশন একাই চলবে নিজ গতিতে এটাই আশা করি।

  3. ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালাইলে
    ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালাইলে এমন কিছু আজগুবি নীতি হইতেই পারে।মানুষের ন্যূনতম কোন চক্ষুলজ্জা থাকলে এমন নীতি করবার আগে একবার ভাবত।তীব্র প্রতিবাদ জানাই ব্লগ এলায়েন্সের ‘এক বছর’ নীতির বিরুদ্ধে।আর দাদাগিরি নিজ গন্ডীর ভেতরে করলেই ভাল লাগে।

  4. হায় হায়। তাহলে তো সাধের
    হায় হায়। তাহলে তো সাধের ব্লগিং বাদ দিয়ে বসে থাকতে হবে!! আমি কিছুদিন আগে কেবল উনিশে পড়ছি।
    যাই হোক, প্রস্তাবিত নীতিমালা সমর্থন করতে পারলাম না।

  5. এইসব নীতি আদর্শের বেলায় আমরা
    এইসব নীতি আদর্শের বেলায় আমরা বেশ পটু। কিন্তু এইসব নীতিমালা শুধু লেখাই থাকে বাস্তবে এর প্রয়োগ হয়না। দেশের সকল রাজনৈতিক দলেরই নির্দিষ্ট কিছু নীতি বা আদর্শ আছে, কিন্তু এসব কয়জন নেতা বা কর্মী জানে? তারপরও কি তাদের দলে লোকের কমতি আছে? সুতরাং আমি মনে করি এসব নীতিমালার কোন প্রয়োজন নাই। ব্লগে যে যেভাবে পারবে তার মতামত প্রকাশ করবে এটাই হবে মুক্ত চিন্তার প্রকাশ। একজন অদক্ষ পোস্টকারি তা ব্লগে মতামত দেখেই তার লেখার মূল্যায়ন বুঝতে পারবে। এভাবেই একজন অদক্ষ ব্লগার ধীরে ধীরে দক্ষ ব্লগারে পরিনত হবে এটাই আমি বিশ্বাস করি।

    1. মুকুল ভাই,আমার প্রস্তাবিত
      মুকুল ভাই,আমার প্রস্তাবিত নীতিমালাগুলো তাদের প্রতি স্যাটায়ার করে লিখা যারা বয়সের অজুহাত তুলে ব্লগ এলায়েন্সে ইস্টিশনকে বাদ দিয়েছে।

      1. আমার স্পষ্ট কথা, এক বছরের
        আমার স্পষ্ট কথা, এক বছরের ধুয়া তুলে যারা সমমনা ব্লগগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরী করছে তাদের উদ্দেশ্য অবশ্যই ভাল না। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই কাজটি করছে। হয়ত এলায়েন্সের অন্য সমমনা সদস্য ব্লগগুলো এখনো বুঝতে পারছেন না। সমস্যা নাই। ইস্টিশন ব্লগ কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য নিয়োজিত না বলেই জানি। ইস্টিশন নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে যাবে। নাকে খত দিয়ে ইস্টিশনের এলায়েন্সে যাওয়ার কোন দরকার নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *