নাস্তিকতা বনাম ধর্মের নামে অসভ্যতা

বেশ কিছুকাল ধরে নাস্তিকতা এবং ধর্ম নিয়ে গালাগালি সমার্থক শব্দ বানাতে সকল শ্রেনী পেশার মানুষকে ব্যাস্ত সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই তবে কিন্তু পার্টি। যদিও ধর্মের যে কোনো সমালোচনায় অধিকাংশ মানুষের কাছে কুরুচিকর! অবশ্য এই অধিকাংশের কথা ভাবলে সভ্যতা সেই আদিম যুগেই পড়ে থাকতো।


বেশ কিছুকাল ধরে নাস্তিকতা এবং ধর্ম নিয়ে গালাগালি সমার্থক শব্দ বানাতে সকল শ্রেনী পেশার মানুষকে ব্যাস্ত সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই তবে কিন্তু পার্টি। যদিও ধর্মের যে কোনো সমালোচনায় অধিকাংশ মানুষের কাছে কুরুচিকর! অবশ্য এই অধিকাংশের কথা ভাবলে সভ্যতা সেই আদিম যুগেই পড়ে থাকতো।

ধর্মকে বুড়ো আঙ্গুল না দেখালে এদেশে হেফাজত ইসলামের চাওয়া মতো মেয়েরা এখনো ক্লাস ফাইভ পর্যন্তই লেখাপড়ার সুযোগ পেত। যারা বলবেন শরীয়া আইনের দেশে মেয়েরা উচ্চ শিক্ষিত হচ্ছে না, তাদের জন্য তথ্য দিয়ে রাখি সামান্য একটা ‘নারী উন্নয়ন নীতি’ ইসলামপন্থী তুমুল বিরোধীতার কারনে এদেশে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

ধর্ম রক্ষার নামে একের পর এক ব্লগার খুন হচ্ছে। প্রচারনা চালানো হচ্ছে নাস্তিক মানে, মুক্তমনা মানেই খারাপ কিছু, বিরাট অপরাধী, অসভ্য বলে। সারা দেশে যখন নাস্তিকরা কোনঠাসা, সরকার যখন খুনী ধরতে তৎপর না, খুনের পর পাবলিক যখন আনন্দ মিছিল করে তখন র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ ৭১ টেলিভিশনে নাস্তিক নামধারী আসল পরিচয় আড়াল করা কিছু অতি বিপ্লদীদের ফেসবুক পোস্টের ছবি দেখিয়ে গতকাল নাস্তিকদের এক হাত নিলেন। আমার ধারনা আমারদেশ পত্রিকা থাকলে তার মতো ভুমিকায় অবতীর্ন হতো।

সম্প্রতি মিলি সুলতানা নামের এক নারী ব্লগিংকে উল্লেখ করেছেন অসভ্যতা বলে। তার দাবি অভিজিত রায়, অনন্ত বিজয় দাশসহ সবার লেখা খুটে খুটে পড়েছেন। একথা যে সত্য নয়, সেটা তার লেজ দেখলেই বোঝা যায়। সত্যি সত্যি অভিজিত রায়দের লেখা পড়লে সে মানুষ হয়ে যেত। যাইহোক মিলি সুলতানারা যুগে যুগে পালে পালে এসেছেন এবং পৃথিবীর-প্রকৃতির প্রগাঢ় প্রস্রাবের ফেনায় ভেসে গেছেন।

তবে ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে কথা বলতে যেয়ে গালাগালি যে হচ্ছে না, এমনটা নয়। এখন প্রশ্ন হলো এগুলো কারা করছে? নাস্তিকরা করছে? আপনি সিওর তো?

দুটো উদাহরন দেই।

কয়েক সপ্তাহ আগে, এক মেয়ে আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছে ‘দিদি আপনি আমাকে আনফ্রেন্ড করেছেন কেন?’ আমি অবাক হয়ে বললাম আপনি তো আমার ফ্রেন্ড লিস্টে কখনোই ছিলেন না। সে বললো- এই আইডি নয়, আগের…..নামের আইডিতে ছিলাম। পুরো পরিচয় দিলো।
যার সাথে কথা হলো সে আইডির নাম আয়েশা ইসলাম মুক্তা। তার ওয়াল ঘুরে দেখি গত কয়েকমাস ধরে ছোট ছোট লাইনে বহু স্ট্যাটাস দিয়েছে। যেগুলো ছিল এমন- ‘ফাক ইসলাম’, ‘ইসলাম হলো পিছলাম’, ‘আসুন ইসলামকে পুন্দাই’, ‘ও আমার আল্লাফাক’।
এই মেয়েটিকে আমি ব্যাক্তিগতভাবে চিনি। প্রচন্ড পরিমান ‘সনাতনী’ সংস্কার দ্বারা আবৃত তার মন। সে হয়তো ভেবেছিল আমি তাকে কিছু বলবো না, কিন্তু যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম, নিজের পরিচয় আড়াল করে এইসব লেখার উদ্যেশ্য কি? আমাকে ব্লক দিলো। তার স্ট্যাটাস দেখেই সন্দেহ হয়েছিল সে নাস্তিক নয়, যখন ব্লক দিলো বুঝলাম সে ইসলাম বিদ্বেষী এবং বুঝে হোক না বুঝে হোক রিভার্স খেলছে।

রাহাত খান, নাস্তিকতার জন্য ইনবক্সে আমাকে বহুকাল ধরে গালিগালাজ করেছে। মাঝখানে কয়েকমাস এমনিতেই গালি দেয়া বন্ধ করেছে। দেব দেবীদের লুচ্চামী সংক্রান্ত তার একটা লেখা হঠাৎ চোখের সামনে চলে আসাতে তার সম্পর্কে ঘেটে ঘুটে দেখলাম। তাকে অনেকে নাস্তিক ট্যাগ দিয়েছে। কিন্তু আমার ইনবক্সের মেসেজ মিলিয়ে দেখলাম সে নাস্তিক হবার প্রশ্নই ওঠেনা, সে আসলে হিন্দু বিদ্বেষী।

দুটো উদাহরন দিলাম, এরকম বহু উদাহরন আছে যারা রিভার্স গেম খেলে স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্ঠায় লিপ্ত। রামুতে যে ভয়ংকর সাম্প্রযদায়িক হামলা হয়ে গেল, তার শুরুটাও ছিল এইরকম রিভার্স গেম।

কথাটা কে বলেছিল জানিনা- নির্বোধরাই গালির আশ্রয় নেয়। গ্যালিলিও থেকে হালের হকিংস কিংবা ডকিংস কাউকে গালির আশ্রয় নিতে হয়নি। ঈশ্বরকে অবিশ্বাস করতে গালির আশ্রয় নিতে হয় না, প্রয়োজন হয় জ্ঞানের।

মুক্তবুদ্ধির চর্চা আর নোংড়ামি অবশ্যই এক নয়। সভ্য মানুষ কখনোই কাওকে ধর্ষন করার মানসিকতা পোষন করে না, কাউকে ‘পুন্দানি’, ‘লাগানো’ এই ধরনের মানসিকতা লালন করে না। সত্যিকারের নাস্তিকরা তো নয়ই। কারন নাস্তিকতা পারিবারিক সূত্রে পাওয়া যায় না, এই মতাদর্শ লালন করতে যোগ্যতা থাকতে হয়। পরিচয় আড়াল করে ধর্মের নামে গালাগালি, নোংড়ামি, পুন্দানী, এর ওর লুঙ্গী ধরে টান দেয়া সভ্যাতার পর্যায়ে পড়ে না, নাস্তিকতা চর্চার ভেতরে পড়ার তো প্রশ্নই ওঠেনা।

ধর্মই মানুষকে যুগে যুগে অসভ্য হতে শিখিয়েছে। কিছুদিন ধরে পর্যবেক্ষন করে দেখলাম, হিন্দু নামের আইডি বা সংঘ বা ফেসবুক পেজ থেকে নোংড়া ভাষায় ইসলাম ধর্মকে আক্রমন করা হচ্ছে। যারা দেখছে তারা ভাবছে এরা নাস্তিক, কিন্তু এরাই ‘সবিতা রানী কিভাবে ইসলাম ছেড়ে সনাতন ধর্ম গ্রহন করলো তার পক্ষে সাফাই গাচ্ছে।’
আবার কিছু আইডি বা পেজ থেকে হিন্দু ধর্মের দেব দেবীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে হয়েছে। সুক্ষভাবে দেখলে দেখা যাবে তারা ইসলামের পথে ফিরে আসার দাওয়াত দিচ্ছে। অথচ যারা দেখছে তারা মনে করছে এরা নাস্তিক। আসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকদিন ধরেই এক ধর্মের লোক অন্য ধর্মকে খাটো করে ব্লগ লিখে যাচ্ছে, গালাগালি করছে। আর সুযোগ বুঝেই নিজেদের দায়ভার নাস্তিক, মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা মানুষগুলোর উপর নির্দিধায় চাপিয়ে দিচ্ছে।

যেসব সাধারন মানুষ যখন ভাবছে, ব্লগার হত্যা এদেশে জঙ্গী ও ইসলাম বিরোধী নাস্তিকতার দ্বন্দ্ব ঠিক সেই মুহুর্তে সারা বিশ্বে সংগঠিতভাবে ইসলাম ধর্মের নামে গণহত্যা, নারী ব্যবসা, গণধর্ষন, খুন, পুড়িয়ে মারা, শিরচ্ছেদ, বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া, লুন্ঠন এগুলি হচ্ছে।

যারা সভ্যতার গান গাইতে চান তারা দেখুন অসভ্যতা কাকে বলে-
আইসিস (ISIS) – ইরাক, তুরস্ক, সিরিয়া (গণহত্যা, নারী ব্যবসা, গণধর্ষন, খুন, পুড়িয়ে মারা, বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া )
বোকো হারাম – নাইজেরিয়া (গণহত্যা, নারী ব্যবসা, গণধর্ষন, খুন, পুড়িয়ে মারা, বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া )
তালেবান – আফগানিস্তান, পাকিস্তান (গণহত্যা, খুন, পুড়িয়ে মারা, বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া )
লস্কর ই তৈয়েবা – ভারত, পাকিস্তান (গণহত্যা, খুন, পুড়িয়ে মারা, বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া )
আল কায়েদা – আমেরিকা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও আরো অনেক দেশ ( গণহত্যা, নারী ব্যবসা, গণধর্ষন, খুন, পুড়িয়ে মারা, বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া )
আনসারুল্লাহ বাংলা টিম/আনসার আল ইসলাম/হিজবুত তাহরীর/জামায়াতে ইসলাম/জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ – বাংলাদেশ ( গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, গণধর্ষন, খুন, পুড়িয়ে মারা, বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারা )
যে নামগুলি লিখলাম, গত ৫০ বছরে বিশ্বের ঘৃণ্যতম গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, গণধর্ষন, খুন, পুড়িয়ে মারা, বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারা সব করছে এই ধর্মের নামে পরিচালিত সংগঠন গুলি।

আপনিও নিশ্চয় চান এভাবেই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক?

২ thoughts on “নাস্তিকতা বনাম ধর্মের নামে অসভ্যতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *