আমরা কি এমন অলরাউন্ডার প্রধানমন্ত্রী চেয়েছিলাম?

খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি এক ব্যক্তি দেশ চালায়। কোন দল ক্ষমতায় থাকলো সেটা মূল কথা না। সকল সরকারের সাধারন সমস্যা হলো মন্ত্রীরা সহযোগী হতে পারেন না হন কর্মচারী। ঐদিন এক মন্ত্রীকে বলতে শুনলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছে তাই এটা হয়েছে অথচ কাজটা তার মন্ত্রনালয়ের। তাহলে মাননীয় মন্ত্রী কাজটা যদি প্রধানমন্ত্রীর বলার পর আপনি করেন তাহলে আসলে আপনার কাজটা কি এবং আপনার দায়িত্বশীলতাই বা কোথায়?


খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি এক ব্যক্তি দেশ চালায়। কোন দল ক্ষমতায় থাকলো সেটা মূল কথা না। সকল সরকারের সাধারন সমস্যা হলো মন্ত্রীরা সহযোগী হতে পারেন না হন কর্মচারী। ঐদিন এক মন্ত্রীকে বলতে শুনলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছে তাই এটা হয়েছে অথচ কাজটা তার মন্ত্রনালয়ের। তাহলে মাননীয় মন্ত্রী কাজটা যদি প্রধানমন্ত্রীর বলার পর আপনি করেন তাহলে আসলে আপনার কাজটা কি এবং আপনার দায়িত্বশীলতাই বা কোথায়?

আপনারা খবর শোনার সময় যদি একটু মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করেন আপনারা সবাই একটা সাধারন ব্যাপার লক্ষ্য করেন দেখবেন সরকারী যত মন্ত্রী- এমপি, আমলা, কর্মকর্তা আছে সবাই প্রধানমন্ত্রীর পদে বসে থাকা মানুষটাকে সব কাজের কাজি বানানোর এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এখন অসুস্থতাটা কি তাদের মন মগজে নাকি অসুস্থতাটা অন্য কোথায় তা ভেবে দেখবার বিষয়।

প্রধানমন্ত্রীই যদি সব কাজ করেন তাহলে তো নির্বাচন আয়োজন করে মন্ত্রী নির্বাচন করে দায়িত্ব অর্পন করার প্রয়োজন নেই। চাকরীর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লোক নেওয়ায় ভালো। তাতে বেকার সমস্যার ও কিছুটা সমাধান হবে এবং যেহেতু পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ন হতে হবে বিধায় আমরা অন্তত আমাদের মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকা লোকদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল এবং গুরুত্বপূর্ন বক্তব্য পাবো।

এইতো বেশ কিছুদিন আগে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়ে গেলো। সেখানে নির্বাচনী প্রচারনা অনেকে ঝাটা হাতে নেমে পড়লেন রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য। সেটা নিয়ে মিডিয়ার মাতামাতি সত্যি চোখে পড়ার মতো । মিডিয়ার জ্ঞাতার্থে নির্বাচনটা ছিল মেয়র নির্বাচনের ঝাড়ুদার নিয়োগের না। যার যা কাজ তাকে তাই করতে হবে। সব কাজের কাজি কোন কিছুতেই ওস্তাদ হতে পারেনা। তার জীবন থেকে স্পেশাল কিছু সে দিতে পারেনা।

আমরা অনেক কিছু বুঝি আবার বুঝিনা,শুনি আবার শুনি না, দেখি আবার দেখিনা। কিন্তু একটা ব্যাপারে আমরা আশ্চর্য হই না যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সিটে যে বসে সে রীতিমতো অলরাউন্ডার হয়ে যায়।

৬ thoughts on “আমরা কি এমন অলরাউন্ডার প্রধানমন্ত্রী চেয়েছিলাম?

  1. আমরা সবাই জানি সমস্যাটি কি।
    আমরা সবাই জানি সমস্যাটি কি। আমরা জানি কেন নেতা-কর্মী-এমপি-মন্ত্রী সবাই প্রধানমন্ত্রীর দিকে চেয়ে থাকে। আসলে মূল দুটো দল তো আধুনিক অর্থে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নয়। দুটো দলই দুটো কর্পোরেশন বা সিন্ডিকেট বা বিশাল ইন্ডাস্ট্রি। দলের তথাকথিত সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মী পর্যন্ত বাকী সবাই সেই ইন্ডাস্ট্রির বেতনভূক্ত কর্মচারী। কর্মচারীরা দল থেকে সরাসরি বেতন নেয় না অবশ্য। তারা স্বউদ্যোগেই দলের নামে জনগণের কাছ থেকে তাদের বেতন আদায় করে নেয়। দেশটা যে এখনও সামন্ততান্ত্রিক ধারায় চলছে এটা তারই প্রমাণ। দেশ কিছুটা আধুনিক হয়েছে মোবাইল-ফোন, কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহার আর পাশ্চাত্য স্টাইলের ফ্যাশন অনুসরনের ক্ষেত্রে। মনমানসিকতা এখনও সামন্ততান্ত্রিক। দলের সাধারণ সম্পাদকই যখন দলীয় প্রধানের দিকে সকল সিদ্ধান্তের জন্য হা করে চেয়ে থাকে, তখন বাকীদের প্রসঙ্গে কথা বলে সময় নষ্ট করার কোন মানে নেই।
    যেহেতু আমরা জানি সমস্যাটা কি সেহেতু সমস্যার সংজ্ঞা, প্রকৃতি এবং সমস্যার নানাবিধ দিক নিয়ে রসালো বিবরণ না লিখে , আমাদের উচিত এই সমস্যা বা সিস্টেম কিভাবে দ্রুত পরিবর্তন করা যায় তার তরিকা নিয়ে লেখা । এবং এই পরিবর্তন আনার জন্য যতদিন না জনগণ ‘‘ত্যাগ‘‘ স্বীকার করবে বা একটা মূল্য দিতে প্রস্তত হবে ততদিন এই অবস্থা চলতে থাকবে। কারণ, To everything there is a price. মালকাম এক্স বলতেন ‘As long as our black people are not ready and willing to pay the necessary price for their rights , they will never be free or get their rights. Achieving right or anything, is something you have to do it for yourself. If you wait for someone to come along and change your miserable condition for you, you have to wait for a long time ! ‘ Same is true about our condition. If the people do not wake up and ‘change’ it themselves, they have to wait for a l-o-n-g time indeed !!

    1. আমরা তো সিস্টেমের পরিবর্তন
      আমরা তো সিস্টেমের পরিবর্তন চাই। ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত। কিন্তু সেই পর্যন্তই। আর কেও এগিয়ে আসে না। কেও বারুদ কে পথ দেখায় না বিপ্লবের বিস্ফোরনের জন্য।

  2. ঠিক বলেছেন। আপনার সঙ্গে একমত,
    ঠিক বলেছেন। আপনার সঙ্গে একমত, প্রচুর মানুষও আছে, যারা উপযুক্ত নেতৃত্ব পেলে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তত। কিন্ত একটা জিনিস আমাদের উপলব্ধি করতে হবে প্রথমত : বর্তমানে যারা আছে , তাদের দিয়ে হবেনা। তারা নতুন নেতৃত্বও সুষ্টি করবে না বা করতে সাহায্য করবে না্ । পরিবর্তনের জন্য তাদের মুখের দিকে চাওয়া – অাগে আমাদের বন্ধ করতে হবে। কারণ তাদের নেতৃত্ব তো অলরেডি পাইপলাইনে আছে, শিক্ষা বা যোগ্যতা যাইহোক, রয়াল ফ্যামেলির প্রিন্সদের মত। দ্বিতীয়ত : এদের বাইরে দেশে হাজার হাজার না হোক অন্তত শতশত ছেলেমেয়ে অাছে, যাদের শিক্ষা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, চারিত্রিক , মানবিক যোগ্যতা পাশ্চাত্য দেশগুলোর নেতাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। তার মানে শতশত ছেলেমেয়ে আছে যারা দেশের উপযুক্ত এবং আলোকিত প্রধানমন্ত্রী হবার যোগ্যতা রাখে।
    প্রশ্ন হলো এরা কেন এগিয়ে আসে না। নিস:সন্দেহে এটা জটিল প্রশ্ন। এর অনেক কারণও অাছে। আমার মতে ২টা কারণ উল্লেখযোগ্য , একটা হলো অামাদের Courage এবং Conviction নেই। আরেকটা হলো অাত্মবিশ্বাস। আমরা যদি মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে কারেইজ এবং কনভিকশন সহযোগে যৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যাই , তাহলে পরিবর্তন করা কঠিন হলেও অসম্ভব কিছু নয়। আরেকটা জিনিস হলো দেশের সব মানুষ সমাজ পরিবর্তনে অংশগ্রহণ করে না। এর নজির ইতিহাসে ভুরিভুরি রয়েছে। ছোট্র একদল সমমনা মানুষকে সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে এগিয়ে আসতে হয়। এরকমই হয়েছে দেশে দেশে, যুগেযুগে। সাধারণ মানুষ তখন এগিয়ে আসবেই। শুনতে খারাপ লাগলেও বাস্তবতা হলো সাধারণ মানুষ হচ্ছে নালার পানির মত । উপযুক্ত নেতা হলে তাদের দলে ভিড়ানো কঠিন কিছু নয়। চায়জিজ কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয় ১৯২১ সালে। কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম গঠনতন্ত্রে মাওসেতুং সহ মাত্র ৬ জন সিগনেটরি ছিলেন। সেই সময় চায়নার জনসংখ্যা ছিল ৩৫/৪০ কোটির মত। কেউ যেন ধরে না নেন, আমি চায়নিজ কমিউনিস্ট পার্টির মত দলের সুপরিস করছি। এরকম দল অলরেডি অনেকগুলো অাছে । অামি ইন্ডিকেইট করতে চাচ্ছি , কিভাবে অল্প কজন মানুষ মাত্র ৩০ বছরে হাজার হাজার বছরের পুরনো একটা সিস্টেম বাতিল করে দিল।
    মোট কথা হলো – আমাদেরকেই নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের বলতে আমি বোঝাচ্ছি ‘আমি‘ ‘আপনি‘ আমরা সবাই যারা এসব নিয়ে সবসময় লিখি, চিন্তা করি , আমরা সবাই। আমাদের নেতৃত্বের জন্য আমাদের ‘নিজেদেরই‘ প্রস্তত করতে হবে। কেন আমরা পারব না, দেশবিদেশের জ্ঞান-বিজ্ঞান-শিল্প-সাহিত্য-রাজনীতি-অর্থনীতি-দর্শণ স্টাডি করেছে এরকম অন্তত শতশত ছেলেমেয়ে আমাদের মধ্যে আছে। কেন আমরা নিজেরা নেতৃত্ব দিতে পারব না? তারা যদি পারে, ‘টাইনা-টুইনা‘ ম্যাট্রিক পাশ কইরা বাপের নামে বা স্বামীর নামে নেতাগিরি করতে ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *