আমার জিজ্ঞাসা

এক সময় আমার গর্ব ছিল আমি বাংলাদেশী। কিন্তু এটা কোন বাংলাদেশ? যেখানে আমার মা, বাবা, ভাই কে বারবার ফোন করে বলতে হয় বাসা থেকে বের না হতে। যে বাংলাদেশে হিন্দু হয়ে জন্মানো একটা অপরাধ? নিরাপত্তার জন্য গোপন রাখতে হয় নিজের পরিচয়। যেখানে স্বামী স্ত্রী বাসা থেকে বের হলে লাঞ্চিত হতে হয়। আমরা কি এমন সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চেয়েছিলাম? আমাদের কি ধর্ম পালনের অধিকার নাই? আমরা কি সংবিধানে উল্লেখিত “নিরপেক্ষ রাষ্টে” ধর্ম পরিচয় দিতে পারবো না? আমাদের মন্দির ভাঙলে কি ধর্মের উপর আঘাত হয় না? আমাদের প্রতিমা ভাঙলে, মন্দিরে আগুনে দিলে, বাড়িতে আগুন দিলে কি, আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে না? আমরা কি ধর্ম বজায় রাখতে পারবো না? আমরা সংখ্যা লঘু বলে প্রতিবাদ করলে আক্রমনের শিকার হতে হয়। আমি আমার মুসলিম ভাইদের দিলাম আমার ধর্মের হেফাজতের দায়িত্ব। তারা কি তা করবেন? রাষ্ট কি আমাদের ধর্মের হেফাজত করবেন? নাকি রাষ্ট পরিচয় দিবে তার অন্তর্নিহিত সাম্প্রদায়িকতা? নাকি আমাদের ধর্ম রক্ষার জন্য খুজে নিতে হবে অন্য কোনো পথ? রাষ্ট আর কত দিন মেনে নেবে এই ধর্ম বিভাজন? কে দিবে আমাদের ঘরে-বাইরের নিশ্চয়তা? আর কত দিন আমরা আমাদের প্রাণের শঙ্কায় থাকবো? কে দিবে আমার এই জিজ্ঞাসার সমাধান?

১১ thoughts on “আমার জিজ্ঞাসা

  1. একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক
    একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক শক্তি আমাদেরই ভুলের কারনে আজ এতোটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এদেশের সাধারণ জনগণ কিন্তু খুব উগ্র সাম্প্রদায়িক না। এটাই আমাদের আশার জায়গা। আসুন আমরা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হই। ধর্মের বিভাজনের নোংরা রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে প্রত্যাখ্যান করেই একাত্তরে আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দরকার হলে আবার লড়াই হবে। লড়াই ছাড়া ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলের এক ইঞ্চি মাটিও চুতিয়াদের ছাড়া হবে না।

  2. আমি হতাশ নই। আমি চাই সমাধান।
    আমি হতাশ নই। আমি চাই সমাধান। আমি তো চেয়েছিলাম অহিংস। নাকি কুকুর জন্য লাগে মুগুর?

  3. আপনি হতাশও না, কিন্তু
    আপনি হতাশও না, কিন্তু জিজ্ঞাসা করলেন। এই কথাগুলো জিজ্ঞাসা করার আগে নিজেদের জিজ্ঞাসা করেন। যখন হামলা করে তখন দৌড়ে ভারত দৌড় দেন কেন? তখন প্রতিবাদ করেন কেনো? মামলা হলে সাক্ষী দিতে যান না কেনো? যখন হামলা হয় এরপর কয়েকদিন হৈ হৈ করেন এরপর আর খোঁজ নেন না কেনো? কয়দিন আগে হামলা হলো সেটার জন্য কি করেছেন নিজে?

    1. বাংলাদেশী ভারতে দৌড় দেয় না,
      বাংলাদেশী ভারতে দৌড় দেয় না, বাংলাদেশী প্রতিবাদ করে, বাংলাদেশী মামলার সাক্ষী হয়, বাংলাদেশী খোজ নেয়, বাংলাদেশী তার অবস্হান থেকে সবটুকুই করে।

  4. প্রথমে বলতে চাই, সংখ্যা লঘু
    প্রথমে বলতে চাই, সংখ্যা লঘু হিসেবে আমি কাউকে বিবেচনা করতে চাই না। এদেশের সব ধর্মের মানুষই নাগরিক। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকেরই সমান অধিকার। সুতরাং নিজেরা কেন সংখ্যা লঘু হিসেবে আবির্ভাব হন? আঘাত পেলে কেন আপনারা প্রতিঘাত করেন না? অধিকার কাউকে কেউ দিতে পারে না, অধিকার আদায় করতে হয়…..

    1. একজন মানুষের কাছে সব মানুষ
      একজন মানুষের কাছে সব মানুষ সমান। কিন্তু রাষ্ট নামক সেই যন্ত্রের কাছে কি সব মানুষ সমান? একজন মানুষ, মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকতে চায় কিন্তু এই রাষ্ট তাকে স্বরণ করিয়ে দেয়, সে সংখ্যা লঘু না হয় সংখ্যা গরিষ্ঠ। ঘাত প্রতিঘাত শুধু ক্রুসেড এর জন্ম দেয়, সমাধান নয়। কেউই ক্রুসেড চায় না, চায় পরিবর্তিত রাষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *